we will be back soon!
alokito24.com
its a free educational page. For more practice please join our educational website: www.alokito24.com
contact us-017-920-88333.017-920-88444
ব্যর্থ সমাজ চিনবেন কিভাবে? ১২ টি লক্ষণ আছে যা দেখে আপনি ব্যর্থ সমাজ চিনতে পারবেন:
১. ব্যর্থ সমাজে মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞানে জেগে ওঠে না, জেগে ওঠে হুজুগে। সেখানে বই পড়া, মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞানচর্চার অভ্যাস কম থাকে।
২. ব্যর্থ সমাজে মানুষ অর্থহীন সস্তা বিনোদনের পিছনে ছোটে। ফলে সস্তা বিনোদন দিয়েও এক শ্রেণীর মানুষ রাতারাতি প্রচুর জনপ্রিয়তা পায়।
৩. ব্যর্থ সমাজে দুর্নীতিবাজদের সবচেয়ে সফল মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয়। লোকের চোখে তারাই রোল মডেল।
৪. ব্যর্থ সমাজে অশিক্ষিতরা আপনার ভাগ্য নির্ধারণ করার দায়িত্ব নেয়। মানুষ শিক্ষাকে কম, টাকা আর ক্ষমতাকে বেশি মূল্যায়ন করে।
৫. ব্যর্থ সমাজে প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষের বিপরীতে হাজার হাজার বোকার হদ্দ থাকে এবং প্রতিটি সচেতন শব্দের বিপরীতে থাকে শত শত পচনশীল শব্দ।
৬. ব্যর্থ সমাজে উদ্যোক্তার চেয়ে চাকরিজীবীর দাম বেশি হয়। সেখানে উদ্যোক্তাদের কেউ সম্মান করে না।
৭. ব্যর্থ সমাজে চিন্তাশীল ব্যক্তির মূল্য বা ওজন কেউ বোঝে না। যে কঠিন সত্য বলে বাস্তবতাকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করে তাকে কেউ গ্রহণ করে না।
৮. ব্যর্থ সমাজে তরুণ প্রজন্মের সামনে মহৎ কোনো লক্ষ্য থাকে না। যুবসমাজ সেখানে শর্টকাটে বড়লোক হবার রাস্তা খোঁজে।
৯. ব্যর্থ সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হয় নির্বোধ। সমাজের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ আলোচনায় মেতে থাকে, মূল টপিকগুলো হারিয়ে যায়।
১০. ব্যর্থ সমাজে অর্থহীন তত্ত্ব দিয়ে মানুষকে দিনের পর দিন নেশাগ্রস্ত করে রাখা হয়। লোকজন এই নেশা কাটিয়ে উঠে সৃষ্টিশীল কাজে মনোনিবেশ করতে পারে না।
১১. ব্যর্থ সমাজে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবার একটি করে মতামত থাকে, কারণ সবাই সেখানে সবজান্তা!
১২. ব্যর্থ সমাজে মানুষ সমস্যার উপর দিয়ে ভেসে বেড়ায়, কিন্তু গভীরে প্রবেশ করতে পারে না। সমস্যা সমাধানের চেয়ে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে সবাই বেশি সিদ্ধহস্ত
Collected :
06/04/2025
জাপানে পড়তে যাওয়া এক ছাত্রী একদিন ফোনে বলল, "বড়োই ল'জ্জায় আছি।"
- "কেন কী হয়েছে?"
- "ড্রইং ক্লাসে ড্রইং বক্স নিয়ে যাইনি।"
- "তো?"
- "জাপানি স্যার একটা বড় শিক্ষা দিয়েছেন।"
- "কী করেছেন?"
- "আমার কাছে এসে ক্ষমা চেয়েছেন। বলেছেন, আজ যে ড্রইং বক্স নিয়ে আসতে হবে, তা স্মরণে রাখার মতো জোর দিয়ে তিনি আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারেননি।
তাই তিনি দুঃখিত।"
- "হুম।"
- "আমি তো আর কোনদিন ড্রইং বক্স নিতে ভুলবো না। আজ যদি তিনি আমাকে ব'কতেন বা অন্য কোন শা'স্তি দিতেন, আমি হয়তো কোনও একটা মিথ্যা অজুহাত দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতাম।"
জাপানি দল বিশ্বকাপে হেরে গেলেও জাপানি দর্শকরা গ্যালারি পরিষ্কার করে তবেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন।
এ আবার কেমন কথা?
এটা কি কোনো পরাজয়ের ভাষা! হেরেছিস যখন রেফারির গুষ্টি তুলে গা*লি দে। বলে দে পয়সা খেয়েছে। বিয়ারের ক্যান, কোকের ক্যান, চিনাবাদামের খোসা যা পাস ছুঁড়ে দে। দুই দিন হরতাল ডাক। অন্তত বুদ্ধিজীবীদের ভাষায় এটা তো বলতে পারিস যে, খেলোয়াড় নির্বাচন ঠিক হয়নি, এতে সরকার বা বি'রোধী দলের হাত আছে।
দ্বিতীয় মহাযু*দ্ধে হেরে গিয়ে জাপানের সম্রাট হিরোহিতো আমেরিকার প্রতিনিধি ম্যাক আর্থারের কাছে গেলেন। প্রতীকী হিসাবে নিয়ে গেলেন এক ব্যাগ চাল। হারিকিরির ভঙ্গিতে হাঁটু গেড়ে মাথা পেতে দিয়ে বললেন, "আমার মাথা কে'টে নিন আর এই চালটুকু গ্রহণ করুন। আমার প্রজাদের রক্ষা করুন। ওরা ভাত পছন্দ করে। ওদের যেন ভাতের অভাব না হয়।"
আরে ব্যাটা, তুই যু*দ্ধে হেরেছিস, তোর আত্মীয়স্বজন নিয়ে পালিয়ে যা। তোর দেশের চারিদিকেই তো জল। নৌপথে কিভাবে পালাতে হয় আমাদের ইতিহাস (লক্ষণ সেন) থেকে শিখে নে। কোরিয়া বা তাইওয়ান যা। ওখানকার 'মীর জা*ফর'-দের সাথে হাত মেলা। সেখান থেকে হুঙ্কার দে। সম্রাট হিরোহিতোর এই আচরণ আমেরিকানদের পছন্দ হল। দ্বিতীয় মহাযু*দ্ধের কুখ্যাত মহানায়কদের মধ্যে কেবলমাত্র হিরোহিতোকেই বিনা আঘাতে বাঁচিয়ে রাখা হলো ।
২০১১ সালের ১১ই মার্চ। সুনামির আগাম বার্তা শুনে এক ফিশারি কোম্পানির মালিক সাতো সান প্রথমেই বাঁচাতে গেলেন তার কর্মচারীদের। হাতে সময় আছে মাত্র ৩০ মিনিট। প্রায়োরিটি দিলেন বিদেশি (চাইনিজ)-দের। একে একে সব কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে পাশের উঁচু টিলায় নিজে পথ দেখিয়ে গিয়ে রেখে এলেন। সর্বশেষে গেলেন তার পরিবারের খোঁজ নিতে। ইতিমধ্যে সুনামি এসে হাজির। সাতো সানকে চোখের সামনে কোলে তুলে ভাসিয়ে নিয়ে গেল সুনামি। আজও খোঁজহীন হয়ে আছেন তার পরিবার (ইসস!!! সাতো সান যদি একবার আমাদের প্রমোটারের সাথে দেখা করার সুযোগ পেতেন)। সাতো সান অমর হলেন চায়নাতে। চাইনিজরা দেশে ফিরে গিয়ে শহরের চৌরাস্তায় ওনার প্রতিকৃতি বানিয়ে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।
