12/06/2026
আজকের বারের কয়েকটা কনফিউশান প্রশ্নের সমাধান ,রেফারেন্সের আলোকে দিচ্ছি -- যদিও আমাদের সব প্রশ্নের সমাধান সবার আগে নির্ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করা আছে , যা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন । প্রশ্ন ব্যাংকের অপশান থেকে । কমেন্টের দেওয়া লিংকে প্রশ্নের সমাধানের পিডিএফ পাবেন৷
১। নিচের কোন উক্তিটি সঠিক নয়?
ক) অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড রয়েছে এরূপ সব অপরাধ অআমলযোগ্য
খ) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৪৯৭ ধারায় আসামীকে জামিন দিতে পারেন
গ) আমলযোগ্য অপরাধের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট complaint করা যায়
ঘ) একাধিক জেলা নিয়ে একটি সেশন ডিভিশন গঠন করা যায়
উত্তর: ক) অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড রয়েছে এরূপ সব অপরাধ অআমলযোগ্য
ব্যাখ্যা: অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড রয়েছে এরূপ সব অপরাধ অআমলযোগ্য (ভুল উক্তি) CrPC, 1898 এর First Schedule (দ্বিতীয় অংশ) অনুযায়ী অপরাধের শ্রেণিবিভাগ নির্ধারিত হয়। এই Schedule-এ স্পষ্টভাবে প্রতিটি অপরাধের পাশে উল্লেখ থাকে সেটি Cognizable নাকি Non-cognizable। সাজার মেয়াদ ২ বছর বা তার কম হলেই সেটি অআমলযোগ্য — এই ধারণাটি ভুল। উদাহরণস্বরূপ: Penal Code এর কিছু অপরাধ যেখানে সাজা ২ বছরের কম, সেগুলোও Cognizable (আমলযোগ্য) হিসেবে তালিকাভুক্ত অপরাধের প্রকৃতি, গুরুত্ব ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করে শ্রেণি নির্ধারিত হয়, শুধু সাজার পরিমাণ দিয়ে নয়। ধারা ৪(১)(চ) — Cognizable offence মানে যেখানে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে, এটি First Schedule নির্ভর, সাজার মেয়াদ নির্ভর নয় । সুতরাং "সব অপরাধ" বলে সাধারণীকরণ করাটি সম্পূর্ণ ভুল।
খ) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ধারা ৪৯৭ তে আসামীকে জামিন দিতে পারেন (সঠিক উক্তি) - CrPC, 1898 এর ধারা ৪৯৭(১) অনুযায়ী:
যখন কোনো ব্যক্তিকে warrant ছাড়া গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা সম্ভব না হয়, তখন Officer in Charge of a Police Station (OC) তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারেন, তবে শর্ত হলো অপরাধটি non-bailable হলে OC জামিন দিতে পারবেন না । অপরাধটি bailable হলে OC জামিন দিতে পারবেন । Bailable offence-এ জামিন পাওয়া আসামীর অধিকার, OC-এর বিবেচনামূলক ক্ষমতা নয়, অতএব এই উক্তিটি সঠিক।
