বাচ্চারা জন্মগতভাবে ভালোটাকেই পছন্দ করে। কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে আশেপাশের পরিবেশ, মানুষ আর পরিস্থিতিই কি তাদের বদলে যেতে বাধ্য করে?
ভিডিওটি দেখুন আর ভাবুন, আমরা কি আমাদের পরের প্রজন্মকে সঠিক পরিবেশ দিতে পারছি?
Marium Nur
Certified in Introduction to Psychology (Yale University)
Conscious Parenting BD
Conscious Parenting BD
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Conscious Parenting BD, Education Website, Chittagong.
Conscious Parenting BD-এর লক্ষ্য: বাবা-মায়েদের সাহায্য করা যাতে তারা সন্তানদের ব্যবহারের পিছনের কারণ বুঝতে পারে, নিজের শৈশবের ট্রমা হীল করে বর্তমানের মানসিক চাপ সামলাতে পারে, আর দীর্ঘমেয়াদে আমাদের সমাজকে আরও শান্ত ও সংবেদনশীল করতে পারে। ~ এই পেজটা তাদের জন্য, যারা তাদের সন্তানদের সাথে একসাথে শিখতে, সুস্থ থাকতে এবং বেড়ে উঠতে চায়। আমরা শেয়ার করি ছোট টিপস, বাস্তব গল্প আর কিছু পরামর্শ, যাতে আপনি ভ
ঘটনা ১:
৩ বছর বয়সী এক শিশু, নাম তার জ্যাকব। তার সামনে দুটি স্টিকার রাখা হলো। একটি খুব সুন্দর ড্রাগনের স্টিকার, আরেকটি আকর্ষণীয় নয় এমন সাধারণ স্টিকার।
তাকে বলা হলো, "একটি দুষ্টু বানর আসবে। তুমি যেটা পছন্দ করবে, বানরটা প্রথমে এসে সেটাই কেড়ে নেবে। তাই বুদ্ধি খাটিয়ে বানরটাকে এমন কিছু বলবে যাতে সে তোমারটা না নেয় আর তুমি সুন্দরটা পাও।"
বানরটি ঘরে এসে জ্যাকবকে জিজ্ঞেস করল, "তুমি কোনটা চাও?" জ্যাকব সোজা তার পছন্দের ড্রাগন স্টিকারটি দেখিয়ে বলল, "আমি এটা চাই!" বানরটি খ্যাক খ্যাক করে হেসে ওটাই কেড়ে নিয়ে চলে গেল।
মনোবিজ্ঞানী জ্যাকবকে ৩ বার সুযোগ দিলেন বানরটিকে একটা ধোঁকা দেওয়ার জন্য। কিন্তু প্রতিবারই জ্যাকব তার মনের আসল সত্যিটা বানরকে বলে দিল এবং নিজের পছন্দের স্টিকারটি হারাল।
ঘটনা ২:
৪.৫ বয়সী প্যাট্রিককে এবার একই এক্সপেরিমেন্টের জন্য আনা হলো। তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে অত্যন্ত চালাক। মনোবিজ্ঞানী তাকে পরীক্ষাটির সম্পূর্ণ নিয়ম বুঝিয়ে দিলেন।
অতঃপর একইভাবে বানরটি এসে থেকে প্যাট্রিক থেকে জিজ্ঞেস করলো, "তুমি কোন স্টিকারটি চাও?" প্যাট্রিক সাধারণ স্টিকারটার দিকে আঙুল তুলে বলল- "আমি ওইটা চাই!" বানরটি বোকার মতো সাধারণটা নিয়ে গেল এবং প্যাট্রিক তার পছন্দের ড্রাগন স্টিকারটি পেয়ে গেল।
উভয় বাচ্চার কান্ড বিশ্লেষণ:
~ ৩ বছরের জ্যাকবের বয়সের বাচারা সাধারণত ধোঁকা দিতে পারেনা (বা মিথ্যা বলতে পারেনা)। কারণ জ্যাকব মনে করে, "আমার নিজের মনে যে সত্যিটা আছে (আমি ড্রাগন স্টিকারটা পছন্দ করি), এই দুনিয়ার সবাই এবং ওই বানরটাও সেই একই সত্যিটাই জানে।" সে যে নিজের মনে একটা কথা রেখে বানরের মনে একটা 'মিথ্যা তথ্য' ঢুকিয়ে দিতে পারে, এই চালাকিটা তার মগজ ধারণই করতে পারে না।
তাই খেয়াল করবেন এই বয়সের বাচ্চারা যখন কোনো দুষ্টুমি করে, তাকে জিজ্ঞেস করলে সে খুব সহজেই সত্যটা স্বীকার করে ফেলে। কিংবা সে যখন লুকোচুরি খেলে, আলমারির পেছনে লুকিয়েও জোরে জোরে হাসতে থাকে বা কথা বলতে থাকে। কারণ সে মনে করছে সে নিজেকে সবার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখছে মানে অন্যরও তাকে দেখতে পাচ্ছেনা।
~ অন্যদিকে, প্যাট্রিক ৪.৫ বছর বয়সে এসে মানুষের ব্রেইনে মন তত্ত্বের বিশাল এক পূর্ণতা পেয়েছে। সে বুঝে গেছে, "আমার মনের চিন্তা শুধু আমারই। আমি যা জানি, অন্য মানুষ বা বানর তা নাও জানতে পারে। তাই আমি চাইলে তাকে একটা ভুল বিশ্বাস বা ধোঁকা দিতে পারি।"
এই বয়সের বাচ্চারা বানিয়ে কথা বলে অন্যকে খুব চমকে দিতে চায়। জোকস বলে হাসাতে চায়। কিংবা বুদ্ধিদীপ্ত খেলা খেলতে পছন্দ করে। এটি (মন তত্ত্ব) ছাড়া মানুষ কখনো কাউকে সারপ্রাইজ করা, কারো সাথে জোকস করা, গল্প লেখা, কিংবা কারো সাথে ট্রিক করা শিখত না।
কারণ আপনি যদি কাউকে চমকে দিতে চান, আগে আপনাকে বুঝতে হবে তার আর আপনার মনে কী তথ্য আছে, এবং কীভাবে তার মনের তথ্যকে ম্যানিপুলেট করা যায়।
বাচ্চাদের প্রতিটি বয়সের আচরণে বিকাশগত স্বাভাবিকতা আছে। কনশাস প্যারেন্টদের কাজ হলো সাইকোলজির লেন্সে তাদের আচরণকে দেখার চেষ্টা করা। তবেই আমাদের উভয়ের এই যাত্রাটা কিছুটা সহজ হবে।
আপনার সন্তান এখন জ্যাকবের দলে নাকি প্যাট্রিকের? কমেন্টে আমাদের জানান!
Marium Nur
Student of Psychology
11/06/2026
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের সন্তানেরা যখন স্কুলে যায়, তখন আমরা আশা করি তারা দৌড়ঝাঁপ করবে, ছবি আঁকবে বা নতুন কিছু শিখবে।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অনেক স্কুলে একটি নতুন ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। ক্লাসরুমে কার্টুন দেখানো। প্রশ্ন হলো, ডিজিটাল যুগে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা মানেই কি ক্লাসরুমে স্ক্রিন টাইম বাড়ানো?
অনেকে মনে করছেন এটি আধুনিক শিক্ষার অংশ। কার্টুনের মাধ্যমে নাকি বাচ্চারা দ্রুত শেখে। কিন্তু এই নতুন ট্রেন্ডটা কি আদৌ বাচ্চাদের ব্রেইন ডেভেলপমেন্টের অংশ? কারণ আমি দেখছি রিসার্চ ভিন্ন কথা বলছে-
~ অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, হাই-স্টিমুলেশন কার্টুন বাচ্চার ব্রেইনের ডোপামিন লেভেলে পরিবর্তন আনে। এটি বাচ্চার Attention Span কমিয়ে দেয়, ফলে পরে বই পড়ার মতো ধীরগতির কাজে তাদের আগ্রহ থাকে না।
~ যখন কোনো কিছু স্ক্রিনে দেখা হয়, তখন ব্রেইনকে পরিশ্রম করতে হয় না। সবকিছু রেডিমেড পাওয়া যায়। এর ফলে বাচ্চার নিজের ইমাজিনেশন পাওয়ার ও ক্রিয়েটিভিটি হারিয়ে যাচ্ছে।
~ আপনি হয়তো বাসায় সচেতনভাবে আপনার সন্তানকে বড় করছেন, নির্দিষ্ট কিছু আদর্শ বা মূল্যবোধ মেনে। কিন্তু স্কুলের দেখানো কার্টুনে এমন কিছু থাকতে পারে যা আপনার পারিবারিক নীতির কিংবা আদর্শের বিরুদ্ধে।
~ স্কুলগুলোতে এখন খেলার জায়গা কম, বড় গাছপালা নেই। তার ওপর আবার স্ক্রিন টাইম চাপিয়ে দেওয়া মানে হলো বাচ্চাকে চার দেয়ালের ভেতরে আরও বন্দি করে ফেলা।
আমরা অভিভাবকরা এখন সচেতন। বাচ্চার ব্রেইন ডেভেলপমেন্টের কথা চিন্তা করে আমরা ঘরে স্ক্রিন টাইম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করি। কিন্তু যখন দেখি স্কুল কর্তৃপক্ষ ক্লাসরুমে কার্টুন দেখাচ্ছে, তখন আমাদের সেই সচেতনতা আর কতটুকু কার্যকর থাকছে?
আপনারা কী মনে করেন? আপনার সন্তানের স্কুলে কি এই প্রবণতা দেখছেন? কমেন্ট করে জানান।
Marium Nur
Conscious Parenting BD
09/06/2026
Psychology তে ম্যাসকুলিন আর ফেমিনিন এনার্জি বলতে কোনো শারীরিক লিঙ্গ বা জেন্ডারকে বোঝায় না।
এই দুই শক্তি আসলে মানুষের ভেতরের কিছু চরিত্র, মানসিক বৈশিষ্ট্য এবং আচরণ।
নোট ১।
প্রতিটি মানুষের মধ্যেই এই দুই ধরনের এনার্জি বা মানসিক বৈশিষ্ট্যই কম বেশি বিদ্যমান থাকে। এই দুটি এনার্জির মধ্যে একটা ভারসাম্য থাকলে জীবন সুন্দর হয়। আবার কোনো একটি এনার্জি যদি খুব বেশি বা খুব কম হয়ে যায়, তবে জীবনের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
একটা উদাহরণ দিই। ধরুন, আপনার একটা বড় ব্যবসা করার কোনো পরিকল্পনা আছে।
আপনার মাথায় যে ইউনিক আইডিয়াগুলো আসছে, তা আপনার Feminine Energy- এর সৃষ্টিশীল বৈশিষ্ট্যের অবদান। কিন্তু সেই আইডিয়াটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য যখন আপনি কঠোর পরিশ্রম করছেন, রুটিন বানাচ্ছেন এবং ফোকাস ধরে রাখছেন, তখন আপনি আপনার Masculine Energy ব্যবহার করছেন।
অর্থাৎ একজন মানুষের মানসিক শান্তির জন্য এই দুটি গুণেরই সমান প্রয়োজন।
নোট ২।
স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে ম্যাসকুলিন আর ফেমিনিন এনার্জির ভূমিকা অত্যন্ত গভীর। একটি সম্পর্কে যখন একজন পার্টনার ম্যাসকুলিন এনার্জিতে এবং অন্যজন ফেমিনিন এনার্জিতে থাকেন, তখন তাদের মধ্যে মানসিক আকর্ষণ এবং সামঞ্জস্য সবচেয়ে ভালো হয়।
দুজনেই ম্যাসকুলিন হলে দুজনের মধ্যেই শুধু লজিক, ইগো এবং নিয়ন্ত্রণ করার লড়াই চলবে। ফলে প্রায়ই ঝগড়া ও পাওয়ার স্ট্রাগল হবে।
আবার দুজনেই ফেমিনিন হলে সম্পর্কে প্রচুর ইমোশন থাকবে, কিন্তু কোনো ডিসিপ্লিন থাকবে না। ফলে সম্পর্কটি স্থবির হয়ে যাবে।
স্বামী-স্ত্রীকে প্রয়োজন অনুযায়ী এই দুই শক্তির আদান-প্রদান করতে হবে। যখন একজন পার্টনার ক্লান্ত বা দুর্বল থাকবে, তখন অন্যজন তার ম্যাসকুলিন এনার্জি দিয়ে হাল ধরবে (support)। আর যখন সবকিছু স্বাভাবিক থাকবে, তখন উভয়ই ফেমিনিন এনার্জি দিয়ে সম্পর্কে শান্তি বজায় রাখবে।
নোট ৩ (আলোচনার মূল অংশ)।
প্যারেন্টিং এর ক্ষেত্রে masculine এবং feminine এনার্জির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানেও মনে রাখা জরুরি, ম্যাসকুলিন মানেই শুধু বাবার ভূমিকা আর ফেমিনিন মানেই শুধু মায়ের ভূমিকা- এমনটা নয়।
বাবা-মা নিজেদের ভেতরে যেকোনো দুই এনার্জির আদান প্রদানে ভারসাম্য রেখে চমৎকার প্যারেন্টিং করতে পারেন।
যদি প্যারেন্টিংয়ে এই দুটি এনার্জির ব্যাল্যান্স না থাকে, তাহলে সন্তানের ব্যক্তিত্বে কিছু ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যেমন-
