মানুষ আপনার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হবে!
১. সহজলভ্য হবেন না: সবসময় সবার জন্য ওয়ান-ক্লিক 'অ্যাভেইলেবল' থাকবেন না। একটু দূরত্ব আপনার গুরুত্ব বাড়িয়ে দেবে।
২. শরীর ও স্বাস্থ্যের যত্ন নিন: সবকিছুর আগে নিজের ফিটনেস ঠিক রাখুন। সুস্বাস্থ্যই আপনার সবচেয়ে বড় মর্যাদার প্রতীক।
৩. জনসমক্ষে শান্ত থাকুন: পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নিজেকে ধীরস্থির রাখুন। আপনি যে ঘাবড়ে গেছেন, তা যেন কেউ টের না পায়।
৪. অতিরিক্ত শেয়ার করা বন্ধ করুন: নিজের ব্যক্তিগত খুঁটিনাটি সবার সামনে আনবেন না। মানুষকে আপনার সম্পর্কে কৌতুহলী হতে দিন।
৫. কম এবং মেপে কথা বলুন: অহেতুক কথা না বলে শব্দ চয়নে সতর্ক হোন। কম কিন্তু অর্থপূর্ণ কথা মানুষের মনে গভীর দাগ কাটে।
৬. দেরিতে উত্তর দিন: মেসেজ বা যেকোনো বিষয়ে হুট করেই সাড়া না দিয়ে কিছুটা সময় নিন। এতে আপনার সময়ের মূল্য প্রকাশ পাবে।
৭. স্মার্টলি পোশাক পরুন: সবসময় পরিষ্কার, মার্জিত এবং নিজের শরীরের সাথে পারফেক্টভাবে মানানসই পোশাক পরিধান করুন।
৮. নিজেকে পরিপাটি রাখুন: নিজেকে সবসময় সাজিয়ে-গুছিয়ে উপস্থাপন করুন। এটি প্রকাশ করে যে আপনি নিজেকে কতটা সম্মান করেন।
৯. আত্মবিশ্বাসের সাথে হাসুন: আপনার হাসির মধ্যে যেন কোনো কৃত্রিমতা বা দুর্বলতা না থাকে; হাসুন মন খুলে ও দৃঢ়তার সাথে।
১০. সঙ্গ নির্বাচনে বিচক্ষণ হোন: সবসময় জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান মানুষের সাথে মেলামেশা করুন। ভালো সঙ্গ আপনার মানসিকতা উন্নত করবে।
১১. নীরবতাকে উপভোগ করুন: কোনো আড্ডায় হুট করে নীরবতা নেমে আসলে অপ্রস্তুত হবেন না। সেই শান্ত মুহূর্তটুকুতেও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে শিখুন।
১২. নিজের জগৎ তৈরি করুন: অন্যের জন্য অপেক্ষা করা বন্ধ করে নিজের লক্ষ্য, ক্যারিয়ার আর স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত একটি সুন্দর জীবন গড়ে তুলুন।
HSC Mathematics by RRK Sir
Md. Rasel Rana Khandaker
B.Sc (Hon's),M.Sc (First Class Second), M.Phil, PhD (Researcher).DUET,Gazipur. Lecturer, Dept. of Mathematics. Aftabnagar, Badda.
Dhaka Imperial College (DIC).
অধিকাংশ মানুষ জানেই না বজ্রপাত আমাদের জন্য আসলে কী করে!
যে বজ্রপাতকে আমরা প্রকৃতির ধ্বংসলীলা বলে মনে করি, আপনি কি জানেন—তা যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে পৃথিবীর সমস্ত জীবজগৎ একদিন না খেয়ে মারা যাবে?