গ) আমলযোগ্য অপরাধের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট complaint করা যায় - (সঠিক উক্তি) CrPC, 1898 এর ধারা ২০০ অনুযায়ী:
যেকোনো ব্যক্তি Magistrate-এর কাছে সরাসরি complaint দায়ের করতে পারেন। এটি cognizable বা non-cognizable উভয় অপরাধের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ধারা ১৯০ অনুযায়ী Magistrate তিনটি উপায়ে আমল গ্রহণ করতে পারেন:
(ক) Complaint-এর ভিত্তিতে (খ) পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে (গ) নিজে সংঘটিত অপরাধের জ্ঞান লাভের ভিত্তিতে । Cognizable offence-এ পুলিশে না গিয়ে সরাসরি Magistrate-এর কাছে যাওয়ার অধিকার complainant-এর রয়েছে। অতএব এই উক্তিটি সঠিক।
ঘ) একাধিক জেলা নিয়ে একটি সেশন ডিভিশন গঠন করা যায় (সঠিক উক্তি) - CrPC, 1898 এর ধারা ৯ অনুযায়ী: সরকার প্রতিটি Sessions Division-এর জন্য একজন Sessions Judge নিয়োগ করবেন । ধারা ৬ অনুযায়ী, সরকার বাংলাদেশকে বিভিন্ন Sessions Division-এ ভাগ করতে পারে। একটি Sessions Division-এ একটি বা একাধিক জেলা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে — এটি সরকারের বিবেচনামূলক ক্ষমতা। Sessions Court হলো দেশের সর্বোচ্চ দায়রা আদালত যা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দিতে পারে (তবে High Court Division-এর অনুমোদন সাপেক্ষে)। বাস্তবে বাংলাদেশে প্রতিটি জেলায় একটি Sessions Court থাকলেও আইনগতভাবে একাধিক জেলা নিয়ে একটি Division গঠন করা সম্ভব । অতএব এই উক্তিটি সঠিক ।
২। কোন ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ সর্বনিম্ন?
ক) চুক্তি সম্পাদনের মোকদ্দমা
খ) জারি মোকদ্দমা
গ) স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা
ঘ) যেসব মোকদ্দমার ক্ষেত্রে The Limitation Act, 1908 এর প্রথম তফসিলে কোন মেয়াদ বর্ণিত নেই
উত্তর: ক) চুক্তি সম্পাদনের মোকদ্দমা
ব্যাখ্যা: The Limitation Act, 1908 এর প্রথম তফসিলের ১১৩ অনুচ্ছেদ (২০০৪ সালের সংশোধনী অনুযায়ী) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের মোকদ্দমার তামাদি ১ বছর; পক্ষান্তরে জারি মোকদ্দমা ৩ বছর (১৮২ অনুচ্ছেদ), অনুল্লিখিত মোকদ্দমা ৬ বছর (১২০ অনুচ্ছেদ) এবং স্বত্বভিত্তিক দখল পুনরুদ্ধার ১২ বছর (১৪২ ও ১৪৪ অনুচ্ছেদ)। সুতরাং সর্বনিম্ন মেয়াদ চুক্তি সম্পাদনের মোকদ্দমায়।
একটি মামলা অনুচ্ছেদ ৩ এর অধীনে পড়বে, নাকি অনুচ্ছেদ ১৪২/১৪৪ এর অধীনে পড়বে, তা বুঝতে হলে প্রশ্নের ভাষা এবং আইনের বিধান সাধারণ নিয়মের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে:
খাস দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা ও ৬ মাসের তামাদি: আইনি অবস্থান
কেন গ) উত্তর হলো না ?
- তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ৩ নং অনুচ্ছেদে দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত একটি ৬ মাসের তামাদি মেয়াদ নির্ধারিত থাকলেও, তা সাধারণভাবে সকল দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই বিধান কেবলমাত্র The Specific Relief Act, 1877-এর ৯ ধারার অধীন দায়েরকৃত বিশেষ প্রকৃতির মোকদ্দমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
১. ৩ নং অনুচ্ছেদের প্রকৃত পরিধি
প্রথম তফসিলের ৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, Specific Relief Act-এর ৯ ধারার অধীনে দায়েরকৃত দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা বেদখলের তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দায়ের করতে হয়। অতএব, এই ৬ মাসের তামাদি একটি বিশেষ বিধিবদ্ধ প্রতিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত; এটি সকল ধরনের দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমার জন্য প্রযোজ্য নয়।
২. Specific Relief Act-এর ৯ ধারার মোকদ্দমার বৈশিষ্ট্য
৯ ধারার মোকদ্দমা মূলত একটি possessory suit। এ ধরনের মোকদ্দমায় বাদীকে সম্পত্তির স্বত্ব প্রমাণ করতে হয় না; কেবল এটুকু প্রমাণ করতে হয় যে—
• তিনি সম্পত্তির দখলে ছিলেন;
• তাকে তার সম্মতি ব্যতীত এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বেদখল করা হয়েছে।
এই মোকদ্দমায় স্বত্বের প্রশ্ন বিচার্য নয়। তদুপরি—
• ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিউ করা যায় না;
• সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের মোকদ্দমা দায়ের করা যায় না।
ফলে এটি দ্রুত ও সীমিত পরিসরের একটি বিশেষ প্রতিকার, যার জন্য আইন ৬ মাসের সংক্ষিপ্ত তামাদি নির্ধারণ করেছে।
৩. খাস দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমার প্রকৃতি
প্রশ্নে ব্যবহৃত “Suit for Recovery of Khas Possession” ( এইটা ইংরেজিতে লিখেছেন প্রশ্নকর্তা ) বলতে সাধারণত স্বত্বভিত্তিক দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমাকে বোঝায়। The State Acquisition and Tenancy Act, 1950-এর ২(১৫) ধারায় এর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে, যার সারমর্ম হলো মালিক কর্তৃক নিজে অথবা নিজের লোকের মাধ্যমে সরাসরি ভোগদখল। বাস্তবে এ ধরনের মোকদ্দমায় সাধারণত “স্বত্ব ঘোষণা ও খাস দখল পুনরুদ্ধার” প্রার্থনা করা হয়। অর্থাৎ, দখল পুনরুদ্ধার এখানে স্বত্বের আনুষঙ্গিক প্রতিকার হিসেবে দাবি করা হয়।
এ ধরনের মোকদ্দমা সাধারণত তামাদি আইনের—
• ১৪২ নং অনুচ্ছেদ (দখলে থাকাবস্থায় বেদখল হলে), অথবা
• ১৪৪ নং অনুচ্ছেদ (স্বত্বের ভিত্তিতে দখল দাবি করা হলে) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। উভয় ক্ষেত্রেই তামাদি মেয়াদ ১২ বছর।
৪. দুটি প্রতিকার ভিন্ন প্রকৃতির
একই বেদখলের ঘটনায় আইন দুটি পৃথক প্রতিকার প্রদান করে—
ক. Specific Relief Act-এর ৯ ধারার মোকদ্দমা
• স্বত্ব প্রমাণের প্রয়োজন নেই;
• বেদখলের তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দায়ের করতে হয়।
খ. স্বত্বভিত্তিক নিয়মিত Title Suit
• স্বত্ব প্রমাণ করতে হয়;
• ১২ বছরের মধ্যে দায়ের করা যায়।
অতএব, ৬ মাস অতিক্রান্ত হলে ৯ ধারার বিশেষ প্রতিকার আর পাওয়া যাবে না; তবে স্বত্বের ভিত্তিতে খাস দখল পুনরুদ্ধারের নিয়মিত মোকদ্দমা ১২ বছরের মধ্যে দায়ের করা সম্ভব থাকবে। এ থেকেই স্পষ্ট হয় যে, উভয় মোকদ্দমা পৃথক এবং তাদের তামাদি মেয়াদও ভিন্ন।
উপসংহার
সুতরাং, “Suit for Recovery of Khas Possession” কথাটি দ্বারা Specific Relief Act-এর ৯ ধারার বিশেষ মোকদ্দমাকে বোঝানো হয় না। যদি প্রশ্নকর্তার উদ্দেশ্য ৯ ধারার মোকদ্দমা বোঝানো হতো, তবে সাধারণত অপশানে স্পষ্টভাবে “Suit under Section 9 of the Specific Relief Act” উল্লেখ করা হতো। অতএব, সাধারণ খাস দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে ৬ মাসের তামাদি প্রযোজ্য নয়; বরং তামাদি আইনের ১৪২ বা ১৪৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১২ বছর তামাদি প্রযোজ্য হবে। ফলে প্রদত্ত বিকল্পসমূহের মধ্যে এটি দীর্ঘতম তামাদি মেয়াদ। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদ হলো ১১৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী (২০০৪ সালের সংশোধনীর পর) ১ বছর।
৩। একটি ফৌজদারি মামলার proceedings কখন শুরু হয়?
