আল্লাহকে প্রশ্ন করা হলো, “উম্মতের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য কী?” উত্তর এলো, “তারা এমন এক নবীর উম্মত, যিনি তাদের জন্য শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত চিন্তিত ছিলেন।” ﷺ
আলোর পথ
Welcome to My page:
https://www.facebook.com/profile.php?id=100070539683274&mibextid=ZbWKwL
কুকুর কুকুর হয়ে জন্মায়, সাপ সাপ হয়ে জন্মায়। ওকে আর পরে কুকুর,সাপ হতে হয় না। কিন্তু মানুষকে মানুষ হতে হয়। মানুষ হয়ে জন্ম নিলেই মানুষ হয় না।
ইসলামি শিক্ষার মূল হলো - আগে মানুষকে মানুষ করা। এরপর যার যার দক্ষতা অনুযায়ী সেই পথে যোগ্য করা। এতে করে যে যে পর্যায়েই যাক তার থেকে ভুল আশা করা যায় না।
কেউ রাজনীতিবিদ,কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চাকুরীজীবি, কেউ আলেম যে যে জায়গায়ই থাকুক না কেন, তার দ্বারা অন্যকেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারন সে তো মানুষ হয়েইই তারপর তার চেয়ারে,তার ফিল্ডে, তার কর্মক্ষেত্রে এসেছে।
এটাই কুরানের মূল উদ্দেশ্য, মূল লক্ষ্য। কিন্তু সেকুলার শিক্ষার মুল লক্ষ্য সবার আগে তোমাকে তোমার জায়গায় যোগ্য করে সবাইকে দেখাতে হবে। এতে তুমি মানুষ থাকো বা না থাকো। এতে তোমার মনুষ্যত্ব থাকুক বা না থাকুক।
যেভাবেই হোক তোমাকে ধনীর তকমা থাকতে হবে, যেভাবেই হোক তোমার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হবে,যেভাবেই হোক তোমার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হবে। এতে কেউ মারা যাক, সমাজে অশ্লীলতা ছাড়াক, পরিবার শেষ হয়ে যাক। যাক না!! তাতে কি?? আমার স্টাটাস তো ঠিক আছে।
আল্লাহ বলেন :-
(তোমাদের উপর যত বিপদাপদ,দুর্যোগ আসে সবই তোমাদের দুই হাতের কামাই)
সমাজের দুই শ্রেনীর মানুষ - নষ্ট হয়ে গেলে পুরো জাতিই নষ্ট হয়ে যায়।
১) শাসক গোষ্ঠী
২) আলেম সমাজ
ইমাম গাজালী (রঃ)
(ইসলামের শিক্ষা ও ইসলামের সৌন্দর্য)
আমরা ইসলামি জলসা, আলোচনা, ওয়াজ-মাহফিল কিংবা সেমিনারে যাই বা শুনি একটি উদ্দেশ্যে—ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে জানার জন্য। কিন্তু কখনো কি আমরা ভেবে দেখি, পূর্বের সময় আর বর্তমান সময়ের ইসলামি আলোচনার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য কোথায়?
আজ ইসলামি শিক্ষা শুধু “শিক্ষা” হয়ে থাকছে না; অনেক ক্ষেত্রে তা বিনোদনের মঞ্চে পরিণত হচ্ছে। অথচ ইসলামের শিক্ষা এমন হওয়া উচিত, যেখানে জ্ঞানের পাশাপাশি সৌন্দর্য, গভীরতা, আদব ও আধ্যাত্মিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।
প্রায়ই শোনা যায়, মানুষের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য বক্তাদের গান, কৌতুক, নাটকীয়তা কিংবা অতিরঞ্জিত গল্পের আশ্রয় নিতে হয়। কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—
কুরআন ও হাদিসের জ্ঞান কি এতটাই দুর্বল যে মানুষকে ধরে রাখতে এর সঙ্গে মিথ্যা রসাত্মক গল্প বা অতিরিক্ত বিনোদন যোগ করতে হবে?
হ্যাঁ, এমন আলোচনা শুনতে অনেকের ভালো লাগে। ইসলাম সম্পর্কে কিছু তথ্যও জানা যায়। কিন্তু সবসময় কি সেখানে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে? কারণ ইসলাম শুধু আবেগের বিষয় নয়; এটি চিন্তা, প্রজ্ঞা, আত্মশুদ্ধি ও সত্যের সৌন্দর্যের নাম।
আজ অনেক শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ ওয়াজ-মাহফিল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। প্রশ্ন হলো—এটা কি শুধু তাদের সমস্যা? যদি তাই হতো, তাহলে তারা বিশ্বের অন্যান্য চিন্তাবিদ বা গভীর আলোচকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনত না। বাস্তবতা হলো, অনেক সময় আমাদের ইসলামি আলোচনায় সেই ভারসাম্য, গভীরতা ও সৌন্দর্যের অভাব দেখা যায়, যা চিন্তাশীল মানুষকে আকর্ষণ করতে পারে না।
আবার অন্যদিকে, কেউ কেউ অতিরিক্ত কঠোর ও সমালোচনামূলক ভঙ্গিতে কথা বলেন, যেখানে হৃদয়ের কোমলতা, প্রজ্ঞা ও উপস্থাপনার সৌন্দর্য অনুপস্থিত থাকে। ফলে সাধারণ মানুষও সেখানে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না।
ইসলামি আলোচনা কখনো কৌতুকের মঞ্চ হওয়া উচিত নয়, আবার এমন কঠোরতার জায়গাও হওয়া উচিত নয় যেখানে হৃদয় শুকিয়ে যায়। ইসলামের দাওয়াহ এমন হওয়া উচিত, যেখানে জ্ঞান আছে, সৌন্দর্য আছে, হিকমাহ আছে এবং মানুষের অন্তরকে জাগিয়ে তোলার শক্তি আছে।
অনেকে বলেন, সাধারণ মানুষ কুরআনের গভীর তাফসির বুঝবে না, তাই তাদের “এন্টারটেইন” করতে হয়। অথচ আল্লাহ নিজেই কুরআনে বারবার বলেছেন—এটি চিন্তাশীল ও জ্ঞানীদের জন্য উপদেশ। কুরআন এমন কোনো বিষয় নয়, যা মানুষকে চিন্তা থেকে দূরে সরিয়ে শুধু আবেগে ভাসিয়ে রাখবে।
তাই ইসলামি আলোচনা শুনতে বা বলতে গেলে শুধু “কি বলা হচ্ছে” তা নয়, বরং “কিভাবে বলা হচ্ছে” এবং “তার মধ্যে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে উঠছে কিনা”—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলাম শুধু তথ্যের নাম নয়; ইসলাম সৌন্দর্যের নাম, সত্যের নাম, হৃদয় জাগ্রত করার নাম। তাই ইসলামের সৌন্দর্যকে বিনষ্ট না করি, এবং এমন কোনো সংস্কৃতিকে উৎসাহিত না করি, যা মানুষকে কুরআনের গভীরতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Dhaka
7431