নয় বছরের এক ছেলে। স্কুলে ক্লাস করছিল। সুনামির আগমনের কথা শুনে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানালো এবং সব ছাত্রদের নিয়ে তিন তলায় জড়ো করলো। তিন তলার ব্যালকনি থেকে দেখলো তার বাবা স্কুলে আসছে গাড়ি নিয়ে। গাড়িকে ধাওয়া করে আসছে ফোসফোসে জলের সৈন্য দল। গাড়ির স্পিড জলের স্পিডের কাছে হার মেনে গেল। চোখের সামনে নেই হয়ে গেল বাবা। সৈকতের কাছেই ছিল তাদের বাড়ি। শুনলো, মা আর ছোট ভাই ভেসে গেছে আরো আগে। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে ছেলেটি আশ্রয় শিবিরে উঠল। শিবিরের সবাই খিদে আর শীতে কাঁপছে। ভলান্টিয়াররা রুটি বিলি করছেন। আশ্রিতরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ছেলেটিও আছে।
এক বিদেশী সাংবাদিক দেখলেন, যতখানি খাদ্য (রুটি) আছে তাতে লাইনের সবার হবে না। ছেলেটির কপালে জুটবে না।সাংবাদিক সাহেব তার কোট পকেটে রাখা নিজের ভাগের রুটি দুটো ছেলেটিকে দিলেন। ছেলেটি ধন্যবাদ জানিয়ে রুটি গ্রহণ করল, তারপর যেখান থেকে রুটি বিলি হচ্ছিল সেখানেই ফেরত দিয়ে আবার লাইনে এসে দাঁড়াল।
সাংবাদিক সাহেব কৌতূহল চাপতে পারলেন না। ছেলেটিকে জিজ্ঞাস করলেন, "এ কাজ কেন করলে খোকা ?"
খোকা উত্তর দিল "বন্টন তো ওখান থেকে হচ্ছে। ওদের হাতে থাকলে, বন্টনে সমতা আসবে। তাছাড়া লাইনে আমার চেয়েও বেশি ক্ষুধার্ত লোকও তো থাকতে পারে।"
সহানুভুতিশীল হতে গিয়ে বন্টনে অসমতা এনেছেন, এই ভেবে সাংবাদিক সাহেবের পা*পবোধ হল। এই ছেলের কাছে কী বলে ক্ষমা চাইবেন ভাষা হারালেন তিনি।
যাদের জাপান সম্পর্কে ধারণা আছে তারা সবাই জানেন, যদি ট্রেনে বা বাসে কোনো জিনিস হারিয়ে যায়, অনেকটা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। ঐ জিনিস আপনি অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাবেন।
গভীর রাতে কোনো ট্রাফিক নেই, কিন্তু পথচারীরা ট্রাফিক বাতি সবুজ না হওয়া পর্যন্ত পথ পার হচ্ছেন না।
ট্রেনে বাসে টিকিট ফাঁকি দেওয়ার হার প্রায় শূণ্যের কোঠায়।
একবার ভুলে ঘরের দরজা লক না করে এক ভারতীয় দেশে গেলেন। মাস খানেক পর এসে দেখেন, যেমন ঘর রেখে গেছেন, ঠিক তেমনই আছে।
এই শিক্ষা জাপানিরা কোথায় পান?
সামাজিক শিক্ষা শুরু হয় কিন্ডারগার্টেন লেভেল থেকে।
সর্বপ্রথম যে তিনটি শব্দ এদের শেখানো হয় তা হল -
*কননিচিওয়া* (হ্যালো)
- পরিচিত মানুষকে দেখা মাত্র 'হ্যালো' বলবে।
*আরিগাতোউ* (ধন্যবাদ)
- সমাজে বাস করতে হলে একে অপরকে উপকার করবে। তুমি যদি বিন্দুমাত্র কারো দ্বারা উপকৃত হও তাহলে ধন্যবাদ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।
*গোমেননাসাই* (দুঃখিত)
- মানুষ মাত্রই ভুল করে এবং সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে।
এগুলো যে স্কুলে শুধু মুখস্ত করে শেখানো হয় তা নয়। বাস্তবে শিক্ষকরা প্রোএক্টিভলি সুযোগ পেলেই এগুলো ব্যবহার করেন এবং করিয়ে ছাড়েন।
সমাজে এই তিনটি শব্দের গুরুত্ব কত তা নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পারছেন। এই শিক্ষাটা এবং প্র্যাকটিসটি ওরা বাল্যকাল থেকে করতে শেখে।
আমাদের দিক নির্দেশকেরা তাদের বাল্যকালটা যদি কোনও রকমে জাপানের কিন্ডারগার্টেনে কাটিয়ে আসতে পারতেন তাহলে কী ভালোটাই না হতো! কিন্ডারগার্টেন থেকেই স্বনির্ভরতার ট্রেনিং দেওয়া হয়।
সমাজে মানুষ হিসাবে বসবাস করার জন্য যা যা দরকার অর্থাৎ নিজের বই-খাতা, পোষাক, খেলনা, বিছানা সব নিজে গোছানো। টয়লেট ব্যবহার করে নিজেই পরিষ্কার করা। খাবার খেয়ে নিজের খাবারের প্লেট নিজেই ধুয়ে ফেলা ইত্যাদি।
প্রাইমারী স্কুল থেকে এরা নিজেরা দল বেঁধে স্কুলে যায়। দল ঠিক করে দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ট্রাফিক আইন, বাস-ট্রেনে চড়ার নিয়ম কানুন সবই শেখানো হয়।
আপনার গাড়ি আছে, বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসতেই পারেন, কিন্তু উল্টে আপনাকে লজ্জা পেয়ে আসতে হবে।
ক্লাস সেভেন থেকে সাইকেল চালিয়ে তারা স্কুলে যায়।
ক্লাসে কে ধনী, কে গরীব, কে প্রথম, কে দ্বিতীয় এসব বৈষম্য যেন তৈরি না হয় তার জন্য যথেষ্ট সতর্ক থাকেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
ক্লাসে রোল নং ১ মানে এই নয় যে একাডেমিক পারফরম্যান্স সবচেয়ে ভাল। রোল নং তৈরি হয় নামের বানানের আদ্যাক্ষরের ক্রমানুসারে।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমস্ত আইটেমগুলো থাকে গ্রুপ পারফরম্যান্স দেখার জন্য, ইন্ডিভিজুয়েল নয়।
সারা স্কুলের ছেলে মেয়েদের ভাগ করা হয় কয়েকটা গ্রুপে। সাদা দল, লাল দল, সবুজ দল ইত্যাদি। গ্রুপে কাজ করার ট্রেনিংটা ছাত্রছাত্রীরা পেয়ে যায় স্কুলের খেলাধুলা জাতীয় এ্যাক্টিভিটি থেকে।
এই জন্যই হয়তো জাপানে তথাকথিত 'লিডার' তৈরি হয় না কিন্তু এরা সবাই এক একজন বড় লিডার!