~ ঘরে বেশি Masculine Energy এবং ফেমিনিন কম থাকলে - সন্তানদের কাছে ঘর মিলিটারি ক্যাম্পের মতো মনে হতে পারে। এর ফলে সন্তান ডিসিপ্লিনড হবে ঠিকই, কিন্তু কঠোর ও আবেগহীন হয়ে পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানের মনে হতে পারে, "আমি ভালো রেজাল্ট বা ভালো কাজ করলেই কেবল মা-বাবা আমাকে ভালোবাসবে।"
~ আবার ঘরে ফেমিনিন এনার্জি বেশি এবং ম্যাসকুলিন এনার্জি কম থাকলে- তখন কোনো ডিসিপ্লিন থাকে না। সন্তান খুব এমোশনাল হয়, অনেক ক্ষেত্রে বাইরের জগতের মানসিক চাপ নিতে পারে না। ফেমিনিন এনার্জি সন্তানকে সবসময় আগলে রাখার কারণে সে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়।
একটি উদাহরণ দিই। ধরুন, আপনার সন্তান সাইকেল চালানো শিখছে এবং পড়ে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা পেয়েছে। তখন Feminine Energy-র কাজ হলো দৌড়ে গিয়ে তাকে কোলে নেওয়া, ব্যথায় হাত বুলিয়ে দেয়া আর বলা, "আমি জানি খুব ব্যথা পেয়েছো, সব ঠিক হয়ে যাবে।"
এরপরের কাজটা Masculine Energy এর। তার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলা, "চলো, আরেকবার চেষ্টা করি। এবার আমি পেছন থেকে ধরছি।"
#আমাদের_সাবকন্টিনেন্টের_প্যারেন্টিং_এর_চিত্রটা_একটু_ভিন্ন। কেমন ব্যাখ্যা করি-
~ জেন্টল প্যারেন্টিং এর era তে অনেক প্রগতিশীল বাবা পাওয়া যাবে যারা সন্তানের পরিচর্যায় মায়েদের অংশীদার হচ্ছেন। সন্তানদের ডায়পার বদলাচ্ছেন, ঘুম পাড়াচ্ছেন, তাদেরকে খাইয়ে দিচ্ছেন, কোয়ালিটি টাইম দিচ্ছেন, পড়াশুনা করাচ্ছেন সেই সাথে জৈবিক চাহিদাগুলোও পূরণ করছেন।
সেই সাথে এমনও অনেক পরিবার আছে যেখানে বাবা হয়তো শুধু আর্থিক দায়িত্ব নেন, কিন্তু সন্তানের ইমোশনাল বা প্রতিদিনের লালন-পালনে থাকেন অনুপস্থিত।
এখন এমন পরিস্থিতিতে, একজন মা-কে একাই ম্যাসকুলিন আর ফেমিনিন এনার্জির ভূমিকা পালন করতে হয়। যখন তাকে একই সাথে বাচ্চার নিয়ম পর্যবেক্ষণ করতে হয় (ম্যাসকুলিন) আবার কান্নার সময় বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনাও দিতে হয় (ফেমিনিন), তখন তার ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।
~ যৌথ পরিবারে বাবারা অনেক সময় নিজেদের মা-বাবাকে সম্মান করা আর এবং স্ত্রীর মাতৃত্বকালীন অধিকারের মাঝখানে পড়ে যান।
~ তাই অনেক সময় দেখা যায়, স্ত্রীকে বাধ্য হয়ে নিজের ফেমিনিন (কোমল) রূপ ছেড়ে হাইপার-ম্যাসকুলিন রূপ ধারণ করতে হয়। সন্তানের সুরক্ষায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার জন্য যে Healthy Masculine ভূমিকা দরকার তা অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকে। যার কারণে সে একাই সবার সাথে লড়তে থাকে।
~ যৌথ পরিবারে প্রতিটি সদস্যদের বাচ্চার জন্য ভালোবাসা ও আদর থাকে, যা ফেমিনিন এনার্জির অংশ। কিন্তু এই আদর যখন অতিরিক্ত হয়ে যায়, তখন তা টক্সিক হয়ে যায়।
~ একটি একক পরিবারে মাত্র ২টি এনার্জির মধ্যে আদান-প্রদান হয়। কিন্তু যৌথ পরিবারে যখন এতগুলো মানুষের ভিন্ন ভিন্ন মানসিক শক্তি ও চিন্তাভাবনা এক ছাদের নিচে মিলিত হয়, তখন মাঝেমাঝে তা বাবা- মায়ের তৈরি করা নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়।
এতসব কিছুর কারণে- মায়ের ম্যাসকুলিন ধ্বংস হয়ে যায় আর বাবার ম্যাসকুলিন হারিয়ে যায়। আবার যখন ঘরে মা এবং শাশুড়ি দুজনেই ম্যাসকুলিন হয়ে ক্ষমতার লড়াইয়ে নামেন, তখন মাঝখান থেকে সন্তান চরম কনফিউজড আর ট্রমার শিকার হয়ে যায়।
তাহলে কি করতে হবে?
~ যৌথ পরিবারে টিকে থাকতে হলে স্বামী-স্ত্রীকে নিজেদের মাঝের দেয়াল ভাঙতে হবে। স্বামী যদি সবার সামনে ম্যাসকুলিন রোল নিতে নাও চান, অন্তত ঘরের ভেতর সন্তানের জন্য স্ত্রীর করা নিয়মের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন থাকতে হবে।
~ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে বাউন্ডারি সেট করতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে, আদর দেওয়াটা তাদের কাজ (Feminine), কিন্তু শাসন বা নিয়ম ঠিক করার মূল দায়িত্বটা মা-বাবার (Masculine)।
পরিবার যেমনই হোক, আমাদের নিজেদের ভেতরের এবং চারপাশের ম্যাসকুলিন ও ফেমিনিন এনার্জিগুলোকে যখন আমরা সচেতনভাবে (consciously) চিনতে ও ব্যালেন্স করতে পারব, তখনই আমাদের সন্তানরা একটি সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী এবং ট্রমা-মুক্ত মানসিকতা নিয়ে বড় হতে পারবে।
আপনাকেও কি একাই 'ম্যাসকুলিন' আর 'ফেমিনিন' এর ডাবল ডিউটি পালন করতে হচ্ছে? সন্তান বড় করার এই জার্নিতে আপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি?