আমরা যখন আকাশে মেঘের বিকট ডাক শুনি বা বিদ্যুৎ চমকাতে দেখি, তখন স্বাভাবিকভাবেই ভয়ে জানলা-কপাট বন্ধ করে দিই। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এবং উদ্ভিদবিজ্ঞানের জানলা দিয়ে তাকালে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতার দেখা মেলে।
আমরা যে সবুজ প্রকৃতি দেখি বা যে শস্যদানা আমাদের প্লেটে তুলে নিই, তার একটি বড় অংশের জোগান আসে আকাশ থেকে ছিটকে পড়া এক একটি ভয়ংকর বজ্রপাতের মাধ্যমে। যে বজ্রপাত দেখে আমরা আঁতকে উঠি, জানলে অবাক হবেন—সেটি যদি না হতো, তবে পৃথিবীর সমস্ত গাছপালা পুষ্টির অভাবে মরে যেত এবং পুরো পৃথিবী এক ধূসর মরুভূমিতে রূপ নিত।
আমাদের বেঁচে থাকার জন্য যেমন অক্সিজেন লাগে, তেমনি পৃথিবীর সমস্ত গাছপালার বেঁচে থাকার আর বড় হওয়ার জন্য সবচেয়ে জরুরি উপাদান হলো নাইট্রোজেন। আমাদের বাতাসে প্রচুর নাইট্রোজেন আছে (প্রায় ৭৮%)। কিন্তু সমস্যা হলো, গাছ এত বোকা যে বাতাস থেকে সরাসরি এই নাইট্রোজেন টেনে নিতে পারে না। এটা অনেকটা এমন—আপনি সাগরের মাঝখানে তৃষ্ণায় ছটফট করছেন, কিন্তু নোনা পানি হওয়ায় তা পান করতে পারছেন না!
গাছের এই অসহায়ত্ব দূর করতেই প্রকৃতিতে ঘটে এক অলৌকিক মেকানিজম।
যখন আকাশে মেঘে মেঘে প্রচণ্ড ঘর্ষণ লাগে এবং লাখ লাখ ভোল্টের বিদ্যুৎ চমকায়, তখন ওই এলাকার তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠভাগের চেয়েও বেশি গরম হয়ে যায়। এই অবিশ্বাস্য তাপে বাতাসে ভেসে থাকা অলস নাইট্রোজেন আর অক্সিজেন জোরপূর্বক একে অপরের সাথে জোড়া লেগে তৈরি করে ‘নাইট্রেট’ বা প্রাকৃতিক সার।
এরপর বৃষ্টির ফোঁটাগুলো যখন আকাশ থেকে নিচে নামে, তারা ওই নাইট্রেটকে সাথে করে মাটির ভেতরে নিয়ে যায়। মাটি তখন পরম তৃপ্তিতে এই ‘রেডিমেড খাদ্য’ শুষে নেয়, যা শেকড়ের মাধ্যমে গাছের কোণায় কোণায় পৌঁছে যায়। আর তাতেই গাছপালা হয়ে ওঠে সবুজ ও সতেজ। অর্থাৎ, প্রতিটি বজ্রপাত আসলে কোটি কোটি টাকার নাইট্রোজেন সার ফ্রিতে মাটিতে স্প্রে করে দিয়ে যায়!
আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে, যখন মানুষের কোনো ল্যাবরেটরি ছিল না, রসায়নের কোনো বালাই ছিল না—তখন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা একদম স্পষ্ট করে এই রহস্যের কথা আমাদের জানিয়ে দিয়েছিলেন:
“আর তাঁর অন্যতম নিদর্শন হলো, তিনি তোমাদেরকে ভয় ও ভরসা দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ দেখান এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা মৃত্তিকাকে (মাটিকে) পুনরুজ্জীবিত করেন।” > — (সুরা আর-রূম: ২৪)
সুবহানাল্লাহ! একটু আয়াতটার দিকে তাকান। আল্লাহ প্রথমে বললেন বিদ্যুতের (ভয়) কথা, তারপরেই বললেন বৃষ্টির কথা, আর তার ঠিক পরপরই বললেন মৃত মাটিকে বাঁচিয়ে তোলার (ভরসা) কথা! বিজ্ঞান আজ ২০ শতকে এসে প্রমাণ করল যে বজ্রপাতের বিদ্যুতই মূলত মাটিকে নাইট্রোজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে। অথচ কুরআন এই সিকোয়েন্সটা ১৪০০ বছর আগেই সাজিয়ে রেখেছে।
আমরা যেটাকে প্রকৃতির তাণ্ডব বা শাস্তি ভাবি, তার ভেতরেও আমাদের বেঁচে থাকার কত বড় নেয়ামত লুকিয়ে আছে—ভাবা যায়?
আমাদের রব যে কী সুনিপুণ কারিশমায় আমাদের রক্ষা ও লালন করেন এবং আমাদের জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে তাঁর কী পরিমাণ কুদরত লুকিয়ে আছে—তা আমাদের কল্পনার বাইরে।
চোখ-মুখের ভাষায় অপমান: একটি মারাত্মক গুনাহ লুমাযাহ কী?
