06/15/2026
বাজেটে আবাসন খাতে আরোপিত নতুন কর প্রত্যাহারের দাবি রিহ্যাবের
প্রস্তাবিত বাজেটে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জমির মালিকের প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স (মূলধনি আয়ে কর) আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন আরোপিত এই করের কারণে ফ্ল্যাটের বাজার ভয়াবহ সংকটে পড়বে। ফ্ল্যাটের দাম হবে আকাশচুম্বী।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে আজ সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় আবাসন খাতের কোম্পানিগুলোর সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।সংগঠনটি ফ্ল্যাটের ওপর নতুন আরোপিত ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল। তিনি বলেন, আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা নানাভাবে সরকারকে কর দেন। কিন্তু বাজেটের কর প্রস্তাব দেখে মনে হচ্ছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী আবাসন খাতকে রাজস্ব আদায়ের যন্ত্র বানাতে চাচ্ছে প্রশাসন। এ সময় আবাসন খাতে আরোপিত নতুন কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক, সহসভাপতি-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, সহসভাপতি-৩ এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ ও সহসভাপতি (অর্থ) মো. হারুন অর রশিদ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল বলেন, আবাসন কোম্পানিগুলো জমির মালিককে চুক্তি সইয়ের সময় যে অর্থ দেয়, বিদ্যমান নিয়মে তার ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, এই অর্থের বাইরে ডেভেলপার কোম্পানির তৈরি ফ্ল্যাটের ওপরও ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে জমির মালিকদের।
আলী আফজাল উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২৪টি ফ্ল্যাটের ১টি প্রকল্পে যদি জমির মালিক ১২টি ফ্ল্যাট পান এবং সেই ১২টি ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য ১২ কোটি টাকা হয়, তবে তাঁকে ১৫ শতাংশ হারে নতুন করে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কর দিতে হবে। অর্থাৎ জমির মালিককে প্রায় ২টি নতুন ফ্ল্যাটের সমপরিমাণ টাকা কর বাবদ দিতে হবে।
রিহ্যাব সভাপতি জানান, জমির মালিক এই টাকা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করার চেষ্টা করবেন। ফলে শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের দাম আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে এই নতুন কর প্রত্যাহারের দাবি জানাই। অন্যথায় আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। একই সঙ্গে রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর ওপর অতিরিক্ত কর আরোপেরও প্রতিবাদ জানান তিনি।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে ভবন, ফ্ল্যাট ও জমি ক্রয়ে বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি স্বাগত জানিয়েছে রিহ্যাব। সংগঠনটি বলেছে, এর ফলে অর্থনীতির মূলধারায় নতুন অর্থ প্রবাহিত হবে এবং আবাসন খাতসহ পুরো অর্থনীতি উপকৃত হবে।
রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল বলেন, বর্তমানে নিবন্ধন ব্যয় ১৩ শতাংশের ওপর থাকায় ফ্ল্যাট ও জমি কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে আবাসন খাতে নিবন্ধন ব্যয় সর্বোচ্চ। প্রাক্–বাজেট আলোচনায় নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছিল রিহ্যাব। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
আলী আফজাল জানান, গত কয়েক বছরে প্রায় সব ধরনের নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় বেড়েছে। আগের তুলনায় ফ্ল্যাট নির্মাণে খরচ বেড়েছে ৫০ শতাংশ। স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণের সুবিধা না থাকায় মধ্যবিত্তরা বাজার থেকে ছিটকে পড়ছেন। এ ছাড়া বিগত আড়াই বছরে তিনটি সরকারের পরিবর্তন ও নীতিগত অস্থিরতার কারণে আবাসন খাতে ক্রেতার সংকট ও একধরনের ভীতি কাজ করছে বলে জানান তিনি।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে পিভিসি রেজিন ও পেট রেজিনের কর দ্বিগুণ করা হয়েছে, কোল্ড-রোল্ড কয়েলে ১০ শতাংশ শুল্ক আর কপার তার ও টিউবে কর বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এমনিতেই প্রতি টন রডের দাম তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা বাড়বে। এর ওপর নতুন শুল্ক ও করের বোঝার কারণে আবাসন শিল্পের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুই কোটি মানুষের আয় মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজালের দাবি, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) আবাসন খাতের অবদান ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ। এ খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। এই খাত গতিশীল না হলে বাজেটে প্রস্তাবিত সাড়ে ৬ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিকল্পনা ঝুঁকিতে পড়বে।
এই পরিস্থিতিতে বাজেট পাস হওয়ার আগে আবাসনশিল্পে নতুন আরোপিত সব কর প্রত্যাহার ও রিহ্যাবের অন্যান্য প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান রিহ্যাব সভাপতি।
06/15/2026
রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে গিয়ে ড্রোন হামলায় জামালপুরের দুজন নিহত
রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়ে ড্রোন হামলায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুজন নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকালে দুজনের পরিবার মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
নিহত দুজন হলেন মাদারগঞ্জ উপজেলার চর গুজামানিকা গ্রামের মাফল মিয়া (২৪) ও রায়েরছড়া গ্রামের মো. আরিফ মিয়া (৩০)।
নিহত দুজনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে উন্নত জীবনের আশায় ওই দুই বাংলাদেশি এক দালালের মাধ্যমে রাশিয়া যান। সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশি দালালের খপ্পরে পড়ে ওই দুজনকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়। সম্প্রতি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়ে পৃথক স্থানে প্রতিপক্ষের ড্রোন হামলায় তাঁরা দুজন নিহত হন।
প্রথমে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রাখা হলেও রাশিয়ায় অবস্থানরত এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মাধ্যমে পরিবার বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তাঁদের বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর ভিড় বাড়তে থাকে।
নিহত মাফল মিয়ার বড় বোন কণিকা আক্তার বলেন, ‘আমাদের সংসার খুবই অভাবের। এলাকায় কোনো কাজের সুযোগ না থাকায় আমার ভাই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এক দালালের মাধ্যমে রাজমিস্ত্রির কাজের আশ্বাস পেয়ে সে রাশিয়ায় গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। আমাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। মাঝেমধ্যে ফোন করত। একবার ফোন করে জানিয়েছিল, তাকে কাজ না দিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে।’ ভাইয়ের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
উপজেলার সিধুলী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আরিফ মিয়া আনসার বাহিনীতে চাকরি করতেন। উন্নত জীবনের আশায় চাকরি ছেড়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু দালালদের খপ্পরে পড়েন। যাঁদের মাধ্যমে গিয়েছিলেন, তাঁরা তাঁকে ভালো কাজ দেবে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁকে রাশিয়াতে নিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর বাধ্য হয়ে রুশ সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধে গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ‘রাশিয়ায় নিহত হওয়ার বিষয়ে আমাকে কেউ এখনো কিছুই জানায়নি। ঘটনা যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে ভুক্তভোগীরা যেন দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব যেন লাশগুলো দেশে আনার ব্যাপারে দূতাবাসকে চিঠি দেওয়া হয়।’
06/15/2026
তৃণমূলের বিদ্রোহী লোকসভার ২০ সদস্য যোগ দিলেন অখ্যাত আঞ্চলিক দলে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ২০ সংসদ সদস্য গতকাল রোববার নয়াদিল্লিতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, তাঁরা এবার লোকসভায় আলাদা আসন নিয়ে বসতে চান। তবে তৃণমূল বা নতুন তৃণমূলের নাম নিয়ে বসা যে সম্ভব হবে না, সেই ইঙ্গিত পাওয়ার পর বিদ্রোহী এই ২০ সংসদ সদস্য নতুন একটি অখ্যাত আঞ্চলিক দলে যোগ দিয়েছেন। ওই দলটির নাম ভারতের জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল বা এনসিপিআই।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই ২০ সংসদ সদস্য অখ্যাত দলটিতে যোগদানের ফলে কার্যত দলটি ভেঙে গেল।
এই এনসিপিআই দলটি প্রথম গঠন করেন অনিকেত দে ও শিউলি কুন্ডু। হাওড়ার সাকরইল থেকে তাঁরা এই দল গঠন করেন। প্রথম এটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। পরবর্তী সময় এই এনজিওকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত করা হয়।
দলটির নেতা হন উত্তীয় কুন্ডু ও শিউলি কুন্ডু। ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই দলটিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে এই দল থেকে সাতজনকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। তাদের দলীয় প্রতীক হচ্ছে কলম। ওই নির্বাচনে সাত প্রার্থীর কেউ জয়ী হতে পারেননি। জয় পাওয়া তো দূরের কথা, ভোটও পেয়েছেন হাতে গোনা কিছু। ওই সাত প্রার্থীর মধ্যে সর্বাধিক ভোট পেয়েছিলেন কৈলা বিধানসভা আসনের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলী। পেয়েছিলেন ২৮৬ ভোট।অবশেষে আইনগত নানা দিক খতিয়ে ও ঝুঁকি এড়াতে তৃণমূলের বিদ্রোহীরা এনসিপিআই দলে নিজেদের অস্তিত্ব বিসর্জন দিয়েছেন। মিশে গেছেন এনসিপিআইয়ের সঙ্গে। আর লোকসভায় ২০ জন সংসদ সদস্য পেয়ে দেশের অখ্যাত এক রাজনৈতিক দল এখন দেশে পঞ্চম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের পরাজয় হয়। রাজ্য বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল জয়ী হয় ৮০ আসনে। অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ২০০-এর বেশি আসনে জয়ী হয়। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হন উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বিধানসভায় তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের ভেতরে অস্থিরতা দেখা দেয়। অধিকাংশ বিধায়ক ও সংসদ সদস্যরা এই পরাজয়ের জন্য দায়ী করেন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দুর্নীতিরও ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে দলের অনেক বিরুদ্ধে।
দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা হিসেবে প্রস্তাব দেন বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম। স্পিকারের কাছে লেখা অভিষেকের চিঠিতে ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৭০ জনের স্বাক্ষরসহ আবেদন করা হয় স্পিকারের কাছে। তবে বিদ্রোহী শিবির থেকে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী নেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে ৭০ জনের স্বাক্ষরসহ স্পিকারের কাছে অভিষেকের করা আবেদনে অনেকের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
06/15/2026
অযত্নে ধুঁকছে চিড়িয়াখানা, কমছে দর্শনার্থী
সিলেটের টিলাগড় এলাকার বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটি চিড়িয়াখানা হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে পরিবেশ ও বাসস্থানের ঘাটতির কারণে সেখানে বেশ কিছু প্রাণী মারা যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এখনো সেটা বেহাল। ভাঙা খাঁচা ও স্থাপনায় নিয়ে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে প্রতিষ্ঠানটি। দর্শনার্থীদের সংখ্যাও কমে এসেছে।
06/15/2026
দেশের ২০ শতাংশ জমির মালিক সারের ভর্তুকির অর্ধেক সুবিধা ভোগ করেন: বিশ্বব্যাংক
সারের ভর্তুকি বর্তমানে দেশের কৃষি সহায়তার সবচেয়ে বড় উপাদান। এটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। এই ভর্তুকি কৃষকদের উৎপাদন ও মূল্যস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করেছে। তবে ভর্তুকিতে কেনা সারের পরিমাণের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বেশি জমির মালিক কৃষকেরা বেশি সুবিধা পান। দেশের শীর্ষ ২০ শতাংশ জমির মালিক মোট সারের ভর্তুকির প্রায় অর্ধেক সুবিধা ভোগ করেন, অথচ নিচের ৪০ শতাংশ কৃষক পান মাত্র ১৫ শতাংশ।
বাংলাদেশের কৃষি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের করা এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। রাজধানীতে আজ সোমবার বিশ্বব্যাংকের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে ‘রিপারপোজিং অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশ’স অ্যাগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের কৃষি-খাদ্যব্যবস্থায় মানসম্মত প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি খাতে সরকারি ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি খাতকে উচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মোট সরকারি ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশ এ খাতে বরাদ্দ করে। তবে কৃষি প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার দুর্বল হয়েছে এবং উচ্চ মূল্যের কৃষিপণ্যে বৈচিত্র্য আনার অগ্রগতি পিছিয়ে রয়েছে। এদিকে ভোক্তাদের চাহিদা ক্রমেই ফল, সবজি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের দিকে ঝুঁকছে।
সরকারি ব্যয়ের একটি বড় অংশ ভর্তুকি ও ধানকেন্দ্রিক সহায়তায় ব্যয় হলেও কৃষি উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও পরামর্শসেবা, সেচ, বাজারসংযোগ এবং জলবায়ু–সহনশীলতা বৃদ্ধির মতো খাতগুলো তুলনামূলকভাবে কম অর্থায়ন পাচ্ছে।
সারের ব্যবহারেও বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ কৃষক সুপারিশকৃত মাত্রার মধ্যে সুষম পুষ্টি উপাদানের সার ব্যবহার করেন। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করা গেলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যা কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির একটি বড় সুযোগ।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কৃষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকি, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, সীমিত আর্থিক সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সারের মূল্য ও সরবরাহে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা কৃষিনীতি ও ব্যয়ের দুর্বলতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। সুখবর হলো, সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি সুস্পষ্ট পথ রয়েছে। সহায়তা প্রদানের পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং ধীরে ধীরে কৃষি ব্যয়কে অধিক ফলদায়ক বিনিয়োগের দিকে পুনর্বিন্যাস করতে পারলে বাংলাদেশ আরও সহনশীল ও উৎপাদনশীল কৃষি-খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে, যা অধিক এবং ভালো মজুরির কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।’
06/15/2026
শনিবারের পর আজও বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে ৫,৪৮২ টাকা
দেশের বাজারে আজ সোনার দাম বেড়েছে। ফলে পরপর দুবার সোনার দাম বাড়ল। এর আগে টানা চারবার সোনার দাম কমেছে। বিশ্ববাজারে খাঁটি সোনা ও রুপার দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
আজ সোমবার দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট বা ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বেড়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় সোনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
06/15/2026
এসএমই খাত ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাবে
দেশে বর্তমানে ১ কোটি ১৭ লাখ কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এই খাতের প্রায় ৬০% উদ্যোক্তাই প্রথাগত ব্যাংকঋণের আওতার বাইরে আছেন।
আগামী ৫ বছরে এসএমই খাতে ৩০ হাজার নতুন উদ্যোক্তাকে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য সরকারের।
06/15/2026
ময়মনসিংহে গুদামে মজুত রেখেই উত্তোলন দেখানো হয় গম, পরে ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান
ময়মনসিংহ বিভাগের কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (সিএসডি) থেকে কাগজপত্রে ৩৮০ টন গম উত্তোলন দেখানো হলেও এর কিছু অংশ গুদামেই মজুত থাকার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে নথিপত্রে কিছু অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জামিলুর রহমান।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার তারাকান্দা উপজেলার কেন্দুয়া বাজার এলাকার মেসার্স তালুকদার ফ্লাওয়ার মিলের অনুকূলে ৮ জুন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে দুটি চিঠিতে মোট ৩৮০ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই গম ভেঙে উৎপাদিত আটা জেলার নির্ধারিত এলএসডি ও সিএসডিতে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী ১১ জুনের মধ্যে গম উত্তোলন এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আটা সরবরাহের কথা ছিল।
06/15/2026
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশ! সঞ্জয়ের জ্যাকেটের গল্প জানলে অবাক হবেন
ফিফা বিশ্বকাপের এবারের উদ্বোধনী মঞ্চে যখন আলোর ঝলকানি, সংগীত আর উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিল দর্শক, তখন সেই মঞ্চে নীরবে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশও। কোনো ফুটবল দল নয়, কোনো জাতীয় পতাকা হাতে আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনও নয়—বাংলাদেশকে তুলে ধরেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীত প্রযোজক, গায়ক ও ডিজে সঞ্জয় দেব। আর সেটি করেছিলেন তাঁর গায়কি ও পোশাকের মাধ্যমে।
গত শুক্রবার কানাডার টরন্টোর বিএমও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬–এর উদ্বোধনী আয়োজনে ‘সির সির’ পরিবেশন করেন সঞ্জয়। কানাডীয় শিল্পী নোরা ফাতেহি ও ফরাসি হিপহপ তারকা ভেজেড্রিমের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে কোটি দর্শকের সামনে পারফর্ম করেন তিনি। তবে গান শেষ হওয়ার পরও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা থামেনি। কারণ, মানুষের নজর কাড়ে সঞ্জয়ের পরা বিশেষ জ্যাকেটটি।
সঞ্জয়ের জ্যাকেটের ডান হাতাজুড়ে সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারিতে ফুটে উঠেছিল বাংলাদেশের পরিচয়ের তিনটি শক্তিশালী প্রতীক—বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা। শুধু পোশাকে এসব প্রতীক ব্যবহার করেই থেমে থাকেননি তিনি। পারফরম্যান্স চলাকালে বারবার নিজের হাতার দিকে ইঙ্গিত করে বিশ্বদর্শকের নজর সেদিকেই টেনে নিয়েছেন।
মজার বিষয় হলো, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই উপস্থিতির পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল অনেক আগে।
গতকাল শনিবার রাতে সঞ্জয় প্রথম আলোকে জানান, ফিফার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার খবর প্রকাশের পর অনেকেই তাঁকে বাংলাদেশের জার্সি পরে মঞ্চে ওঠার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন একটু ভিন্নভাবে, আরও নান্দনিকভাবে দেশকে তুলে ধরতে।
06/15/2026
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, বিস্তারিত জানার পর পদক্ষেপ নেবে ঢাকা
প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিতভাবে জানার পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটা ঠিক করা হবে।
আজ সোমবার সকালে সরকারি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কূটনৈতিক চিঠি দিয়ে আগে জানানোর পরও গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ‘রহস্যজনক কারণে’ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। পরে উচ্চ মহলের নির্দেশে অনুমতি দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে না গিয়ে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরছেন। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছে।