01/01/2025
সবার প্রতি দ্বীনি দাওয়াত রইলো।
শেয়ার করে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ রইলো...
জামিয়া হাসানিয়া মাদরাসার সকল আপডেট প?
01/01/2025
সবার প্রতি দ্বীনি দাওয়াত রইলো।
শেয়ার করে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ রইলো...
20/04/2024
🔥ভর্তি চলছে, 🔥ভর্তি চলছে, 🔥ভর্তি চলছে,
আগামী ২১/০৪/২০২৪ ইংরেজী ১১ই শাওয়াল ১৪৪৫ হিজরী রোজ রবিবার থেকে জামিয়া হাসানিয়া (মাদরাসার) সকল বিভাগে ছাত্রদের ভর্তি করা হইবে, ইনশাআল্লাহ।
সকল অভিভাবক বৃন্দের প্রতি অনুরোধ, সঠিক সময়ে আপনার সন্তানকে জামিয়ায় ভর্তি করিয়ে কুরআন- সুন্নাহর আলোকে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ দান করুন।
19/04/2024
ইনশাআল্লাহ্!
আগামীকাল শনিবার সকাল ৯.০০টায় সকল বিভাগের রেজাল্ট দেওয়া হবে।
ছুটির নোটিশ :
এতদ্বারা অত্র মাদ্রাসার সুপ্রিয় ও সন্মানীয় অভিভাবকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আজ, ৬/০৪/২০২৪ ইং রোজ শনিবার থেকে ১৯/০৪/২০২৪ ইং রোজ শুক্রবার পর্যন্ত পবিত্র রমজান, ঈদ -উল -ফিতর উপলক্ষে মাদ্রাসা বন্ধ থাকবে এবং ২০/০৪/২০২৪ ইং রোজ শনিবার সকল বিভাগের রেজাল্ট দেওয়া হবে। ও ২১/৪/২০২৪ইং রোজ রবিবার হতে যথারীতি শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।ছুটি কালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি অভিভাবকদের যত্নবান হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হল।
ও একই দিন থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ ১৪৪৫-৪৬হি. সনের নতুন ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ।
ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতের কিরাত অবস্থায় শরিক হলে তাকবীরে তাহরীমার পর নিজে নিজে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। অতপর বাকি নামায যথানিয়মে ইমামের সাথে আদায় করবে। আর ঈদের নামাযের এক রাকাত ছুটে গেলে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে আগে সূরা-কিরাত পড়বে এরপর রুকুর আগে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে।
আর কোনো ব্যক্তি ইমামের তাশাহহুদ অবস্থায় জামাতে শরিক হলে তার নামাযও সহীহ হবে। এক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের সালামের পর দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই দুই রাকাত নামায পড়বে। অর্থাৎ প্রথম রাকাতের শুরুতেই অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নিবে। অতপর সূরা-কিরাত পড়বে। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পর রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলবে।
ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৯২; কিতাবুল আছল ১/৩২২; ফাতহুল কাদীর ২/৪৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, আছর : ৫৮৬৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১৫
10/04/2024
ভিংলাবাড়ী পূর্ব পাড়া জামে মসজিদের পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত সকাল ৭:৩০ মিনিটে ভিংলাবাড়ী জামিয়া হাসানিয়া মাদ্রাসা ময়দানে
আনুষ্ঠিত হবে।
🕌 ইনশাআল্লাহ 🕌
10/04/2024
ঈদ সবার জীবনকে সাজিয়ে তুলুক নতুন আলোয়।
হাসি আর আনন্দে উচ্ছ্বাসিত থাকুক প্রিয়জনেরা।
অত্র মাদ্রাসার শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত সবাইকে -
❣️ ঈদ মোবারক❣️
মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত প্রসঙ্গ ।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সময় মসজিদে ঈদের জামাত পড়েন নাই। শুধুমাত্র একবার বৃষ্টির কারণে পড়েছিলেন । অথচ মসজিদে নববীতে এক রাকাতে ৫০ হাজার আরেক বর্ণনায় ১০০০ রাকাতের সওয়াব জানা সত্ত্বেও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে কেন ঈদের নামাজ পড়েননি, তা চিন্তা করা দরকার।
এখন প্রত্যেক জায়গায়, মসজিদ ভিত্তিক ঈদের জামাত শুরু হয়ে গেছে। মুসলমানদের একাত্মতা, মুসলমানদের বড় জামাত, মুসলমানদের ভ্রাতৃত্ব, মুসলমানদের শক্তি, এগুলি কাফের বিধর্মীদের অন্তর জ্বালা। এগুলি যেন কাফের বিধর্মীদের সামনে প্রকাশ না পায়, সেজন্য মনে হয় কাফের বিধর্মীরা, আমাদের মধ্যে, আমাদের অন্তরে, এই কথা চালু করে দিয়েছে যে, প্রত্যেকে নিজ নিজ মসজিদে ঈদের জামাত পড়ো ।