(লেখাটি ড. আশির আহমেদের জাপান কাহিনি ১ম খন্ড থেকে নেয়া)
#জীবন_চক্র
23/11/2024
𝙏𝙝𝙧𝙚𝙚 𝙎𝙩𝙤𝙧𝙞𝙚𝙨 𝙩𝙤 𝙗𝙤𝙤𝙩:
1. Nokia refused Android
2. Yahoo rejected Google
3. Kodak refused Digital Cameras
𝙇𝙚𝙨𝙨𝙤𝙣𝙨:
1. Take chances
2. Embrace the Change
3. If you refuse to change with time, you'll become outdated
𝙏𝙬𝙤 𝙢𝙤𝙧𝙚 𝙨𝙩𝙤𝙧𝙞𝙚𝙨:
1. Facebook takes over whatsapp and instagram
2. Grab takes over Uber in Southeast Asia
Lessons:
1. Become so powerful that your competitors become your allies
2. Reach the top and eliminate the competition.
3. Keep on innovating
𝙏𝙬𝙤 𝙢𝙤𝙧𝙚 𝙨𝙩𝙤𝙧𝙞𝙚𝙨:
1. Colonel Sanders founded KFC at 65
2. Jack Ma, who couldn't get a job at KFC, founded Alibaba and retired at the age of 55.
𝙇𝙚𝙨𝙨𝙤𝙣𝙨:
1. Age is merely a number
2. Only those who keep trying will succeed
𝙇𝙖𝙨𝙩 𝙗𝙪𝙩 𝙣𝙤𝙩 𝙡𝙚𝙖𝙨𝙩:
Lamborghini was founded as a result of revenge from a tractor manufacturer who was insulted by Ferrari founder Enzo Ferrari.
𝙇𝙚𝙨𝙨𝙤𝙣𝙨:
Never underestimate anyone, Ever!
✅Just keep working hard
✅Invest your time wisely
✅Don't be afraid to fail
collected :
01/07/2024
গল্প-১
বাবা গোসলে, মা রান্না ঘরে আর ছেলে টিভি দেখছিল। এমন সময় দরজায় ঘণ্টা বাজল। ছেলে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখল, পাশের বাসার করিম সাহেব দাঁড়িয়ে।
ছেলে কিছু বলার আগেই করিম সাহেব বললেন, ‘আমি তোমাকে ৫০০ টাকা দেব, যদি তুমি ১০ বার কান ধরে উঠবস কর।’
বুদ্ধিমান ছেলে অল্প কিছুক্ষণ চিন্তা করেই কান ধরে উঠবস শুরু করল, প্রতিবার উঠবসে ৫০ টাকা বলে কথা।
শেষ হতেই করিম সাহেব ৫০০ টাকার নোট ছেলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।
বাবা বাথরুম থেকে বের হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে ছিল দরজায়?’
‘পাশের বাসার করিম সাহেব’, উত্তর দিল ছেলে।
‘ও’, বললেন বাবা, ‘আমার ৫০০ টাকা কি দিয়ে গেছেন?’
শিক্ষণীয়বিষয়
আপনার ধারদেনার তথ্য শেয়ারহোল্ডারদের থেকে গোপন করবেন না। এতে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে রক্ষা পাবেন।
গল্প-২
সেলসম্যান, অফিস ক্লার্ক ও ম্যানেজার দুপুরে খেতে যাচ্ছিলেন। পথে তাঁরা একটি পুরোনো প্রদীপ পেলেন।
তাঁরা ওটাতে ঘষা দিতেই দৈত্য বের হয়ে এল।
দৈত্য বলল, ‘আমি তোমাদের একটি করে ইচ্ছা পূরণ করব।’
‘আমি আগে! আমি আগে!’ বললেন অফিস ক্লার্ক, ‘আমি বাহামা সমুদ্রপারে যেতে চাই, যেখানে অন্য কোনো ভাবনা থাকবে না, কাজ থাকবে না।’
‘ফুঃ...!!’ তিনি চলে গেলেন।
‘এরপর আমি! এরপর আমি!’ বললেন সেলসম্যান, ‘আমি মায়ামি বিচে যেতে চাই, যেখানে শুধু আরাম করব।’
‘ফুঃ...!!’ তিনিও চলে গেলেন।
‘এখন তোমার পালা’, দৈত্য ম্যানেজারকে বলল।
ম্যানেজার বললেন, ‘আমি ওই দুজনকে আমার অফিসে দেখতে চাই।’
শিক্ষণীয়বিষয়
সব সময় বসকে আগে কথা বলতে দেবেন। তা না হলে নিজের কথার কোন মূল্য থাকবে না।
গল্প-৩
একটি ইগল গাছের ডালে বসে আরাম করছিল।
এমন সময় একটি ছোট খরগোশ ইগলটিকে দেখে জিজ্ঞেস করল, ‘আমিও কি তোমার মতো কিছু না করে এভাবে বসে আরাম করতে পারি?’
