26/06/2026
আবূ যার (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন, তুমি যেখানেই থাক আল্লাহ্ তা’আলাকে ভয় কর, মন্দ কাজের পরপরই ভাল কাজ কর, তাতে মন্দ দূরীভূত হয়ে যাবে এবং মানুষের সাথে উত্তম আচরণ কর।
~ সুনান আত-তিরমিজী : ১৯৮৭
24/06/2026
সাহাবীদের আমল ও শিশুদের প্রশিক্ষণ
আশুরার রোজার প্রতি সাহাবীদের কতটা গুরুত্ব ছিল, তা একটি চমৎকার ঘটনা থেকে বোঝা যায়।
রুবাই’ বিনতে মুআওয়িয (রা.) বলেন,
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার সকালে ঘোষণা দিলেন--
“যে রোজা রেখেছে সে যেন রোজা পূর্ণ করে, আর যে খেয়েছে সে যেন বাকি দিন না খায়।”
তিনি আরও বলেন, "আমরা সাহাবীগণ নিজেরা রোজা রাখতাম, এমনকি আমাদের ছোট বাচ্চাদেরও রোজায় অভ্যস্ত করাতাম।
ছোট শিশুদের জন্য আমরা খেলনা বানিয়ে দিতাম,
যখন তারা খাবারের জন্য কাঁদত, তখন সেই খেলনা দিয়ে তাদের ব্যস্ত রাখতাম-- এভাবে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় পার করতাম।"
(সহিহ বুখারি: ১৯৬০, সহিহ মুসলিম: ১১৩৬)
এ ঘটনা আমাদের শেখায় যে, সাহাবাগণ ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের ইবাদত ও দ্বীনের সঙ্গে পরিচিত করাতেন।
23/06/2026
মুহাররমের রোজাগুলো শুরু হতে আর মাত্র একদিন। বছরের পর বছর আমরা কত সুযোগের পেছনে ছুটি, কত অর্জনের পরিকল্পনা করি, অথচ আল্লাহর দেওয়া কিছু বিশেষ সময় নীরবে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়, যেন ফিরে আসার আরেকটি সুযোগ নিয়ে।
৯, ১০ অথবা ১০ ও ১১ মুহাররমের রোজা রাখার এই দিনগুলোও তেমনই এক উপহার। যে আশুরার রোজা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ আশা প্রকাশ করেছেন, আল্লাহ এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের সগীরা গুনাহ মাফ করে দেবেন।
তাই আসুন, শুধু রোজা রাখাই নয়, এই দিনগুলোকে কুরআন তিলাওয়াত, ইস্তিগফার, দোয়া এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আরও অর্থবহ করে তুলি।
কে জানে, হয়তো এই মুহাররমের একটি রোজা, একটি অশ্রুসিক্ত তাওবা, অথবা রাতের নির্জনতায় করা একটি আন্তরিক দোয়াই আল্লাহর কাছে আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান আমল হয়ে যাবে। হয়তো কোনো দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, কোনো অপ্রকাশিত কষ্ট, কিংবা কোনো গোপন আশা এই মুহাররমেই রবের রহমতের দরজায় উত্তর খুঁজে পাবে। তাই নিজেও রোজা রাখুন, প্রিয়জনদেরও স্মরণ করিয়ে দিন। কারণ কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের শুরু হয় একটি ছোট্ট নেক আমল থেকেই।
22/06/2026
সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পের হার বেড়েছে। আজ রাতের ভূমিকম্পটা খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের সেই কাঁপুনিই অনেককে নিজেকে নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্তকীকরণ রিমাইন্ডার নিঃসন্দেহে!
• কারো হয়ত তখনও এশার নামাজটা এখনো পড়া হয়নি...
• কেউ হয়তো ভেবেছেন, "আজ সারাদিনে কত গুনাহ করলাম, একবারও তাওবা করা হলো না।"
• কোনো বাবা হয়তো মনে মনে হিসাব করেছেন, "সন্তানের জন্য অনেক কিছু রেখে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দ্বীনের কতটুকু শিক্ষা দিতে পেরেছি?"
• কোনো মা হয়তো ভেবেছেন, "সন্তানের কুরআন শিক্ষার কথা বারবার ভেবেছি। কিন্তু শুরুটা আর করা হয়নি।"
• কোনো তরুণের মনে এসেছে, "আরও একটু সময় পেলে বদলে যেতাম।"
• কোনো ব্যবসায়ীর মনে হয়েছে, "দুনিয়ার হিসাব এত করলাম, আখিরাতের হিসাব কতটুকু গুছিয়েছি?"
ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ে আমাদের যে ভয়, সচেতনতা এগুলোই আমাদের সচেতন হৃদয়ের নির্দেশক। আসলে ভয়টা কিন্তু ভূমিকম্পের ছিল না। ভয়টা ছিল অপ্রস্তুত অবস্থায় আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে যাওয়ার।
আমরা প্রায়ই ভাবি, এখনও অনেক সময় আছে।
পরের মাসে শিখব। এবার কুরআন তিলাওয়াতটা শুদ্ধ করে নেব। কাল থেকে নামাজে মনোযোগী হব। কাল থেকে দ্বীনের পথে আরও সিরিয়াস হব। কাল থেকে ভালো হয়ে যাব।
কিন্তু জীবন সবসময় আগামী দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে না। সবসময় যে আমরা আগামীকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকব তার কোনো গ্যারান্টি নেই!
আজ রাতের ভূমিকম্প সেটাই আমাদের মনে করিয়ে দিল আরেকবার। আরেকবার আল্লাহ তায়া’লা সুযোগ দিলেন! মৃত্যু বৃদ্ধ, যুবক, ছাত্র, চাকরিজীবী, বাবা কিংবা মায়ের জন্য আলাদা কোনো সময় নির্ধারণ করে আসে না।
তাই ভয় পাওয়ার চেয়ে ভালো, প্রস্তুতি নেওয়া।
হয়তো আজই সেই দিন, যেদিন আমরা নামাজকে আরও গুরুত্ব দেব। হয়তো আজই সেই দিন, যেদিন কুরআনের সাথে সম্পর্কটা নতুন করে গড়ে তুলব। আজ থেকেই ঘুমানোর আগে ওজু করে, সবাইকে মাফ করে দিয়ে, সুন্নাহ আমল করে ঘুমোব। হয়তো আজই সেই দিন, যেদিন বহুদিনের অশুদ্ধ তিলাওয়াত শুদ্ধ করার প্রথম পদক্ষেপ নেব।
কারণ আমরা জানি না আমাদের জীবনের পরবর্তী মুহূর্ত, পরবর্তী দিন-রাত, কিংবা পরবর্তী সুযোগটি আদৌ আসবে কি না। তাই সময় থাকতেই নিজেদের পরিবর্তন করি। সচেতন হই। সচেতন করি।
21/06/2026
একজন মা যখন কুরআন তিলাওয়াত করেন, তখন তিনি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কিংবা নিজের জন্যই পড়েন না। অনেক সময় না বুঝেই তিনি একজন ভবিষ্যৎ পাঠক, একজন ভবিষ্যৎ মুসলিম, এমনকি একজন ভবিষ্যৎ অভিভাবককে গড়ে তুলতে সাহায্য করেন।
শিশুরা সাধারণত উপদেশ শোনার চেয়ে দেখে দেখে বেশি শেখে। তারা খেয়াল করে মা কীভাবে কথা বলেন, কীভাবে দোয়া করেন, কীভাবে কুরআন পড়েন। এমনকি কোনো শব্দ কীভাবে উচ্চারণ করেন, সেটাও তাদের মনে থেকে যায়।
মজার ব্যাপার হলো, একটি শিশু মাদরাসা বা স্কুলে যাওয়ার আগেই কয়েক বছর ঘরের পরিবেশে বড় হয়। জীবনের প্রথম দিকের অনেক শিক্ষাই সে পরিবার থেকে পায়। তাই অনেক আলেম ঘরকে শিশুর প্রথম মাদরাসা বলে থাকেন।
আমরা সবাই চাই সন্তানের জন্য ভালো পোশাক, ভালো শিক্ষা আর সুন্দর ভবিষ্যৎ। এটা একদম স্বাভাবিক। কিন্তু কখনো কি ভেবেছি, তার প্রথম শিক্ষক হিসেবে আমরা নিজেদের কতটা প্রস্তুত করছি?
হতে পারে আমাদের কুরআন তিলাওয়াত এখনো অশুদ্ধ রয়ে গিয়েছে, এখানে অপরাধবোধের কিছু নেই। কারণ আমরা সবাই কোনো না কোনো জায়গা থেকে শিখছি, ভুল ঠিক করছি, আর ধীরে ধীরে উন্নতি করছি। আসল বিষয় হলো, আমরা শেখার পথেই আছি কি না? শেখার চেষ্টা জারি রাখছি কি না?
চিরকাল আমরা দুনিয়ায় থাকব না। একদিন আমাদের সন্তানেরা মা হারা হবে। বাবা হারা হবে। কিন্তু মায়ের শেখানো সূরা ফাতিহা থেকে যাবে ইন শা আল্লাহ।
সন্তান নামাজে দাঁড়াবে, সূরা ফাতিহা পড়বে, আর কবরের অন্ধকারে শুয়ে থাকা মা ইনশাআল্লাহ পেতে থাকবেন তার সাদকায়ে জারিয়ার সওয়াব। তাই সন্তানের কুরআন শিক্ষার শুরু শুদ্ধ হওয়ার জন্য মা-বাবার তিলাওয়াত শুদ্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি!
