13/06/2026
💔 বিয়ে ভাঙার যাদু ধ্বংস করার রুকিয়া ও আমল♦️
কাউকে বিয়ে ভাঙা বা আটকে রাখার জন্য বান মারলে, তাবিজ করলে অথবা যাদু করলে সাধারণত কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যায়। যেমন:
শেষ মুহূর্তে বিয়ে ভেঙে যাওয়া: বিয়ের প্রস্তাব আসে, কিন্তু সবকিছু পারফেক্ট থাকলেও শেষ মুহূর্তে পছন্দ হয় না। সব ঠিকঠাক থাকার পরও হয়তো ছেলে বেঁকে বসে, নয়তো মেয়ে। কোনো না কোনোভাবে বিয়ে ভেঙে যায়।
প্রস্তাব না আসা: মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক গুণধর হওয়া সত্ত্বেও কোনো ভালো প্রস্তাব আসে না।
অস্বস্তি ও খারাপ লাগা: কেউ প্রস্তাব দিলে পছন্দ হওয়ার বদলে উল্টো মনে তীব্র খারাপ লাগা বা অস্বস্তি তৈরি হয়।
শারীরিক অসুস্থতা: অনেকের ক্ষেত্রে বিয়ের আলোচনা উঠলেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার লক্ষণও দেখা যায়।
⚠️ এই যাদুতে আক্রান্ত হওয়ার মূল লক্ষণসমূহ:
তীব্র মাথা ব্যথা: ওষুধ খেয়েও সাধারণত তেমন কোনো ফায়দা বা আরাম পাওয়া যায় না।
মানসিক অশান্তি: প্রায় সময় মানসিকভাবে অস্থির থাকা। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র অস্বস্তিতে ভোগা।
ঘুমের ব্যাঘাত: ঘুমের মধ্যে শান্তি না পাওয়া, ঠিকমতো ঘুমাতে না পারা। আবার ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘক্ষণ শরীর ও মনে কষ্ট হওয়া।
পেটে অস্বস্তি: মাঝেমধ্যেই কোনো কারণ ছাড়াই পেট ব্যথা করা।
পিঠের ব্যথা (Back Pain): বিশেষত মেরুদণ্ডের নিচের দিকে তীব্র বা হালকা ব্যথা লেগেই থাকা।
পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও আকস্মিক বাধা: পাত্র বা পাত্রীকে দেখতে গেলে অপর পক্ষের পরিবারে হুট করে সমস্যা হওয়া, আত্মীয়-স্বজন অসুস্থ হওয়া বা দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়া। এমনকি পাত্র বা পাত্রী নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়া।
লক্ষণীয় বিষয়: অনেকের ওপর বিয়ে আটকে রাখার জন্য দুষ্ট জ্বিনের সাহায্যে দীর্ঘমেয়াদী যাদু করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই শয়তানী যাদুর প্রচলন আমাদের সমাজে খুব বেশি। আল্লাহ আমাদের সকলকে হিফাজত করুন। আমিন।
✅ রুকইয়াহ পদ্ধতি ও আমল
👉১. প্রাথমিক প্রস্তুতি ও জ্বিনের চিকিৎসা
আপনি পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে (ওযু করে, পাক-পবিত্র হয়ে) রোগীর পাশে বসে জোর আওয়াজে রুকইয়ার আয়াতগুলো পড়বেন এবং মাঝেমধ্যে ফুঁ দিবেন। যদি জ্বিনের সমস্যা থাকে, তবে রোগীর ওপর জ্বিন চলে আসতে পারে। জ্বিন এলে তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন— ‘কীভাবে যাদু করেছে?’ অথবা ‘যেসব জিনিস দিয়ে যাদু করেছে, সেগুলো কোথায় আছে?’
জ্বিনেরা যদিও খুব মিথ্যাবাদী হয়, তবুও যদি আল্লাহর হুকুমে সত্য বলে দেয় তবে ভালো, না বললে জোর করার প্রয়োজন নেই। সম্ভব হলে এটা জিজ্ঞেস করে তারপর জ্বিন তাড়াবেন।
যাদুর জিনিস নষ্ট করার নিয়ম:
যদি যাদুর জিনিস (যেমন: তাবিজ, চুল বা অন্য কিছু) খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে নিচের আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে জিনিসগুলো সেই পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখতে হবে। তাহলে ইনশাআল্লাহ যাদু নষ্ট হয়ে যাবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আর যদি যাদুর জিনিস কবরে, মৃত ব্যক্তির শরীরে কিংবা নদীতে ফেলা হয়, তবে সেগুলো এক্সপার্ট রাকী (রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞ) দিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। প্রাথমিকভাবে নিজে চেষ্টা করে দেখুন।
📖 রুকইয়ার মূল আয়াতসমূহ
🔹 সুরা আ’রাফ (আয়াত: ১১৭-১২২)
وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ
উচ্চারণ: অআওহাইনা ইলা মুসা আন আলকি ‘আসাক, ফাইযা হিয়া তালকাফু মা ইয়া’ফিকুন।
অর্থ: তারপর আমি ওহীযোগে মূসাকে বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তাদের মিথ্যা যাদু কর্মগুলোকে তা গ্রাস করতে লাগল।
আরবি: فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ
উচ্চারণ: ফাওয়াকা’আল হাক্কু ওয়া বাতালা মা কানু ইয়া’মালুন।
অর্থ: সুতরাং এভাবে প্রকাশ হয়ে গেল সত্য বিষয় এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন হয়ে গেল যা কিছু তারা করেছিল।
আরবি: فَغُلِبُواْ هُنَالِكَ وَانقَلَبُواْ صَاغِرِينَ
উচ্চারণ: ফাগুলিবু হুনালিকা ওয়ানকালাবু সাগিরিন।
অর্থ: সুতরাং তারা সেখানেই পরাজিত হয়ে গেল এবং অতীব লাঞ্ছিত হলো।
আরবি: وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ
উচ্চারণ: ওয়া উলকিয়াস সাহারাতু সাজিদিন।
অর্থ: আর যাদুকররা সিজদায় লুটিয়ে পড়ল।
আরবি: قَالُواْ آمَنَّا بِرِبِّ الْعَالَمِينَ
উচ্চারণ: কালু আমান্না বিরাব্বিল ‘আলামিন।
অর্থ: তারা বলতে লাগল, ‘আমরা ঈমান আনলাম বিশ্বজাহানের রবের প্রতি’।
আরবি: رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ
উচ্চারণ: রাব্বি মুসা ওয়া হারুন।
অর্থ: যিনি মূসা ও হারুণেরও রব।
🔹 সুরা ইউনুস (আয়াত: ৮১-৮২)
আরবি: فَلَمَّا أَلْقَواْ قَالَ مُوسَى مَا جِئْتُم بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللّهَ لاَ يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ
উচ্চারণ: ফাল্লামা আলকাও কালা মুসা মা জি’तुम বিহিস সিহর, ইন্নাল্লাহা সাইউবতিলুহ, ইন্নাল্লাহা লা ইউসলিহু ‘আমালাল মুফসিদিন।
অর্থ: অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মূসা বলল, যা কিছু তোমরা এনেছ তা সবই যাদু, আল্লাহ এখনই তা ব্যর্থ করে দেবেন। ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের কাজকে আল্লাহ সার্থক হতে দেন না।
আয়াত ৮২:
وَيُحِقُّ اللّهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ
উচ্চারণ: ওয়া ইউহিক্কুল্লাহুল হাক্কা বিকালিমাতিহি ওয়ালাও কারিহাল মুজরিমুন।
অর্থ: আল্লাহ সত্যকে সত্যে পরিণত করেন স্বীয় বাণীর মাধ্যমে, যদিও পাপীদের তা মনঃপূত নয়।
🔹 সুরা ত্বহা (আয়াত: ৬৯)
আরবি: وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ ساحِرٍ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى
উচ্চারণ: ওয়া আলকি মা ফী ইয়ামিনিকা তালকাফ মা সানা’উ, ইন্নামা সানা’উ কাইদু সাহির, ওয়ালা ইউফলিহুস সাহিরু হাইসু আতা।
অর্থ: তোমার ডান হাতে যা আছে তুমি তা নিক্ষেপ কর। তারা যা কিছু করেছে এটা তা সব গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে তা তো কেবল যাদুকরের কলাকৌশল। যাদুকর যে রূপ ধরেই আসুক না কেন, সফল হবে না।
♦️যদি জ্বিন হাজির না হয়
রুকইয়া করার সময় যদি কোনো জ্বিন হাজির না হয়, কিন্তু রোগীর মনে অস্বস্তি বোধ হয়, ঘুম ঘুম ভাব আসে, মাথা ব্যথা করে কিংবা কান্না পায়—তাহলে বুঝতে হবে জ্বিন সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে যাদু করেনি, বরং অন্য কোনো উপায়ে বা দূর থেকে যাদু করা হয়েছে। এক্ষেত্রে
আমাদের থেকে ডায়াগনোসিস করে চিকিৎসা গ্রহন করুন।
👉৩. উপরের নিয়মে রুকইয়া করার পর একটি পরিষ্কার পানির বোতলে পানি নিয়ে ওপরের আয়াতগুলো (সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, এবং সুরা ত্বহা ৬৯) পরম ভক্তি ও মনোযোগ সহকারে তিলাওয়াত করে পানিতে ফুঁ দিন।
পানি পড়া তৈরি হলে রোগীকে কিছুটা পানি তখনই পান করতে বলুন।
বাকি পানিটুকু রেখে দিন এবং প্রতিদিন নিয়ম করে রোগীকে খাওয়ান ও শরীরে ব্যবহার করতে বলুন।
📞 আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা:
যদি প্রাথমিক আমল করার পরও সমস্যার সমাধান না হয়, তবে অভিজ্ঞ রাকী বা আমাদের সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারেন:
🧨Ruqyah Center Bangladesh
(রুকইয়াহ সেন্টার বাংলাদেশ)
ঠিকানা: দাশেরগাঁও, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ।
মোবাইল: 01998-765809