ইগল উত্তর দিল, ‘অবশ্যই, কেন পারবে না।’
তারপর খরগোশটি মাটিতে এক জায়গায় বসে আরাম করতে থাকল। হঠাত্ একটি শিয়াল এসে হাজির, আর লাফ দিয়ে খরগোশকে ধরে খেয়ে ফেলল।
শিক্ষণীয়বিষয়
যদি কোনো কাজ না করে বসে বসে আরাম করতে চান, তাহলে আপনাকে অনেক ওপরে থাকতে হবে।
গল্প-৪
একটি মুরগি ও একটি ষাঁড় আলাপ করছিল।
‘আমার খুব শখ ওই গাছের আগায় উঠব, কিন্তু আমার এত শক্তি নেই’, মুরগিটি আফসোস করল।
উত্তরে ষাঁড়টি বলল, ‘আচ্ছা, তুমি আমার গোবর খেয়ে দেখতে পার, এতে অনেক পুষ্টি আছে।’
কথামতো মুরগি পেট পুরে গোবর খেয়ে নিল এবং আসলেই দেখল সে বেশ শক্তি পাচ্ছে। চেষ্টা করে সে গাছের নিচের শাখায় উঠে পড়ল।
দ্বিতীয় দিন আবার খেল, সে তখন এর ওপরের শাখায় উঠে গেল।
অবশেষে চার দিন পর মুরগিটি গাছের আগায় উঠতে সক্ষম হলো।
কিন্তু খামারের মালিক যখন দেখলেন মুরগি গাছের আগায়, সঙ্গে সঙ্গে তিনি গুলি করে তাকে গাছ থেকে নামালেন।
শিক্ষণীয়বিষয়
ফাঁকা বুলি (বুল শিট) হয়তো আপনাকে অনেক ওপরে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু আপনি বেশিক্ষণ ওখানে টিকে থাকতে পারবেন না।
গল্প-৫
একটি পাখি শীতের জন্য দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু এত ঠান্ডা ছিল যে পাখিটি শীতে জমে যাচ্ছিল এবং সে একটি বড় মাঠে এসে পড়ল।
যখন সে মাঠে পড়ে ছিল, একটি গরু তার অবস্থা দেখে তাকে গোবর দিয়ে ঢেকে দিল। কিছুক্ষণ পর পাখিটি বেশ উষ্ণ অনুভব করল। যখন গোবরের গরমে সে খুব ঝরঝরে হয়ে উঠল, আনন্দে গান গেয়ে উঠল।
এমন সময় একটি বিড়াল পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, পাখির গান শুনে খুঁজতে লাগল কোথা থেকে শব্দ আসে। একটু পরই সে গোবরের কাছে আসে এবং সঙ্গে সঙ্গে গোবর খুঁড়ে পাখিটিকে বের করে তার আহার সারে।
শিক্ষণীয়বিষয়
১. যারা আপনার ওপর কাদা ছোড়ে, তারা সবাই-ই আপনার শত্রু নয়।
২. যারা আপনাকে পঙ্কিলতা থেকে বের করে আনে, তারা সবাই-ই আপনার বন্ধু নয়।
৩. এবং যখন আপনি গভীর পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত, তখন মুখ বেশি না খোলাই শ্রেয়।
Collected
একেকজন ক্রিকেটারের বেতন ৭,৮,৯,১০ লাখ টাকা। এদের অনেকে ইন্টারমিডিয়েটও পাশ করেনি।
কেউ কেউ হয়তো প্রাইভেট পরীক্ষা টরিক্ষা দিয়া কোনোমতে গ্রাজুয়েশন করেছে।
এই ডাংগুলি খেলার বাইরে তাদের অধীকাংশেরই এমন কোনো যোগ্যতা নাই যা দিয়ে তারা ৫০ হাজার টাকা বেতনের একটা চাকরি জুটাবে। একই কথা প্রযোজ্য ফুটবলসহ বিনোদন জগতের নানা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও।
যাদের একমাত্র কাজ হলো মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস 'সময়' নষ্ট করা, মানুষকে মোহগ্রস্ত করে মস্তিষ্ককে অলস অকর্মণ্য করে রাখা।
এদের এত বিরাট অংকের টাকা কেন দেওয়া হয়? কেন এসব অর্থহীন কাজ করে এরা কোটি কোটি টাকা উপার্জনের সুযোগ শাসনযন্ত্র কেন করে দেয় জানেন?
উদ্দেশ্যগুলো হলো:
১. জনগণকে এন্টারটেইন্ড বা বিনোদিত রাখা। মানুষের বস্তুগত মৌলিক প্রয়োজন কোনোমতে পুরণ হলে মানুষের প্রয়োজন হয় মানসিক চাহিদা পুরণের। এটাই বিনোদন। এই বিনোদনের ধরণ কেমন হবে তা নির্ধারিত হয় ব্যক্তির শিক্ষাদীক্ষা, রুচিবোধ, বেড়ে ওঠা ও পারিপার্শ্বিকতা দিয়ে।
২. জনগণ যেন এসব ফালতু কাজে মেতে থাকে এবং উপকারী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ না পায়, কিংবা জ্ঞান অর্জনের মানসিকতাই যেন তাদের মাঝে গড়ে না ওঠে এবং এসব নীচু লেভেলের অর্থহীন আকাজের মধ্যে নিজের ব্যস্ত রাখে।
৩. কারণ জনগণ যদি সচেতন ও শিক্ষিত হয়ে ওঠে তাহলে তা শাসক ও তাদের সুবিধাভোগীদের জন্য বিপদ। তাই জনগণকে এসব ফালতু কাজের মধ্যে যত বেশি নিমগ্ন রাখা যায় ততই তাদের জন্য ভালো।
আর রাজ্য, শাসন কর্তৃত্ব নিষ্কণ্টক করার জন্য কি দুই চার পাঁচ শ কোটি টাকা কোনো ব্যাপার? এগুলো তো তাদের বাপের ভিটা বিক্রি করে এনে দিতে হয় না। হাড় ভাঙা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স আর জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়েই তো এগুলো দেওয়া হয়।
ভাবুন, যে দেশে লক্ষ লক্ষ যুবক ২০ ৩০ হাজার টাকার একটা চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ায়, আত্মহত্যা পর্যন্ত করে, সেই দেশেই প্রশাসন ও শাসক কর্তৃপক্ষের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে আর জনগণ রাত দিন জনগণ ডাংগুলি খেলা দেখতেছে। কী আলিম উলামা, কী ছাত্র শিক্ষক, কী চাকরিজীবি, কী মাছ সবজি বিক্রেতা!
আপনি যদি না জাগেন ভাই কেমনে সকাল হবে?