প্রত্যেক এলাকায় যদি মসজিদ ভিত্তিক না হয়ে এলাকার সবাই মিলে মাঠে গিয়ে, মাঠ না থাকলে রাস্তায়, ঈদের জামাত আদায় করত, কতই সুন্দর হতো। বিনা প্রয়োজনে মসজিদে ঈদের জামাত পড়া, ওলামায়ে কেরাম মাকরুহ লিখেছেন। আমরা জেনে শুনে এ মাকরুহ কাজ করেই যাচ্ছি।
আল্লাহ পাক আমাদেরকে এ ব্যাপারে চিন্তা করে অগ্রসর হওয়ার তৌফিক দান করুন।
মহিলাদের ঈদের নামাযে শরীক হওয়া প্রসঙ্গে ফতোয়া
-----------------------
#প্রশ্ন: আমরা জানি যে, পুরুষের উপর ঈদের নামায ওয়াজিব। মহিলাদের উপর ওয়াজিব না। কিন্তু গত ঈদের নামাযে আমাদের এলাকায় মহিলারাও ঈদের মাঠে শরিক হয়ে ঈদের নামায আদায় করেছে। এখন আমাদের জানার বিষয় হলো, মহিলাদের জন্য জামাতে শরিক হয়ে ঈদের নামায আদায় করা জায়েয কি না? কুরআন সুন্নাহর আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন। যাতে সমাজের মধ্যে বিভেদ শেষ হয়ে যায় আর বিভেদহীন সমাজে বসবাস করতে পারি।
– নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলদিবাতান শাহভেলা ঈদগাহ মাঠ।
#ফতোয়া: ইসলামী শরীয়তে নামায রোযার মতো পুরুষ এবং মহিলাদের উপর পর্দার বিধানও ফরয করা হয়েছে। যেমন- আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, মুমিনদেরকে বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে… এবং ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে। (সূরা নূর, আয়াত- ৩০-৩১)।
মহিলাদের জন্য স্বীয় বাসস্থানে অবস্থান করা ফরয। শরঈ প্রয়োজন ছাড়া আপন ঘর থেকে বের হওয়ার অনুমতি তাদের নেই। যেমন- আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে, জাহেলি যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন কররো না’। (সূরা আহযাব, আয়াত- ৩৩)।
এ সকল কারণে মহিলাদের জন্য জুমআ, ঈদ ও জামাতের হুকুম প্রদান করা হয়নি। জামাতের সাথে নামায পড়ার হুকুম পুরুষদের সাথে সম্পৃক্ত। মসজিদে উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে মহিলাদেরকে কখনই উৎসাহিত করা হয়নি; বরং জামাতে নামায আদায় করার ২৭ গুণ সওয়াব, মসজিদে নববীতে এক নামাযে ৫০ হাজার নামাযের সওয়াব এবং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে নামায পড়ার মতো সৌভাগ্য অর্জনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই মহিলাদেরকে ঘরে নামায পড়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। যেমন- উম্মে সালামা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, ‘নারীদের নামাযের উত্তম জায়গা হলো তাদের ঘরের নির্জন কোণ’। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস- ২৬৫৪২)।
অন্য বর্ণনায় হযরত উম্মে সালামা ( রাযি.) থেকে বর্ণিত, ‘নারীদের ঘরে নামায পড়া ঘরের বাইরে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম।’ ( আল মু‘জামুল আওসাত, হাদিস- ৯১০১)।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ যেহেতু ফেতনা-ফাসাদ থেকে মুক্ত ছিল এবং ইসলামের নিত্য নতুন বিভিন্ন বিধি-বিধান মসজিদে আলোচনা হতো, বিধায় সে যুগে মহিলাদের মসজিদে উপস্থিত হতে বারণ করা হতো না। পরবর্তীতে বিভি
09/04/2024
#ঈদের_আহকাম_ও_পূর্ণাঙ্গ_মাসায়েল
আল্লামা মুফতি জসিম উদ্দীন ।।
ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ও মহান ইবাদতের দু’টি দিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) মদীনায় গমন করে এখানকার লোকদেরকে দু’দিন আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠতে লক্ষ করেন। তাই রাসূলুল্লাহ (সা.) এ ব্যাপারে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে উত্তরে তারা বলেন, জাহেলী যুগে এ দু’দিন আমরা আনন্দ-উৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন বললেন- আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্যে এ দু’দিনের চেয়ে উত্তম দু’টি দিন দিয়েছেন- ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর। এ বিষয়ে মুসনাদে আহমদ ও সুনানু আবী দাঊদে সহীহ সনদে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটির আরবী পাঠ নিম্নরূপ-
عن أنس رضي الله عنه قال : قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة ولهم يومان يلعبون فيهما فقال: ما هذان اليومان. قالوا : كنا نلعب فيهما في الجاهلية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله قد أبدلکم بهما خيرا منهما: يوم الأضحى ويوم الفطر. سنن أبي داود: باب صلاة العيدين.