ক) প্রাথমিক তথ্য বিবরণী নথিভুক্ত হলে
খ) আসামীর বিরুদ্ধে process ইস্যু হলে
গ) আসামীর বিরুদ্ধে charge গঠন হলে
ঘ) আসামী গ্রেফতার হলে
উত্তর: ক) প্রাথমিক তথ্য বিবরণী নথিভুক্ত হলে
ব্যাখ্যা: ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুসারে আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট লিপিবদ্ধ হওয়ামাত্র সেটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত হয় এবং সেই মুহূর্তেই থানায় মামলার নম্বর পড়ে — অর্থাৎ "মামলা"-র আইনগত অস্তিত্বের জন্ম হয় এজাহারে। এজাহার রেকর্ডের আইনগত পরিণতি স্বয়ংক্রিয়: ১৫৬(১) ধারায় পুলিশের তদন্তের বিধিবদ্ধ ক্ষমতা সক্রিয় হয়, কোন আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয় না। এই নীতিরই ভিত্তি Emperor v. Khwaja Nazir Ahmad, AIR 1945 PC 18, যেখানে প্রিভি কাউন্সিল বলেছেন আমলযোগ্য অপরাধে তদন্ত পুলিশের বিধিবদ্ধ অধিকার এবং বিচার বিভাগ এই পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এই মামলা থেকেই উপমহাদেশের ফৌজদারি আইনশাস্ত্রে প্রতিষ্ঠিত সূত্র: এজাহারই ফৌজদারি আইনকে গতিশীল করে (the FIR sets the criminal law in motion)। প্রশ্নের ভাষা লক্ষ্য করুন — "ফৌজদারি মামলার proceedings", আদালতের judicial proceedings নয়। জিআর মামলার কার্যধারা (তদন্ত → পুলিশ রিপোর্ট → আমল → বিচার) যে শৃঙ্খলে চলে, তার প্রথম আইনগত পদক্ষেপ এজাহার নথিভুক্তি। বার কাউন্সিল ও বিজেএস পরীক্ষার পূর্ববর্তী উত্তরধারাও ধারাবাহিকভাবে এই অবস্থান নিয়েছে।
অন্যান্য অপশান গুলো কেন ভুল?
খ) process ইস্যু হলে
এখানে দুটি কিন্তু আছে। প্রথমত, যদি "আদালতের আনুষ্ঠানিক কার্যধারা"-ও ধরা হয়, তবু তার সূচনাবিন্দু process ইস্যু নয়, বরং ১৯০ ধারায় অপরাধ আমলে গ্রহণ (cognizance)। আমল গ্রহণই বিচারিক কার্যধারার প্রবেশদ্বার; ২০৪ ধারার process ইস্যু তার পরবর্তী, ফলশ্রুতিমূলক ধাপ। অর্থাৎ খ নিজের যুক্তিতেও ভুল মাইলফলক চিহ্নিত করে। দ্বিতীয়ত, নালিশি মামলা এই অপশানটিকে সরাসরি খণ্ডন করে: ২০০ ধারায় নালিশকারীর শপথপূর্বক জবানবন্দি, ২০২ ধারায় অধিকতর অনুসন্ধান এবং ২০৩ ধারায় নালিশ খারিজ — এই সবকিছুই process ইস্যুর পূর্বে সংঘটিত মামলার কার্যধারা। Process