লুমাযাহ হলো এমন একটি আচরণ যেখানে মুখে কিছু না বলেও কাউকে অপমান, উপহাস বা তুচ্ছ করা হয়। ইশারা-ইঙ্গিতে, চোখ-ভ্রুর ভাষায়, মুখভঙ্গিতে বা শারীরিক অঙ্গভঙ্গিতে কারো সম্মান নষ্ট করাই লুমাযাহ।
যেমন: চোখ টিপে হাসা, ঠোঁট বাঁকানো, নাক-মুখ বিকৃত করা, হাতের ইশারায় ব্যঙ্গ করা, কারো কথা বা চলাফেরা নকল করা।
কুরআনের সতর্কবার্তা
وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ
"ধ্বংস তার জন্য, যে নিন্দাকারী ও উপহাসকারী।"
— সূরা আল-হুমাযাহ: ১
হুমাযাহ = মুখে নিন্দা করা
লুমাযাহ = ইশারায় অপমান করা
দুটোই মারাত্মক গুনাহ এবং জাহান্নামের কারণ।
আমরা কীভাবে এই গুনাহ করি?
• কারো পোশাক বা চেহারা দেখে ব্যঙ্গ করে হাসি
• কেউ চলে গেলে পেছনে নাক-মুখ বাঁকাই
• কারো কথা বা হাঁটার ভঙ্গি নকল করে অন্যদের হাসাই
• চোখ দিয়ে তাচ্ছিল্য প্রকাশ করি
• হাত বা আঙুল দিয়ে কাউকে দেখিয়ে ইশারা করি
এগুলো আমাদের কাছে ছোট মনে হলেও আল্লাহর কাছে **বড় গুনাহ**।
রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন:
"মু'মিন কখনো অপমানকারী, অভিশাপকারী বা অশ্লীলভাষী নয়।" — তিরমিযী
"একজন মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তাকে জুলুম বা অপমান করে না।" — সহিহ মুসলিম
বিদায় হজে রাসূল ﷺ বলেন:
"তোমাদের জান, মাল ও ইজ্জত-সম্মান একে অপরের জন্য হারাম।" — সহিহ বুখারি
লুমাযাহর ক্ষতি
• আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও জাহান্নামের শাস্তি
• নেক আমল নষ্ট হয়
• হৃদয় কঠিন হয়ে যায়
• সমাজে শত্রুতা ও বিভেদ সৃষ্টি হয়
• কিয়ামতের দিন কঠিন জবাবদিহিতা
আমাদের করণীয়
*তাওবা করুন — অতীতের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান
*সম্মান করুন — প্রতিটি মানুষকে সম্মান করুন, দুর্বলতা নয়, ভালো দিক দেখুন
*নিয়ন্ত্রণ করুন — মুখ, চোখ, হাত ও মুখভঙ্গি সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখুন
*শেখান — সন্তানদের ছোটবেলা থেকে শেখান যে কাউকে ইশারায় ঠাট্টা করা গুনাহ
লুমাযাহ একটি নীরব গুনাহ যা কথা ছাড়াই মানুষের অন্তরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই ঘৃণ্য স্বভাব থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। প্রতিটি মানুষের সম্মান রক্ষা করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।
আল্লাহুম্মা আমিন।
এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সবাইকে জানাতে পোস্টটি শেয়ার করুন। আমরা নিজেরা শিখি এবং অন্যদেরও শেখাই।
সাওয়াবের নিয়তে পৌঁছে দিন সবার কাছে।
✍️মায়ের মরদেহ ৭ দিন ধরে একা ফ্ল্যাটে পড়ে ছিল।
নিঃসঙ্গতায় একা মারা গেলেন। মৃত্যুর পরও সাত দিন কেউ তাঁর খোঁজ নিল না। লাশ পঁচে গলে গেছে, পোকায় খেয়েছে। আজকের ঘটনা,মিরপুরের।
তাঁর এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক, আরেক ছেলে কানাডায় সেটেল্ড । মেয়ে ও জামাতাও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
তবুও ঈদের আনন্দের দিনগুলোতে কেউ একবার ফোন করেনি, কেউ খোঁজ নেয়নি।
উনার বাসার অবস্থা দেখলে মনে হয় দীর্ঘদিন অবহেলায় ছিলেন। কতদিন ঠিকমতো খেতে পারেননি, কত রোগ-শোক আর কষ্ট বুকে নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন—তা কল্পনা করতেও কষ্ট হয়।
অথচ এই মা-ই ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে ধারণ করেছিলেন সন্তানদের। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে মমতা আর ত্যাগে তাদের লালন-পালন করেছেন। শিক্ষিত করেছেন, প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সমাজে সম্মানিত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন।
কিন্তু শেষ বয়সে তাঁর প্রাপ্য হলো নিঃসঙ্গতা, অবহেলা আর একাকী মৃত্যু।
কী নির্মম পরিণতি!
শেষবারের মতো কোন সন্তানকে পাশে পেলেন না।
তাঁদের নীরব কান্না আমরা অনেক সময় শুনতে পাই না।
আজ যাদের মা-বাবা বেঁচে আছেন, একবার ফোন করুন। তাঁদের গলার স্বর শুনুন। একটু সময় দিন। পাশে বসুন। খোঁজ নিন তাঁরা কেমন আছেন।
আজ আমরা ব্যস্ত, কাল হয়তো আমাদের সন্তানেরাও ব্যস্ত থাকবে।তখন যেন আমাদেরও একই পরিণতি না হয়।
মা-বাবাকে ভুলে যাবেন না। তাঁরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ, সবচেয়ে বড় ঋণ।
যাদের বাবা-মা বেঁচে আছেন, তাঁদের খোঁজ নিন, সেবা করুন, সম্মান করুন। আজ আপনি যা করবেন, আগামী প্রজন্মও সেটাই শিখবে।
পিথাগোরাসের উপপাদ্য পিথাগোরাসের নয়!
পিথাগোরাসের উপপাদ্যের কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন। যদি বলি, উপপাদ্যটি পিথাগোরাস আদৌ আবিষ্কার করেননি, চমকে যাবেন?
পিথাগোরাস ও তাঁর উপপাদ্য পৃথিবীজুড়ে বিখ্যাত
যদি বলি, পিথাগোরাসের উপপাদ্যটি পিথাগোরাস আদৌ আবিষ্কার করেননি, চমকে যাবেন? তথ্য-প্রমাণ কিন্তু সে কথাই বলছে!
পিথাগোরাসের উপপাদ্যের নাম জানেন না, এমন কাউকে কি এ দেশে পাওয়া যাবে আদৌ? নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্য এই উপপাদ্য ঝেড়ে মুখস্ত করেন অনেকেই। অনেকে আবার বুঝে-শুনে প্রমাণ করতে শেখেন।
উপপাদ্যটার ভাষ্য এরকম—কোনো সমকোণী ত্রিভুজের অতিভুজের ওপর অঙ্কিত বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল সেই ত্রিভুজের অন্য দুই বাহুর ওপর অঙ্কিত বর্গক্ষেত্র দুটির ক্ষেত্রফলের সমষ্টির সমান।
ঝকমারি এই সংজ্ঞা দেখে আঁৎকে ওঠার কিছু নেই। বিষয়টা যাঁদের এতদিন পর মনে নেই, তাঁদের জন্য একটু ছোট্ট করে ব্যাখ্যা করা যাক। সমকোণী ত্রিভুজ মানে, যে ত্রিভুজের একটি কোণের মান ৯০ ডিগ্রি। এই কোণের বিপরীত বাহুটির নাম অতিভুজ। ধরে নিই, তিনটি বাহুর নাম a, b ও c। c বাহুটি অতিভুজ (অর্থাৎ সমকোণ বা ৯০ ডিগ্রি কোণটি a ও b বাহুর মাঝখানে)। তাহলে এই উপপাদ্য মতে, a2 + b2 = c2।
তথ্য-প্রমাণ বলছে, পিথাগোরাসের নামে প্রচলিত এ উপপাদ্য পিথাগোরাস আদৌ আবিষ্কার করেননি। কিংবা তিনি হয়তো পুনরাবিষ্কার করেছেন, তবে তাঁর প্রায় ১ হাজার বছর আগে থেকেই প্রচলিত ছিল উপপাদ্যটি। প্রাচীন ব্যাবিলনের এক মাটির খণ্ড বা ট্যাবলেটে দেখা গেছে, পিথাগোরাসের উপপাদ্য ব্যবহার করে একটি চতুর্ভুজের ভেতরের কর্ণের দৈর্ঘ্য হিসাব করা হয়েছে। ট্যাবলেটটির নাম দেওয়া হয়েছে আইএম ৬৭১১৮। বলে রাখা প্রয়োজন, চতুর্ভুজের (বা আরও বেশি ভুজ, অর্থাৎ বাহুবিশিষ্ট আকৃতির) বিপরীত দুই কোণের সংযোগ রেখাকেই কর্ণ বলে। যা হোক, বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ট্যাবলেট ব্যবহৃত হতো শেখানোর জন্য। সেটা খ্রিস্টপূর্ব ১৭৭০-এর ঘটনা। আর পিথাগোরাসের জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ৫৭০ অব্দে।
এখানেই শেষ নয়। আরেকটি ট্যাবলেট পাওয়া গেছে, খ্রিস্টপূর্ব ১৮ থেকে ১৬ শতকের। এতে একটি বর্গের মধ্যে একটি চিহ্নিত ত্রিভুজ দেখা যাচ্ছে। ব্যবিলনীয়রা ৬০ ভিত্তিক গণনা পদ্ধতি ব্যবহার করত। সে হিসাবে অনুবাদ করে দেখা গেছে, তারা স্পষ্টতই পিথাগোরাসের উপপাদ্য জানত। বলা বাহুল্য, সে কালে এটাকে নিশ্চয়ই পিথাগোরাসের উপপাদ্য বলা হতো না। শুধু তাই নয়, আরও অগ্রসর অনেক গাণিতিক বিষয়ও তাদের জানা ছিল।
প্রাচীন ব্যাবিলনের এই ট্যাবলেটে লেখা আছে, পিথাগোরাসের উপপাদ্য ব্যবহার করে কীভাবে একটি সমস্যা সমাধান করতে হয়; ইরাকের বাগদাদে ইরাক মিউজিয়ামে রয়েছে ট্যাবলেটটি
প্রাচীন ব্যাবিলনের এই ট্যাবলেটে লেখা আছে, পিথাগোরাসের উপপাদ্য ব্যবহার করে কীভাবে একটি সমস্যা সমাধান করতে হয়; ইরাকের বাগদাদে ইরাক মিউজিয়ামে রয়েছে ট্যাবলেটটিছবি: উইকিমিডিয়া কমনস/ ওসামা শুকির মোহাম্মদেদ আমিন
বিষয়টা আরেকটু ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। এই ব্যাখ্যা বেশ স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে মার্কিন গণিতবিদ ব্রুস র্যাটনারের লেখা এক গবেষণাপত্রে। নাম—পিথাগোরাস: এভরিওয়ান নোজ হিজ ফেমাস থিওরেম, বাট নট হু ডিসকভারড ইট ১০০০ ইয়ারস বিফোর হিম। স্প্রিঙ্গার জার্নালে প্রকাশিত এই শিরোনামের বাংলা করলে দাঁড়ায়, পিথাগোরাস: সবাই তাঁর বিখ্যাত উপপাদ্যটি জানে, তবে কেউ জানে না তাঁরও হাজার বছর আগে এটা কে আবিষ্কার করল।
তিনি লিখেছেন, ‘বিষয়টা অনস্বীকার্য। ব্যাবিলনীয়রা বর্গের কর্ণের দৈর্ঘ্য ও এর বাহুগুলোর সম্পর্ক জানত: d = √2।’ তাঁর ভাষ্যে, ‘এটাই সম্ভবত প্রথম জানা অমূলদ সংখ্যা। অন্যদিক থেকে ভাবলে এর আরেকটি অর্থ দাঁড়ায়, পিথাগোরাসের উপপাদ্যখ্যাত নিয়মটির সঙ্গে তাঁরা পরিচিত ছিল। অন্তত এর বিশেষ ব্যবহার, বর্গের কর্ণের দৈর্ঘ্য, d2 = a2 + a2 = 2a2 তারা জানত (a এখানে বর্গের বাহু)। সেটা বিখ্যাত পিথাগোরাসের আরও প্রায় হাজার বছর আগের কথা।’
পিথাগোরাসের উপপাদ্যের আরেক ধরনের প্রয়োগ আছে। এর ইংরেজি নাম ‘পিথাগোরিয়ান ট্রিপল’। বাংলায় বলা যায়, পিথাগোরাসের ত্রয়ী। অর্থাৎ এমন তিনটি ধনাত্মক পূর্ণসংখ্যা, যাদের দুটির বর্গ তৃতীয়টির বর্গের সমান। একটি সংখ্যা a, একটি b ও একটি c হলে, a2 + b2 = c2। ঠিক ধরেছেন, পিথাগোরাসের উপপাদ্যে ত্রিভুজের তিন বাহুর দৈর্ঘ্যের সংখ্যাগত মানকেই একসঙ্গে বলা হয় পিথাগোরাসের ত্রয়ী। এটাকে সাধারণত লেখা হয় (a, b, c) আকারে। যেমন (3, 4, 5)।
খ্রিস্টপূর্ব ১৮ শতকের একটি প্যাপিরাস পাওয়া যায় মধ্য মিসরীয় সাম্রাজ্যে। প্যাপিরাস হলো একধরনের উদ্ভিদ থেকে তৈরি বিশেষ ধরনের মিসরীয় লেখার খাতা। এই প্যাপিরাসে একটা সমস্যা দেখা যায়, যার সমাধান পিথাগোরাসের ত্রয়ী (6, 8, 10)। তবে সেই প্যাপিরাসে কোনো ত্রিভুজের উল্লেখ নেই।
মিসর তো মিসর, প্রাচীন ভারতের বুদ্ধায়ন শুল্বসূত্রতেও পিথাগোরাসের ত্রয়ী ও উপপাদ্যের উল্লেখ আছে। দুটোই এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের জন্য। অর্থাৎ এটি এই উপপাদ্য বা ত্রয়ীর সাধারণ ব্যবহার নয়, বিশেষ একধরনের ব্যবহার। এই শুল্বসূত্রের সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব ৮ থেকে ৫ শতকের দিকে।
শোনা যায়, পিথাগোরাস মিসরে গিয়ে মূলত এই উপপাদ্যটি শিখেছিলেন। তাহলে প্রশ্ন আসে, এটি তাঁর নামে বিখ্যাত হয়ে উঠল কেন? এর কৃতিত্বই-বা তিনি কীভাবে পেলেন? উত্তরে বলা যায়, পিথাগোরাসের নিজের কোনো লেখা ইতিহাসে সংরক্ষিত নেই। সে কালে তিনি একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বলা হতো ‘পিথাগোরিয়ান’। স্কুলটির অবস্থান ছিল আজকের দক্ষিণ ইতালিতে। সেই স্কুলে তিনি যা শিখিয়েছেন, সেগুলো কালের আবর্তে ছড়িয়ে পড়েছে। সে সব জ্ঞানের বেশির ভাগই তাঁর নামে স্বীকৃতি পেয়েছে সময়ের খেরোখাতায়।
প্রশ্ন আসে, তাঁর লেখা কেন পাওয়া যায় না? কারণ, পিথাগোরিয়ান জ্ঞান শেখানো হতো মুখে মুখে। লেখার চল ছিল না ওভাবে। তাই সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেক আবিষ্কারও পরে প্রচলিত হয়েছে তাঁর নামে।
পিথাগোরাসের আবিষ্কার না হলেও তাঁর বিদ্যালয়ই এই উপপাদ্য জনপ্রিয় করে তোলে। এভাবে হাজার বছরের ইতিহাসে উপপাদ্যটি খ্যাতি পায় পিথাগোরাসের নামে।
সূত্র: আইএফএলসায়েন্স ডটকম, লাইভ সায়েন্স, স্প্রিঙ্গার, উইকিপিডিয়া
একটা মাকড়সা খুব বেশি লোভ করলে
একটি পাখিকে বন্দী করতে পারে
একটি বিড়াল খুব বেশি লোভ করলে
একটা পায়রাকে মুখে ভরতে পারে
একটা সিংহ খুব বেশি লোভ করলে
একটি হাতি কিংবা জিরাফকে আহার করতে পারে
কিন্তু হে রাষ্ট্রনায়ক;
তুমি লোভ করলে
গোটা দেশ কম পড়ে যায়।
- (রাজীব মৌলিক)
নিজেকে ক্ষুদ্র মনে করাই ক্ষুদ্রতা।তুমি ক্ষুদ্র নও।আফ্রিকান একটি প্রবাদ আছে,If you think you are too small to make a differense,try sleeping with a mosquito. একটা মশা তোমার চেয়েও ক্ষুদ্র,তবে তোমার ঘুম হারাম করে দিতে পারে।মানুষ ক্ষুদ্র হয় তার কর্মে ও ভাবনায়। বড় হয় কর্মে ও ভাবনায়।
তুমি দেখি অভিনয় ও বোঝোনা, ফারায! হাত মেলালেই কি সবাই বন্ধু হয়!!
What goes around comes around.
“মানুষ তার স্বপ্ন ও চেষ্টার সমান বড়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Dhaka
Opening Hours
| Monday | 08:00 - 20:00 |
| Tuesday | 08:00 - 20:00 |
| Wednesday | 08:00 - 20:00 |
| Thursday | 08:00 - 20:00 |
| Saturday | 08:00 - 20:00 |
| Sunday | 08:00 - 20:00 |