অধ্যাদেশে বিবেচনা করলে আজকে গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর আইনগত ভিত্তিহীন দাবিগুলোর ব্যাখ্যা এভাবে করা যায় :
১. "সংযুক্ত কলেজ" শব্দ বাদ দিয়ে নতুন ভর্তি সার্কুলার প্রকাশ করতে হবে-
এটি আইনগতভাবে সবচেয়ে দুর্বল দাবি বলে মনে হয়।
কারণ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬-এ সাত কলেজকে "সংযুক্ত কলেজ" হিসেবেই সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অধ্যাদেশের সংজ্ঞা ধারাতেই এই শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে "সংযুক্ত কলেজ" লেখা অধ্যাদেশবিরোধী না।
২. বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে পূর্ণাঙ্গ ভর্তি সার্কুলার প্রকাশ করতে হবে-এ দাবির কিছুটা যৌক্তিক ভিত্তি আছে।
কারণ ধারা ৪৫(৪)-এ বলা হয়েছে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংযুক্ত কলেজসমূহের স্কুল/ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। যদিও বাস্তবে কেবল সাত কলেজের জন্য ভর্তি সার্কুলার প্রকাশ করা হয়েছে। আর অধ্যাদেশে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নিজস্ব একাডেমিক প্রোগ্রাম চালুর কথা থাকলেও বাস্তবে এখনো সেই অবকাঠামো ও বিভাগগুলো চালু হয়নি। তাই আপাতত ভর্তি নেওয়া হচ্ছে সাতটি সংযুক্ত কলেজের আসনে। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস অথবা সংযুক্ত কলেজে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। বর্তমান ভর্তি আসলে "সাত কলেজে ভর্তি", তবে তা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কতৃক পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে অধ্যাদেশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্কুল/বিভাগ, শিক্ষক ও ক্যাম্পাস গড়ে তুলে সেখানে সরাসরি শিক্ষার্থী ভর্তি করা। অধ্যাদেশে কোথাও বলা হয়নি বা নিষেধ করা হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় চালু না হলে সংযুক্ত কলেজে ভর্তি নেওয়া যাবে না।
৩. রানিং সব সেশনকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটি সবচেয়ে জটিল দাবি।
অধ্যাদেশে ২০২৪-২৫ ব্যাচের জন্য বিশেষ ট্রানজিশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে পড়বে, কিন্তু DCU-এর সনদ পাবে।
কিন্তু ২০২১-২২, ২০২২-২৩ বা ২০২৩-২৪ ব্যাচকে একযোগে DCU-তে অন্তর্ভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে নেই। তাই এটি একটি নীতিগত দাবি হতে পারে, কিন্তু সরাসরি অধ্যাদেশভিত্তিক দাবি নয়। এর সাথে জড়িত আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত।
৪. ২০২৪-২৫ ব্যাচের অভিন্ন আইডি কার্ড
এটি তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত দাবি।
যেহেতু ২০২৪-২৫ ব্যাচকে ইতোমধ্যে DCU-এর শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে DCU-এর সনদ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাই তাদের জন্য অভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আইডি কার্ডের দাবি প্রশাসনিকভাবে যুক্তিসঙ্গত বলা যায়। তবে কি কাঠামো হবে আইডি কার্ড সেটা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলে ঠিক করবে।
ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি কতটুকু যৌক্তিক?
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো যদি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করে থাকে, অধ্যাদেশের অধীনে পরিচালিত হয়ে থাকে,
এবং আবেদনকারীরা বিজ্ঞপ্তি জেনেশুনেই আবেদন করে থাকে, তাহলে শুধু "সংযুক্ত কলেজ" শব্দ ব্যবহারের কারণে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি আইনী বা প্রশাসনিক পর্যালোচনায় খুব যৌক্তিক দাবি হবে বলে মনে হয় না।
বিশেষ করে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষেও ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে "প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে সরকারি সাত কলেজ" ভাষা ব্যবহার হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ সালে একই ধরনের কাঠামোকে অধ্যাদেশ বিরোধী বলা অযৌক্তিক। যেখানে উপাচার্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুমোদন দিয়েছে।
7 College News
সাত কলেজের কন্ঠস্বর, শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিধ্বনি নিয়ে সাত কলেজ নিউজ।
__Stay connected—Like, Follow and Share!
Educational news page in Bangladesh-
7 College News.
অধ্যাদেশের ভর্তি-সংক্রান্ত ধারা দেখে যা পেলাম, তাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়
ধারা ৪৫(৪): ভর্তি প্রক্রিয়া
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল এবং শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমের ভিত্তিতে নির্ধারিত মেধাক্রম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংযুক্ত কলেজসমূহের স্কুল/ডিসিপ্লিনে শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবে।
এখানে লক্ষ্য করুন, আইন শুধু সংযুক্ত কলেজে নয়, বরং "বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংযুক্ত কলেজসমূহের স্কুল/ডিসিপ্লিনে" ভর্তি হওয়ার কথা বলেছে।
এর আইনি অর্থ কী? এই ধারার ভাষা থেকে বোঝা যায়—
১. অধ্যাদেশ প্রণেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক ইউনিট (School/Discipline) থাকার বিষয়টি ধরে নিয়েছেন।
২. একই ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব School/Discipline-এ,
অথবা সংযুক্ত কলেজের School/Discipline-এ ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে।
তাহলে বিতর্ক কোথায়?