ইস্যুতে proceedings শুরু হলে ২০৩ ধারায় আদালত এমন মামলা খারিজ করতেন যার কার্যধারা শুরুই হয়নি — যা যুক্তিবিরুদ্ধ। তাছাড়া ৫৬১ক ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ process ইস্যুর আগের পর্যায়ের কার্যক্রমও quash করতে পারেন, যা প্রমাণ করে আইন নিজেই এই পর্যায়কে "proceeding" গণ্য করে।
গ) charge গঠন হলে
অভিযোগ গঠন (২৪২, ২৬৫ঘ ধারা) হলো বিচার (trial) পর্যায়ের সূচনা, proceedings-এর নয়। Charge গঠনের বহু পূর্বেই এজাহার, তদন্ত, রিমান্ড (১৬৭ ধারা), জামিন শুনানি (৪৯৬-৪৯৭ ধারা), পুলিশ রিপোর্ট (১৭৩ ধারা), আমল গ্রহণ, এমনকি ২৪১ক/২৬৫গ ধারায় অব্যাহতির শুনানি পর্যন্ত সম্পন্ন হয়ে যায়। এতগুলো আইনগত ধাপ যে মামলায় ইতোমধ্যে ঘটে গেছে, তার proceedings charge গঠনে "শুরু" হয়েছে বলা সংজ্ঞাগতভাবেই অসম্ভব। Trial-এর সূচনাবিন্দু আর proceedings-এর সূচনাবিন্দু এক নয় ।
ঘ) আসামী গ্রেফতার হলে
গ্রেফতার proceedings-এর সূচনা নয়, তদন্তের একটি ঐচ্ছিক ও আনুষঙ্গিক পদক্ষেপ মাত্র। ৫৪ ধারায় পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে বটে, কিন্তু বহু মামলায় আসামী কখনোই গ্রেফতার হয় না — পলাতক অবস্থায়ই তদন্ত, অভিযোগপত্র, এমনকি ৩৩৯খ ধারায় পলাতক আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার পর্যন্ত সম্পন্ন হয়। গ্রেফতার ছাড়াই যদি মামলা এজাহার থেকে রায় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তবে গ্রেফতার কোনভাবেই proceedings শুরুর শর্ত বা মাপকাঠি হতে পারে না। তাছাড়া গ্রেফতার এজাহারের আগেও হতে পারে (যেমন হাতেনাতে ধৃত আসামী), পরেও হতে পারে — সময়ের দিক থেকেই এটি কোন নির্দিষ্ট সূচনাবিন্দু নির্দেশ করে না।
প্রশ্নটি investigation, inquiry ও trial-এর সীমারেখা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির জন্যই ফরমেশন করা। খ-এর আবেদন আছে, কিন্তু সঠিক বিচারিক মাইলফলক হতো cognizance — যা অপশানে নেই; আর গ ও ঘ যথাক্রমে trial-এর ধাপ ও তদন্তের আনুষঙ্গিক ঘটনা। ফলে "মামলার proceedings"-এর সূচনা হিসেবে আইনগতভাবে টেকসই একমাত্র উত্তর ক। (রেফাঃ রতনলাল ও ধিরাজলাল + বিচার প্রক্রিয়া + রাশেদুজ্জামান রাজা এর বই অনুসারে )
৪। নিচের কোন উক্তিটি সঠিক?
