26/06/2026
লোকমান হাকিম একদিন পুত্রকে নিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করলেন। সাথে ছিল একটি গাধা।
প্রথমে তিনি নিজে গাধার পিঠে চড়লেন, পুত্র হেঁটে চললেন পেছনে। পথে কিছু লোক বলল, "দেখো, কেমন নিষ্ঠুর পিতা। নিজে গাধার পিঠে আরাম করছে, আর কচি ছেলেকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।"
কথাটি শুনে লোকমান হাকিম নেমে পড়লেন, পুত্রকে গাধার পিঠে বসিয়ে নিজে হেঁটে চললেন। কিছুদূর যেতেই আরেক দল লোক বলল, "দেখো, কেমন বেয়াদব ছেলে। বুড়ো বাপ হেঁটে যাচ্ছে, আর ছেলে আরাম করে গাধার পিঠে।"
এবার লোকমান হাকিম পুত্রকে নিয়ে দুজনই গাধার পিঠে চড়লেন। কিছু লোক দেখে বলল, "কী নিষ্ঠুর মানুষ। একটি অবলা প্রাণীর পিঠে দুজন চড়ে তাকে কষ্ট দিচ্ছে।"
শেষে দুজনই গাধা থেকে নেমে হেঁটে চলতে লাগলেন। তখনও লোকজন বলতে ছাড়ল না, "কী আশ্চর্য, গাধা থাকতেও পায়ে হেঁটে যাচ্ছে। আজব মানুষ।"
পথ চলতে চলতে লোকমান হাকিম পুত্রের দিকে ফিরে বললেন,
"প্রিয় পুত্র, এই হলো মানুষের স্বভাব। তুমি যা-ই করো, তারা সমালোচনা করবেই। তাই মানুষকে খুশি করার চিন্তা ছেড়ে দাও। শুধু একটি কথা ভাবো, মহান আল্লাহ তোমার ওপর সন্তুষ্ট কি না।"
এবার ভাবুন আজকের সময়ের কথা।
লোকমান হাকিমের সেই শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আমরা সারাক্ষণ অস্থির থাকি, "মানুষ কী বলবে, কী ভাববে...?"
অথচ মানুষকে খুশি করা কোনোদিন সম্ভব নয়, কোনোদিন হবেও না।
আসল কাজ একটাই, রবকে খুশি করা।
সৌজন্যে
পারফেক্ট পাবলিক স্কুল
24/06/2026
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
আশুরার দিনের সিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাকরি, তিনি এর মাধ্যমে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।
[সহীহ্ মুসলিম : ১১৬২]
সৌজন্যে
পারফেক্ট পাবলিক স্কুল
20/06/2026
إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَىٰ ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا ۖ وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا
অর্থ:
“নিশ্চয় যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের সম্পদ ভক্ষণ করে, তারা যেন তাদের পেট আগুন দিয়ে পরিপূর্ণ করল। আর অচিরেই তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।”
— (সূরা আন-নিসা: ১০)
সৌজন্যে
পারফেক্ট পাবলিক স্কুল
19/06/2026
আজ জুম'আর দিন
সবাই বেশি বেশি দুরুদ পড়ুন!
صَــــــــــــــــلَّ اللهُ عَلَيْـــــــــهِ وَ سَـــــــــــلَّمَ
সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
সৌজন্যে
পারফেক্ট পাবলিক স্কুল
16/06/2026
মুহাররম মাসের পবিত্র সূচনায় আল্লাহ তা'আলা আমাদের গুনাহ মাফ করুন, অন্তরকে তাঁর দিকে ফিরিয়ে দিন এবং নতুন বছরটিকে কল্যাণময় করুন। আমিন।
সৌজন্যে
পারফেক্ট পাবলিক স্কুল
02/06/2026
فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
উচ্চারণ:
ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবান।
অর্থ:
“অতএব, তোমরা তোমাদের রবের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?”
— সূরা আর-রহমান, আয়াত: ১৩
সৌজন্যে
পারফেক্ট পাবলিক স্কুল
27/05/2026
পবিত্র ঈদুল আযহা প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ এবং শান্তি। সবাইকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক ।
27/05/2026
৯-ই জিলহজ্জ ফজর হতে তেরো-ই জিলহজ্জ আসর পর্যন্ত প্রতি ওয়াক্ত নামাজের শেষে তাকবির বলা ওয়াজিব। এই পাঁচ দিনকে একত্রে বলা হয় আইয়্যামে তাশরিক।
তাকবীরে তাশরীক
اللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
অর্থ: আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান।
আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।
আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান।
আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।
সৌজন্যে
পারফেক্ট পাবলিক স্কুল
24/05/2026
মু’তার যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগময় ঘটনা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ৮ হিজরিতে প্রায় ৩০০০ সাহাবির একটি বাহিনী প্রেরণ করেন মু’তা অঞ্চলে (বর্তমান জর্ডান এলাকায়)। কারণ, মুসলিম দূতকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যা ছিল চুক্তি ভঙ্গের গুরুতর অপরাধ। এই বাহিনীর নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে তিনজন সাহাবির হাতে ছিল:-
প্রথমে যায়েদ ইবনে হারিসা
এরপর জাফর ইবনে আবু তালিব
এবং পরে আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা
রাসূল ﷺ নির্দেশ দিয়েছিলেন,যদি একজন শহীদ হন, তবে পরবর্তীজন নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন। মুসলিম বাহিনী সেখানে পৌঁছে দেখে বিপরীতে রোমান ও তাদের মিত্রদের বিশাল সেনাবাহিনী। সংখ্যায় মুসলমানরা খুবই কম ছিল, কিন্তু তাদের ঈমান ছিল পাহাড়ের মতো দৃঢ়।
প্রথমে যায়েদ ইবনে হারিসা বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন। তিনি ঘোড়া থেকে নেমে যুদ্ধ শুরু করেন, যেন কেউ মনে না করে তিনি পালাচ্ছেন। তিনি ইসলামের পতাকা শক্ত করে হাতে ধরেন। শত্রুর আঘাতে তাঁর ডান হাত কেটে যায়। তিনি সাথে সাথে বাম হাতে পতাকা তুলে নেন। এরপর বাম হাতও কেটে ফেলা হয়।
তবুও তিনি পতাকা মাটিতে পড়তে দেননি।
তিনি নিজের বুক ও শরীর দিয়ে পতাকাকে আঁকড়ে ধরে রাখেন। অবশেষে তিনি অসংখ্য আঘাতে শহীদ হন।
মদিনায় বসেই রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধের খবর পান। তিনি সাহাবিদের জানান, যায়েদ শহীদ হয়েছেন, তারপর জাফর শহীদ হয়েছেন, এরপর আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা শহীদ হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে দুই ডানা দিয়েছেন এবং তিনি সেখানে উড়ছেন। এজন্য তাঁকে “জাফর আত-তাইয়ার” (ডানাওয়ালা জাফর) বলা হয়।
মু’তার যুদ্ধের গল্প শুধু ইতিহাস নয়, এটা জীবনের জন্য এক নীরব অনুপ্রেরণা। হজরত জাফর ইবনে আবু তালিব আমাদের শেখান:-
একজন মানুষ কতটা দৃঢ় হতে পারে, যখন সে তার বিশ্বাসকে ভালোবাসে। দুটি হাত হারানোর পরও তিনি পতাকা ছাড়েননি। কারণ তার কাছে পতাকা শুধু কাপড় ছিল না, এটা ছিল সত্য, দায়িত্ব আর আদর্শের প্রতীক।
>দায়িত্ব যাই হোক, মাঝপথে ছেড়ে দিও না
>চাপ এলে ভেঙে পড়ো না, শক্ত থাকো
>সত্য ও নীতির সাথে আপস করো না
>লক্ষ্য বড় হলে কষ্ট ছোট মনে হয়
জীবনে অনেক সময় আমরা ছোট সমস্যায় থেমে যাই। “যে মানুষ নিজের বিশ্বাস ধরে রাখতে পারে, সে কখনো হেরে যায় না।” জাফর ইবনে আবু তালিব–এর জীবন আমাদের জন্য একটি বার্তা: সত্যের পথে দাঁড়িয়ে থাকাই আসল শক্তি।
সৌজন্যে
পারফেক্ট পাবলিক স্কুল