Mohammed Rafiqul Islam

Mohammed Rafiqul Islam

Share

I am a servant of Allah swt having a journey through this temporal world to Akhera,My destination

19/08/2023
11/07/2021

আমি তো ইচ্ছে করলে মেঘ থেকে লোনা পানি বর্ষণ করতে পারি,
তাহলে তোমরা কেন শুকরিয়া আদায় কর না!
[সূরা ওয়াক্বিয়াহ-৭০]

23/06/2021

ঐতিহাসিক পলাশী দিবস ও আমাদের শিক্ষা!

আজ ২৩ জুন পলাশী দিবস। বাংলার ইতিহাসের এক কালো দিন। ১৭৫৭ সালের এই দিনে দেশীয় বণিক, বিশ্বাসঘাতক ও ইংরেজ বেনিয়াদের চক্রান্তে পলাশীর প্রান্তরে ২০০ বছরের জন্য বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। এক ঘণ্টার প্রহসনের যুদ্ধে পরাজয় ঘটে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলার। পলাশীর ২৩ জুনের ইতিহাস প্রকৃত সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করার ইতিহাস। ২৩ জুনের ইতিহাস, বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস।
১৭৫৭ সালের ১২ জুন কলকাতার ইংরেজ সৈন্যরা চন্দননগরের সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলিত হয়। সেখানে দুর্গ রক্ষার জন্য অল্প কিছু সৈন্য রেখে তারা ১৩ জুন অবশিষ্ট সৈন্য নিয়ে যুদ্ধযাত্রা করে। কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদের পথে হুগলি, কাটোয়ার দুর্গ, অগ্রদ্বীপ ও পলাশীতে নবাবের সৈন্য থাকা সত্ত্বেও তারা কেউ ইংরেজদের পথ রোধ করল না। নবাব বুঝতে পেরেছিলেন, সেনাপতিরাও এই ষড়যন্ত্রে শামিল। কিন্তু ততক্ষণে আর করার কিছু ছিল না।
নানা আলীবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল সিরাজউদ্দৌলা বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার সিংহাসনে আসীন হন। তখন তার বয়স মাত্র ২২ বছর। তরুণ নবাবের সাথে ইংরেজদের বিভিন্ন কারণে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এছাড়া, রাজ সিংহাসনের জন্য লালায়িত ছিলেন, সিরাজের পিতামহ আলীবর্দী খাঁর বিশ্বস্ত অনুচর মীর জাফর ও খালা ঘষেটি বেগম। ইংরেজদের সাথে তারা যোগাযোগ স্থাপন ওকার্যকর করে নবাবের বিরুদ্ধে নীলনকশা পাকাপোক্ত করে। দিন যতই গড়াচ্ছিলো এভূখণ্ডের আকাশে ততোই কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিলো। ১৭৫৭ সালের ২৩ এপ্রিল কোলকাতা পরিষদ নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করার পক্ষে প্রস্তাব পাস করে। এপ্রস্তাব কার্যকর করতে ইংরেজ সেনাপতি লর্ড ক্লাইভ রাজদরবারের অভিজাত সদস্যউমির চাঁদকে এজেন্ট নিযুক্ত করেন। এ ষড়যন্ত্রের নেপথ্য নায়ক মীরজাফর, তা আঁচ করতে পেরে নবাব তাকে প্রধান সেনাপতির পদ থেকে অপসারণ করে আব্দুল হাদীকে অভিষিক্ত করেন। কূটচালে পারদর্শী মীর জাফর পবিত্র কুরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করায় নবাবের মন গলে যায় এবং মীর জাফরকে প্রধান সেনাপতি পদে পুনর্বহাল করেন। সমসাময়িক ঐতিহাসিকরা বলেন, এই ভুল সিদ্ধান্তই নবাব সিরাজের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
২৩ জুন সকালেই পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজরা মুখোমুখি যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো। ইংরেজরা ‘লক্ষবাগ’ নামক আমবাগানে সৈন্য সমাবেশ করালো। বেলা আটটার সময় হঠাৎ করেই মিরমদন ইংরেজ বাহিনীকে আক্রমণ করেন। তার প্রবল আক্রমণে টিকতে না পেরে ক্লাইভ তার সেনাবাহিনী নিয়ে আমবাগানে আশ্রয় নেন। ক্লাইভ কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েন। মীর মদন ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছিলেন। কিন্তু মীরজাফর, ইয়ার লতিফ, রায়দুর্লভ যেখানে সৈন্য সমাবেশ করেছিলেন সেখানেই নিস্পৃহভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেন। তাদের সামান্য সহায়তা পেলেও মীর মদন ইংরেজদের পরাজয় বরণ করতে বাধ্য করতে পারতেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে সিরাজউদ্দৌলার গোলা বারুদ ভিজে যায়। তবুও সাহসী মীর মদন ইংরেজদের সাথে লড়াই চালিয়ে যেতে লাগলেন। কিন্তু গোলার আঘাতে মীর মদন মৃত্যুবরণ করেন।
মীর জাফর আবারও বিশ্বাসঘাতকতা করে তার সৈন্যবাহিনীকে শিবিরে ফেরার নির্দেশ দেন। এই সুযোগ নিয়ে ইংরেজরা নবাবকে আক্রমণ করে। যুদ্ধ বিকেল পাঁচটায় শেষ হয় এবং নবাবের ছাউনি ইংরেজদের অধিকারে আসে। ইংরেজদের পক্ষে সাতজন ইউরোপিয়ান এবং ১৬ জন দেশীয় সৈন্য নিহত হয়। তখন কোন উপায় না দেখে সিরাজউদ্দৌলা রাজধানী রক্ষা করার জন্য দুই হাজার সৈন্য নিয়ে মুর্শিদাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু রাজধানী রক্ষা করার জন্যেও কেউ তাকে সাহায্য করেনি।
১৭৫৭ সালের ৩ জুলাই সিরাজউদ্দৌলাকে মহানন্দা নদীর পাড় থেকে বন্দি করে রাজধানী মুর্শিদাবাদে পাঠিয়ে দেয়। বন্দী হবার সময় নবাবের সাথে ছিলেন তার স্ত্রী লুতফা বেগম এবং চার বছর বয়সী কন্যা উম্মে জহুরা। এর পরের দিন ৪ জুলাই (মতান্তরে ৩ জুলাই) মীর জাফরের আদেশে তার পুত্র মিরনের তত্ত্বাবধানে আরেক বিশ্বাসঘাতক মোহাম্মদী বেগ সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করে। মুর্শিদাবাদের খোশবাগে নবাব আলিবর্দী খানের কবরের কাছে তাঁকে কবর দেওয়া হয়।
সিরাজের নানা আলীবর্দী খান মৃত্যুবরণ করেন ১৭৫৬ সালের ৯ এপ্রিল। আর পলাশী যুদ্ধে সিরাজের পতন ঘটে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, অর্থাৎ ১৪ মাস ১৪ দিন পর। সিংহাসনে বসার পর থেকে সিরাজকে প্রতিনিয়ত চারদিকের ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করে টিকে থাকতে হয়েছে।
পলাশী যুদ্ধে বাংলা পরাজিত হওয়ার মূল কারণ কি? তা সঠিকভাবে আজও আমাদের জানা নেই। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এই যে, পলাশী যুদ্ধে রবার্ট ক্লাইভের মাত্র তিন হাজার ২০০ সৈন্যের কাছে সিরাজউদ্দৌলার ৫০ হাজার সৈন্যের অভাবনীয় পরাজয় ঘটে। আশ্চার্যজনক ব্যাপার একটা দেশের হাজার হাজার সৈন্য পরবর্তীতে কোথায় গেলো?
পলাশী যুদ্ধের মাত্র তিন-চার বছরের পরে মীর কাশিমের কাটোয়া, গিরিয়া, উদয়নালার যুদ্ধে অথবা দিনাজপুর ও রংপুরকে কেন্দ্র করে নূরুল দিন ও ফকির মজনু শাহের যে প্রতিরোধ সংগ্রাম সেখানেও এসব সৈন্যের ঐক্যবদ্ধ লড়াই দেখতে পাওয়া যায়নি। সে সময় বাঙলার নবাব মীর জাফরকে সবাই ক্লাইভের গর্দভ বলে জানতেন। শেষ মহূর্তে বাংলার মানুষেরা কেন তখন সেই গর্দভের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। পলাশীর প্রান্তরে ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া প্রেক্ষাপটে আজ আমাদের গভীরভাবে নতুন করে উপলব্ধি করতে হবে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। বিশ্বাসঘাতকতার অধ্যায়।
অথচ পলাশী যুদ্ধ সম্পর্কে রবার্ট ক্লাইভ তার আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, ‘সে দিন স্থানীয় অধীবাসীরা ইংরেজদের প্রতিরোধ করতে চাইলেই লাঠিসোটা আর হাতের ইটপাটকেল মেরেই তাদের খতম করে দিতে পারতো। কিন্তু এ দেশবাসীরা তা উপলব্ধি করতে পারেনি।’
যেকোনো কারণেই হোক সেদিন বাংলার মানুষ এগিয়ে যায়নি। তাদের রাজনৈতিক সচেতনতার তখন খুবই অভাব ছিল। পলাশীর ট্র্যাজেডির পরেও বাংলার সাধারণ মানুষ, কৃষক সমাজ দৈনন্দিন জীবন, নিত্য দিনের মতোই মাঠে কৃষি কাজ করেছে। ফসল বুনেছে। অথচ পলাশীর যুদ্ধে গোটা জাতীয় জীবনে কী নিদারুণ ভাগ্য বিপর্যয় ঘটলো, এক ঘণ্টার প্রহসন যুদ্ধে গোটা জাতির স্বাধীনতা হরণ করে নিয়ে গেলো গোটা কয়েক বেনিয়া ইংরেজ অথচ তাদের টনক নড়লো না। টনক যখন নড়লো, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাদের আর তখন কিছুই করার ছিল না। সিরাজউদ্দৌলা কখনো তার দেশের প্রজাদের সাথে কোনো অবস্থাতেই বিশ্বাস ঘাতকতা করেননি। কখনো স্বেচ্ছায় স্বদেশকে বিকিয়ে দেননি। পলাশীর প্রান্তরে মর্মান্তিক নাট্যমঞ্চে এক মাত্র তিনি ছিলেন মূল নায়ক। সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, বাংলার স্বাধীনতার শেষ প্রতীক।
ইতিহাস থেকে দেখা যায়, নবাব সিরাজের সাথে, দেশের সাথে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল ইতিহাস তাঁদের কাউকেই ক্ষমা করেনি, চক্রান্তকারীদের ভোগ করতে হয়েছে মর্মান্তিক পরিণতি। তাঁদের করুণ পতন ঘটেছে।
প্রতি বছর ২৩ জুন আমাদের এই সতর্কবাণী শুনিয়ে যায়, দেশের ভেতরের শত্রুরা বাইরের শত্রুর চেয়ে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। আমরা কি ২৩ জুনের কালো অধ্যায় থেকে আদৌ কোনো শিক্ষা নিতে পেরেছি কি? ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো এই যে, ‘ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না।’