-আহমেদ রফিক (c)
আমি আর কবিতা লিখবো না।
আমি এখন ইতিহাস লিখব, একটা যুগের ইতিহাস ,একটা জাতির ইতিহাস।
ইতিহাসের প্রথম পাতায় আমি কিছুই না লিখে ,সেখানে এক জোড়া জুতো এনে রেখে দেব।
সেই জুতো ,
যে গুলো মানুষ চুরি হয়ে যাওয়া ভয়ে উপাসনা করার সময় উপাসনালয়ের ভিতরে নিয়ে রাখতে হয়।
পরবর্তী প্রজন্ম এগুলো দেখেই বুঝতে পারবে আমাদের চরিত্র কেমন ছিল।
আমি গ্রামের বাজারে গিয়ে দশজন গিরস্তের কাছ থেকে দশ ফোঁটা দুধ কিনে এনে রেখে দেব এখানে।
আমি জানি ,রহস্য উদঘাটনের জন্য মানুষ এগুলোকে রান্না করা শুরু করবে।
অনেকক্ষণ রান্না করার পরও যখন এখান থেকে মালাই হবে না, দই মাখন হবে না, মানুষ তখন বুঝতে পারবে আমাদের বেচাকেনার মান কেমন ছিল, ব্যবসায়ীক নৈতিকতা কেমন ছিল।
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সুন্দর ও চাকচিক্যময় কিছু উপাসনালয়কে আমি রেখে দেব এর ভিতর।
ইতিহাস পাঠকরা যখন দেখবে উপাসনালয় গুলো সোনা রুপা মোড়ানো, আর উপাসনালয়ের সামনে বসে থাকা ভিক্ষুকদের কারো মুখে খাবার নেই ,কারো গায়ে পোশাক নেই।
পাটকরা তখন আমাদের ধর্মীয় জ্ঞান এবং গোড়ামী দুটো সম্বন্ধেই পরিষ্কার ধারণা লাভ করতে পারবে।
আমি টাটকা নতুন কয়েকটা ১০০ টাকার নোট এনে ইতিহাস বইয়ের পাতার সাথে গেঁথে রেখে দেব।
এটা দেখে পাঠকরা প্রথমে কিছু বুঝতে পারবে না, ভালো করে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখার পর তারা লক্ষ্য করবে যে ,প্রতিটি টাকার এক কোনে পোড়া। তখন তারা বুঝতে পারবে এগুলো দিয়ে যুবকরা নেশা করত।
আমি হাসপাতাল থেকে ইচ্ছে করে ফেলে দেওয়া কিছু ভ্রুন, খাল, বিল, জঙ্গল থেকে ফেলে দেওয়া নবজাতকের কিছু রক্ত মাংস হাড় এনে রেখে দেব এখানে।
বইয়ের পাতা খুলতেই ওরা কান্না শুরু করে দেবে, ওরা চিৎকার করে বলবে আমরা নির্দোষ ছিলাম , আমাদেরকে অন্যায় ভাবে হত্যা করেছিল ওরা।
ওদের কথা শুনে জ্ঞানী মূর্খ সবাই আমাদের বর্বরতা সম্বন্ধে অনুমান করতে পারবে।
বন্দিসহ আস্ত একটা জেলখানা এনে আমি রেখে দেবো এর ভিতর।
মানুষেরা যখন দেখবে এর ভিতর কোন অপরাধী নেই,আছে শুধু রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার এবং ক্ষমতাসীনদের চক্রান্তে স্বীকার কিছু নিরপরাধ মানুষ।
তখন বুঝতে পারবে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থা এবং বিচার ব্যবস্থা কেমন ছিল।
কোন এক সুন্দরী বধুর সুন্দর হাতে লেখা একটা প্রেমের চিঠি এনে রেখে দেবো এখানে।
চিঠির ভাষায় মানুষ আবেগ আপ্লুত হয়ে যাবে, তবে চিঠির ঠিকানা দেখার পর সবাই হতভম্ব হয়ে যাবে।
মানুষ যখন দেখবে এ চিঠি বধু তার স্বামীকে লিখেনি ,লিখেছে তার গোপন প্রেমিককে, তখন তারা আমাদের পারিবারিক অবস্থার কথা ভালোভাবে বুঝতে পারবে।
একজন পিতা আরেকজন পুত্রকে এনে রেখে দেবো এখানে আমি।
মানুষ যখন দেখবে বৃদ্ধ পিতা বৃদ্ধাশ্রমে পড়ে কাঁদছে, কিন্তু তার সম্পদশালী ছেলে তার কোন খোঁজ খবর নিচ্ছে না, তখন তারা আমাদের স্নেহপরায়ণতা ও দায়িত্বশীলতা সম্বন্ধে জানতে পারবে।
আমি বিশ্বকাপসহ বড় বড় কিছু প্রতিযোগিতার পুরস্কারের ট্রফি থেকে কিছু সোনা রুপা এনে রেখে দেবো এখানে।
ইতিহাস পাঠকরা যখন দেখবে দুনিয়া জুড়ে অসংখ্য মানুষ খাদ্য পানীয় এবং চিকিৎসার অভাবে ভুগছে, কিন্তু মানুষেরা এদিকে দৃষ্টিপাত না করে সবাই প্রতিযোগিতার ট্রফি নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে, পাঠকরা তখন আমাদের বুদ্ধি বিবেকের জীর্ণতা ও রুগ্নতা সম্বন্ধে ধারণা করতে পারবে।
শিক্ষাগুরুর যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করা কোন এক কিশোরীর ফাঁসির দড়িটা এনে রেখে দেবো আমি। সাথে তার লেখা চিরকুটটিও থাকবে।
ইতিহাস পাঠকরা চিরকুটটি পড়ে যা বোঝার তাই বুঝবে।
রাস্তার ধারে পড়ে থাকা মা হয়ে যাওয়া পাগলিটাকেও আনবো আমি।
ইতিহাস পাঠক পাগলীর পেটে থাকা বাচ্চার বাবার সন্ধান না পেয়ে, বুঝতে পারবে সে যুগে নারীর ইজ্জত কতটা নিরাপদ ছিল।
সর্বশেষ পাতায় আমি আমার কলমটা রেখে দেবো।
মানুষেরা কলমটি হাতে নেওয়ার পর যখন এটার মধ্য থেকে কালি না পড়ে চোখের পানি পড়বে ,রক্ত পড়বে,তখন তারা বুঝতে পারবে সে যুগে সত্য কথা বলার কলম এবং কবি কোনটাই নিরাপদ ছিল না।
তিক্ত ইতিহাস
Copy ..
সারাজীবন ইন্দিরা গান্ধীকে মহাত্মা গান্ধীর মেয়ে ভাবার পর একদিন যখন শুনি ইন্দিরা গান্ধী নেহেরুর মেয়ে তখন আমার ভেতর থেকে কে যেন তিরস্কার করে বলে ওঠে "বাহ মচৎকার তোমার ইতিহাস পাঠ!"🙂
এত বই পড়ে যখন শুনি ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়,মারিও পুজো,
এরিক মারিয়া রেমার্ক নারী না, বরং এরা সবাই চিবিওয়ালা পুরুষ মানুষ তখন কেমনডা লাগে!🙂
ভাস্কর শামীম শিকদারকে পছন্দ করতেন আহমদ ছফা।
এটা জানার পর ছফাকে হোমো হোমো করে চিল্লাইয়া গালমন্দ করে যখন শুনি শামীম শিকদার পোলা না, জলজ্যন্ত মাইয়া তখন আমি বি লাইক, “কী আর কৈয়াম, হরলিক্সের বৈয়াম"🙂
আবার শরৎচন্দ্রের বই শুভদা নাম দেখে ভেবেছিল শুভ দাদা নামে কাউকে নিয়ে লেখা, পরে দেখি এটা পুরুষ চরিত্রের নাম ই না।
শুভ দা আসলে একটা বেডি মানুষ।
তখুনি বুঝছি কেন শরৎচন্দ্রের ছদ্মনাম অনীলা দেবী খুব ই স্বাভাবিক ব্যাপার🙂
মেরী শেলি আর পি বি শেলি যে দুইজন সেটাও জেনেছি বহুকাল পর।বারবার ভাবতাম বইয়ের টাইপ মিস্টেক।
পরে দেখি টাইপ মিস্টেক ফিস্টেক কিছু না বরং আমার ই জ্ঞান মিস্টেক।😐
26/05/2023
"চোখের সামনে পুরো একটা প্রজন্ম মেধাহীন"
‘কুত্তার বাচ্চা ফুটফুটে সুন্দর’ গানটির লেখক কুয়াশা মুর্খ, গায়ক ফকির সাহেব গানটি উপস্থাপন করেছেন মূলত বোবা প্রাণী কুকুরের বিশ্বস্ততা, সরলতা, নিষ্পাপ কুকুরের প্রতি মায়া প্রকাশে। একইসাথে গানটি অসৎ ব্যক্তি/মানুষের কর্ম এবং কুকুরের মধ্যে তফাৎ করে বুঝানো হয়েছে কুকুর ঐসব মানুষের তুলনায় ভালো, লয়াল এবং কারোর কোন ক্ষতি করে না৷
অথচ, আমাদের প্রজন্ম করলো কি? গানটিকে তারা একরকম গালি হিসেবে সর্বত্র ব্যবহার করে বেড়াচ্ছে।
সম্প্রতি কোক স্টুডিও বাংলার প্রিতম হাসানের দেওরা গানটি বেশ জনপ্রিয় হয়। গানটিতে একটি লাইন হলো - ‘হাত ছাইরা দ্যাও সোনার দ্যাওরা রে’!
এই গান ও লাইটিকে আমাদের প্রজন্ম ধরে নিয়েছে অশ্লীলতা হিসেবে। অথচ এই গানটি নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করেই মূলত তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘক্ষণ এক টানা বাইচের নৌকায় বৈঠা চালাতে হলে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন পড়ে। মূলত গ্রামের তরুন এবং জোয়ানরাই এই কাজ করেন। নৌকা বাইচ দেখতে সব বয়সী মানুষের সাথে গ্রামের ভাবীরাও আসে। তো এক টানা বৈঠা বাইতে বাইতে যখন হাত ব্যাথা হয়ে যাচ্ছে, তখন দেবর বলছে- ‘হাতে লাগে ব্যাতা রে’। আর ভাবী বলছে - ‘হাত ছাইরা দ্যাও সোনার দ্যাওরা রে’। অর্থাৎ, হাত ছেড়ে আরো জোরে বৈঠা দাও!
‘দেওরা’ মূলত দুপক্ষের সংলাপের মধ্য দিয়ে সংগঠিত একটি পালাগান (সারিগান, জাগগান)। গানটির মূল রচয়িতা ফজলুল হক, তিনি পেশায় একজন কৃষক ও মাঝি। পালাগানের নাট্যরস, স্বতন্ত্র ভঙ্গিমাকেই তুলে ধরা হয় গানটিতে। তাছাড়া, গানটিতে কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষার টোনও রয়েছে।
অথচ, আমাদের জেনারেশন গানটার সারমর্ম চিন্তা করেছে এমন - ‘খারাপ উদ্দেশ্যে ভাবীর হাত ধরেছে দেবর, তাই ভাবী হাতে ব্যথা পেয়েই হাত ছেড়ে দিতে বলছে’! বুঝেন অবস্থা?!
নিউজে দেখলাম - টেলিগ্রামে বাংলাদেশী তরুণদের সোয়া ৪ লাখ সদস্যদের একটা গ্রুপ আছে, যারা মেয়েদের অনুমতিহীন ন্যুড ভিডিও ধারণ/সংগ্রহ করে সেগুলো অন্যের কাছে বিক্রি করতো, আবার সেসব দিয়ে ব্লাকমেইল করে অর্থ আত্মসাৎ করতো। চক্রটি ইন্টারনেটে ছড়িয়েছে ২০ হাজার আপত্তিকর ভিডিও এবং ৩০ হাজার ছবি।
যাইহোক। এই তো গেলো মাত্র ৪ লাখ সদস্যের কথা।
মাত্র ২০ বছর আগেও পিছিয়ে থাকা আজকের চীনের ইয়াং জেনারেশন যখন জ্ঞান বিজ্ঞান, শিক্ষা গবেষণায়, তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্বকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে; তখন আমাদের দেশের ইয়াং জেনারেশনের কাজ কি জানেন?
লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন - কে কার সাথে শুইলো, কে কার সাথে গেলো, কে কাকে জড়িয়ে ধরলো, কার সাথে কার ভাব হইলো, এগুলোই আমাদের দেশের মানুষ, জোয়ান, বৃদ্ধ সব বয়সীদের আলোচ্যের বিষয়। এসব লাইক শেয়ার কমেন্ট করে দেশের প্রায় প্রতিটা ছেলেমেয়েই যেনো একরকম পৈশাচিক আনন্দ পায়!
চায়নিজ শিক্ষার্থীরা যখন AI নিয়ে আমেরিকার সাথে প্রতিযোগিতা করছে, তখন আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা কার ন্যুডস ফাঁস করা যায় সেটা নিয়ে প্রতিযোগিতায় রয়েছে। চায়নিজ ছেলেমেয়েরা যখন মহাকাশে/মঙ্গল গ্রহে পৌঁছে গেছে, তখন আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা অন্যের কাপড়ের নিচ থেকেই বেরুতে পারেনি। চিন্তা করেছেন - আমাদের দৌঁড়, আমাদের রুচিবোধ, আমাদের ভিশন/মিশন কোথায় আটকে গেছে? আমরা কোথায় আর তারা কোথায়?!
বিশ্বে কতকি ঘটে যাচ্ছে, কতকি আবিষ্কার হচ্ছে, সমগ্র বিশ্বে AI, Robot, Machine Learning নিয়ে তমুল আলোচনা চলছে। AI platform সম্পূর্ণ ইম্প্রুভ করলে বিশ্বে কাজ হারাবে প্রায় ৩০-৫০ কোটি মানুষ।কিছু কি ভাবা যায়? এরসঙ্গে তাল মিলাতে আমরা কি করছি?!
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে হওয়ার কথা বিশ্বমানের। দেশে বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দুটাই বেড়েছে, অথচ আমরা অন্যের কাপড়ের নিচ থেকেই এখনো বেরুতে পারিনি, বিশ্বমঞ্চে ঠিক পৌঁছাবোই বা কিভাবে? কারোর মধ্যেই তথ্য প্রযুক্তি, জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে কোন আলোচনাই নেই!
- বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অশ্লীলতা ব্যতীত আর কোন কিছুর চর্চা নেই!
collect from ©Zahirul Alam Siddique
06/10/2022
সেই আদি আমল থেকে কচ্ছপ আর খরগোশের গল্প আমরা সবাই জানি। কিন্তু মজার বিষয় হল এই গল্পের আরো ৩ টি অধ্যায় আছে। যা হয়তো আমরা কেউ শুনেছি, কেউ শুনিনি।
১ম অধ্যায়ঃ এই অধ্যায়ে খরগোশ ঘুমিয়ে যায়, আর কচ্ছপ জিতে যায়। প্রথমবার হেরে যাওয়ার পর খরগোশ বিশ্লেষণ করে দেখল তার পরাজয়ের মূল কারণ 'অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস।' তার মানে অতি আত্মবিশ্বাস যে কারো জন্যই ক্ষতিকর। আর কচ্ছপ বুঝল, লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই!
২য় অধ্যায়ঃ হেরে যাওয়ার পর এবার খরগোশ আবারো কচ্ছপকে দৌড় প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জ করল আর কচ্ছপও রাজী হল। এবার খরগোশ না ঘুমিয়ে দৌড় শেষ করল এবং জয়ী হল। খরগোশ বুঝল, মন দিয়ে নিজের সামর্থের পুরোটা দিয়ে কাজ করলে দ্রুত সফল হওয়া যায়। আর কচ্ছপ বুঝল, ধীর স্থিরভাবে চলা ভালো, তবে কাজে উপযুক্ত গতি না থাকলে প্রতিযোগীতামূলক পরিবেশে জয়ী হওয়া অসম্ভব!
