মাশাআল্লাহ 🌙
এই বয়সে যে কুরআনের সাথে আছে, সে জীবনে কখনো হারিয়ে যাবে না।
আপনার সন্তানের জন্যও এই সুযোগ তৈরি করুন।
👉 অনলাইনে ঘরে বসেই শিখুন। ইনবক্স করুন।
Online Quran Teaching Center
طلب العلم فريضة علي كل مسلم
দীনি ইলম শিক্ষা করা প্রতেক মুসলমানের উপর ফরজ
08/06/2026
প্রশ্ন:
অতিরিক্ত চিন্তা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তির জন্য ইসলামে কী সমাধান আছে? কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে বিস্তারিত জানতে চাই।
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।
মানুষের জীবনে চিন্তা, দুশ্চিন্তা, ভয়, হতাশা ও মানসিক অস্থিরতা আসা স্বাভাবিক। তবে ইসলাম এগুলোর সমাধানও দিয়েছে। একজন মুমিন যখন আল্লাহর প্রতি ভরসা করে, সালাত, দোয়া, যিকির ও তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তখন তার অন্তরে প্রশান্তি নেমে আসে।
১. আল্লাহর যিকিরে অন্তরের প্রশান্তি
আল্লাহ তাআলা বলেন:
> "জেনে রাখ! আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।"
📖 সূরা আর-রা'দ: ২৮
যখন চিন্তা ও দুশ্চিন্তা বেশি হয়, তখন বেশি বেশি "সুবহানাল্লাহ", "আলহামদুলিল্লাহ", "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ", "আল্লাহু আকবার" এবং কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত।
---
২. সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া
আল্লাহ বলেন:
> "তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর।"
📖 সূরা আল-বাকারা: ৪৫
রাসূল ﷺ যখন কোনো কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেন, তখন সালাতের দিকে ধাবিত হতেন।
📚 সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৯
(সহিহ বলে গণ্য)
---
৩. আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করা
আল্লাহ বলেন:
> "আর যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।"
📖 সূরা আত-তালাক: ৩
অতিরিক্ত চিন্তার অন্যতম কারণ হলো ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়। কিন্তু মুমিন জানে, তার রিজিক, জীবন ও ভাগ্য আল্লাহর হাতে।
---
৪. বেশি বেশি ইস্তিগফার করা
আল্লাহ বলেন:
> "তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল।"
📖 সূরা নূহ: ১০
রাসূল ﷺ বলেছেন:
> "যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করবে, আল্লাহ তার সব সংকট থেকে বের হওয়ার পথ করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেবেন যা সে কল্পনাও করেনি।"
📚 সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৫১৮
---
৫. দুশ্চিন্তা দূর করার বিশেষ দোয়া
রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি এ দোয়া পাঠ করবে, আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা ও কষ্ট দূর করে দেবেন:
> اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ، وَابْنُ عَبْدِكَ، وَابْنُ أَمَتِكَ...
📚 মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ৩৭১২
(সহিহ)
---
৬. সকাল-সন্ধ্যার দোয়া ও যিকির
রাসূল ﷺ দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য এ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন:
> اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ...
05/06/2026
কোরআন পড়তে পারেন না? দোষ আপনার না।
অনেকে মনে করেন —
"আমার বয়স হয়ে গেছে"
"আমি বোধহয় শিখতে পারব না"
"ছোটবেলায় শিখিনি, এখন আর হবে না"
কিন্তু সত্যি কথা হলো —
সমস্যা আপনার মধ্যে না।
সমস্যা পদ্ধতিতে।
সঠিক পদ্ধতিতে, সঠিক গাইডেন্সে —
যেকোনো বয়সে কোরআন শেখা সম্ভব।
আমার কাছে এমন অনেক ছাত্র আছেন যারা ৪০-৫০ বছর বয়সেও শুদ্ধ তেলাওয়াত শিখেছেন।
আজই শুরু করতে চাইলে কমেন্টে লিখুন 👇
"শিখতে চাই"
"আল্লাহ দুনিয়ার জীবনকে একটি খেলাধুলো, পারস্পরিক অহংকার এবং ধন-সম্পদে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতার সাথে তুলনা করেছেন। এটি ঠিক সেই ফসলের মতো যা বৃষ্টির পর সবুজ হয়ে ওঠে এবং চাষিকে আনন্দ দেয়, কিন্তু কিছুদিন পরই তা শুকিয়ে হলুদ হয়ে যায় এবং শেষে খড়কুটোয় পরিণত হয়। আমরা যে গাড়ি, বাড়ি বা স্ট্যাটাসের পেছনে ছুটছি—তা সাময়িক। এই বাস্তবতাকে মনে রাখলে দুনিয়ার কোনো ক্ষতি আপনাকে সহজে ভেঙে ফেলতে পারবে না।
23/05/2026
শিক্ষা মানুষের জ্ঞানের দিগন্ত উন্মুক্ত করে, কিন্তু সুশিক্ষা সেই জ্ঞানকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শেখায়। শিক্ষা মানুষকে পড়তে-লিখতে, চিন্তা করতে এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে; আর সুশিক্ষা মানুষকে বিনয়ী, মানবিক ও দায়িত্বশীল করে তোলে।
শিক্ষা মানুষকে সম্মান দিতে শিখায়, অন্যের মতামতকে মূল্য দিতে শেখায় এবং সমাজে সহানুভূতির সাথে চলতে শেখায়। একজন সত্যিকারের সুশিক্ষিত মানুষ কখনো অহংকার করে না; বরং সে নিজের জ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করে। সে জানে কিভাবে ছোটদের স্নেহ করতে হয়, বড়দের সম্মান করতে হয় এবং সবার সাথে সুন্দর ব্যবহার করতে হয়।
শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই কেউ বড় মানুষ হয়ে যায় না। যদি তার মধ্যে সততা না থাকে, নৈতিকতা না থাকে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস না থাকে—তবে সেই শিক্ষা সমাজের জন্য কোনো উপকার বয়ে আনে না। সুশিক্ষা মানুষকে সত্যবাদী হতে শেখায়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শেখায় এবং ন্যায় ও আদর্শের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।
একটি জাতির উন্নতি নির্ভর করে সেই জাতির মানুষের চরিত্র ও মূল্যবোধের উপর। যখন একটি দেশের মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়, তখন তারা দুর্নীতি থেকে দূরে থাকে, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একসাথে কাজ করে। ফলে সেই জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে।
তাই বলা যায়—
“শিক্ষা নয়, সুশিক্ষাই জাতির প্রকৃত মেরুদণ্ড। কারণ সুশিক্ষা মানুষকে শুধু জ্ঞানীই করে না, বরং তাকে একজন আদর্শ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।”
19/05/2026
আধুনিক ও দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব৷
শিক্ষা মানবজীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। এটি মানুষকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোতে নিয়ে আসে। তবে প্রশ্ন হলো—কী ধরনের শিক্ষা মানুষকে সত্যিকার অর্থে পরিপূর্ণ মানুষ করে তোলে?