হযরত আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মদীনায় পৌঁছে দেখতে পান যে, সেখানকার অধিবাসীরা বছরে দু’টি দিন খেলাধূলা ও আনন্দ-উৎসব করে থাকেন। তিনি (সা.) জিজ্ঞেস করেন, এই দু’টি দিন কিসের? তারা বলেন, জাহেলিয়াতের যুগে আমরা এ দু’দিন খেলাধূলা ও উৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের এই দু’ দিনের বিনিময়ে অন্য দু’টি উত্তম দিন দান করেছেন। আর তা হলো- কুরবানী ও রোযার ঈদের দিন (ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর)।’ (সুনানু আবী দাঊদ, বাবু সালাতিল ঈদাইন)।
মুসলমানগণ গোটা রমযান মাস রোযা-আত্মসংযম, ধৈর্য-সহ্য, ইবাদত-বন্দেগী এবং আত্মসংশোধনের ব্যস্ততায় অতিবাহিত করে থাকেন। তাই স্বভাবতই সবাই ঈদের চাঁদের জন্যে বেশ অধীর হয়ে থাকেন। ঊনত্রিশ তারিখের সূর্য ডোবার সাথে সাথেই সব মুসলমানের দৃষ্টি ও মনোযোগ নিবদ্ধ হয়ে যায় আকাশের বুকে। সব বয়সী মানুষ চাঁদের তালাশে মেতে উঠেন। চাঁদ দেখার সাথে সাথে চতুর্দিকে পড়ে যায় আনন্দের ঢেউ। একে অপরকে ঈদ মোবারক জানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কাছে থাকলে সরাসরি, দূরে থাকলে মোবাইলে ফোন কল বা এসএমএস দিয়ে চলতে থাকে মোবারকবাদ।
অপরদিকে ১০ যিলহজ্জ হজ্জ পালনের মাধ্যমে ফুটে উঠে খোদাপ্রেমের এক অপূর্ব স্বর্গীয় দৃশ্য। আর কুরবানী করার মাধ্যমে প্রকাশ পায় আত্মসমর্পণ। এ দিনই হলো, ঈদুল আযহা।
ঈদের চাঁদ প্রমাণিত হওয়ার শর্তাবলী
আকাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে বড় একটা জামাআতের ঈদের চাঁদ দেখা শর্ত। আকাশ পরিষ্কার থাকার ক্ষেত্রে শুধু দু’জন মুসলিম পুরুষ কিংবা একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলার খবর বা সাক্ষ্য দ্বারা চাঁদ দেখা প্রমাণিত হবে না। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে ঈদের চাঁদ প্রমাণিত হওয়ার জন্যে কমপক্ষে দু’জন মুসলিম পুরুষ কিংবা একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলা সাক্ষীর সাক্ষ্য আবশ্যক। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-
‘হযরত হুসাইন ইবনুল হারেস আল-জাদালী (রহ.) বর্ণনা করেন, মক্কা শরীফের আমীর (হারেস ইবনু হাতিব রাযি.) খুতবায় বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে চাঁদ দেখে কুরবানী করার অসিয়াত করেছেন। আর কারণ বশত চাঁদ না দেখা গেলে এবং দু’জন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিলে, তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে যেন কুরবানী করি’। (সুনানু আবী দাঊদ, হাদীস নং- ২৩৩১)।
উক্ত হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ঈদের চাঁদ স্পষ্টভাবে দেখা না গেলে দু’জন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদান আবশ্যক। শুধু তাই নয়; বরং সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্যে তাদের মাঝে নি¤œ বর্ণিত গুণগুলো থাকাও আবশ্যক। যথা- ১. মুসলমান হওয়া। ২. প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া। ৩. আকেল অর্থাৎ সুস্থ বিবেকসম্পন্ন হওয়া। ৪. দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন হওয়া। ৫. আদেল অর্থাৎ- ন্যায়পরায়ণ হওয়া।