বর্তমান ২০২৫-২৬ ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তি কার্যক্রম মূলত সাত কলেজের স্নাতক আসনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে।
এখানেই আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে:
যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো School/Discipline এখনো চালু না হয়ে থাকে, তাহলে ধারা ৪৫(৪)-এ উল্লিখিত "বিশ্ববিদ্যালয়ের School/Discipline"-এ ভর্তির অংশটি বাস্তবে কার্যকর হয়নি।
তবে অধ্যাদেশে কোথাও বলা নেই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব School/Discipline চালু না হওয়া পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।
আপনার যুক্তির পক্ষে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
২০২৪-২৫ ব্যাচের জন্য অধ্যাদেশের বিশেষ ট্রানজিশন ধারা রাখা হয়েছে, যেখানে তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে পড়াশোনা করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সনদ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে আইন প্রণেতারা শুরু থেকেই একটি রূপান্তরকাল (transition period) কল্পনা করেছিলেন।
শুধু অধ্যাদেশের ভাষা বিচার করলে দুটি ব্যাখ্যা সম্ভব- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বাদ দিয়ে শুধু সংযুক্ত কলেজে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া অবৈধ — এমন কথা অধ্যাদেশে সরাসরি নেই। তবে ধারা ৪৫(৪)-এর ভাষা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব School/Discipline-এ ভর্তির ব্যবস্থাও থাকার কথা, যা বর্তমানে দৃশ্যমান নয়।
সুতরাং ভর্তি বাতিলের দাবির জন্য শক্তিশালী আইনি ভিত্তি দেখাতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে ধারা ৪৫(৪) বাধ্যতামূলকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব School/Discipline চালু থাকার শর্ত আরোপ করেছে। অধ্যাদেশের পাঠে এমন স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা আমি খুঁজে পাইনি। বরং বর্তমানে যে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে, তা সংযুক্ত সাত কলেজভিত্তিক কাঠামোর সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অধ্যাদেশ মেনে করা হয়েছে বলেই মনে হয়।
নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত ধাপে ধাপে একাডেমিক কার্যক্রম চালু করে। অধ্যাদেশের ভাষা অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিকে অধ্যাদেশবিরোধী বলা যায় না।
১. সংযুক্ত কলেজের সংজ্ঞা কী?
অধ্যাদেশের ২(২৪) ধারায় বলা হয়েছে, সংযুক্ত কলেজ বলতে ঢাকা মহানগরের সাতটি কলেজকে বোঝাবে, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা ও সনদ প্রদানের বিধান অনুসরণ করবে।
অর্থাৎ আইন নিজেই সাত কলেজকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির একাডেমিক কাঠামোর অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
২. শিক্ষার্থী কারা?
অধ্যাদেশের ২(১৯) ধারায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী বলতে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংযুক্ত কলেজের কোনো একাডেমিক প্রোগ্রামে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীকে বোঝাবে।
এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সংযুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের একই আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে।
৩. ২০২৪-২৫ ব্যাচ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ৫৬(২) ধারা। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে—২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত শিক্ষা কাঠামো ও কারিকুলামে অধ্যয়ন করবে, তবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি থেকে সনদ পাবে, শর্ত পূরণ সাপেক্ষে।
এটি প্রমাণ করে যে আইন প্রণেতারা ২০২৪-২৫ ব্যাচকে একটি বিশেষ ট্রানজিশন ব্যাচ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী ঢাকায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হইবে। ঢাকা মহানগরের ৭ (সাত)টি কলেজ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত কলেজ হিসাবে থাকিবে এবং সংযুক্ত কলেজসমূহের পরিচয়, বৈশিষ্ট্য, অবকাঠামো, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও অন্যান্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা অক্ষুণ্ণ থাকিবে। এর বাহিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি সার্কুলার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি ও বাতিলের ষড়যন্ত্র করছে একটি পক্ষ
যদি পেছনে তাকাই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সরকারি সাত কলেজে ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল— “প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন) অধীনে সরকারি সাত কলেজে ভর্তি আবেদন”। একই সঙ্গে জানানো হয়েছিল যে শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি। এ বিষয়ে আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা সবকিছু জেনেশুনেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এবং ভর্তি হয়েছে। তাদের কার্যক্রম চলছে বিদ্যামান কাঠামো অনুযায়ী।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশেও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে পৃথক বিধান রাখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত শিক্ষা কাঠামো, কারিকুলাম ও একাডেমিক পদ্ধতি অনুযায়ী পড়াশোনা সম্পন্ন করবে। তবে ডিগ্রি বা সনদ প্রদান করবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এবং সনদ লাভের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করতে হবে। বর্তমানে তাদের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক পরিচালনা করছে। সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি পরীক্ষা নেয়ার সক্ষমতা অর্জন করলে পরীক্ষা নিবে। ততদিনে সেশনজট নিয়ে শংকায় রয়েছে তারা।
এখন প্রশ্ন হলো, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যে কাঠামোর ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একই ধারাবাহিকতার ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর হঠাৎ করে বিতর্কের সূত্রপাত কেন?