বর্তমান যুগে আমরা দেখি, অনেকেই আধুনিক ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হলেও নৈতিকতা, মানবিকতা ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। এর মূল কারণ হলো শিক্ষা ব্যবস্থায় দ্বীনি মূল্যবোধের ঘাটতি। ইসলাম আমাদের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা দিয়েছে, যা দুনিয়া ও আখিরাত—উভয়ের সফলতার পথ দেখায়।
১. আল্লাহভীতি (তাকওয়া) ও নৈতিক চরিত্র গঠনের জন্য অপরিহার্যঃ
আধুনিক শিক্ষা মানুষকে দক্ষ করে, কিন্তু দ্বীনি শিক্ষা মানুষকে সৎ করে। তাকওয়া ছাড়া জ্ঞান মানুষকে অহংকারী, জালিম ও আত্মকেন্দ্রিক করে তোলে। দ্বীনি শিক্ষা শিক্ষার্থীর হৃদয়ে আল্লাহভীতি সৃষ্টি করে, যা তাকে গোপনেও পাপ থেকে বিরত রাখে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন—
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
“নিশ্চয়ই আল্লাহকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই ভয় করে।”
(সূরা ফাতির: ২৮)
এখানে “আলেম” বলতে কেবল তথ্যজ্ঞান নয়, বরং আল্লাহকে যথার্থভাবে চেনা জ্ঞান বোঝানো হয়েছে।
হাদিসে এসেছে—
إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ
“আমি উত্তম চরিত্রকে পরিপূর্ণ করার জন্য প্রেরিত হয়েছি।”
(মুয়াত্তা মালিক)
২. দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গঠনঃ
ইসলাম কেবল ইবাদতের ধর্ম নয়, আবার কেবল দুনিয়াবাদী দর্শনও নয়। শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দিতে হবে, যাতে তারা পেশাগতভাবে সফল হয় এবং একইসাথে আখিরাতের সফলতাও অর্জন করে।
৩. আধুনিক জ্ঞানকে ইবাদতে পরিণত করার চেতনা সৃষ্টিঃ
যখন একজন শিক্ষার্থী দ্বীনি শিক্ষায় গড়ে ওঠে, তখন তার প্রতিটি কাজ ইবাদতে পরিণত হয়। ডাক্তার হলে সে মানুষকে বাঁচাতে চায়, ইঞ্জিনিয়ার হলে নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ করে, শিক্ষক হলে মানুষ গড়ে তোলে—সবই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
হাদিসে এসেছে—
مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ
“যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।”
(সহিহ মুসলিম)
৪. দায়িত্বশীল, আমানতদার ও ন্যায়পরায়ণ নাগরিক তৈরিঃ
দ্বীনি শিক্ষা মানুষকে শেখায়—ক্ষমতা মানে দায়িত্ব, পদ মানে আমানত। এই শিক্ষা না থাকলে শিক্ষিত মানুষও অন্যায়ের পথ বেছে নিতে পারে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন—
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আমানত তার হকদারকে ফিরিয়ে দিতে আদেশ দেন।”
(সূরা নিসা: ৫৮)
হাদিসে এসেছে—
كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
“তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।”
(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
৫. বিভ্রান্তি, নাস্তিকতা ও ভোগবাদ থেকে রক্ষাঃ
শুধু আধুনিক শিক্ষা অনেক সময় মানুষকে ভ্রান্ত ধারণায় নিয়ে যায়—বিজ্ঞানই সব, আল্লাহর প্রয়োজন নেই। দ্বীনি শিক্ষা এই বিভ্রান্তি থেকে মানুষকে রক্ষা করে এবং সঠিক পথ দেখায়।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন—
أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَٰهَهُ هَوَاهُ
“তুমি কি তাকে দেখেছ, যে নিজের প্রবৃত্তিকেই নিজের উপাস্য বানিয়েছে?”
(সূরা জাসিয়া: ২৩)
আরো বলেন—
وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا
“আর দুনিয়ার অংশ ভুলে যেয়ো না।”
(সূরা কাসাস)
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। তাই দ্বীনি শিক্ষা ছাড়া আধুনিক শিক্ষা অন্ধ পথ, আর আধুনিক শিক্ষা ছাড়া দ্বীনি শিক্ষা অসম্পূর্ণ। উভয়ের সমন্বয়ই একটি আদর্শ, সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের মূল চাবিকাঠি।
16/05/2026
রমাদানের পর আমাদের অনেকেরই প্রোডাক্টিভিটি হারিয়ে গিয়েছে তাই না!
