11/06/2025
একটি পাখি প্রতিদিনের মতো খাবারের সন্ধানে আকাশে উড়তে উড়তে হঠাৎ এক জালে তার পা আটকে যায়। সে সহজেই ভয় পেয়ে যায় এবং অস্থির ভাবে ছটফট করতে থাকে দ্রুত মুক্ত হওয়ার জন্য। কিন্তু যত বেশি সে ছটফট করে, তার পাখা, গলা এবং পুরো শরীরটাই জালে আরও বেশি আটকে যায়। শেষপর্যন্ত সে একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং গলায় ফাঁস এঁটে একসময় মারা যায়। অথচ, যদি সে একটু শান্ত থাকতে পারত, ঠান্ডা মাথায় ভাবতে পারত কোন গিঁটটি কোথায় লেগেছে, তাহলে হয়তো সে ধীরে ধীরে সেই জালটির একটি একটি করে বাঁধন কেটে মুক্ত হতে পারত।
—সংকটের সময় অস্থিরতা আমাদের শত্রু, আর ধৈর্যই আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। যখন জীবনের কোনো সমস্যায় আমরা আটকে পড়ি, তখন আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত আমাদের ক্ষতি করে। বরং প্রয়োজন হয় স্থির হয়ে, চিন্তা করে, একে একে সমস্যাগুলোকে বুঝে সমাধানের পথ খোঁজার।
জীবনে অনেক সময় আমাদের মনে হবে, আর কোনো রাস্তা নেই। কিন্তু রাস্তা সবসময় থাকে, দরকার শুধু সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি আর সময় দেওয়া। সমস্যাকে একসঙ্গে না দেখে যদি আমরা একটিকে একটির মতো করে দেখি এবং ধীরে ধীরে সমাধান করি, তবে কঠিন জটও একসময় খুলে যাবে।
নিজেকে সময় দিন। নিজেকে বিশ্বাস করুন। আপনার মধ্যেই শক্তি আছে, যা আপনাকে সব বাধা পেরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। জীবন কোনো সহজ সরল পথ নয়, কিন্তু প্রতিটি বাধার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুন শেখা, নতুন সুযোগ।
অতএব, যখন আপনি জালে আটকে পড়বেন, মনে রাখবেন—অস্থির হয়ে ছটফট করলে মুক্তি নয়, বরং আরও জটিলতা বাড়ে। বরং শান্ত থাকুন, বোঝার চেষ্টা করুন, এবং ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসুন। ঠিক যেমন পাখি যদি ধৈর্য ধরত, তাহলে সে আবারও আকাশে উড়তে পারত।
Cp
18/05/2025
নিজের কাজের প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর উক্ত কাজ গুলো করা যেতে পারে।
নিচে শুধু পয়েন্ট আকারে দেওয়া হলো:
1. পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ
2. সময় ব্যবস্থাপনা
3. মনোযোগ বা ফোকাস ধরে রাখা
4. স্বাস্থ্য ও মানসিক যত্ন
5. আত্মমূল্যায়ন ও উন্নয়ন
6. মোটিভেশন ধরে রাখা
7. “না” বলতে শেখা
8. ডিজিটাল টুলস ব্যবহার
9. পরিপাটি ও পরিষ্কার পরিবেশ
10. Deep Work অনুশীলন
11. আত্মবিশ্বাস ও আত্মসমালোচনার ভারসাম্য
12. Accountability Partner রাখা
13. নিয়মিত বিশ্রাম (Break) নেওয়া
14. Habit Stacking
15. শিক্ষা ও অনুপ্রেরণার উৎস রাখা
16. সাপ্তাহিক রিভিউ সেশন
17. Theme Days পদ্ধতি
18. Self-Coaching (নিজেকে প্রশ্ন করা)
19. Energy Management
20. নিজের Why বা উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা
11/05/2025
Use your brain, no calculator
9+1+9+1×0+1
08/05/2025
বিশ্বাসীরা যেন আল্লাহর উপরই ভরসা করে।
(সূরা ইবরাহীম, আয়াত ১১)
06/05/2025
শান্ত সমুদ্রে কখনোই দক্ষ নাবিক হওয়া যায়না!!!
02/05/2025
সহকর্মীর সাথে সুসম্পর্ক!