৩য় অধ্যায়ঃ কচ্ছপ এবার খরগোশকে আরেকবার দৌড় প্রতিযোগিতার আমন্ত্রন জানালো। খরগোশও নির্দ্বিধায় রাজী হয়ে গেল। তখন কচ্ছপ বলল, "একই রাস্তায় আমরা ২ বার দৌড়েছি, এবার অন্য রাস্তায় হোক।" খরগোশও রাজী। অতএব নতুন রাস্তায় দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হল। যথারীতি খরগোশ জোরে দৌড় শুরু করে দিল। কচ্ছপও তার পিছন পিছন আসতে শুরু করল। কচ্ছপ যখন খরগোশ এর কাছে পৌঁছাল, দেখল খরগোশ দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু দৌড়ের শেষ সীমানায় যেতে পারেনি। কারন দৌড়ের শেষ সীমানার আগে একটি খাল আছে। কচ্ছপ খরগোশ এর দিকে একবার তাকালো, তারপর তার সামনে দিয়ে পানিতে নেমে খাল পার হয়ে দৌড়ের শেষ সীমানায় পৌছে প্রতিযোগিতা জিতে গেল। খরগোশ বুঝল, শুধু নিজের শক্তির উপর নির্ভর করলেই হবে না, পরিস্থিতি আর বাস্তবতা অনুধাবন করাও ভীষণ প্রয়োজনীয়! আর কচ্ছপ বুঝল, প্রথমে প্রতিযোগীর দূর্বলতা খুজে বের করতে হবে, তারপর সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে।
গল্প কিন্তু এখানেই শেষ নয়
চতুর্থ অধ্যায়ঃ এবার খরগোশ কচ্ছপকে আরেকটি দৌড় প্রতিযোগিতার জন্য আহবান জানালো এই একই রাস্তায়। কচ্ছপ ও রাজী। কিন্তু এবার তারা ঠিক করল, প্রতিযোগী হিসেবে নয়, বরং এবারের দৌড়টা তারা দৌড়াবে সহযোগী হিসেবে!
শুরু হল প্রতিযোগিতা। খরগোশ কচ্ছপকে পিঠে তুলে দৌড়ে খালের সামনে গিয়ে থামলো। এবার কচ্ছপ খরগোশ এর পিঠ থেকে নেমে খরগোশকে নিজের পিঠে নিয়ে খাল পার হল। তারপর আবার কচ্ছপ খরগোশ এর পিঠে উঠে বাকী দৌড় শেষ করল আর এবার তার দু'জনই একসাথে জয়ী হল।
আমরা শিখলাম, ব্যক্তিগত দক্ষতা থাকা খুবই ভালো। কিন্তু দলবদ্ধ হয়ে একে অপরের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলেই আসে সত্যিকারের সাফল্য যেখানে সবাই বিজয়ীর হাসি হাসতে পারে।
- সংগৃহীত
আপনার সন্তান বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় টেকেনি, তারমানে এই নয় যে সে যথেষ্ট মেধাবী নয়। বরং ধরে নেন, সে একটা লটারীতে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু লটারী জিততে পারেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কি মেধা যাচাই প্রক্রিয়া? নাকি, মেধাবীদের ছাঁটাই করে মিডিওকারদের বেছে নেয়ার প্রক্রিয়া?
✒️Mohammad Mozammel Hoque sir ( courtesy )
সেদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব সম্ভবত জীববিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বপালন করতে গিয়ে একটা রুমে মাত্র প্রশ্নের প্যাকেট খুলে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি। একটা প্রশ্নে চোখ আটকে গেল। যতটুকু মনে পড়ে একটা এমসিকিউ প্রশ্ন দেখলাম সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র নাটকের নাম কী, এ ধরনের কোনো প্রশ্ন।
বুঝতে পারলাম না, বায়োলজি যারা পড়বে তাদের কেন ওয়ালীউল্লাহ’র নাটকের নাম জানতে হবে।
আজকে ডিউটি করলাম কলা অনুষদে ভর্তি পরীক্ষার। পরিদর্শকের দায়িত্বপালনরত একজন তরুণ সহকর্মী বললেন, ‘স্যার, একটা প্রশ্ন একটু পড়ে দেখি।’ আমি বললাম, ‘দেখো। প্রশ্ন পড়লে আমার মাথা গরম হয়ে যায়। তাই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পড়া বাদ দিয়েছি অনেক আগে।’উক্ত তরুণ সহকর্মী আমাকে বললো, ‘স্যার দেখেন প্রশ্ন এসেছে অমুক কবিতায় ‘আঠারো’শব্দটি কতবার এসেছে, তা নিয়ে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ কতো সালে ফ্রান্সে ছিলেন, তা নিয়ে।’
আঠারো বছর নিয়ে কবিতায় আঠারো শব্দটি কতোবার এসেছে তা বলার জন্য সেই কবিতাটি তো পরীক্ষার্থীর মুখস্ত থাকতে হবে। সাধারণ মানের মুখস্ত নয়, একেবারে মুখস্ত ঠোঁটস্ত থাকতে হবে। কারো ভাষাজ্ঞান জানার জন্য তাকে সাহিত্য সংক্রান্ত রোবটিক প্রশ্ন করার মানে কী, তা বুঝতে পারলাম না।
ক’দিন আগে লিখেছি, knowing about literature অথবা এনি সাবজেক্ট, আর knowing literature অর দ্যাট সাবজেক্ট, এই দুইটা এক কথা নয়। যেমন করে দর্শন সম্পর্কে জানা আর দর্শন জানা এক কথা নয়। প্রথমটি তথ্যমূলক বা information retrieving আর দ্বিতীয়টি অনুধাবনমূলক বা matter of understanding।
বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বিশেষায়ণের জায়গা। তত্ত্ব চর্চার জায়গা। অথচ প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে এখনো পর্যন্ত এখানকার ভর্তি প্রক্রিয়ায় জেক অব অল ট্রেডস ধরনের মিডিওকাররাই বেশি নম্বর পেয়ে থাকে। তত্ত্ব বিশ্লেষণের পরিবর্তে তথ্য উদগীরণের দক্ষতাকে এখানে পুরষ্কৃত করা হয়।
কী সাংঘাতিক কথা ….!
আমার এলাকার এক ছোটভাই। স্কুল চিচার। ওর মেয়ে অংকে খুবই ভালো। ঘোড়ার ডিমের সাধারণ জ্ঞানে সে ন্যূনতম নম্বরের চেয়ে এক নম্বর কম পাওয়ায় চবি-তে ভর্তি হতে পারেনি। শুনে আমার এত খারাপ লেগেছে, ভাষায় বলতে পারছি না …! আমি বুঝি না, গণিতজ্ঞ হওয়ার জন্য একজন ভর্তিচ্ছুকে অমুক দেশের মুদ্রার নাম, তমুক দেশের রাজধানীর নাম কেন জানতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি যে সাবজেক্টেই পড়েন না কেন, আইডিয়েলি, আপনাকে ৩ ধরনের বিষয় এখানে পড়তে হবে: মূল বিষয়, প্রাসঙ্গিক বিষয় এবং সাধারণ বিষয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই কিছু সাবজেক্ট পড়বে। সেগুলো নির্ধারিত থাকবে অথবা একটা তালিকার মধ্য থেকে সেগুলো বাছাই করে নিতে হবে অথবা উভয় ধরনেই এটি হতে পারে।
শিক্ষার্থীর মূল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত কিছু বিষয় থাকবে যা উক্ত সাবজেক্টের সবাইকে পড়তে হবে। এগুলোকে একসময়ে আমরা সাবসিডিয়ারি বলতাম। এখন এলাইড কোর্স বলে। দুনিয়াজোড়া এই ধরনের বিষয়গুলোকে মাইনর কোর্স বলা হয়। রিকোয়ারমেন্ট কোর্স এবং মাইনর কোর্সগুলোর সর্বমোট পরিমাণ কোনোক্রমেই মেজর তথা মূল বিষয়ের বেশি হবে না।
কথাগুলো বলার কারণ হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শর্তই হলো একজন শিক্ষার্থী যে ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয় সেই ডিপার্টমেন্টের পড়াশোনাগুলোর পাশাপাশি তাকে অন্য ডিপার্টমেন্টের কিছু বিষয়েও খানিকটা পড়তে হয়। এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একটা সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গী গড়ে উঠে।
আমার মতে, সংশ্লিষ্ট ভর্তিচ্ছু যে বিষয়ে পড়তে চায় শুধু সেই বিষয়ে বা বড়জোড় সেইটার সাথে ক্লোজলি রিলেটেড কোনো কোনো বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা হতে পারে। বিশেষায়িত পড়ালেখার জন্য ভর্তি পরীক্ষাও বিশেষায়িত হওয়া যুক্তিসংগত।
যুক্তি-বুদ্ধি যা-ই বলুক, বাস্তবাত ভিন্নতর। ভূক্তভোগী মাত্রই জানেন, প্রচলিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার যাচাই হয় না, যাচাই হয় অপরিসীম মুখস্তবিদ্যার । এইটা একটা ফাঁকি। বলতে পারেন, সবচেয়ে লুক্রেটিভ বিসিএস পরীক্ষার মতো জাতীয় ফাঁকি।
আর একটা কথা। সম্প্রতি আমরা ঢাবি’র ভর্তি পরীক্ষা নিলাম দেশের প্রধান প্রধান সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে। চবি কেন সেই নিয়মে গেল না? দেশের এক কোণায়, শহর থেকে এত দূরে হাজার হাজার লোকের যে অমানবিক কষ্ট হয়, তা কি তারা বোঝে না? কারা যেন কিসের মতো করে ঘোলা করে জল খায়, তা আর বললাম না। অথবা, বলতে পারলাম না …!
ঢাবি’র সিস্টেমটা সুন্দর। তারা এমসিকিউ’র পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষা নেয়। এতে করে বোঝা যায়, পরীক্ষার্থীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা কতটুকু।
অনেকেই জানে না, অনুষদভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা বাংলাদেশে প্রথম চালু হয়েছিল চবি-তে। তখন আমরা ছাত্র ছিলাম। এটি ছিল আমাদের আন্দোলনের ফসল। চবি-তে ইউনিট সিস্টেমে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার নিয়ম চালু হওয়ার বেশ কয়েক বছর পর ঢাবি-তে এটি গ্রহণ করেছিল। মানুষ দিন দিন সামনের দিকে যায়, আর আমরা দিন দিন পিছনের দিকে যাচ্ছি; অথবা পিছিয়ে পড়ছি ‘সানন্দে’!
অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা জানি না, চবিতে টিচারদের পাশাপাশি নন-একাডেমিক কর্মকর্তাদের দিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পরিদর্শনের কাজ করানো হয়। অর্থ বিতরণ ছাড়া এর কোনো ‘মাজেজা’ আমি খুঁজে পাইনি। ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা যাবে যতজন পরীক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষায়, তার বাইরে গিয়ে ক্যাপাসিটির বাইরে যাকে তাকে দিয়ে ডিউটি করিয়ে, গাদাগাদি করে বসিয়ে, শিফটে শিফটে পরীক্ষা কেন নেয়া হচ্ছে, তা আমার সঠিক বুঝে আসে না।
টাকাটাই কি সবচেয়ে বড় কথা?
দুই শিফটের প্রশ্ন দুই কোয়ালিটির হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রশ্নপত্র তো মানুষ তৈরী করে। এমনকি রোবট বা সুপার কম্পিউটার দিয়েও একই মানের মূল্যায়নমূলক প্রশ্নপত্র তৈরী করা অসম্ভব। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে, চেষ্টা করা উচিত শিফটিং না করে একক প্রশ্নে একটা পরীক্ষা নেয়া। তা যদি করা না যায়, সে ক্ষেত্রে আসনসংখ্যা দুই শিফটের মধ্যে ভাগ করে নেয়া।
ভর্তি পরীক্ষায় প্রত্যেক পরীক্ষার্থী অপরাপর সকল পরীক্ষার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বি। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো একই প্রশ্নে একই কোয়ালিটির ইনভিজিলেশনে পরীক্ষা নেয়া।
তা তো হয় না। অনেক কিছুই হয় না। কেন যে হয় না, অনেকখানি বোঝা গেলেও তা প্রায়শ: বলা যায় না। এত এত ফোরাম, অথচ মন খুলে কথা বলার কোনো সুযোগ এখানে কারো নাই। টপ টু বটম সেইম অবস্থা। প্রত্যেকে একটা সিস্টেমের ফাঁদে পড়ে মেকী হাসি মুখে ঝুলিয়ে সাগ্রহে সাইন করছে এত হাজার এত শত দশ টাকার বিল ফর্ম। কে মরলো, কে বাঁচলে তা দেখার সময় কারো নাই।
যদি এমন হয় আপনি দাওয়াত করেছেন অনেককেই, কিন্তু খাওয়াতে পারছেন শুধু অল্লকিছু মানুষকে। তখন উপায় হতে পারে gate keeping করা। অর্থাৎ কিছু একটা ছুতানাতা ধরে লোকজনকে গণহারে বাদ দেয়া।
উচ্চশিক্ষার ভর্তি পরীক্ষা যেন মেধা যাচাইয়ের নামে এ ধরনের গেইট কিপিং টাইপের কিছু একটা ব্যাপার। আপনার সন্তান বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় টেকেনি, তারমানে এই নয় যে সে যথেষ্ট মেধাবী নয়। বরং ধরে নেন, সে একটা লটারীতে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু লটারী জিততে পারেনি।
লটারী না জেতাটা যেমন কারো ডিসক্রেডিট নয়; তেমন করে উচ্চশিক্ষা ভর্তি পরীক্ষায় কেউ কাঙিক্ষত ফল লাভ না করাটা কারো মেধাহীনতার প্রমাণ নয়।
কে শোনে কার কথা …!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
26, Madertek, Bashaboo
Dhaka
1214