এটা একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, যা সব ধরনের সাক্ষীর ক্ষেত্রেই বিশেষ ভূমিকা রাখে। কিন্তু বর্তমান যামানায় বাস্তব অর্থে ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই যদি সব জায়গায় আদেল হওয়ার শর্ত লাগানো হয়, তাহলে মানুষের দৈনন্দিন অনেক সমস্যার সমাধান দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। এজন্যে প্রয়োজনের তাগিদে বিচারক ফাসেককে নির্ভরযোগ্য মনে করলে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করে ফায়সালা দিতে পারেন। তবে এরূপ করা বিচারকের জন্যে আবশ্যক নয়। ৬. তার কথার মাঝে ‘সাক্ষ্য দিচ্ছি’ শব্দ বিদ্যমান থাকা। ৭. স্বচক্ষে চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দেয়া। শুধুমাত্র শোনা খবরের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। ৮. সাক্ষ্যদাতা বিচারক বা কাযী কিংবা গ্রহণযোগ্য হেলাল কমিটি অথবা বিজ্ঞ কোনো মুফতী-আলিমের দরবারে হাজির হওয়া, অন্যথায় সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না। (জাওয়াহিরুল ফিক্বহ, ৩/৪৭১-৪৭৪, মাকতাবা দারুল উলূম করাচী, পাকিস্তান)।
কোনো দেশে শরয়ী বিচারক না থাকলে বিচারকের বিকল্প হিসেবে বিজ্ঞ মুফতী ও মুহাক্কীক আলিম-ওলামাসহ ন্যায়পরায়ণ মুসলমানদের অংশগ্রহণে একটি হেলাল কমিটি গঠন করা যেতে পারে। অথবা ওই এলাকার গ্রহণযোগ্য মুফতীর নিকট পত্র প্রেরণ করবে, যাতে নির্ভরযোগ্য আলেম ওলামা থাকবেন। আর সাক্ষীগণ তাদের সামনে সাক্ষ্য দিলে নিজ এলাকার জন্যে চাঁদ প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে। (জাওয়াহিরুল ফিকহ- ৩/৪৭৫, মাকতাবা দারুল উলূম করাচী, পাকিস্তান)।
ঈদের রাত্রের ফযীলত
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত- ঈদুল ফিতরের রাত আগমন করলে আসমানে তার নাম লাইলাতুল জায়েযা অর্থাৎ- পুরস্কারের রাত বলে ঘোষণা করা হয়। ঈদের দিন সকালে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাগণকে প্রতিটি শহরে প্রেরণ করেন। তারা যমীনে অবতরণ করে সমস্ত অলি-গলি ও রাস্তার মাথায় দাঁড়িয়ে জীন ও ইনসান ব্যতীত সমস্ত মাখলুক শুনতে পায় এমন আওয়াজে ঘোষণা করতে থাকেন যে- হে মুহাম্মদ (সা.)এর উম্মত! ওই দয়ালু রবের দরবারের দিকে প্রত্যাবর্তন করো, যিনি অনেক বেশি দানকারী এবং অনেক বড় বড় অন্যায় ক্ষমাকারী।
অতঃপর লোকেরা যখন ঈদগাহের দিকে রওয়ানা হয়, তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাগণকে জিজ্ঞেস করেন, যে মজদুর নিজের দায়িত্ব পরিপূর্ণরূপে আদায় করেছে তার প্রতিদান কী হতে পারে? ফেরেশতাগণ আরয করেন, হে আমাদের মাবুদ এবং আমাদের মালিক! তার কর্মের যথাযথ ও পুরো পারিশ্রমিক দান করাই হলো তার প্রতিদান। তখন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, হে ফেরেশতাগণ! তোমরা সাক্ষী থাক, আমি তাদেরকে রমযানের রোযা ও তারাবীর বিনিময়ে আমার সন্তুষ্টি ও মাগফেরাত দান করলাম।