Marium Nur
Conscious Parenting BD
Student of Psychology
06/06/2026
বৃক্ষ।
বৃক্ষকে পরিবারের রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একটি জীবন্ত গাছের কি কি অংশ থাকে? শেকড়, কান্ড, ডালপালা, আর সবুজ পাতা।
গাছের মূল শক্তি হচ্ছে- মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা শেকড়। তেমনি পরিবারের ভিত্তি হলো পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং সমর্থন। এই শেকড় যত মজবুত হবে, বাইরের ঝড়-ঝাপটায় পরিবার তত বেশি নিরাপদ থাকবে।
তারপর আসে কান্ড। কান্ড ডালপালাকে শক্ত করে ধরে রাখে। এটা সোজা হলে, গাছ সোজা হয়ে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সব ডালপালাকে সমানভাবে আলো-বাতাস দেয়। আবার গাছ যদি একদিকে বেঁকে যায়, তখন তার ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং ডালপালাগুলো ঠিকমতো ছড়াতে পারে না।
ঠিক তেমনি পরিবারের নিয়মকানুন আর শৃঙ্খলা যদি ন্যায্য, স্পষ্ট ও সুন্দর হয়, তাহলে সন্তানরা একটা নিরাপদ ও গোছানো পরিবেশ পায়। তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে বড় হয়। একইভাবে পরিবারের নিয়মকানুন যদি অতিরিক্ত কড়া, অন্যায্য বা অস্পষ্ট হয়, তবে সন্তানরা সারাক্ষণ ভয়ে থাকে, স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
গাছের ডালগুলো বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। তেমনি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের, বিশেষ করে সন্তানদের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, স্বপ্ন আছে। তারা স্বাধীনভাবে আকাশের দিকে ডানা মেলবে, নিজের মতো বিকশিত হবে। কিন্তু দিনশেষে তাদের মূল কান্ড ও শেকড়ের সাথে অর্থাৎ পরিবারের সাথেই যুক্ত থাকবে।
আর গাছের সুন্দর পাতাগুলো হলো আমাদের প্রতিদিনের হাসিমুখ, আনন্দের মুহূর্ত, একসাথে কাটানো উৎসব আর ছোট ছোট সুখ- দুঃখের স্মৃতি, যা পুরো পরিবার একসাথে হলে আবার প্রাণচঞ্চলতা ফিরিয়ে আনে।
একটি সন্তানকে শুধু বড় করাই আমাদের মূল লক্ষ্য নয়, বরং তাকে এমন একটি পরিবেশ দেওয়া প্রয়োজন যেখানে সে নিজের মতো করে ডালপালা মেলতে পারে।
~ সন্তানকে শাসন করার আগে তার সাথে ভালোবাসার ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করুন।
~ আমাদের প্রতিটি সন্তান আলাদা। একজনের ডালপালাকে জোর করে অন্য দিকে বাঁকানোর চেষ্টা না করে, তাকে তার নিজস্ব গতিতে আকাশের দিকে বাড়তে দিন। তাদের মধ্যকার তুলনা করাটা পরবর্তীতে তাদের জীবনে খুব খারাপ প্রভাব ফেলে।
~ ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারে কিছু হাসিখুশি পাতা জমতে দিন। পরিবারের জন্য কিছু রিচুয়াল তৈরি করুন। যেমন: সপ্তাহের একটা দিন দূরের কাছের সব সদস্য মিলে পুরো পরিবার একসাথে হওয়া।
আজকে চারপাশে এমন অনেক গাছ আছে যেগুলো একদিকে বেঁকে গেছে, কান্ডের ভারসাম্য খানিকটা নষ্ট হয়ে গেছে কিংবা ডালপালাগুলো ঠিকমতো ছড়াতে পারেনি।
কিন্তু আমরা যারা আজ সচেতনভাবে দায়িত্ব নিয়ে বটবৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের থেকেই যেন কাণ্ড আর শাখা-প্রশাখাগুলো তাদের নিজস্ব নিয়মে বিকশিত হয়ে আকাশ ছুঁতে পারে, সেই চেষ্টাটাই আমাদের করে যেতে হবে।
(ছবির প্রেক্ষাপট: বৃক্ষ মেডিটেশন করার সময় বড় সন্তান বলছিল, "জাজাকাল্লাহ গাছ, আমাদেরকে অক্সিজেন দিয়েছো, ছায়া দিয়েছো.....")
Marium Nur | Conscious Parenting BD
03/06/2026
২ থেকে ৭ বছর বয়সের ছোট বাচ্চারা তাদের খেলনা কাউকে শেয়ার করতে চায় না, কিংবা নিজে যেটা পছন্দ করে ভাবে সবাই সেটাই পছন্দ করে।
তখন আমরা প্যারেন্টরা বাচ্চাকে সাথে সাথে "স্বার্থপর" ট্যাগ দিয়ে দিই।
কিন্তু প্রমাণিত সত্যি কথা হলো- এই বয়সে শিশুরা আসলে দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে বেশ Egocentric হয়। এটা তাদের কোনো চারিত্রিক ত্রুটি নয়, বরং তাদের ব্রেইন ডেভেলপমেন্টের একটা স্বাভাবিক ধাপ!
সাইকোলজি বিষয়ে পড়তে গিয়ে বাচ্চাদের এই "অহংকারী" হবার একটা মজার সাইন্টিফিক এক্সপেরিমেন্টের বিষয়ে জানলাম। ব্যাখ্যা করছি।
এই পরীক্ষাতে বাচ্চাদের সামনে তিনটি ভিন্ন, কৃত্রিম পাহাড়ের একটি মডেল রাখা হলো।
১. একটি পাহাড়ের মাথায় ছিল বরফ।
২. আরেকটির মাথায় ছিল একটা ছোট বাড়ি।
৩. তৃতীয়টির মাথায় ছিল একটি Cross (ক্রুশ)।
একজন বাচ্চাকে টেবিলের একপাশে বসানো হলো এবং সে পাহাড়ের তিনটি চূড়াই সামনের দিক থেকে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিল। এবার টেবিলের ঠিক বিপরীত পাশে, অর্থাৎ বাচ্চার ঠিক মুখোমুখি অবস্থানে একটি পুতুল বসিয়ে দেওয়া হলো, যে সব পাহাড়ের পিছনের দিকটা দেখবে।
এখন গবেষকরা বাচ্চাকে কিছু ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "বলতো, ওই পুতুলটি পাহাড়গুলোকে ঠিক কেমন দেখছে?"
অবিশ্বাস্যভাবে, ৪ থেকে ৬ বছর বয়সী প্রায় প্রতিটি বাচ্চা-ই পুতুলের দৃষ্টিভঙ্গি বলতে গিয়ে, নিজেদের দিক থেকে পাহাড়গুলো যেমন দেখা যাচ্ছিল, হুবহু সেই ছবিটাই সিলেক্ট করল!