হয়তো আজ একটি হরফ ঠিক করা, একটি সূরা শুদ্ধ করা, বা কুরআনের সঙ্গে আরও একটু গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার ছোট্ট চেষ্টা একদিন আগামী প্রজন্মের জন্য বড় উপহার হয়ে যাবে। শুধু তাই-ই নয়, বরং আরো বহুবছর পর যখন আমরা দুনিয়ার মায়া কাটিয়ে অন্ধকার কবরে শুয়ে থাকব, হয়ত এই উত্তরাধিকার আমাদের কবরের নূর হবে! আমাদের জন্য বারযাখের জীবন সহজ করবে, সাদকায়ে জারিয়া হয়ে! সন্তানের ভবিষ্যৎ শুধু তার স্কুলই ঠিক করে না। তার মায়ের মুখে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ, বাবা মায়ের প্রতিটি পদক্ষেপই তার জীবনকে সুগঠিত করে তোলে।
প্যারেন্টিংয়ের এই কুরআন শেখা ও শেখানোর যাত্রা সহজ করতে আপনার সন্তানের জন্য ই'তিকাদের ❝গল্পে গল্পে কুরআন ও নৈতিক শিক্ষা❞ কোর্স এবং মায়েদের জন্য ❝ফারযুল আইন ও কুরআন শিক্ষা কোর্স❞ হতে পারে সেই সুন্দর শুরু।
👉ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অংশ নিতে হবে আমাদের ❝ফ্রি স্পেশাল অবজারভেশন অ্যান্ড সেল্ফ অ্যাসেসমেন্ট❞ সেশনে।
রেজিস্ট্রেশনের জন্য ইনবক্সে পাঠান:
• শিক্ষার্থীর নাম
• বয়স
• অবস্থানরত সিটি
• অভিভাবকের ফোন নম্বর
হয়তো আজকের এই ছোট্ট পদক্ষেপই হয়ে উঠবে আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সাদকায়ে জারিয়ার একটি বী। সময়ের পরিক্রমায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যা হয়ে উঠতে পারে মহীরুহ, ইন শা আল্লাহ।
21/06/2026
বিশ্বনবী ﷺ এর দৌহিত্র, চতুর্থ খলিফা আলী বিন আবু তালেব (রা.) ও রাসূল ﷺ এর প্রিয় কন্যা ফাতিমা (রা.) এর পুত্র হুসাইন (রা.) ছিলেন ইসলামের অন্যতম সিপাহসালার। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ।
ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার সিংহাসন আরোহণ ইসলামি খিলাফতের প্রকৃতিকে বিকৃত করেছিল বিধায় ইমাম হুসাইন (রা.) এই অবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।তিনি শুধু ইয়াজিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াননি তিনি সমগ্র উম্মাহর বিবেককে জাগ্রত করেছিলেন।
ড. আলী জুমআ এর মতে, ❝ইমাম হুসাইনের সংগ্রাম ছিল মূলত ইসলামের 'আমর বিল মারুফ’ নীতির বাস্তবায়ন। আজকের প্রেক্ষাপটে এর অর্থ হলো- অসত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।❞
[আল- বায়ান আল-মুআসির, পৃষ্ঠা: ৮৯]
ইমাম হুসাইনের আত্নত্যাগ আমাদের শেখায়-
★সত্যের জন্য জীবন উৎসর্গ করা
★অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করা
★আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া
পাঠক, কারবালার প্রান্তরে ফুরাত নদীর তীরে, ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার জন্য, জান্নাতে যুবকদের সর্দারের বীরত্ব গাঁথা শোনার জন্য শব্দের বুননে বাঁধা এক অসাধারণ আয়োজনে আপনাকে স্বাগতম!
কনফারেন্স তথ্য:
🎙️আলোচনার টপিক- হুসাইন (রা.): সত্য ও সাহসের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
📅তারিখ: ২৩ জুন ২০২৬
⏰সময়: 7:30 PM
(বাংলাদেশ সময়)
লাল-নীল দুনিয়া ছেড়ে তামাটে মাটির সত্যপানে ফিরে এসে শিশু-কিশোররা যেন চিনতে পারে তাদের উত্তরসূরীদের যারা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে,শৌর্যবীর্যে,শক্তিতে-বুদ্ধিতে,স্বভাবে-প্রভাবে ছিল সবার চাইতে এগিয়ে সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন!