18/05/2026
♥♥১লা জিলহজ্ব ( রোজ: মঙ্গলবার , ১৯ শে মে ) হযরত শাহ্ আবু আব্দুল্লাহ্ (রঃ) এর ৩১ তম পবিত্র ওফাত দিবস♥♥
# আল_ফাতিহা
............................................................................................................................
হযরত শাহ্ আবু আব্দুল্লাহ্ (রঃ) ছিলেন হযরত শাহ্ নূরী (রঃ) এর ৬ষ্ঠ গদিনশীন পীর সাহেব এবং হযরত শাহ্ গোলাম নূরী (রঃ) এর ২য় সাহেবজাদা।
হযরত শাহ্ আবু আব্দুল্লাহ্ (রঃ) বাল্যকাল থেকেই ভারতে দ্বীনী ইলম হাসিল করেছিলেন। ভারতে শিক্ষা অর্জন শেষে তিনি তরিকার শিক্ষা অর্জনের জন্য নিজের পৈত্রিক খানকাতে ফিরে আসেন এবং নিজ পিতার নিকট মুরীদ হয়ে তরিকতের শিক্ষা অর্জন ও আধ্যাতিকতার চর্চা শুরু করেন। হযরত শাহ্ গোলাম নূরী (রঃ) ছেলের আগ্রহ দেখে বেলায়েতের নূর ছেলের ক্বলবে দেয়া শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে হযরত শাহ্ আবু আব্দুল্লাহ্ (রঃ) পিতার ও পূর্ব পুরুষের রুহানী নিয়ামত প্রাপ্ত হয়ে আধ্যাত্নিক শক্তির অধিকারী হয়ে উঠেন।
হযরতের কারামাত:
*) এক সফরের ঘটনা, হযরত কেবলা মুরীদানদের উদ্দেশ্যে নৌকায় রওয়ানা হলেন। সর্বদা তার সাথে সফরে থাকা এক খাদেম বহুবার লক্ষ্য করেছিলেন যে রাতে যতবার হযরত কেবলার সাথে মুরীদানদের উদ্দেশ্যে সফর করেছেন প্রত্যেকবার দেখেন আকাশে একটি আলোর রশ্নি তাদের পিছু করে থাকে যতক্ষন না তারা গন্তব্যে পৌঁছান। আকাশের এই আলোকরশ্নির সফর শুরু থেকে পিছু করা এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর হারিয়ে যাওয়ার রহস্য খাদেম শাহ্ সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলেন। জবাবে তিনি বললেন, আমি সফর করেছি হুযুর শাহ্ নূরীর (রঃ) তরিকা প্রচারের জন্য। তাঁর গোলামী করা যেমন আমার কাজ ঠিক তেমনি আমার খেয়াল রাখা তার কাজ। আর এই আলোকরশ্নি হচ্ছে জ্বীন, যাকে হুজুর শাহ্ নূরী (রঃ) পাঠিয়েছেন- আমাকে দেখে সহী সালামতে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য। আর যখন গন্তব্যে পৌঁছে যাই তা হারিয়ে যায় কারন আমার গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার সংবাদ হুজুর শাহ্ নূরীকে ( রঃ) দিতে চলে যায়।
ওফাত: হযরত শাহ্ নূরীর ( কুঃসিঃআঃ) ৬ষ্ঠ গদিনশীন এই বুযুর্গ ১৯৯৫ সালে ১লা জিলহাজ্ব এই দুনিয়া থেকে চির বিদায় নিয়ে শুয়ে আছেন হযরত শাহ্ নূরীর (রঃ) মাজারে তার বাবা হযরত শাহ্ গোলাম নূরী (রঃ) এর পায়ের দিকে।
22/03/2026
হযরত শাহ্ নূরী (রহঃ) — ইলম ও ইরফানের এক দীপ্তিমান নক্ষত্র
বাংলার মাটি কখনো শূন্য ছিল না আওলিয়ায়ে কেরামের নূরের বরকত থেকে । সেই আলোকধারার উজ্জ্বলতম নক্ষত্রদের একজন হলেন হযরত মাওলানা শাহ নূরী (রহঃ)—যিনি শুধু একজন সাধকই নন, বরং ছিলেন শরীয়ত ও তরিকতের এক বিরল সমন্বয়।
ঢাকার বাবুপুরা ভূমিতে এক সম্ভ্রান্ত ও ইলমি পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পৈতৃক খানকা—বাবুপুরা খানকা—১৭শ শতকের প্রথম ভাগেই প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে তাঁর পিতা ও দাদা উভয়েই ইলমে দ্বীন ও তাসাউফের দরস দিতেন।
এই খানকাই ছিল নূরের সেই প্রথম প্রদীপ, যেখান থেকে পরে ছড়িয়ে পড়ে এক বিশাল আধ্যাত্মিক জ্যোতি।
তিনি শুধু সূফি ছিলেন না…
হযরত শাহ্ নূরী (রহঃ)-এর পরিচয় কেবল তাসাউফের ময়দানে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ছিলেন:
• হানাফি মাজহাবের একজন খেদমতগার আলেম
• হাদীস ও শরীয়তের একজন প্রচারক
• তরিকত ও মারেফতের পথপ্রদর্শক
তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ “কিবরীতুল আহমার” (Kibrīt-e-Aḥmar) তাসাউফের গভীর বিষয় নিয়ে রচিত, যেখানে শুধু আত্মশুদ্ধিই নয়, সমকালীন সুফিদের জীবন ও সিলসিলাও লিপিবদ্ধ হয়েছে।
এ থেকেই বুঝা যায়—তিনি ছিলেন এমন এক আলেম, যার কলম ও কালাম উভয়ই ছিল হিদায়াতের আলো।
খানকা, বেলায়াত ও তাসাররুফ
জীবনের এক পর্যায়ে তিনি মগবাজারে নিজের খানকা প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে অসংখ্য মানুষ তাঁর দরবারে এসে আত্মিক প্রশান্তি লাভ করত।
ঢাকার নবাব ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাও তাঁর পরিবারের পরবর্তী সাজ্জাদানাশীনদের মুরিদ ছিলেন—যা প্রমাণ করে তাঁর আধ্যাত্মিক প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী ছিল।
তাসাউফের ময়দানে তাঁর উদারতা ও মহত্ত্বের এক অনন্য নিদর্শন—
আজিমপুরের দায়রা শরীফের মহান বুযুর্গ হযরত সূফি দায়েম (কুঃসিঃআঃ)কে তিনি নিজের “ছোট ভাই” সম্বোধন করে ঐ অঞ্চলের বেলায়াত দান করেন।
এ যেন ছিল এক ওলির হৃদয় থেকে আরেক ওলির হাতে আমানত হস্তান্তর—নূর থেকে নূরে সংযোগ।
ইলম ও ইশকের মেলবন্ধন
হযরত শাহ্ নূরী (রহঃ)-এর জীবনে আমরা দেখি এক অপূর্ব সমন্বয়—
• জাহেরি ইলম (ফিকহ, হাদীস)
• বাতেনি ইলম (তাসাউফ, মারেফত)
তিনি প্রমাণ করে গেছেন—
শরীয়ত ছাড়া তরিকত অন্ধ, আর তরিকত ছাড়া শরীয়ত নিঃস্ব প্রাণহীন।
তাঁর ফয়েজ আজও জারি
১১৮৮ হিজরীতে তাঁর ইন্তেকাল হলেও তাঁর ফয়েজ আজও প্রবাহিত—ঢাকার মগবাজারে তাঁর দরগাহ আজও মুরিদদের জন্য রহমতের কেন্দ্র।
তাঁর রেখে যাওয়া সিলসিলা, খানকা ও ইলমি ঐতিহ্য আজও প্রমাণ করে—
“ওলিরা চলে যান, কিন্তু তাঁদের নূর কখনো নিভে যায় না।”
হযরত শাহ্ নূরী (রহঃ) ছিলেন এমন এক পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব—
যিনি শুধু একজন দরবেশ নন, বরং ছিলেন
একজন মুহাদ্দিস, একজন ফকীহ, একজন মুর্শিদ, এবং একজন যুগসংস্কারক।
তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—
ইলম অর্জন করো, আমল দিয়ে তা জীবন্ত করো, আর ইশকের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে পৌঁছে যাও।