বর্তমান ভর্তি বিজ্ঞপ্তিও স্পষ্টভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত সরকারি সাত কলেজে ভর্তির বিষয়টি উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের সামনে কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি। যারা আবেদন করছে, তারা বিজ্ঞপ্তি পড়েই এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত হয়েই আবেদন করছে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ ২০২৬ অনুযায়ী সংযুক্ত সাত কলেজে ভর্তি সার্কুলার দেয়া হয়েছে।
এর মধ্যেই ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা শুরু করছে একটি পক্ষ। অনেকের মতে, এটি মূলত ভর্তি প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলার একটি প্রচেষ্টা। মিডিয়া ফোকাস পেতে, রাজনৈতিক উদ্যােশ্য হাসিলে এমন করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন শিক্ষাররা। আবেদন গ্রহণ শুরুর পর থেকেই শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জানা গেছে, ইতোমধ্যে আবেদন সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
যদি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়ে থাকে, তাহলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে আপত্তির কারণ কী— এই প্রশ্নের যৌক্তিক ও সুস্পষ্ট উত্তর সংশ্লিষ্ট মহলের কাছ থেকে প্রত্যাশা করাই স্বাভাবিক।
—অধ্যাদেশে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নিজস্ব একাডেমিক প্রোগ্রাম চালুর কথা থাকলেও বাস্তবে এখনো সেই অবকাঠামো ও বিভাগগুলো চালু হয়নি। তাই আপাতত ভর্তি নেওয়া হচ্ছে সাতটি সংযুক্ত কলেজের আসনে। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস অথবা সংযুক্ত কলেজে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে।বর্তমান ভর্তি আসলে "সাত কলেজে ভর্তি", তবে তা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কতৃক পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে অধ্যাদেশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্কুল/বিভাগ, শিক্ষক ও ক্যাম্পাস গড়ে তুলে সেখানে সরাসরি শিক্ষার্থী ভর্তি করা।ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (DCU) অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযুক্ত (attached) কলেজ হিসেবে পরিচালিত হবে। অধ্যাদেশ নিজেই সাত কলেজকে DCU-এর সংযুক্ত কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভর্তি সার্কুলারে সংযুক্ত শব্দ ব্যবহার তাহলে সাংঘর্ষিক হয় কিভাবে?
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (DCU) অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযুক্ত (attached) কলেজ হিসেবে পরিচালিত হবে। অধ্যাদেশ নিজেই সাত কলেজকে DCU-এর সংযুক্ত কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভর্তি সার্কুলারে সংযুক্ত শব্দ ব্যবহার তাহলে সাংঘর্ষিক হয় কিভাবে?
২০২৬-২৭ অর্থ বছরে শিক্ষাখাতে টোটাল বাজেট এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। যা জিডিপির ২ শতাংশ। বিদায়ী অর্থ বছরে যা ছিলো ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। শিক্ষায় মোট বাজেট ছিলো ৮৭ হাজার ২০৫ কোটি টাকা।
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরদিনই বাতিল দাবি শিক্ষার্থীদের
10/06/2026
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়েছিল ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন) অধীনে সরকারি সাত কলেজে। আর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত সরকারি সাত কলেজে। পার্থক্য কোথায়?
10/06/2026
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-ঢাকা কলেজ শাখার উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ নেয়া হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা।
বারবার বলেছিলাম—ঢাবি অধিভুক্ত থাকাই ভালো ছিল। আমাদের মূল সমস্যা ছিল যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়া, দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা এবং শিক্ষার্থীদের যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেটাই নিশ্চিত করা।
কিন্তু আজ বাস্তবতা হলো, আগের সমস্যাগুলোর সমাধান তো হয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সাত কলেজ তো সংযুক্তই থাকল। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—ঢাবির দোষটা আসলে কোথায় ছিল?
আমার মনে হয়, আন্দোলনের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিবর্তে ঢাবি অধিভুক্ত রেখেই যদি বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো বা ভবন গড়ে তোলা হতো, তাহলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমত এবং সমস্যারও কার্যকর সমাধান সম্ভব হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এত আন্দোলন-সংগ্রামের পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি না।
শিক্ষার্থী :মাহমুদুল হাসান
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Contact the school
Telephone
Website
Address
Dhaka University
Dhaka
1000