তারা কোনোভাবেই মাথায় এটা আনতে পারল না যে, বিপরীত পাশে বসা পুতুলটির ভিউ সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে।
এই ফলাফলের মানে এই নয় যে বাচ্চাটি অহংকারী। এর মানে হলো, এই বয়সে বাচ্চার ব্রেইন এখনো অন্যের দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবীটাকে দেখার মতো ম্যাচিউর হয়ে ওঠেনি।
সে ভাবে, "আমি যা দেখছি, আমি যা অনুভব করছি, পুরো পৃথিবীও ঠিক সেটাই দেখছে এবং অনুভব করছে।"
খেলার মাঠে আপনার সন্তান যখন অন্য বাচ্চার অনুভূতি না বুঝে খেলনা কেড়ে নেয়, তখন তাকে মারধর বা বকাঝকা করবেন না। সে এখনো বোঝে না, তার কাড়াকাড়িতে অন্য বাচ্চার কষ্ট হচ্ছে। তাকে ভালোবেসে পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলতে হবে, কারণ তার ব্রেইনে আস্তে আস্তে অন্যের অনুভূতি প্রসেস করার ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। সে এখনো সারভাইবাল ইন্সটিঙ্কটের কারনে শুধু নিজের অনুভুতিটা বুঝতেই ওস্তাদ।
তাকে অন্যের অনুভূতি বুঝতে আমরা সাহায্য করতে পারি। কিভাবে?
ছোটবেলা থেকেই তাকে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে সাহায্য করুন। গল্প বলার সময় জিজ্ঞেস করুন, "আচ্ছা বলতো, খরগোশটা যখন হারিয়ে গেল, তখন তার মায়ের কেমন লেগেছিল?" এই ধরনের প্রশ্ন বাচ্চার ব্রেইনকে সেই 'পুতুলের পয়েন্ট অফ ভিউ' বা অন্যের মনের অবস্থা বুঝতে রিকানেক্ট করতে পারে।
বাচ্চারা সব আচরণ নিজের মতো করে। তারা স্বার্থপর হয়ে জন্মায় না, তারা কেবল তাদের ছোট্ট ব্রেইনের সীমাবদ্ধ দুনিয়ায় বাস করে। প্যারেন্ট হিসেবে আমাদের কাজ তাদের ব্রেইনের এই সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে ধৈর্য ধরা এবং সহানুভূতির পৃথিবীতে নিয়ে আসা।
আপনার সন্তানও কি এমন কোনো মজার ‘Egocentric’ আচরণ করে? কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করুন!
Marium Nur
Psychology Student
31/05/2026
আপনার চারপাশে কিংবা পরিবারে কোনো টক্সিক আত্মীয় এমন কেউ আছে যে সারাক্ষণ আপনাকে ছোট করতে চায়, খোঁটা দেয় কিংবা ড্রামা তৈরি করার বাহানা খোঁজে?
আপনি যতই শান্ত থাকার চেষ্টা করুন না কেন, তারা কোনো না কোনোভাবে আপনার ইমোশনাল ট্রিগার পয়েন্টে আঘাত করবেই।
আর আপনি রেগে গেলেই বা রিয়্যাক্ট করলেই তারা জিতে যায়।
এইধরনের টক্সিক বা নার্সিসিস্ট স্বভাবের মানুষরা অন্যকে পোক করতে ভালোবাসে কারণ তারা আপনার ভেতরের ইমোশনাল রিয়্যাকশন (যেমন: রাগ, কান্না, চিৎকার, বা নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার আকুতি) দেখে আনন্দ পায়।
জানেন, একজন Toxic/ Narcissist কেন আরেকজনকে শুধু শুধু কষ্ট দিয়ে আনন্দ পায়?
কারণ, সেইসকল মানুষদের ভেতরে তীব্র Insecurity বা হীনম্মন্যতা থাকে। তারা ভেতর থেকে প্রচণ্ড একাকী ও শূন্য বোধ করে।
নিজেদের এই ভেতরের শূন্যতা ঢাকতে এবং নিজেদের ক্ষমতাশালী বা সেরা প্রমাণ করতে তারা অন্যকে ছোট করে। তারা যখন আপনাকে রাগাতে বা কাঁদাতে পারে, তখন তাদের সাবকনশাস মাইন্ড মন মনে করে, "বাহ! আমি তো অনেক শক্তিশালী, আমি চাইলেই এই মানুষটার ইমোশন কন্ট্রোল করতে পারি।" অর্থাৎ, আপনার মানসিক অশান্তিই তাদেরকে টিকিয়ে রাখার জ্বালানি।
যখন আপনি তাদের সেই টিকিয়ে রাখার জ্বালানি বন্ধ করে দেবেন, তারা আপনাতেই আপনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্সেও এমন অনেক মানুষকে পাওয়া যায়, যাদেরকে সাব কনশাসলি আমরা আমাদের ব্রেইন কন্ট্রোলের পাওয়ারটা দিয়ে দিই।
যদিও কিছু কিছু সময় আপনি একদম ট্রিগার্ড না হয়ে উপায় নেই, কারণ তাদের এমন আচরণের সাথে আপনার বর্তমান কিংবা পাস্ট ট্রমা জড়িত। কিন্তু দিনশেষে আপনার এবং সন্তানের মানসিক শান্তির খোরাকের ব্যবস্থা আপনাকেই করতে হয়।
এনি ওয়ে, সাইকোলজিতে টক্সিক মানুষদের ইমোশনাল সাপ্লাই না দেয়ার একটি দারুণ এবং অত্যন্ত কার্যকরী সমাধান আছে, যাকে Grey Rock Method বলে।
#গ্রে_রক_মেথড_আসলে_কী?
একটি ধূসর পাথর যেমন রাস্তাঘাটে পড়ে থাকে... যার কোনো আকর্ষণ নেই, কোনো নড়াচড়া নেই, যাকে কেউ নোটিসও করে না, আপনাকে ঠিক সেই পাথরের মতো হয়ে যেতে হবে।
কীভাবে এই মেথডটি অ্যাপ্লাই করবেন?
~ তারা আপনাকে উসকানি দেওয়ার মতো কিছু বললে লম্বা তর্ক বা ঝগড়ায় যাবেন না।
‘হ্যাঁ’, ‘না’, ‘আচ্ছা’, ‘বুঝলাম’ এটুকুর মধ্যেই উত্তর সীমাবদ্ধ রাখুন।
~ আপনার চেহারার এক্সপ্রেশন বা গলার ভয়েস থাকবে একদম ফ্ল্যাট। আপনি যে ভেতরে ভেতরে কষ্ট পাচ্ছেন বা রেগে যাচ্ছেন, সেটা কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না।
টক্সিক মানুষের সামনে আপনি পাথর সাজবেন নিজের সুরক্ষার জন্য, কিন্তু একা হলে বা নিজের প্রিয় মানুষদের কাছে আপনি আপনার সব আবেগ প্রকাশ করবেন নিজের সুস্থতার জন্য।
~ আপনার জীবনে কী ঘটছে, ভালো বা মন্দ কোনো খবরই তাদের সাথে শেয়ার করবেন না। অবশ্য সেই নারসিসিস্ট মানুষটি আপনার সেইফ পারসন না হওয়াতে এমনিতেই আপনার কোন খবর শেয়ার করার কথা না। মোট কথা আপনার জীবনকে তাদের কাছে একদম বোরিং বানিয়ে ফেলুন।
~ কথা বলার সময় সরাসরি চোখের দিকে না তাকিয়ে অন্য কোনো সাধারণ বিষয়ের দিকে ফোকাস করুন। এতে তারা বুঝবে আপনি তাদের কথায় বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
আমরা অনেকেই মন থেকে চাই কনশাসলি প্যারেন্টিং করতে, বাচ্চাদেরকে একটা পজিটিভ এনভায়রনমেন্ট দিতে। কিন্তু পরিবারে যদি এমন কোনো টক্সিক সদস্য থাকে যাকে আপনি এড়িয়ে যেতে পারছেন না, তখন নিজের মানসিক শান্তি ধরে রাখতে এই মেথডটি কাজ করতে পারে।
আপনি যখন নিজে শান্ত থাকতে পারবেন, তখনই কেবল আপনার সন্তানকে একটি শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ দিতে পারবেন। টক্সিক মানুষের ড্রামায় নিজে জড়িয়ে পড়ে নিজের ব্রেইনের শক্তি অপচয় করবেন না।
আরেকটি কথা, গ্রে রক মেথড কিন্তু কাউকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং নিজেকে এবং নিজের মানসিক স্বাস্থ্যকে রক্ষা করার একটি শর্ট টার্ম সেলফ-ডিফেন্স মেকানিজম।
যখন আপনি কোনো টক্সিক পরিবেশ থেকে একদম বের হতে পারছেন না, তখন সাময়িকভাবে নিজের মনকে বড় কোনো আঘাত থেকে বাঁচাতে এই মেথড ব্যবহার করা যায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে ওই পরিবেশ থেকে দূরত্ব তৈরি করার বা বাউন্ডারি সেট করার পরিকল্পনাই করতে হবে।
ইনবক্সে একজন আপুর সাথে আলাপ হচ্ছে, যিনি প্রতিনিয়িত পরিবারের খুব আপন মানুষের সাথে মানসিক যুদ্ধে লিপ্ত আছেন, যেখান থেকে বের হওয়াও বলতে গেলে অসম্ভব। মূলত ওনার সাথে কথা বলেই মনে হলো, এই বিষয়টি আমাদের সবারই জানা এবং ক্ষেত্রবিশেষে চর্চা করা প্রয়োজন।
আপনার চারপাশের টক্সিক পরিবেশকে ডিল করতে আপনি কি কখনো এই টেকনিকটি ব্যবহার করেছেন? বা কি করেন? কমেন্টে আমাদের জানান।
Marium Nur
Psychology Student
26/05/2026
আসছে কনশাস বাবা- মা কোর্স ব্যাচ- ৪ ...
প্রথমেই একটা কথা বলতে চাই।
যাদের প্যারেন্টিং নিয়ে বিস্তর ধারণা আছে, আপনাদের বলছি। যেহেতু আপনাদের এই বিষয়ে একটা বেসিক ধারণা আছেই, তাই নতুন কিছু শেখার চেয়ে এই Beginner Level কোর্সটি আপনার জন্য কিছুটা পুনরাবৃত্তি বা রিভিশন মনে হতে পারে।
কিন্তু, যারা প্যারেন্টিং সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন এবং খুব সহজ এবং বাস্তবধর্মী কিছু উদাহরণের মাধ্যমে তা বুঝতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য এই "Conscious বাবা- মা" ৭ দিনের মিনি কোর্স- সহজ, ব্যবহারযোগ্য এবং জীবন বদলানোর মতো হতে পারে।
আপনার জন্য কোর্সের বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো-
📌 কোর্স টাইটেল: Conscious বাবা-মা 👨👩👧👦
🎓 লার্নিং স্টাইল: সেলফ পেসড (Self paced)- আপনার সুবিধাজনক সময়ে শিখুন।
⏳ প্রতিদিন সময় লাগবে: মাত্র ১৫-২০ মিনিট।
📲 কোর্স মাধ্যম: হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) গ্রুপ।
🗓️ ডিউরেশন: ৭ দিন।
📅 কোর্স শুরুর তারিখ: ০১.০৬.২০২৬ থেকে ০৭.০৬.২০২৬ পর্যন্ত।
🎧 কোর্স ফরম্যাট: টেক্সট এবং ভয়েস নোট।
🎯 এই কোর্সটি কাদের জন্য?
অবিবাহিত, বিবাহিত, শিশুর বাবা-মা, প্রি- স্কুলের কেয়ারগিভার এবং সর্বোপরি সকল শিক্ষার্থীদের জন্য।
💰 কোর্স ফি: ৫০ টাকা! 🪙
৭ দিনের কোর্স আউটলাইন:
Day 1: বাচ্চার ব্রেইন কিভাবে কাজ করে- Upstairs vs Downstairs
Day 2: বাচ্চার আচরণের পিছনের মেসেজ
Day 3: রিঅ্যাকশন নাকি রেসপন্স?
Day 4: কানেকশন প্রথম- কেন প্রথমে কানেকশন দরকার
Day 5: রেগে গেলে নিজেকে কিভাবে সামলাবেন- প্যারেন্টের মাইন্ডফুল পজ
Day 6: সন্তানকে কিভাবে নিজের মনের মতো আচরণ শিখাতে হয়
Day 7: ডিসিপ্লিন মানে শাস্তি নয়- বাউন্ডারি সেট করা + ৭ দিনের হোমওআর্কের রিফ্লেকশন
কোর্স চলাকালীন WhatsApp গ্রুপে থাকবে:
• ছোট দৈনিক লেসন
• ব্রেইন–বেইজড প্যারেন্টিং ব্যাখ্যা
• প্রশ্ন করার নিরাপদ জায়গা
• একই মানসিকতা সম্পন্ন মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন
~ অংশ নিতে চাইলে কমেন্টে লিখুন COURSE। আপনাকে পেমেন্ট ইনফরমেশন পাঠানো হবে ইন শা আল্লাহ্।
~ ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজের রিপ্লাই না পেলে রিকুয়েস্ট করবো কিছু সময় অপেক্ষা করবেন।
~ আর অনেক আপু গতবার ক্লাস শুরুর দিন বিকাশ করার ফলে জয়েন হতে পারেননি। আপনারা কাইন্ডলি বর্তমান ব্যাচের জন্য আপনাদের WhatsApp Number টি ম্যাসেজে দিয়ে রাখবেন।
Marium Nur
Certified in Early Childhood Development (Harvard University)
াবা_মা #প্যারেন্টিং_কোর্স #সচেতন_প্যারেন্টিং #প্যারেন্টিং_টিপস #প্যারেন্টিং_বাংলাদেশ
24/05/2026
আমার বেশীরভাগ ফিজিক্যালি এবিউস্ড ট্রমা ক্লায়েন্টের বিবৃতি এমন থাকে- "আমি আমার মাকে ঘটনাটি শেয়ার করিনি কারণ নির্যাতনকারী আমার মায়ের পছন্দের মানুষ ছিলেন তাই তিনি বিশ্বাস করতেন না।"
কিংবা এমন- "আমি শেয়ার করেছিলাম কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন এসেছিলো, সে তো এটা ডিনআই করছে, তুমি কি আদৌ সত্য বলছো?"
উভয়ক্ষেত্রেই ভিকটিম মেয়েরা ভিতরে ভিতরে ম*রে যেত।
এখনকার প্যারেন্টসদের পরিস্থিতিটা ভিন্ন। তাঁরা সন্তানদের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সব বক্তব্য নিয়ে অসম্ভব সচেতন। তার জন্য সারপ্রাইজিংলি এখনও মেয়েদের ম*রতে হচ্ছে... জনসম্মুখে।
এবিউসাররা আগে বাবা মায়েদের অসচেতন পেয়েছে, তাই নীরবে তাদের মেয়েদের সাথে অন্যায় করেছে। এখন যেহেতু বাচ্চাদের সব কথা বাবা মায়েরা বিশ্বাস করে, তাই পিশাচরা মেয়েদের বিকৃত উপায়ে খু*নও করছে!
যৌন নির্যাতনকারীরা সব যুগেই ছিল এবং সবসময়, সব দেশেই কমবেশি থাকবে। কিন্তু এখন ইন্টারনেটে নানারকম বিকৃত কনটেন্টের সহজলভ্যতার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।
এই মানসিক বিকৃতি চর্চা করা যে দেশে যত সহজ, সে দেশে বিকৃত যৌন নির্যাতনের হারও তত বেশি হবে। সেখানে ব্যাটে বলে মিলে গেছে আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থা। এই অন্যায় ঠেকায় কে!
এখন পর্যন্ত যতজন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের প্যারেন্টদের পরিস্থিতিকে আমি জাজ করতে চাইনা। শুধু এইকথা বলবো, তাঁরা নিজেদের মেয়েদের খাঁচার ভিতর বন্দি করে রাখেনি। এখনো বাসার নিচে দেখি ছোট মেয়েরা স্বাধীনভাবে রাস্তায় ঘুরছে, একা একা খেলছে। কেন? তাদের মা বাবারা কি খবর দেখছেনা?
দুঃখিত! আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপরাধকারিদের বিচার দাবি করে স্লোগান দিতে ইচ্ছুক নই- "শিশু নির্যাতনকারিদের জনসম্মুখে শাস্তি দিতে হবে।" কারণ আপনাদের মতো আমারও এই দেশের বিচার ব্যবস্থাতে বিন্দুমাত্র আস্থা নেই।
আস্থা নেই বলে অনেক জায়গায় জনসাধারণ এখন রিবেলিয়াস হয়ে যাচ্ছে, ক্রাইম নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এবং এটাই হবে।
াদের_কি_করতে_হবে?
~ বাচ্চারা শুধুমাত্র বাবা-মায়ের কড়া তদারকিতে থাকবে। চোখের আড়াল হলে পরিবারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত কারো দায়িত্বে থাকবে। বিশ্বস্ত কারো কাছে থাকলেও সে কীভাবে থাকছে, তা কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। একা হাতে কখনোই ছাড়া যাবে না।
কথাগুলো শুনে খুব ওভার-প্রোটেক্টিভ মনে হলেও, বর্তমান অস্থিতিশীল সময়ে আমাদের এই আচরণ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং তীব্র নেসেসিটি।
এই গেলো বাচ্চাদেরকে ঘর বন্দি করা।
ের_মানুষ_থেকে_কিভাবে_বাঁচানো_যায়?
~ সন্তানদের তাদের শরীরের বাউন্ডারি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
আমার চারপাশে কিছু সচেতন মা-বাবাকে দেখেছি সন্তানদের গুড টাচ ব্যাড টাচ সম্পর্কে শিক্ষা দেন। এটি সাধারণত adult education এর প্রাথমিক বা ভিত্তিগত ধাপ হিসেবে বিবেচিত- ছোট শিশুদের জন্য।
গুড টাচ ব্যাড টাচ শেখানোর আগে একটা পার্ট আমরা ভুলবশত মিস করে যাই। তা হলো প্রাইভেট, পাবলিক পার্টস সম্পর্কে এক্স্যাক্ট ধারণা দেওয়া।
অর্থাৎ হিউম্যান অ্যানাটমি (মানব দেহ) সম্পর্কে তাদের জানানো।
এক্ষেত্রে আমি দেখেছি আমরা সন্তানদের পাবলিক পার্টের নামগুলো প্রপারলি শেখালেও প্রাইভেট পার্ট শেখানোর সময় হ্যাজিটেট করি এবং বিভিন্ন fascinating নাম ব্যবহার করি যেমন- লজ্জা, শরম ইত্যাদি।
~ মানব শরীরের নাক, কান, জিহ্বার মতোই সন্তানদের প্রাইভেট পার্টস -এর রিয়েল নামগুলো শেখাতে হবে।
~ অ্যাডাল্ট এডুকেশন নিয়ে বাচ্চাদের বয়স অনুযায়ী যথাযথ তথ্য দিতে হবে। ছোট সন্তানের অ্যাডাল্ট এডুকেশন-এর সিলেবাস যদি তার প্রাইভেট পার্টসগুলোর একিউরেট নাম শেখানো হয়, তবেই ১২–১৩ বছর বয়সে গিয়ে তাকে প্রজননতন্ত্র নিয়ে পড়ালেখা করানো যাবে।
প্রাইভেট পার্টের নাম "লজ্জা", "শরম" দিলে কী হবে?
~ নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, সন্তানরা এসব ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে আর বেশি কথা বলতে পারবে না। কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তো সন্তানরা তাদের শরীর নিয়ে অবশ্যই কৌতূহলী হবে। তাদের প্রাইভেট পার্টসের অ্যাণাটমিক পার্পাজ তারা ভুল সোর্স থেকে জানবে। যার পরিণতি ভয়ঙ্কর হতে পারে, সন্তানরা অন্ধকার জগতে প্রবেশ করতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে এডাল্ট এডুকেশন দিতে গিয়ে বাবা মায়েরা হিমশিম খেতে পারেন। যা করা যায়-
~ adult education সাবজেক্ট পোড়ানোর সময় ছেলে সন্তানের শিক্ষক হবেন বাবা এবং মেয়ে সন্তানের মা।
~ টিচিং এর সময় নিজেকে একজন মা/বাবার পাশাপাশি সন্তানের বায়োলজি শিক্ষক হিসেবে কল্পনা করবেন। তাকে যেভাবে ২+২=৪ শেখান, সেভাবেই তার বয়স অনুযায়ী প্রাইভেট পার্টের নাম, কাজ শেখাতে হবে।
~ ফার্ম বাউন্ডারি সেট শিখাতে হবে। প্রাইভেট পার্টের শালীনতা হলো কাপড় দিয়ে তা ঢেকে রাখা, এবং সবার সামনে কথা না বলা। শুধু প্রাইভেটলি বাবা/মা এবং ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলা। আর প্রয়োজন ছাড়া কেউ-ই ধরতে পারবেনা।
রামিসার মতো ঘটনাগুলোর পর, বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তানকে শতভাগ চোখের আড়ালে না রেখে কঠোর তদারকিতে রাখা ছাড়া একজন বাবা-মায়ের কি সত্যিই আর কোনো উপায় আছে?
Marium Nur
20/05/2026
ভুল উপায়ে প্রশংসা বা অতিরিক্ত প্রশংসা করে আমরা সন্তানের ক্ষতি করছি।
একটা উদাহরণ দেই--
৩ বছরের ছোট্ট আসাদ আজ কারও সাহায্য ছাড়াই প্রথমবার নিজের নাম লিখেছে। এটা দেখে তার বাবা-মা খুশিতে আত্মহারা। বাবা এক্সাইটেড হয়ে বলেই ফেললেন, “ওয়াও! আমি যখন ৩ বছর ছিলাম, তখন নিজের নাম লিখতে পারতাম না। তুমি তো অনেক ব্রিলিয়ান্ট!”
অন্যদিকে ৭ বছরের মেয়ে আইশা ক্লাসে ফার্স্ট হয়েছে, কিন্তু সে পরের পরীক্ষাটা নিয়ে ভীষণ স্ট্রেসড্। তার বাবা তাকে সাহস দিতে গিয়ে বললেন, “আরে, তুমি তো ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল! তোমার আবার টেনশন কীসের? পরের টেস্টেও তুমিই ফার্স্ট হবে, দেখিও!”
আপাতদৃষ্টিতে এই কথাগুলোকে খুব সাধারণ এবং পজিটিভ মনে হলেও, এই ধরণের প্রশংসা কিন্তু আপনার সন্তানের উল্টো মাইন্ডসেটই নষ্ট করে দিচ্ছে।
কিভাবে?
আমরা যখন বাচ্চার মেধা, বুদ্ধি বা জন্মগত ক্ষমতাকে টার্গেট করে প্রশংসা করি, তখন সে অজান্তেই Fixed Mindset- এর ভেতরে ঢুকে যায়। অর্থাৎ সে ভাবতে শুরু করে, 'আমি যতটা স্মার্ট, ঠিক ততটাই থাকব।'
ফলে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নিতে সে ভয় পায়, পাছে তার 'স্মার্ট' তকমাটা মুছে যায়!
অথচ আমাদের দরকার তাকে এমন Mindset শেখানো, যা বাচ্চাকে বোঝায় যে চেষ্টা আর শেখার মাধ্যমে সে যেকোনো কিছুতে আরও ভাল করতে পারে।
আপাতদৃষ্টির প্রশংসা থেকে তারা আসলে কি ম্যাসেজ পায়?
~ "তুমি কত দ্রুত মুখস্থ করে ফেলেছো, তুমি খুব স্মার্ট!"
তখন বাচ্চা উল্টো বার্তা পায়, 'আমি যদি কোনো কিছু দ্রুত মুখস্থ করতে না পারি, তার মানে আমি স্মার্ট না।'
~ আবার যদি বলি, "তুমি কী সুন্দর এঁকেছো, তুমি তো পিকাসো!"
তখন বাচ্চার মনে ভয় ঢুকে যায় যে, 'পরের বার কঠিন কিছু আঁকতে গিয়ে যদি সুন্দর না হয়, তবে তো আমার পিকাসো ইমেজটাই নষ্ট হয়ে যাবে! পরের কিছু আর চেষ্টা করা লাগবেনা।'
তাহলে কেমন প্রশংসা করবেন?
Growth-oriented প্রশংসা। যা বাচ্চার অ্যামেজিং রেজাল্টকে নয়, বরং তার চেষ্টা, ধৈর্য আর শেখার ইচ্ছাকে উৎসাহ দেবে। যেমন-
~ বাচ্চা কথা শুনলে শুধু 'গুড জব' না বলে বলুন, “তুমি তোমার বন্ধুদের সাথে খেলছিলে, আমি বাসায় ফেরার কথা বলার সাথে সাথেই তুমি চলে এসেছ।”
~ বাচ্চা নিজে নিজে কাপড় পরার চেষ্টা করলে বলুন, “আমি দেখছিলাম বোতামটা লাগাতে তোমার কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু চেষ্টা করতে করতে শেষমেশ তুমি পেরেছ।”
আর বাচ্চা কোনো কিছুতে ব্যর্থ হলে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলতে পারেন, “আমি জানি এখন তুমি পারছ না আর অন্যরা পারছে দেখে তোমার খারাপ লাগছে। এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু খুশির খবর হচ্ছে তুমি চেষ্টা থামাচ্ছ না। আমি শিউর, তুমি প্র্যাকটিস করতে থাকলে ঠিকই পারবে।”
আমাদের সন্তানদের অবশ্যই প্রশংসা করব, তবে তা যেন তার আত্ন- উন্নয়নের জন্য হয় আর নিজের প্রচেষ্টার মূল্যকে স্বীকৃতি দেয়। দিনশেষে সে যেন ফলাফলের চেয়ে নিজের চেষ্টাকে বেশি ভালোবাসতে শেখে। আর পিপল প্লিজার না হয়ে নিজের কাজটাকে ভালবাসতে শিখে।
ক্যারােল ডোয়েক খুব সুন্দর একটা কথা বলেছেন, "আমরা যদি সন্তানকে সত্যিই কোনো গিফ্ট দিতে চাই, তবে তাদের চ্যালেঞ্জকে ভালোবাসতে শেখানো উচিত, ভুল থেকে শিখতে শেখানো উচিত। তাহলে তারা আর প্রশংসার দাস হয়ে থাকবে না।"
আপনি প্রতিদিনের জীবনে আপনার সন্তানকে কীভাবে প্রশংসা করছেন? কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করুন।
Marium Nur
Certified in Early Childhood Development (Harvard University)
#সচেতন_অভিভাবক #সন্তানের_উত্থান #প্যারেন্টিং_টিপস
Click here to claim your Sponsored Listing.