আল্লাহ বান্দাগণকে সম্বোধন করে ইরশাদ করতে থাকেন, হে আমার বান্দাগণ! আমার নিকট চাও, আমার ইজ্জতের কসম, আমার মর্যাদার কসম, অদ্যকার এই সমাবেশে আখিরাতের ব্যাপারে আমার নিকট যা কিছু চাইবে তাই দান করবো। আর দুনিয়ার বিষয়ে যা সাওয়াল করবে তাতে তোমাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ রাখবো। আমার ইজ্জতের কসম, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা আমার খেয়াল রাখবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তোমাদের অন্যায়সমূহকে গোপন রাখব। আমার ইজ্জত ও মর্যাদার কসম তোমাদেরকে (কাফিরগণের) সম্মুখেও অপদস্ত করবো না। এখন তোমরা সম্পূর্ণ নিষ্পাপ অবস্থায় গৃহে প্রত্যাবর্তন করো। তোমরা আমাকে রাজি করেছ। আমিও তোমাদের প্রতি রাযি হয়ে গেলাম।
অতএব, ফেরেশতাগণ ইফতারের দিনগুলিতে (রমযানে) এই উম্মতের যে আরজ ও সাওয়াব লাভ হয়, তা দেখে খুশি ও আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠে।
ইসলামে দুই ঈদের রাত সেসব রাতসমূহের মধ্যে পরিগণিত, যেসব রাতে বিশেষভাবে ইবাদতের জন্যে জাগ্রত থাকার উৎসাহ দেয়া হয়েছে। হুযূর (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত থাকবে, তার কলব সেদিনও মরবে না যেদিন অন্যান্য সকলের কলব মরে যাবে। অর্থাৎ- কিয়ামতের দিন যখন সকল মানব ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় মুহ্যমান হয়ে পড়বে, তখন ওই ব্যক্তির কোনো অস্থিরতা থাকবে না। কাজেই দুই ঈদের মর্যাদাপূর্ণ রাতটির প্রতি আমাদের গুরুত্ব দেয়া উচিত।
#ঈদের_আহকাম
মাসআলা: মুসলমান প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ওপর ঈদের নামায ওয়াজিব।
#মাসআলা: জুমআর নামাযের জন্য যেসব শর্ত আবশ্যক, দুই ঈদের নামাযের জন্যও তা জরুরি। (১) মুসলমান, প্রাপ্তবয়স্ক, পুরুষ ও স্থানীয় বাসিন্দা হওয়া। (২) শহর বা শহরতলী বা বড় গ্রাম হওয়া। (৩) খুতবা পড়া। (৪) বাদশাহ বা তার প্রতিনিধি উপস্থিত থাকা। (বর্তমানে ওলামায়ে কেরাম তার স্থলাভিষিক্ত হবেন)। (৫) জামাতে নামায আদায় করা। (৬) সর্বস্তরের লোক জামাতে শরীক হওয়ার অনুমতি থাকা। (৭) নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করা।
কিন্তু জুমআর নামাযের খুতবা ওয়াজিব, আর দুই ঈদের নামাযের খুতবা সুন্নাত। জুমআর খুতবার মতো দুই ঈদের খুত্বা শোনা ওয়াজিব। খুতবা চুপ করে মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে। খুতবা চলাকালীন কথাবার্তা বলা, চলা-ফেরা করা, নামায পড়া বা দোয়া করা সবই হারাম। জুমআর খুতবা নামাযের পূর্বে আর ঈদের খুত্বা নামাযের পরে।
#ঈদের_নামাযের_সময়
সূর্য আনুমানিক এক খুঁটি পরিমাণ উঁচু হওয়া থেকে সূর্য ঢলার পূর্ব পর্যন্ত। এরপর ঈদের নামায শুদ্ধ হবে না। অর্থাৎ সকালে সূর্য উদয় হওয়ার ১৫/২০ মিনিট পর থেকে সূর্য স্থির হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/২১১, মাকতাবাতুল ইত্তেহাদ)।
#ঈদের_দিনের_কয়েকটি_আমল
(১) শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে যথাসাধ্য সুসজ্জিত হওয়া এবং খুশি প্রকাশ করা; (২) গোসল করা; (৩) মিসওয়াক করা; (৪) যথাসম্ভব উত্তম কাপড় পরিধান করা। চাই তা নতুন হোক বা পরিষ্কার করার মাধ্যমে হোক; (৫) খোশবু লাগানো; (৬) অতি সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া; (৭) ফজরের নামাযের পরই অতি ভোরে ঈদগাহে যাওয়া; (৮) ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে খোরমা অথবা অন্য কোনো মিষ্টি দ্রব্য খাওয়া। কোরবানীর ঈদে না খেয়ে যাওয়া; (৯) ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সদকায়ে ফিত্রা আদায় করা; (১০) ঈদের নামায মসজিদে না পড়ে ঈদগাহে গিয়ে পড়া। অর্থাৎ- বিনা ওযরে শহরের মসজিদে না পড়া; (১১) ঈদগাহে এক রাস্তায় যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা; (১২) ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া; (১৩) ঈদগাহে যাওয়া-আসার সময় আস্তে আস্তে তাকবীর বলতে বলতে যাওয়া। কিন্তু কোরবানীর ঈদে উচ্চস্বরে বলা। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/২১০-২১১, মাকতাবায়ে ইত্তেহাদ)।
#ঈদের_তাকবীর: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ”। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/২১৩, মাকতাবায়ে ইত্তেহাদ)।
#ঈদের_নামায_আদায়_করার_নিয়ম
প্রথমে মনে মনে বা মুখ দ্বারা এ নিয়ত করবে যে- অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সঙ্গে ইমামের পিছনে ঈদের ওয়াজিব দু’রাকাত নামায আদায় করছি, কিংবা ঈদের নামায পড়ছি। তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে ইমাম ও মুক্তাদীকে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে নাভীর নিচে হাত বাঁধতে হবে এবং ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা’ তথা ছানা পড়বে। এরপর ‘আউযুবিল্লাহ’ না পড়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তাকবীর দিয়ে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিবে এবং চতুর্থ তাকবীর দিয়ে হাত বেঁধে নিবে। তারপর ‘আউযুবিল্লাহ’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে সূরা ফাতেহা ও অন্য আরেকটি সূরা পড়ে অন্যান্য নামাযের মতো রুকু সিজদা করবে। তথা অন্যান্য নামায যেভাবে আদায় করতে হয় অনুরূপ আদায় করতে হবে।
প্রত্যেক তাকবীরের পর ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা যায় পরিমাণ সময় চুপ থাকতে হবে। দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কিরাতের পর ইমাম সাহেব যখন তাকবীর বলবেন তখন ইমামের সাথে সাথে তাকবীর বলে ১ম, ২য় ও ৩য় তাকবীরে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। চতুর্থ তাকবীরে হাত না উঠিয়ে রুকুতে চলে যেতে হবে। বাকি নামায স্বাভাবিকভাবে আদায় করতে হবে। এরপর খুত্বা শ্রবণের পর বিদায় নিতে হবে। (ফাতাওয়া তাতারখানিয়া- ২/৮৬)।
#মাসআলা: প্রকাশ থাকে যে, পবিত্র মক্কা মুয়াযযামায় আমাদের দেশ থেকে দুু’এক দিন পূর্বেই চাঁদ উদিত হয়। সুতরাং কেউ যদি রমযান মাসে মক্কা শরীফ থেকে আমাদের দেশে আগমন করে এবং আমাদের দেশে ঊনত্রিশ তারিখ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে আগত ব্যক্তিকে অন্যান্য লোকদের সঙ্গে রোযা রেখে একত্রিশতম রোযা পূর্ণ করতে হবে। এমনিভাবে কোনো ব্যক্তি যদি আমাদের দেশ থেকে মক্কা শরীফ গমন করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তির আটাশ রোযা পূর্ণ হয়ে গেলে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী মক্কার লোকদের সঙ্গে ঈদের নামায আদায় করতে হবে। তবে একটি রোযা ক্বাযা করতে হবে। (ফাতাওয়া শামী- ২/৩৮৪; আহসানুল ফাতওয়া- ৪/৪২৩)।
#মাসআলা: ঈদের নামাযের পর সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা ও কোলাকুলি করা সঠিক নয়। অবশ্য হঠাৎ কারো সঙ্গে সফর বা অন্য কোনো কারণে অনেক দিন পর দেখা হলে তার সঙ্গে মুআনাকা করা বিদআত হবে না। আর ঈদের দিন কবর যিয়ারতকে জরুরি মনে করে জামাত বন্দী হয়ে কবর যিয়ারত করা বিদআত। তবে অতি জরুরি মনে না করে কবর যিয়ারত করা ভালো। ঈদের দিন ফজরের নামায ব্যতীত ঈদের নামাযের পূর্বে আর কোন নফল নামায নাই। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া- ১/২১৪)।
ঈদুল আযহার নামাযের তরীকাও একইরূপ। তাতেও সেসব কাজ সুন্নাত যেসব কাজ ঈদুল ফিতরে সুন্নাত। শুধু মাত্র পার্থক্য এই যে, নিয়তের ক্ষেত্রে ঈদুল ফিতরের স্থলে ঈদুল আযহা বলতে হবে। ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া সুন্নাত এবং ঈদুল আযহায় ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে কিছু না খাওয়া উত্তম। ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার সময় তাকবীর চুপে চুপে পড়া সুন্নাত, কিন্তু ঈদুল আযহায় উচ্চস্বরে পড়া সুন্নাত। ঈদুল আযহার নামায যথাসম্ভব সকালে পড়া সুন্নাত। ঈদুল আযহায় সাদকায়ে ফিতর নেই; বরং সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর নামাযের পর কুরবানী করা ওয়াজিব। তবে ঈদের দিন সামর্থ্য অনুযায়ী সদকা করা সুন্নাত। (নূরুল ঈযাহ)।
প্রাসঙ্গিক কয়েকটি মাসআলা
মাসআলা: কোনো ঈদের নামাযের জন্যেই আযান ও ইকামত নেই। (ফাতাওয়ায়ে শামী- ১/৩৯৯)।
#মাসআলা: যে স্থানে ঈদের নামায পড়া হয়, সেখানে ঐদিন ঈদের নামাযের আগে এবং পরে অন্য কোনো নফল নামায পড়া মাকরূহ। তবে ঈদের নামাযের পর বাড়িতে ফিরে এসে নফল নামায পড়া মাকরূহ নয়। কিন্তু তার পূর্বে বাড়িতেও পড়া মাকরূহ। (ফাতাওয়া তাতারখানীয়া- ২/৬)।
#মাসআলা: মহিলাগণ এবং যে সকল পুরুষ ওযরের কারণে ঈদের নামায পড়তে পারেনি, তাদের জন্যেও ঈদের নামাযের পূর্বে নফল নামায পড়া মাকরূহ।
#মাসআলা: কেউ যদি ঈদের নামায জামাতে পড়তে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি একাকী ঈদের নামায আদায় করতে পারবে না। কেননা ঈদের নামায আদায় সহীহ হওয়ার জন্যে জামাত শর্ত। অনুরূপভাবে কোনো ব্যক্তি যদি ঈদের নামাযে শরীক হয়ে কোনো কারণ বশত সে নামায ছেড়ে দেয় এবং পুনরায় আর শরীক না হয়, তাহলে তাকেও এর ক্বাযা আদায় করতে হবে না। কেননা ওই ব্যক্তির ওপর এমতাবস্থায় তা ওয়াজিব নয়। তবে যদি এরূপ নামায পড়তে না পারা আরও কয়েকজন একত্রিত হয়ে যায়, তাহলে তাদের ওপর তা আদায় করা ওয়াজিব। (আলমগীরী- ১/১৫০)।
#মাসআলা: কেউ যদি ঈদের জামাতে এমন সময় এসে হাজির হয় যে, ইমাম সাহেব তাকবীর শেষ করে ফেলেছেন, তাহলে সে ব্যক্তি নিয়ত বাঁধার পর তাড়াতাড়ি তাকবীর আদায় করে নিবেন, যদিও ইমাম সাহেব কেরাত আরম্ভ করে দিয়ে থাকেন।
আর যদি রুকু অবস্থায় শরীক হয়ে থাকেন, তাহলে যদি প্রবল ধারণা থাকে যে, তাকবীর শেষ করে ইমাম সাহেবের সঙ্গে রুকু পাবেন না, তাহলে তাকবীর বাদ দিয়ে রুকুতে শরীক হয়ে যাবেন এবং রুকুতে তাকবীর বলার সময় হাত উঠাবেন না। আর যদি তাকবীর পূর্ণ করার পূর্বেই ইমাম সাহেব রুকু থেকে উঠে যান তবে তিনিও উঠে যাবেন এবং তাকবীর বাকি থেকে গেলে তা মাফ হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া শামী- ১/৫৫৬, তাতারখানিয়া- ২/৯২)।