30/05/2021

মধ্যযুগ অবধি কনস্টান্টিনোপলকে বলা হতো পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত নগরী। শত শত বছর ধরে একের পর এক আক্রমণের পরেও এই নগরী টিকে ছিল সগৌরবে।

বহু দিগ্বিজয়ী যোদ্ধা পরাজিত হন কন্সটান্টিনোপলের দুর্ভেদ্য দেয়ালের দাম্ভিকতার কাছে। একটা সময় মানুষ ধরেই নিয়েছিল, কন্সটান্টিনোপল হয়তো একেবারেই অজেয়।

ঠিক তখনি উসমানী খিলাফতের ৭ম সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মাদ সেই ধারনাকে ভুল প্রমান করলেন। মাত্র ২১ বছরের সুলতানের কাছে পতন হয় প্রায় ১১৫০ বছরের পুরানো বাইজেন্টাইন সম্রাজ্য। সত্য প্রমাণ করেন রাসুল (সঃ) এর ভবিষ্যৎবাণী। প্রথমবারের মত কন্সটান্টিনোপলের আকাশে উড়ে ইসলামের সুমহান পতাকা। কন্সটান্টিনোপলের নাম পরিবর্তিত হয়ে হয় ইসলামবুল। যার অর্থ ইসলামের শহর। যা এখন আমরা কালপরিক্রমায় ইস্তাম্বুল নামে চিনি।

আজ ইস্তাম্বুল বিজয়ের ৫৬৮ তম বার্ষিকী। ১৪৫৩ সালের এই দিনে টানা ৫৩ দিন যুদ্ধশেষে বিজয় হয় আজকের ইস্তাম্বুল। বিনয়ের সাথে শহরে প্রবেশ করলেন সুলতান, ঘোড়া থেকে নেমেই সেজদা করে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন। কন্সটান্টিনোপল বিজয়ের পর সুলতানের নামের সাথে যুক্ত হয় 'ফাতিহ' বা বিজয়ী। সেই থেকেই সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মাদ পরিচিত হয় মুহাম্মাদ আল ফাতিহ নামে।

29/05/2021

৩০ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, ৩৬ এ মৃত্যু।
ইসলামের বয়স মাত্র ৬ বছর!

এই ৬ বছরের ব্যবধানে এমন জীবন গঠন করেছিলেন যে –

🔹 তাঁর মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল।
🔹 আসমানের সকল দুয়ার খুলে দেওয়া হয়েছিল।
🔹 তাঁর রূহ আসমানে পৌঁছার পর আসমানীরা আনন্দে মেতেছিলেন।
🔹 তাঁর জানাযায় অংশগ্রহণের জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা যমীনে অবতরণ করেছিলেন।

তিনি ছিলেন –
সাহাবী সা'দ ইবনে মুআ'য (রাঃ)

(দেখুন, বুখারী, ৩৮০৩, মুসলিম ২৪৬৬)

আর আমরা কি করছি??? 💔

27/05/2021

পরলোকগত কুয়েতি লেখক আব্দুল্লাহ যারাল্লাহ র মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া কিছু অনুভূতি -

"মৃত্যু নিয়ে আমি কোনো দুশ্চিন্তা করবো না, আমার মৃতদেহের কি হবে সেটা নিয়ে কোন অযথা আগ্রহ দেখাবো না। আমি জানি আমার মুসলিম ভাইয়েরা করণীয় সবকিছুই যথাযথভাবে করবে।"

يُجَرِّدُونَنِي مِنْ مَلَابِسِي

তারা প্রথমে আমার পরনের পোশাক খুলে আমাকে বিবস্ত্র করবে,

يَغْسِلُونَني

আমাকে গোসল করাবে,

يَكْفِنُونَنِي

(তারপর) আমাকে কাফন পড়াবে,

يُخْرِجُونَنِي مِنْ بَيْتِي

আমাকে আমার বাসগৃহ থেকে বের করবে,

يَذهَبُونَ بِي لِمَسَكِنِي الجَدِيدِ (القَبْرُ)

আমাকে নিয়ে তারা আমার নতুন বাসগৃহের (কবর) দিকে রওনা হবে,

وَسَيَأتِي كَثِيرُونَ لِتَشْيِيْعِ الجَنَازَتِي

আমাকে বিদায় জানাতে বহু মানুষের সমাগম হবে,

بَلْ سَيَلْغِي الكَثِيرُ مِنهُم أَعْمَالَهُ وَمَوَاعِيدَهُ لِأَجْلِي دَفْنِي

অনেক মানুষ আমাকে দাফন দেবার জন্য তাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম কিংবা সভার সময়সূচী বাতিল করবে,

وَقَدْ يَكُونُ الكَثِيرُ مِنهُم لَمْ يَفَكِّرْ في نَصِيحَتِي يَوماً مِنْ الأيّامِ

কিন্তু দুঃখজনকভাবে অধিকাংশ মানুষ এর পরের দিনগুলোতে আমার এই উপদেশগুলো নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করবে না,

أَشْيَائِي سَيَتِمُّ التَّخَلُّصُ مِنهَا

আমার (ব্যক্তিগত) জিনিষের উপর আমি অধিকার হারাবো,

مَفَاتِيحِي

আমার চাবির গোছাগূলো,

كِتَابِي

আমার বইপত্র,

حَقِيبَتِي

আমার ব্যাগ,

أَحْذِيَتِي

আমার ‍জুতোগুলো,

وإنْ كانَ أَهْلِي مُوَفِّقِينَ فَسَوفَ يَتَصَدِّقُونَ بِها لِتَنْفَعَنِي

হয়তো আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে উপকৃত করার জন্য আমার ব্যবহারের জিনিসপত্র দান করে দেবার বিষয়ে একমত হবে,

تَأَكِّدُوا بِأَنَّ الدُّنيا لَنْ تَحْزَنْ عَلَيَّ

এ বিষয়ে তোমরা নিশ্চিত থেকো যে, এই দুনিয়া তোমার জন্য দু:খিত হবে না অপেক্ষাও করবে না,

وَلَنْ تَتَوَقَّفْ حَرَكَةُ العَالَمِ

এই দুনিয়ার ছুটে চলা এক মুহূর্তের জন্যও থেমে যাবে না,

وَالاِقْتِصَادُ سَيَسْتَمِرُ

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা ব্যবসাবাণিজ্য সবকিছু চলতে থাকবে,

وَوَظِيْفَتِي سَيَأتِي غَيرِي لِيَقُومَ بَها

আমার দায়িত্ব (কাজ) অন্য কেউ সম্পাদন করা শুরু করবে,

وَأَمْوَالِي سِيَذْهَبُ حَلَالاً لِلوَرَثِةِ

আমার ধনসম্পদ বিধিসম্মত ভাবে আমার ওয়ারিসদের হাতে চলে যাবে,

بَينَمَا أنا سَأُحَاسِبُ عَليها

অথচ এর মাঝে এই সম্পদের জন্য আমার হিসাব-নিকাশ আরম্ভ হয়ে যাবে,

القَلِيلُ والكَثِيرُ.....النَقِيرُ والقَطمِيرُ......

ছোট এবং বড়….অনুপরিমাণ এবং কিয়দংশ পরিমান, (সবকিছুর হিসাব)

وَإن أَوَّلَ ما مَوتِي هو اِسمِي !!!!

আমার মৃত্যুর পর সর্বপ্রথম যা (হারাতে) হবে, তা আমার নাম!!!

لِذَلكَ عِنْذَما يَمُوتُ سَيَقُولُونَ عَنِّي أَينَ "الجُنَّةُت"...؟

কেননা, যখন আমি মৃত্যুবরণ করবো, তারা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলবে, কোথায় “লাশ”?

وَلَن يَنَادُونِي بَاِسمِي....

কেউ আমাকে আমার নাম ধরে সম্বোধন করবে না,

وَعِندَما يُرِيدُونَ الصَّلاةَ عَلَيَّ سِيَقُلُونَ اُحْضُرُوا "الجَنَازَةَ" !!!

যখন তারা আমার জন্য (জানাযার) নামাজ আদায় করবে, বলবে, “জানাযাহ” নিয়ে আসো,

وَلَن يُنَادُونِي يِاسْمِي ....!

তারা আমাকে নাম ধরে সম্বোধন করবে না….!

وَعِندَما يَشْرَعُونَ بِدَفنِي سَيَقُولُونَ قَرِّبُوا المَوتَ وَلَنْ يَذكُرُوا اِسمِي ....!

আর, যখন তারা দাফন শুরু করবে বলবে, মৃতদেহকে কাছে আনো, তারা আমার নাম ধরে ডাকবে না…!

لِذَلِكَ لَن يَغُرَّنِي نَسبِي وَلا قَبِيلَتِي وَلَن يَغُرَّنِي مَنْصَبِي وَلا شَهرَتِي ....

এজন্যই দুনিয়ায় আমার বংশপরিচয়, আমার গোত্র পরিচয়, আমার পদমযার্দা, এবং আমার খ্যাতি কোনকিছুই আমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে,

فَمَا أَتْفَهُ هَذِهِ الدُّنْيَا وَمَا أَعْظَمَ مُقَلِّبُونَ عَليهِ .....

এই দুনিয়ার জীবন কতই না তুচ্ছ, আর, যা কিছু সামনে আসছে তা কতই না গুরুতর বিষয়…

فَيا أَيُّهَا الحَيُّ الآنَ ..... اِعْلَمْ أَنَّ الحُزْنَ عَليكَ سَيَكُونُ على ثَلَاثَةٍ أَنْواعٍ:

অতএব, (শোন) তোমরা যারা এখনো জীবিত আছো,….জেনে রাখো, তোমার (মৃত্যুর পর) তোমার জন্য তিনভাবে দু:খ করা হবে,

1ــ النَّاسُ الَّذِينَ يَعْرِفُونَكَ سَطْحَيّاً سَيَقُولُونَ مِسْكِينٌ

১. যারা তোমাকে বাহ্যিক ভাবে চিনতো, তারা তোমাকে বলবে হতভাগা,

2ــ أَصْدِقَاؤُكَ سَيَحْزُنُونَ سَاعَات أَو أَيَّامَاً ثُمَّ يَعُودُونَ إِلَى حَدِيثِهِم بَلْ وَضَحِكَهُم.....

২. তোমার বন্ধুরা বড়জোর তোমার জন্য কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিন দু:খ করবে, তারপর, তারা আবার গল্পগুজব বা হাসি ঠাট্টাতে মত্ত হয়ে যাবে,

3ــ الحُزْنُ العَمِيقُ فِي البَيْتِ سَيَحْزُنُ أَهْلِكَ أُسْبُوعاً.... أُيسْبُوعَينِ شَهراً ....شَهرَينِ أَو حَتَّى سَنَةً وَبَعْدَهَا سَيَضْعُونَكَ فِي أَرْشِيفِ الذَّكَرِيّاتِ !!!

৩. যারা খুব গভীর ভাবে দু:খিত হবে, তারা তোমার পরিবারের মানুষ, তারা এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ, একমাস, দুইমাস কিংবা বড় জোর একবছর দু:খ করবে। এরপর, তারা তোমাকে স্মৃতির মণিকোঠায় যত্ন করে রেখে দেবে!!!

اِنْتَهَتْ قِصَّتُكَ بَينَ النَّاسِ وَبَدَأَتْ قِصَّتُكَ الحَقِيْقِيّةِ وَهِيَ الآخِرةُ ....

মানুষদের মাঝে তোমাকে নিয়ে গল্প শেষ হয়ে যাবে, অত:পর, তোমার জীবনের নতুন গল্প শুরু হবে, আর, তা হবে পরকালের জীবনের বাস্তবতা,

لَقدْ زَالَ عِندَكَ:

তোমার নিকট থেকে নি:শেষ হবে (তোমার):

1ــ الجَمَالُ

১. সৌন্দর্য্য

2ــ والمَالُ

২. ধনসম্পদ

3ــ والصَحَّةُ

৩. সুস্বাস্থ্য

4ــ والوَلَدُ

৪. সন্তান-সন্তদি

5ــ فَارقَت الدَّور

৫. বসতবাড়ি

6ــ القُصُورُ

৬. প্রাসাদসমূহ

7ــ الزَوجُ

৭. জীবনসঙ্গী

وَلَمْ يَبْقِ إِلَّا عَمَلُكَ

তোমার নিকট তোমার ভালো অথবা মন্দ আমল ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না,

وَبَدَأَتِ الحَيَاةُ الحَقِيقَيَّةُ

শুরু হবে তোমার নতুন জীবনের বাস্তবতা,

وَالسُّؤَالُ هُنا : ماذا أَعْدَدْتَ لِلقُبَرِكَ وَآخِرَةَكَ مِنَ الآنَ ؟؟؟

আর, সে জীবনের প্রশ্ন হবে: তুমি কবর আর পরকালের জীবনের জন্য এখন কি প্রস্তুত করে এনেছো?

هَذِهِ حَقِيقَةٌ تَحْتَاجُ إلى تَأمَّلٍ

*ব্স্তুত: এই জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে তোমাকে গভীর ভাবে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন,*

لِذَلِكَ أحرصُ عَلى :

এজন্য ‍তুমি যত্নবান হও,

1ــ الفَرَائِضِ

১. ফরজ ইবাদতগুলোর প্রতি

2ــ النَّوَافِلِ

২. নফল ইবাদতগুলোর প্রতি

3ــ صَدَقَةُ السِّرِّ

৩. গোপন সাদাকাহ’র প্রতি

4ــ عَمَلُ الصَّلِحِ

৪. ভালো কাজের প্রতি

5ــ صَلاةُ اللَّيلِ

৫. রাতের নামাজের প্রতি

لَعَلَّكَ تَنْجُو....

যেন তুমি নিজেকে রক্ষা করতে পারো….

إِنْ سَاعَدْتَ عَلى تَذْكِيرِ النَّاسِ بِهَذِهِ المُقَالَةِ وَأنتَ حَيُّ الآنَ سَتَجِدُ أَثَرَ تَذكِيرِكَ في مِيزَانِكَ يَومَ القِيامَةِ بِإِذْنِ اللهِ .....

এই লিখাটির মাধ্যমে তুমি মানুষকে উপদেশ দিতে পারো, কারণ তুমি এখনো জীবিত আছো, এর ফলাফল আল্লাহ’র ইচ্ছায় তুমি কিয়ামত দিবসে মিজানের পাল্লায় দেখতে পাবে,

قال الله تَعالى : ((فَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَ تَنْفَعُ المُؤمِنِينَ))

আল্লাহ বলেন: ((আর স্মরণ করিয়ে দাও, নিশ্চয়ই এই স্মরণ মুমিনদের জন্য উপকারী))

لِمَاذَا يَخْتَارُ المَيِّتِ "الصَّدَقَةَ لو رَجَعَ للدُّنيا....

তুমি কি জানো কেন মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ প্রদানের আকাঙ্খা করবে, যদি আর একবার দুনিয়ার জীবনে ফিরতে পারতো?

كَمَا قَالَ تَعَالى: ((رَبِّ لَو لا أَخَّرْتَنِي إلى أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ....))

আল্লাহ বলেন: ((হে আমার রব! যদি তুমি আমাকে আর একটু সুযোগ দিতে দুনিয়ার জীবনে ফিরে যাবার, তাহলে আমি অবশ্যই সাদাকাহ প্রদান করতাম….))

ولَمْ يَقُلْ :

তারা বলবে না,

لِأعتَمَرَ

উমরাহ পালন করতাম,

أو لِأُصَلَّي

অথবা, সালাত আদায় করতাম,

أو لِأصُومُ

অথবা, রোজা রাখতাম,

قالَ العُلَماءُ : ما ذَكَرَ المَيِّتُ الصَّدَقَةَ إلا لِعَظِيمِ مَا رَأى مِن أَثَرِها بَعدَ مَوتِهِ

আলেমগণ বলেন: মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ’র কথা বলবে, কারণ তারা সাদাকাহ প্রদানের ফলাফল তাদের মৃত্যুর পর দেখতে পাবে,

فَأَكْثِرُوا مِنَ الصَّدَقَةِ وَمِن أَفضَلِ ما تَتَصَدَّقُ بِهِ الآنَ 10 ثَوَان مِنْ وَقْتِكَ لِنشَرِ هذا الكَلامَ بِنِيَّةِ النَّصْحِ فَالكَلمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ.

আর, গুরুত্ববহ এই সাদাকাহ’র কাজটি তুমি এই কথাগুলো ছড়িয়ে দিয়ে মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে করতে পারো, যদি তোমার উদ্দেশ্য হয় এর মাধ্যমে মানুষকে উপদেশ প্রদান করা। কারণ, উত্তম কথা হল এক ধরণের সাদাকাহ।

16/05/2021

শেষ অটোমান খলিফার সাথে তুরস্ক সরকারের নির্মম আচরণ

১৯২৪ সালের ৩ মার্চ তুরস্কের জাতীয় পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খলিফা পদ বিলুপ্ত করা হয়। এরই সাথে ৬২৪ বছরের উসমানীয় সালতানাতের অবসান ঘটে। পরিবারসহ খলিফা ২য় আব্দুল মাজিদকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ফ্রান্সের নিস শহরে। কামাল আতাতুর্ক ৫ মার্চ দেশ ছাড়ার জন্য সুলতানকে কয়েক ঘন্টা সময় বেঁধে দেন।

সুলতান মিসরের শাসকের নিকট আকুতি করেছিলেন তাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য। কিন্তু মিসরের শাসক ফুয়াদ সাফ জানিয়ে দেন যে, উসমানী পরিবারের কোন সদস্য এমনকি কোন নারী বা শিশুকেও মিসরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।নিরুপায় হতে সুলতান পরিবার নিয়ে ফ্রান্সে চলে আসেন। এই সময় তার হাতে একটি কড়িও ছিল না।উসমানী খলিফার সব সম্পদ কামাল সরকার বাজেয়াপ্ত করে। খালি হাতেই ফ্রান্স চলে আসতে হয় সুলতান কে। দারিদ্রতা আর অসহায়ত্বের মাঝে দিন কাটাতে থাকেন সুলতান আর তার পরিবার। এই সময় সুলতানের সাহায্যে এগিয়ে আসে ভারতীয় মুসলমানরা। প্রতি মাসে ভারত থেকে চাঁদা ও সাহায্য সংগ্রহ করে সুলতানের পরিবারের জন্য পাঠানো হত।
কিছুদিন পর ভারতের হায়দ্রাবাদের শাসক নিজাম সুলতান ও তার পরিবারকে নিজ রাজ্যে আমন্ত্রণ জানান। ঐতিহাসিকগণের মতে এই নিজাম তৎকালীন সবচেয়ে ধনী শাসক ছিলেন। ন্যায়পরায়ণ ও দয়ালু হিসেবে তার সুনাম ছিল। ১৯৩০ সালে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের সমপরিমাণ সোনা ও রুপার মুদ্রা। আরো ছিল ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ডের সমপরিমাণ গয়না ও অলংকার।
১৯৩১ সালে নিজাম পরিবারের শাহজাদা আমির আজম জাহ হেমায়েত আলি খানের সাথে উসমানী রাজকন্যা খাদিজা ওরফে দুররে শাহওয়ার এর বিবাহ হয়।

১৯৪৪ সালের ২৩ আগস্ট ফ্রান্সের প্যারিস এ খলিফা ২য় আব্দুল মাজিদ ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে তার শেষ ইচ্ছা ছিল তাকে যেন তুরস্কের তারিবা কবরস্থানে দাফন করা হয়। শাহজাদি শাহওয়ার তুরস্কে যান, তিনি প্রধানমন্ত্রী ইনুনু কে আবেদন জানান খলিফাকে কবর দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য। কিন্তু তার এই আবেদন প্রধানমন্ত্রী নির্মমভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। ব্যথিত মন নিয়ে ফ্রান্সে ফিরে যান শাহজাদি।
কিন্তু তিনি হাল ছেড়ে দেননি। তিনি আশায় ছিলেন যেভাবেই হোক প্রিয় বাবাকে তুরস্কের মাটিতে দাফন করবেনই।ফ্রান্সের একটি মসজিদে সুলতানের লাশ সংরক্ষিত রাখা হয়।

১০ বছর পর ১৯৫৪ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হন ডানপন্থী আদনান মান্দারিস। শাহজাদি আবার ছুটে যান তুরস্কে। প্রধানমন্ত্রীকে আবার আকুতি করেন বাবার লাশ দাফনের অনুমতির জন্য। প্রধানমন্ত্রী জানান তিনি সংসদে আইন পাসের জন্য উপস্থাপন করবেন।কিন্তু সংসদের অনক সদস্য বিরোধিতা করায় এই আইন আর পাস হয়নি। ফলে শাহজাদির আবেদন আবার ও খারিজ হয়ে যায়। ভগ্নহৃদয় নিয়ে তুরস্ক ছাড়েন তিনি।

এই সময় এগিয়ে আসেন সৌদি বাদশাহ সৌদ বিন আব্দুল আজিজ। খলিফার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাদশাহ সৌদ জান্নাতুল বাকিতে তার লাশ দাফনের অনুমতি দেন। ১৯৫৪ সালের ৩০ মার্চ খলিফা ২য় আব্দুল মাজিদকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।নিজ দেশে ঠাই না পেলেও রাসুলুল্লাহ সাঃ এর প্রতিবেশী হয়ে মদীনার জান্নাতুল বাকিতে শেষ আশ্রয় পেলেন মুসলিম জাহানের এই শেষ খলিফা।

পিতার প্রতি তুরস্কের এমন নিষ্ঠুরতম আচরণের কারণে পরে সুযোগ পেয়েও শাহজাদি আর কোন দিন তুরস্কের নাগরিকত্ব ফেরত নেননি। মরন পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ডের জাতীয়তা নিয়েই বেঁচে ছিলেন।২০০৬ সালে তিনি মারা যান।অছিয়ত অনুসারে লন্ডনে এক মুসলিম কবরস্থান এ তাকে দাফন করা হয়।
(সুলতান কাহিনি গ্রন্থ থেকে সংকলিত)

Want your school to be the top-listed School/college in London?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address

London