ক) Complaint অবশ্যই লিখিত হতে হবে
খ) The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ২০০ ধারা অনুসারে অবশ্যই উপস্থিত সাক্ষীদের শপথপূর্বক পরীক্ষা করতে হবে
গ) Memorandum of arrest তৈরির সময় অন্তত দুইজন সাক্ষী থাকতে হবে
ঘ) একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট The Penal Code, 1860 এর ৩০২ ধারায় দণ্ডনীয় খুনের মামলা আমলে নিতে পারেন
উত্তর: ঘ) একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট The Penal Code, 1860 এর ৩০২ ধারায় দণ্ডনীয় খুনের মামলা আমলে নিতে পারেন
ব্যাখ্যা: আমলে নেওয়া বনাম বিচার করা: ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), ১৮৯৮ এর ১৯০(১) ধারা অনুযায়ী, একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট যেকোনো অপরাধ (Any offence) আমলে নিতে পারেন। পেনাল কোডের ৩০২ ধারার খুনের মামলা দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য (Sessions Triable) হলেও, ম্যাজিস্ট্রেট প্রথমেই ১৯০ ধারায় অপরাধটি আমলে নেন (Take Cognizance) এবং পরবর্তীতে ২০৫গ (205C) ধারা অনুযায়ী বিচারের জন্য মামলাটি দায়রা আদালতে বদলি করে দেন। তাই ম্যাজিস্ট্রেট খুনের মামলা আমলে নিতে পারেন— উক্তিটি সম্পূর্ণ সঠিক।
অন্যান্য অপশান কেন ভুল?
ক) Complaint অবশ্যই লিখিত হতে হবে: এটি ভুল। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪(১)(জ) ধারায় নালিশ বা Complaint-এর সংজ্ঞায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নালিশ মৌখিক বা লিখিত (oral or in writing) উভয়ভাবেই করা যেতে পারে।
খ) ২০০ ধারা অনুসারে অবশ্যই উপস্থিত সাক্ষীদের শপথপূর্বক পরীক্ষা করতে হবে: এটি আংশিক সত্য, কিন্তু "অবশ্যই" শব্দটি একে ভুল প্রমাণ করে। সাধারণ নিয়মে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারী এবং উপস্থিত সাক্ষীদের শপথপূর্বক পরীক্ষা করবেন। কিন্তু ২০০ ধারার শর্তাংশে (Proviso) বলা আছে, যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা (Public Servant) তাঁর সরকারি দায়িত্ব পালনকালে লিখিতভাবে কোনো নালিশ করেন, তবে ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে বা সাক্ষীদের শপথপূর্বক পরীক্ষা করতে বাধ্য নন। তাই সব ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
গ) Memorandum of arrest তৈরির সময় অন্তত দুইজন সাক্ষী থাকতে হবে: এটি ভুল। ফৌজদারি কার্যবিধিতে অ্যারেস্ট মেমোর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে দুইজন সাক্ষীর কথা বলা নেই (তবে ১০৩ ধারা অনুযায়ী তল্লাশি বা Search-এর সময় দুইজন সম্মানীয় স্থানীয় ব্যক্তির উপস্থিতি প্রয়োজন)। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিখ্যাত BLAST vs. Bangladesh (55 DLR 363) মামলার রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করলে একটি Memorandum of Arrest তৈরি করবে, যাতে অন্তত একজন সাক্ষীর (যিনি পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি হতে পারেন) স্বাক্ষর থাকতে হবে।
৫। বিচারাধীন মামলার নালিশি ভূমি বিবাদী তৃতীয় ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করার পর বাদী ডিক্রি লাভ করলে উক্ত তৃতীয় ব্যক্তির অবস্থান কী হবে?
ক) তিনি সম্পূর্ণভাবে ডিক্রির বাইরে থাকবেন
খ) তিনি ডিক্রির অধীনে থাকবেন
গ) তিনি ডিক্রি চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন না
ঘ) ডিক্রি তার বিরুদ্ধে কার্যকর হবে না
উত্তর: খ) তিনি ডিক্রির অধীনে থাকবেন
ব্যাখ্যা: ডিক্রি জারির সময় কেউ বাধা (resistance or obstruction) দিলে তার প্রতিকার আদেশ ২১ এর বিধি ৯৭ থেকে ১০১-এ বলা আছে। কিন্তু বিধি ১০২ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে যে, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় দায়িক (judgment-debtor) যদি কারও কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করে, তবে সেই তৃতীয় ব্যক্তি (transferee pendente lite) ডিক্রি জারিতে কোনো আইনি বাধা সৃষ্টি করতে বা সম্পত্তির দখল দাবি করতে পারবে না। রুল ১০২- Nothing in rules 99 and 101 shall apply to resistance or obstruction in ex*****on of a decree for the possession of immoveable property by a person to whom the judgment-debtor has transferred the property after the institution of the suit in which the decree was passed or to the dispossession of any such person.