দিনের বড় একটা অংশ আমরা কাটাই কর্মস্থলে। কাজের জায়গাটাই হয়ে যায় সেকেন্ড হোম। অনেকটা সময় একসঙ্গে কাটানোর ফলে পরিবারের পরে সহকর্মীরাই আমাদের আপনজন হয়ে উঠেন। তবে যতই কাছের সম্পর্কই তৈরি হোক না কেন আমাদের উচিত পেশাদার পরিবেশে পেশাদার ব্যবহার করা। সবাইকে শ্রদ্ধা করে, নিজের কাজকে মূল ফোকাসে রেখে কাজের সময়টা ব্যবহার করা।
সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে চলুন জেনে নিই-
•
সৌজন্যবোধ:
সবার সঙ্গে সৌজন্যবোধ বজায় রেখে চলতে হবে। কার পোশাক কেমন, কে দেখতে কেমন, কার ব্যক্তিগত জীবন কেমন—এ ধরনের কথাবার্তা কর্মস্থলে খুবই অশোভনীয়। কর্মস্থলে ব্যক্তিগত যেকোনো আলাপ এড়িয়ে চলাই ভালো।
•
কথা বলুন ধীরে, নিচু স্বরে।
কর্মক্ষেত্রে চিৎকার করা কিংবা খুব উচ্চস্বরে কথা বলা অভদ্রতার পরিচয়। ধীরে এবং স্পষ্টভাবে কথা বলুন। অযথা কিংবা রেগে গিয়ে চিৎকার করা-কোনোটাই ঠিক না। পরিস্থিতি যেমনই হোক মাথা ঠান্ডা রেখে সেটা মিটিয়ে নিন।
•
বন্ধুত্ব বা সুসম্পর্কে পক্ষপাতিত্ব নয়।
অনেকটা সময় একসঙ্গে থাকার ফলে সহকর্মীদের মাঝে কেউ কেউ বন্ধুও হয়ে উঠেন। কাজের শেষে একসঙ্গে খেতে যাওয়া, এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি হতেই পারে। এতে কোনো ক্ষতি নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত এই সম্পর্ক কর্মস্থলে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করে। কোনোভাবেই যেন পক্ষপাতিত্ব না আসে।
•
নালিশ নয়:
সহকর্মীর কোনো আচরণে কষ্ট পেলে বা বিরক্ত হলে তার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করুন। প্রথমেই কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিরুদ্ধে নালিশ করতে যাবেন না। এটি শিশুসুলভ আচরণ। আপনি যদি একটা সমস্যা নিজে কথা বলে সমাধান না করতে পারেন তখন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন। সেক্ষেত্রেও নালিশ না করে পুরো ব্যাপারটা জানান এবং সমাধান চেয়ে নিন।
•
ব্যক্তিগত সম্পর্কে সতর্কতা:
একই অফিসে কাজ করতে করতে দুজনের মধ্যে নির্ভরতা বা ভালোলাগা তৈরি হতেই পারে। তবে এই জাতীয় বিষয় যতটা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব এড়িয়ে যাওয়া উচিত। কোনো কারণে যদি সম্পর্ক ভেঙে যায় তখন দুজনের জন্যই একই জায়গায় কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
•
অপ্রয়োজনে যোগাযোগ নয়:
ছুটির দিনে খুব প্রয়োজন না হলে যোগাযোগ করা থেকে বিরত থাকুন। অপ্রয়োজনে ফোন করা বা সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ তার ব্যক্তিজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং তিনি নিজেও বিরক্ত হতে পারেন।
•
হিংসা নয়, সহযোগিতা।
সহকর্মীর পদোন্নতি কিংবা বড় দায়িত্ব পাওয়ার পর তাকে হিংসা না করে বরং শুভেচ্ছা জানান। বড় কাজগুলোতে সাহায্য করুন। চমৎকার টিমওয়ার্কের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হবে।
•
ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখুন।
চেষ্টা করুন সবসময় হাসিখুশি থাকার। চারপাশ থেকে নেতিবাচকতা যেন নিজের ভেতর আসতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। যদি হতাশ বোধ করেন তবে তা মোকাবিলা করার কৌশলগুলো প্রয়োগ করুন। তবে সেক্ষেত্রে আশেপাশে থাকা মানুষের যেন সমস্যা না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখুন। হেডফোনে গান শুনুন কিংবা একটু হেঁটে আসুন বাইরে থেকে। এক মগ চা/কফি নিয়ে বারান্দায় বা ক্যাফেটেরিয়ায় বসে সামলে নিন নিজেকে।
•
শুধু নিজের কাজ নিয়ে চিন্তা করুন।
হয়তো কোনো একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে একজন ফোন চালাচ্ছেন, কেউ হয়তো কাজ বাদ দিয়ে গেম খেলছেন। আপনি বিষয়টি খেয়াল করলেও সেই খেয়াল করা পর্যন্তই থাকুন। এটাকে ইস্যু বানানোর কোনো দরকার নেই। কে কী করল, কে কী করল না তাতে আপনার ঢুকে কাজ নেই। আপনি শুধু আপনার কাজ নিয়ে ভাবুন।
__________________
লেখা: সাইমা তাবাসসুম উপমা