অনেকেই হয়তো প্রতিদিন চিন্তা করি—
আগামীকাল থেকে প্রোডাক্টিভ হওয়ার চেষ্টা করব
সময় অপচয় করবো না, ফোন স্ক্রলিং থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করব,
কিন্তু দিনশেষে আমরা আফসোস করি এবং ভাবতে থাকি আজকেও মন মত আমল করা হলো না
আজকের দিনটিও আন প্রোডাক্টটিভলি কেটে গেল...
যদি আপনার ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো ঘটে থাকে এবং আপনি চান প্রোডাক্টটিভ হতে, তাহলে আসছে জিলহজের দশ দিন আপনার জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ। এই ১০ দিনকে কাজে লাগিয়ে আপনি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করুন প্রোডাক্টিভ হওয়ার এবং আমল ও আখলাকের দিক থেকে অগ্রসর হওয়ার ইন শা আল্লাহ।
❝রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘জিলহজের ১০ দিনের ইবাদত আল্লাহর নিকট অন্য দিনের ইবাদতের তুলনায় বেশি প্রিয়। প্রতিটি দিনের রোজা এক বছরের রোজার মতো। আর প্রতি রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের মতো। ’ (তিরমিজি : ১/১৫৮)❞
──────────────
❖ প্রোডাক্টিভ হতে যা করতে পারেন এই ১০ দিনে:
১. নিয়ত ঠিক করুন
এই ১০ দিনকে আমলের মাধ্যমে পূর্ণ করার জন্য আজকেই দৃঢ় নিয়ত করুন।
২. একটি ডেইলি প্রোডাক্টিভ লিস্ট বানান
যাতে প্রতিদিনের লক্ষ্য লিখে রাখতে পারেন।
[ নিচের ছবিতে একটি ডেইলি জিলহজ আমল চার্ট দেয়া হয়েছে, চাইলে এটিও ফলো করতে পারেন ইন শা আল্লাহ ]
৩. সালাতে মনোযোগী হোন
ফরজের পাশাপাশি সুন্নত ও নফল সালাতগুলো পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৪. প্রথম ৯ দিনের রোজা রাখুন
বিশেষ করে আরাফার দিন— যার রোজা এক বছর আগের ও এক বছর পরের গুনাহ মাফের কারণ।
৫. তাকবিরে তাশরিক পড়ুন
পুরো জিলহজ জুড়েই অধিক তাকবিরে তাশরিক পাঠের চেষ্টা করুন। এবং ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ সালাতের পর ১ বার ওয়াজিব তাকবির পড়ুন:
اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر وَ للهِ الْحَمْد
৬. সাদাকাহ করুন
এই ১০ দিন শুরু হওয়ার আগেই কিছু খুচরা টাকা প্রস্তুত রাখুন এবং প্রতিদিন সেখান থেকে অল্প হলেও দান করুন।
৭. কুরআনের সাথে সময় কাটান
অবসর না রেখে এই ১০দিন অধিক পরিমাণ তিলাওয়াত করুন, কুরআনের অর্থ বোঝা ও হিফজের চর্চা করুন।
৮. স্ক্রিন কন্ট্রোল করুন
এই ১০ দিন কে কাজে লাগিয়ে অপ্রয়োজনীয় ফোন/স্ক্রলিং থেকে বিরত থাকুন স্ক্রিন নিয়ন্ত্রণ করুন।
৯. আখলাকের উন্নয়ন করুন
এই ১০ দিন কে কাজে লাগিয়ে চেষ্টা করুন নিজের আখলাক কে আরেক ধাপ উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার।
১০. দুরুদ, ইস্তিগফার ও জিকিরে সময় দিন
দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করে তা পূরণ করার চেষ্টা করুন।
১১. আসমাউল হুসনা মুখস্থ করুন
এই ১০ দিন কে টার্গেট করে ছোট সূরাগুলোও মুখস্থের তালিকায় রাখুন।
১২. দোয়ার অভ্যাস গড়ুন
বিশেষ করে তাহাজ্জুদের সময়, দিন-রাতের ফাঁকে ফাঁকে,এবং বিশেষ করে আরাফার দিন বেশি বেশি দোয়া করুন।
১৩. ঘুমের সময় নিয়ন্ত্রণ করুন
রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো ও ফজরের পর না ঘুমানোর অভ্যাস গড়ুন এই ১০ দিন কে কাজে লাগিয়ে।
১৪. সর্বোপরি নিজেকে রিমাইন্ড করুন:
“হতে পারে এটাই আমার জীবনের শেষ জিলহজ”— এই কথা নিজের অন্তরে বারবার জাগ্রত করুন।
──────────────
বিঃদ্রঃ [একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ]
জিলহজের চাঁদ ওঠার পর এই দশ দিন কুরবানি আদায় করা পর্যন্ত শরীরের কোনো প্রকার চুল-পশম ও নখ না কাটা। এ বিষয়ে বর্ণিত সকল হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িদের আমল থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যারা কোরবানি করবেন এবং যারা সামর্থ্যের অভাবে কোরবানি করবেন না— সবার জন্যই এই আমল করা উত্তম
নিজে আমল করুন,এবং দাওয়াহর নিয়তে অন্যকে উদ্বুদ্ধ করুন, ইন শা আল্লাহ।
15/05/2026
দুরুদ পড়েছেন তো?
দুরুদ পড়ুন : اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ
(আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ)
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রহমত ও শান্তি দান করুন।
— (সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব : ১/২৭৩)
জীবনটা যে স্বামী ছাড়াও অবিস্মরণীয় হতে পারে তার উদাহরণ— মারিয়াম আলাইহিস সালাম।
জীবনটা যে সন্তান ছাড়াও সফল হতে পারে তার উদাহরণ— আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা।
জীবনটা যে জা*লিম স্বামীর সাথে বসবাস করেও সমুজ্জ্বল হতে পারে তার উদাহরণ— আছিয়া আলাইহিস সালাম।
জীবনটা যে পড়ন্ত বয়সেও অন্যদিকে মোড় নিতে পারে তার উদাহরণ— খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা।
জীবনটা যে শুধু সংসারী হয়ে সবচেয়ে উঁচু মর্যাদার নারী-জীবন হতে পারে তার উদাহরণ— ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা।
দুঃখ তো তোমার থাকবেই নারী। সে সংসার থাকলেও থাকবে, না থাকার কারণেও থাকবে। দুঃখগুলোকে পোষ মানিয়ে জীবনটা যদি উৎসর্গ করো শুধু রবের নামে, তাহলে দেখো এই বেঁচে থাকার অনুভূতি কী অসাধারণ— পরকালের আশ্বাস এনে দিবে একেকটা অপ্রাপ্তিতেও কী দারুণ স্বাদ!
নিয়ামত হারানোর শুরুটা হয়– একটা গুনাহ দিয়ে।
মানুষ যখন গুনাহ করে, তখন আল্লাহর কোনো না কোনো নিয়ামত তার জীবন থেকে সরে যায়। আল্লাহর প্রতি অনুতপ্ত হয়ে যদি বান্দা ফিরে আসে, তাওবাহ করে তবে সেই নিয়ামত বা অনুরূপ কোনো বরকত আবার ফিরে আসে।
কিন্তু যদি সে গুনাহর উপর অটল থাকে, অনুতপ্ত না হয়, ফিরে না আসে– তাহলে সেই নেয়ামত আর ফিরে আসে না।
এভাবে একে একে গুনাহগুলো তার জীবনের নেয়ামতগুলো ছিনিয়ে নিতে থাকে। একসময় সে নিঃস্ব হয়ে পড়ে– বাহ্যিকভাবে হয়তো নয়, কিন্তু আভ্যন্তরীণভাবে।
~ ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ)
সূত্র: ত্বরীকুল হিজরাতাইন, পৃষ্ঠা ২৭১।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Patuakhali