#মাসআলা: যদি কারো এক রাকাত ছুটে যায়, তবে সে যখন উক্ত রাকাত আদায় করবে তখন প্রথমে কিরাআত পড়বে পরে তাকবীর বলবে যদিও নিয়মানুযায়ী প্রথমেই তাকবীর বলা উচিৎ ছিলো। (ফাতাওয়া শামী- ১/১১৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া- ১/২১৫)
#মাসআলা: অনেক স্থানে ঈদের দিন সেমাই পাকানোকে অত্যন্ত জরুরি মনে করা হয়, এটা সঠিক নয়। সেমাই রান্না করতেও পারে, আবার ইচ্ছা হলে রান্না না করতে পারে। শরীয়তে একে খাছ করে নেয়ার কোনো ভিত্তি নেই। অর্থাৎ- অনেকে ঈদের দিন সেমাই রান্না করা ও তা খাওয়া সুন্নাত মনে করেন, অথচ কথাটি ভুল। ঈদের দিন বিশেষ কোনো খাবার পাকানো বা খাওয়ার বাধ্য বাধকতা নেই। (ফাতাওয়া শামী- ২/১৬৮ পৃষ্ঠা)।
#মাসআলা: ঈদের দিন পোষাকের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে, এমনকি অনেকে ধার-কর্য করে হলেও নতুন কাপড় তৈরি করেন। আবার অনেকে ধার করা কাপড় পরিধান করে ঈদ উদযাপন করেন। পোষাকের ওপর এমন গুরুত্ব দেয়ারও কোনো ভিত্তি নেই; বরং সুন্নাত হলো যার কাছে যে কাপড় আছে সেগুলোর মধ্যে যা উত্তম তা পরিধান করা। (যাওয়ালুচ্ছিনাহ- ১৮ পৃষ্ঠা)।
#মাসআলা: যদি কোনো কারণ বশতঃ এলাকাবাসী সবাই প্রথম দিন ঈদের নামায আদায় করতে না পারেন, তাহলে পরের দিন আদায় করবেন। (ফাতাওয়া কাযীখান- ১/৮৯)।
#মাসআলা: যদি কোনো এলাকার লোক সংখ্যা এত বেশি হয় যে, একসঙ্গে একই ঈদগাহে নামায পড়তে না পারে এবং ঈদের নামায আদায় করার জন্যে অন্য কোনো জায়গা বা নিকটবর্তী কোনো ঈদগাহও না থাকে, তাহলে দ্বিতীয়বার ওই ঈদগাহে জামাআত করতে পারবে। আর দলাদলী করে একই ঈদগাহে দুইবার জামাআত করা মাকরূহ।
লেখক: মুফতি, মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও সহকারী পরিচালক, আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
08/04/2024
প্রসঙ্গ সাদকায়ে ফিতরা ।
টাকা পয়সা দিয়ে সদকায়ে ফিতরা আদায় করা জায়েয, তাতে কোন সন্দেহ নেই ।
মুহাক্কেক ওলামায়ে কেরাম সে সম্পর্কে অনেক রিসার্চ করে ফতোয়া দিয়েছেন। টাকা-পয়সার মাধ্যমে ছদকায়ে ফিতরা আদায় করা বৈধ। নিঃসন্দেহে আদায় করতে পারবেন। ওলামায়ে কেরামের উপর আস্থা রাখতে পারবেন। যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতেছে, তাদের কথায় কান দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই ।
আল্লাহ পাক আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।
আমীন ।
08/04/2024
আপনার যাকাত, সদকা,ফিৎরা অনুদান আপনার প্রিয় দ্বীনি এদারায় (মাদ্রাসা) দিচ্ছেন তো?
06/04/2024
ছুটির নোটিশ :
এতদ্বারা অত্র মাদ্রাসার সুপ্রিয় ও সন্মানীয় অভিভাবকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আজ, ৬/০৪/২০২৪ ইং রোজ শনিবার থেকে ১৯/০৪/২০২৪ ইং রোজ শুক্রবার পর্যন্ত পবিত্র রমজান, ঈদ -উল -ফিতর উপলক্ষে মাদ্রাসা বন্ধ থাকবে এবং ২০/০৪/২০২৪ ইং রোজ শনিবার সকল বিভাগের রেজাল্ট দেওয়া হবে। ও ২১/৪/২০২৪ইং রোজ রবিবার হতে যথারীতি শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।ছুটি কালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি অভিভাবকদের যত্নবান হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হল।
ও একই দিন থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ ১৪৪৫-৪৬হি. সনের নতুন ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ।