Medical Book Uttara

Medical Book Uttara

Share

বাংলাদেশের প্রথম Medical Book Uttara

Photos 27/08/2015

নীরব ঘাতক হেপাটাইটিস বি ভাইরাস !
..................................................
হেপাটাইটিস বি এমন একটি ভইরাস যা বিশ্বব্যাপী মারাত্মক সংক্রামক রোগের জীবাণু হিসেবে পরিচিত। শিশুদের ব্যাপক হারে এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে পৃথিবীতে প্রতি বছর ২ থেকে ৫ লাখ নবজাতক হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জন্মগ্রহণ করে যারা ভবিষ্যতে এই রোগের বাহক হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মতে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদি বাহক এবং এদের ২০ শতাংশ লিভার ক্যান্সার ও সিরোসিসের কারণে মারা যেতে পারে। বাস্তবে হেপাটাইটিস-বি এইডসের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি সংক্রামক এবং প্রতিবছর এইডসের কারণে পৃথিবীতে যত লোক মৃত্যুবরণ করে তার চেয়ে বেশি মৃত্যুবরণ করে হেপাটাইটিস-বি’র কারণে।
হেপাটাইটিস বি :
বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যা । হেপাটাইটিস বি এক ধরনের ভাইরাস যা মুলত লিভারকে আক্রমণ করে। এর সংক্রমণের ফলে পৃথিবীর অন্যতম ঘাতক ব্যাধি লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার হতে পারে। রক্ত ও রক্তজাত পদার্থ মূলত এই ভাইরাসের বাহক। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ভাইরাসে আক্রান- রোগী সাধারণত কোনো লক্ষণ বহন করে না, অথচ এদের মাধ্যমে অন্যরা সংক্রমিত হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে রক্তরস, লালা, বীর্য ও বুকের দুধ এক দেহ থেকে অন্য দেহে ভাইরাস বিস্তারে সহায়তা করে। সাধারণত আক্রান্ত মায়ের শিশু সন্তান, আক্রান্ত পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বহুবার রক্ত গ্রহণকারী রোগী, মাদকাসক্ত ব্যক্তি, মানসিক অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তি, স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তথা হাসপাতালে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ-যেমন চিকিৎসক, সেবিকা, ল্যাবরেটরিতে কর্মরত ব্যক্তি, দন্তরোগের চিকিৎসকেরা এই ভাইরাসে আক্রান- হতে পারে ।
হেপাটাইটিস বি এর ইতিহাস:
ইতিহাসে খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে হিপোক্রেটিসের আমলে মহামারী হিসেবে জন্ডিসের কথা পাওয়া যায়। তবে ড. সাউল ক্রুগম্যান ১৯৫০ সালে একদল মানসিক রোগীর উপর গবেষণা চালিয়ে প্রথম এ ভাইরাসটি শনাক্ত করেন । তার দেয়া তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ড. ব্লুমবার্গ হেপাটাইটিস বি ভ্যাক্সিন তৈরি করেন। বর্তমানে ড. ব্লুমবার্গ এর তৈরিকৃত ভ্যাক্সিন এর পরিবর্তে রিকমবিন্যান্ট ভ্যাক্সিন ব্যবহার করা হয়।
হেপাটাইটিস বি’তে আক্রান- হওয়ার ঝুকি:
অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের অধিবাসী যেমন সাব সাহারা আফ্রিকা, এশিয়ার অধিকাংশ, প্রশান- মহাসাগরীয় অঞ্চলের অধিবাসী ও আলাস্কার আদি অধিবাসীদের মধ্যে হেপাটাইটিস বি রোগের প্রকোপ অন্যদের তুলনায় অধিক।হেপাটাইটিস বি’তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি তাদের বেশী
যারা রক্তক্ষরন ও অন্যান্য কারণে সৃষ্ট রক্তশূন্যতার চিকিৎসায় বারবার ব্লাড ট্রান্সফিউশন করেন ।।
সমকামী পুরুষদের মধ্যে যৌন মিলনের ফলে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে সংক্রমিত নারী-পুরুষের মধ্যে একাধিক নারী-পুরুষের সঙ্গে যৌন মিলন।
ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক দ্রব্য সেবন।
একই নিডল ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির মাদক দ্রব্য গ্রহণ।
রোগীর দেহ থেকে রক্ত সংগ্রহ, স্যালাইন বা ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ প্রয়োগ করার সময় কিংবা ল্যাবরেটরিতে রক্ত ও রোগীর দেহ থেকে সংগৃহীত তরল পদার্থ নিয়ে পরীক্ষা করার সময় অসাবধানতাবশত
হেপাটাইটিস বি সংক্রমিত রক্ত কিংবা অন্য তরল জাতীয় পদার্থ স্বাস্থ্য কর্মীদের রক্তের সংস্পর্শে এলে।
হেপাটাইটিস বি রোগের প্রাদুর্ভাব অধিক- এ ধরনের এলাকায় ছয় মাসের অধিক সময় অবস্থান করা।
নার্সিং হোমে দীর্ঘ সময়ের জন্য অবস্থান বা কর্মরত থাকা।
এছাড়াও হেপাটাইটিস বি’তে আক্রান- মায়ের গর্ভজাত সন্তানদের অনাক্রান্ত মায়ের গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তানদের তুলনায় হেপাটাইটিস বি’তে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অধিক।
শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ:
হেপাটাইটিস বি’তে নবজাতকরা পিতামাতার মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার হেপাটাইটিস বি ভাইরাস জন্মের সময় বাহক মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমিত হয়। এ ধরনের সংক্রমনকে ভার্টিক্যাল ট্রান্সমিশন বলা হয় । এছাড়া শৈশবে ও কৈশোরে খেলাধুলার সময় আঁচড়ের মাধ্যমে বাহক শিশু থেকে সুস্থ শিশুতে এ রোগ ছড়াতে পারে । একইভাবে সুচের মাধ্যমে নাক কান ফুটো করার মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে । আবার অশোধিত সিরিঞ্জ ও সুচ দ্বারা এবং চুল কাটার সময়ও সংক্রমন ঘটতে পারে ।
উপসর্গ :
এক-তৃতীয়াংশ লোক কিছুই বুঝতে পারেন না।
এক-তৃতীয়াংশ লোকের ফ্লুর মতো মাথাব্যথা, গা শিরশির এবং জ্বর হয়।
এক-তৃতীয়াংশ লোকের জন্ডিস, ক্ষুধামন্দা, ডায়রিয়া, বমি ও জ্বর দেখা দেয়।
হেপাটাইটিস বি’র দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব:
হেপাটাইটিস বি’তে আক্রান- রোগীদের অধিকাংশই কোনো প্রকার চিকিৎসা ব্যতিরেকেই আরোগ্য লাভ করে থাকে। পাঁচ বছর বয়সের আগে আক্রান্ত শিশুদের শতকরা ৯০ জনই লিভারের ক্রনিক বা দীর্ঘ মেয়াদি প্রদাহে ভুগতে থাকে। বয়স্কদের মধ্যে এ সংখ্যা হচ্ছে পাচ থেকে দশ

Photos 17/08/2015

....(মনের রোগে ঘুমের সমস্যা).....
...........................................
লিখেছেন: ডা. সুস্মিতা রায়
মানবদেহ পরিশ্রম আর বিশ্রামের এক সুস্পষ্ট চক্রে বাধা। এর কোনোটির ঘাটতি বা বাড়তি হলেই বিপত্তি। পরিশ্রমের তুলনায় বিশ্রাম অর্থাৎ ঘুম কম হলে যেমন শরীর ভেঙে যেতে পারে, তেমনি বেশি বিশ্রাম বা ঘুমেও দেখা দিতে পারে নানা সংকট। প্রাপ্ত বয়স্ক প্রায় ত্রিশ শতাংশ মানুষই এ ধরনের ঘুমের সমস্যার শিকার। যার বেশিরভাগই কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় অক্রান্ত।
সম্প্রতি এক মার্কিন গবেষণায় দেখা গেছে, কম ঘুমের ফলস্বরূপ মস্তিষ্কের কোষ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানসিক সমস্যা ও মানসিক রোগ ছাড়াও ঘুমের সমস্যার অন্য কারণগুলোর মধ্যে ঘুমের প্রাথমিক সমস্যা, পরিবেশগত সমস্যা, ও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা অন্যতম।
ঘুমের সমস্যায় অক্রান্তদের যে শুধু রাতই নষ্ট হয় তাই নয়, বরং তাদের মধ্যে দিনের বেলায়ও অবসাদগ্রস্ততা তথা মেজাজের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। আবার দীর্ঘ নিদ্রাহীনতার কারণে মানুষের বুদ্ধিমত্তারও ঘাটতি দেখা যায় যা পরবর্তীতে তাঁর ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত, পেশাগত ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলে।
অনিদ্রার মানসিক কারণ
নিদ্রাহীনতার জন্যে দায়ী মানসিক কারণগুলোর মধ্যে মানসিক চাপ (চাকরিগত সমস্যা, বেকারত্ব, অতিরিক্ত কাজের চাপ, পড়া-লেখার চাপ, বিবাহ বিচ্ছেদ, দাম্পত্য কলহ, পারিবারিক কলহ, সম্পর্কের ঘাটতি ইত্যাদি), মানসিক দ্বন্দ্ব বা সিদ্ধান্তহীনতা, দুশ্চিন্তা, বিষন্নতা, উদ্বিগ্নতা, আঘাত পরবর্তী মানসিক চাপ, শুচিবায়ুগ্রস্থতা, আত্মঘাতী মানসিক সমস্যা, নেশাগ্রস্ততা এবং অন্যান্য লঘুতর ও গুরুতর মানসিক রোগ উল্লেখযোগ্য। পরিবেশগত কারণগুলোর মধ্যে রাতের শিফটে কাজ করা, উচ্চ শব্দের মধ্যে বসবাস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
শারীরিক কারণ
শারীরিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যে কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ (Chronic disease), শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, স্ট্রোক, হাইপারথাইরয়ডিসম (থাইরয়ড হরমোন বেশি নিঃসরণজনিত সমস্যা), গর্ভধারণ, মেনোপজাল সিনড্রোম, আলজাইমারস্ ডিসিস (বৃদ্ধকালের স্মৃতিভ্রষ্ট রোগ) এবং বিভিন্ন ওষুধের (ক্যাফেইন, এফেড্রিন, কোকেইন, এমফিটামিন, মিথাইলফেনিডেট ইত্যাদি উপাদান সমৃদ্ধ ওষুধ) পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া।
সমস্যার ধরণ
ঘুমের সমস্যা মানে যে শুধু ঘুম না হওয়া – ঠিক তা না, ঘুম শেষে অপর্যাপ্ত ঘুমের অনুভূতি কিংবা দিনের বেলাতেও ঘুমঘুম ভাব লাগাটাও এক ধরনের ঘুমের সমস্যা। তবে কারণের তারতম্য অনুযায়ী ঘুমের সমস্যার লক্ষণেরও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। ঘুমের সমস্যা বোঝার প্রধান কয়েকটি লক্ষণ হচ্ছে –
=> ঘুম শুরু হতে দেরি হওয়া বা শোয়ার পরও দীর্ঘ সময় ঘুম না আসা
=> ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া
=> মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া
=> দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে যাওয়া
=> ঘুমের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করা
=> ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট হওয়া
=> ঘুম থেকে উঠেও অপর্যাপ্ত ঘুমের অনুভূতি
=> দৈনন্দিন কাজে বিরক্ত লাগা, মনোযোগ দিতে না পারা অথবা একাগ্রতার অভাব ইত্যাদি।
চিকিৎসা
নিদ্রাহীনতার চিকিৎসার বিষয়ে একজন রোগীর কাছ থেকে প্রথমেই চিকিৎসককে বিস্তারিত ইতিহাস জানতে হবে এবং সব ধরনের শারীরিক ও অন্যান্য পরীক্ষা- নিরীক্ষার মাধ্যমে এর মানসিক কিংবা শারীরিক কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঘুমের ওষুধের পাশাপাশি ঘুমের পরিচ্ছন্নতা (Sleep hygiene) মেনে চলার নির্দেশনা এবং প্রয়োজনে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। তবে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ খাওয়া উচিৎ নয়। এর ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দিনের বেলা মাথা ঝিমঝিম করা, মাথা ঘুরানো, নিদ্রালুভাবসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যবহারে আসক্তির জন্ম হতে পারে।
ডা. সুস্মিতা রায়
সহযোগী অধ্যাপক, মনোরোগ বিভাগ
জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ, সিলেট

Photos from Medical Book Uttara's post 01/08/2015
Photos 13/04/2015

ভালো কাটুক সারাটা দিন. পানি খাবেন বেশি

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address

House # 20, Road# 05,Sector # 06, Uttara, Dhaka. (Before Joynal Market Rail Cros
Dhaka
1230