এছাড়াও The Transfer of Property Act, 1882 এর ৫২ ধারার মোকদ্দমা চলাকালীন হস্তান্তরের নীতি (doctrine of lis pendens) অনুসারে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নালিশি সম্পত্তির হস্তান্তর মামলার ফলাফল দ্বারা বাধ্য থাকে। ফলে হস্তান্তরগ্রহীতা তৃতীয় ব্যক্তি ডিক্রির অধীনে থাকবেন এবং ডিক্রি তার বিরুদ্ধেও কার্যকর হবে।
৬। The Penal Code, 1860 অনুসারে সাধারণভাবে age of consent কত?
ক) ৯ বছর
খ) ১২ বছর
গ) ১৬ বছর
ঘ) ১৮ বছর
উত্তর: খ) ১২ বছর
ব্যাখ্যা: The Penal Code, 1860-এর Section 90 অনুযায়ী, সাধারণভাবে "Age of Consent" বা আইনি সম্মতির বয়স হলো ১২ বছর। আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, "Consent of child.—Unless the contrary appears from the context, if the consent is given by a person who is under twelve years of age." অর্থাৎ, অন্য কোনো বিশেষ আইন বা প্রেক্ষাপট না থাকলে, ১২ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তির দেওয়া সম্মতি আইনগতভাবে বৈধ সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে না। বিশেষত Chapter IV (General Exceptions)-এর অধীনে কোনো কাজের ক্ষেত্রে অপরাধের দায়মুক্তি পেতে হলে সম্মতি প্রদানকারীর বয়স অন্তত ১২ বছর হতে হবে।
৭। The Specific Relief Act, 1877 এর ৯ ধারার প্রধান উদ্দেশ্য কী?
ক) জমির সীমানা নির্ধারণ
খ) আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াকে নিরুৎসাহিত করা
গ) বাদীকে তার জমির দখল ফিরিয়ে দেওয়া
ঘ) জমির মালিকানা নিশ্চিত হওয়া
উত্তর: খ) আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াকে নিরুৎসাহিত করা
ব্যাখ্যা: ৯ ধারার মূল নীতি হলো স্বত্ব যারই থাকুক না কেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ব্যতীত কাউকে বলপূর্বক বেদখল করা যাবে না। এ মোকদ্দমায় কেবল পূর্ববর্তী দখল ও সম্মতি ব্যতীত বেদখল প্রমাণ করলেই চলে, স্বত্বের প্রশ্ন বিচার্য নয়। তাই এর প্রধান উদ্দেশ্য আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নিরুৎসাহিত করা। ( The specific Relief act, 1877, probir Neogi – 91 Page)
৭। সাক্ষীকে কি অশালীন প্রশ্ন করা যাবে?
