17/06/2026
ছোটবেলা থেকে বন্দুকের প্রতি আমাদের একটা আলাদা fascination ছিল।
খেলনা বন্দুক হাতে নিয়ে নিজেকে পুলিশ ভাবতে ভালো লাগত। মনে হতো, একটা বন্দুক কাঁধে থাকলেই মানুষ অনেক শক্তিশালী হয়ে যায়।
আলবেনিয়ায় এসে সেই ছোটবেলার অনুভূতিটা আবার ফিরে এলো।
হাতে স্নাইপার। চোখ স্কোপে।
দূরের টার্গেটটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তখন বুঝলাম বন্দুক চালানোর আসল চ্যালেঞ্জ ট্রিগার টানা নয়। আসল চ্যালেঞ্জ হলো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা।
শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, হাত স্থির রাখতে হয়, মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। সামান্য অস্থিরতাও লক্ষ্যভ্রষ্ট করে দিতে পারে।
সেদিন মনে হলো, জীবনের অনেক কিছুই স্নাইপারের মতো।
যে যত দূরের লক্ষ্য অর্জন করতে চায়, তার তত বেশি ধৈর্য, মনোযোগ আর আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
আর হ্যাঁ, ছোটবেলার সেই পুলিশ হওয়ার স্বপ্নটা কয়েক মিনিটের জন্য হলেও আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছিল।
16/06/2026
⚽ কোন ওয়ার্ল্ডকাপ ছিলো আপনার দেখা প্রথম ওয়ার্ল্ডকাপ?
12/06/2026
আজ দাঁড়িয়ে আছি আলবেনিয়ার তিরানা পিরামিডের সামনে।
দূর থেকে দেখলে এটা শুধু একটি অদ্ভুত স্থাপনা। কিন্তু কাছে এলে বুঝতে পারবেন, এটি আসলে একটি দেশের ইতিহাসের সাক্ষী।
১৯৮৮ সালে এই পিরামিড নির্মাণ করা হয়েছিল আলবেনিয়ার কমিউনিস্ট শাসক এনভার হোজার স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে। তখন এটি ছিল ক্ষমতার প্রতীক। কিন্তু ইতিহাসের এক অদ্ভুত নিয়ম আছে। ক্ষমতা বদলায়, শাসক বদলায়, কিন্তু স্থাপনাগুলো থেকে যায়।
যে ভবন একসময় একজন শাসককে মহিমান্বিত করার জন্য বানানো হয়েছিল, পরবর্তীতে সেটিই হয়ে ওঠে কনফারেন্স সেন্টার, টিভি স্টেশন, সামরিক ঘাঁটি, এমনকি পরিত্যক্ত ভবন।
আজ আবার নতুন রূপে ফিরে এসেছে।
এখন এখানে তরুণরা ওঠানামা করে, ছবি তোলে, সময় কাটায়, নতুন কিছু শেখে।
পিরামিডটার দিকে তাকিয়ে আমার মনে হলো, ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় লেখা থাকে না। কখনো কখনো ইতিহাস কংক্রিটের দেয়ালেও লেখা থাকে।
একসময় যে স্থাপনাটি ছিল ক্ষমতার প্রতীক, আজ সেটিই মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—দুনিয়ার কোনো ক্ষমতাই স্থায়ী নয়।
পাহাড়ঘেরা তিরানা শহরের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এই পিরামিড যেন নীরবে সেই কথাটাই বলে যাচ্ছে।