ক) কখনোই করা যাবে না
খ) কোনো কোনো ক্ষেত্রে করা যাবে
গ) সবসময়ই করা যাবে
ঘ) আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে করা যাবে
উত্তর: খ) কোনো কোনো ক্ষেত্রে করা যাবে
ব্যাখ্যা: The Evidence Act, 1872 এর ১৫১ ধারা অনুসারে আদালত অশালীন বা কুৎসাজনক (indecent or scandalous) প্রশ্ন নিষিদ্ধ করতে পারেন; তবে প্রশ্নটি বিচার্য বিষয়ের (facts in issue) সাথে সম্পর্কিত হলে অথবা বিচার্য বিষয়ের অস্তিত্ব নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় হলে তা করা যাবে। সুতরাং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অশালীন প্রশ্ন করার সুযোগ আইনে স্বীকৃত। ১৫১ - The Court may forbid any questions or inquiries which it regards as indecent or scandalous, although such questions or inquiries may have some bearing on the questions before the Court, unless they relate to facts in issue, or to matters necessary to be known in order to determine whether or not the facts in issue existed. আদালত এখানে নিষেধ করতে পারে, কিন্তু নিষেধ করবেই এমন ভাবে বলা যায় না । এর অর্থ হলো, যতক্ষণ না আদালত নিষেধ করছে ততক্ষন সাক্ষীকে অশালীন প্রশ্ন করা যাবে ,এখানে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন নেই । বাস্তব উদাহরণ ভাবুন — ধর্ষণের বিচারে ঘটনার বিবরণ সংক্রান্ত প্রশ্ন স্বভাবতই অশালীন প্রকৃতির, কিন্তু তা বিচার্য বিষয়ের একেবারে কেন্দ্রে; এ প্রশ্ন না করে মামলার বিচারই সম্ভব নয়। আবার একই সাক্ষীকে তার ব্যক্তিজীবন নিয়ে কুৎসাজনক প্রশ্ন, যা বিচার্য বিষয়ের সাথে সম্পর্কহীন, আদালত থামিয়ে দেবেন। শর্তসাপেক্ষ এই অনুমোদনই "কোনো কোনো ক্ষেত্রে করা যাবে"-র যথার্থ প্রতিফলন।
কেন গ) সবসময়ই করা যাবে — ভুল।
১৫১ ধারা আদালতকে স্পষ্টতই এ ধরনের প্রশ্ন নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দিয়েছে। যে প্রশ্ন বিচার্য বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত নয়, তা মামলার সাথে দূরবর্তী সম্পর্ক রাখলেও আদালত থামিয়ে দিতে পারেন। তদুপরি ১৫২ ধারা আরও এক ধাপ এগিয়ে বাধ্যতামূলক ভাষায় (shall forbid) বলেছে — অপমান বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে করা প্রশ্ন, কিংবা অনাবশ্যকভাবে আক্রমণাত্মক ভঙ্গির প্রশ্ন আদালত নিষিদ্ধ করবেন। অর্থাৎ আইন নিজেই দুই স্তরের শর্ত বসিয়ে রেখেছে; "সবসময়ই করা যাবে" বলার কোন অবকাশ নেই।
কেন ঘ) আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে করা যাবে — ভুল। এটিই এ প্রশ্নের সবচেয়ে ক্রিটিক্যাল অপশান , কারণ শুনতে নিরাপদ লাগে। কিন্তু ১৫১ ধারার ব্যবস্থাটি অনুমতিভিত্তিক (permissive) নয়, নিষেধভিত্তিক (prohibitory)। আইনে এমন কোন বিধান নেই যে অশালীন প্রশ্ন করার আগে আদালতের পূর্বানুমতি বা leave নিতে হবে। বরং কাঠামোটা উল্টো: প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন, আর আদালতের ভূমিকা হলো প্রয়োজনে তা নিষিদ্ধ করা। আর কোন প্রশ্ন টিকবে কি টিকবে না, তার মানদণ্ড আদালতের অনুমতি নয় — মানদণ্ড হলো প্রশ্নটি বিচার্য বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত কি না। প্রশ্নটি বিচার্য বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত হলে তা আইনের নিজস্ব বলেই বৈধ, কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই; আদালত চাইলেও তা নিষিদ্ধ করতে পারেন না। আর সম্পর্কিত না হলে আদালতের "অনুমতি" দিয়েও তা বৈধ করা যায় না, কারণ ১৫২ ধারার বাধ্যবাধকতা আদালতের নিজের উপরই প্রযোজ্য। অর্থাৎ অনুমতি জিনিসটি এ ব্যবস্থায় কোন আইনগত ভূমিকাই রাখে না — এই অপশনটি আইনের প্রক্রিয়াকেই ভুলভাবে চিত্রিত করে।
লেক্স একাডেমি'র সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।
Md. Motain Billah Vai