After School Maktab

After School Maktab

Share

স্কুলগামী ও সর্বসাধারণের জন্য দ্বীন শিক্ষার এক অনন্য আয়োজন।

04/06/2026

Back to Maktab

21/05/2026

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِ الْمُرْسَلِيْنَ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِيْنَ

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদের ইসলামের মতো পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা দিয়েছেন। অসংখ্য দূরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান নবীর উপর, যিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দিতে হয়। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
ঈদুল আযহা আসছে। চারদিকে কুরবানির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। পশু কেনা হচ্ছে, বাজারে ভিড় বাড়ছে, মানুষের মনে উৎসবের আনন্দ জমছে। কিন্তু একটু থামুন। একটু ভাবুন।
আমরা কি সত্যিই জানি, কুরবানি কার উপর ওয়াজিব? কোন পশু দিয়ে কুরবানি হয়? কীভাবে জবেহ করতে হয়? গোশত কীভাবে ভাগ করতে হয়? চামড়ার কী করতে হবে?
অনেকেই এই মাসআলাগুলো না জেনেই কুরবানি দেন। অথচ একটু অজ্ঞতার কারণে বছরের এই সেরা ইবাদতটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
তাই আজ কুরআন, হাদীস এবং বিশ্বস্ত ফিকহের কিতাবের আলোকে কুরবানির সম্পূর্ণ মাসআলা-মাসায়েল একসাথে তুলে ধরছি। পুরোটা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। হয়তো আপনার একটি শেয়ারেই কারো কুরবানি শুদ্ধ হয়ে যাবে।

কুরবানির ফযীলত
শুরুতেই জেনে নিন কুরবানি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন -
مَا عَمِلَ ابْنُ آدَمَ يَوْمَ النَّحْرِ عَمَلًا أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ إِهْرَاقِ دَمٍ، وَإِنَّهُ لَيَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَظْلَافِهَا، وَإِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللَّهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ
কুরবানির দিন আদম সন্তান এমন কোনো আমল করে না যা আল্লাহর কাছে রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে বেশি প্রিয়। কিয়ামতের দিন কুরবানির পশু তার শিং, পশম ও খুর নিয়ে উপস্থিত হবে। আর সেই রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়।
( তিরমিযী : ১৪৯৩ , ইবনে মাজাহ : ৩১২৬ )
এই একটি হাদীসই বলে দেয় কুরবানি কতটা মহামূল্যবান ইবাদত। এটি শুধু একটি পশু জবেহ নয়, এটি আল্লাহর কাছে নিজের আত্মসমর্পণের প্রতীক।

কুরবানির পরিচয় ও ইতিহাস
কুরবানি শব্দটি আরবি قُرْبَان থেকে এসেছে, যার অর্থ নৈকট্য লাভের মাধ্যম। ইসলামী পরিভাষায়, নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট পশু শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জবেহ করাকে কুরবানি বলে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন -
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِّيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ۞
আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানির বিধান রেখেছি, তিনি তাদেরকে জীবিকা স্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেগুলির উপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। ( সূরা হজ্ব : ৩৪ )
এই বিধান হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের সেই অতুলনীয় ত্যাগের স্মৃতি বহন করে, যেদিন তিনি আল্লাহর হুকুমে নিজের প্রিয় পুত্র ইসমাঈলকে কুরবানি দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। ( সূরা আস-সাফফাত : ১০২-১০৭ )

কুরবানির হুকুম
আল্লাহ তাআলা সরাসরি আদেশ করেছেন ,
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
তোমার রবের জন্য নামাজ পড়ো এবং কুরবানি করো। ( সূরা কাউসার : ২ )
হানাফি মাযহাবের মতে কুরবানি ওয়াজিব। শাফেয়ি, মালিকি ও হাম্বলি মাযহাবের মতে সুন্নতে মুআক্কাদাহ। ( বাদায়েউস সানায়ে : ৪/১৯৬ - হিদায়া : ৪/৩৫৩ )
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন -
مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ وَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا
যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি দিল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে। ( ইবনে মাজাহ : ৩১২৩ )

কুরবানি কাদের উপর ওয়াজিব এবং কাদের উপর নয়
এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে না জেনে কুরবানি ছেড়ে দেন, আবার অনেকে না জেনে অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তায় পড়েন। তাই বিস্তারিত জানুন।
ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, একজন মানুষের মধ্যে নিচের পাঁচটি শর্ত একসাথে পাওয়া গেলেই তার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে। ( বাদায়েউস সানায়ে : ৪/১৯৬ - ফাতাওয়া আলমগীরী : ৫/২৯২ )
প্রথমত, মুসলিম হতে হবে। কুরবানি একমাত্র মুসলিমের জন্য। অমুসলিমের উপর এই বিধান প্রযোজ্য নয়।
দ্বিতীয়ত, আকিল অর্থাৎ জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে। যে ব্যক্তি পাগল বা মানসিকভাবে অক্ষম, তার উপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন -
رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَفِيقَ
তিন ব্যক্তির উপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন হলো পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়। ( আবু দাউদ : ৪৩৯৮ - ইবনে মাজাহ : ২০৪১ )
তৃতীয়ত, বালিগ হতে হবে। নাবালেগ শিশুর উপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। তবে কোনো নাবালেগ শিশু নিজে থেকে দিতে চাইলে দিতে পারবে, এতে সওয়াব পাবে। ( ফাতাওয়া শামী : ৬/৩১৫ )
চতুর্থত, মুকিম হতে হবে অর্থাৎ নিজের এলাকায় অবস্থান করতে হবে। যে ব্যক্তি শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির অর্থাৎ ৭৭ কিলোমিটার বা তার বেশি দূরে সফরে আছেন এবং ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করেছেন, তার উপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। তবে মুসাফির ব্যক্তি দিলে নফল হিসেবে আদায় হবে। ( হিদায়া : ৪/৩৫৪ - রদ্দুল মুহতার : ৬/৩১৫ )
পঞ্চমত, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে। সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ কুরবানির দিনগুলোতে থাকলেই ওয়াজিব হয়ে যাবে। যাকাতের মতো এখানে বছর পার হওয়া শর্ত নয়। ( বাদায়েউস সানায়ে : ৪/১৯৬ )
সংক্ষেপে যাদের উপর কুরবানি ওয়াজিব নয় তারা হলেন: অমুসলিম, পাগল বা মানসিক প্রতিবন্ধী, নাবালেগ শিশু, শরিয়তসম্মত মুসাফির এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন এমন গরিব ব্যক্তি।
তবে মনে রাখবেন, যাদের উপর ওয়াজিব নয় তারাও কুরবানি দিতে পারবেন এবং সওয়াব পাবেন। গরিব মানুষ কুরবানি দিলে তার জন্য এটি নফল সদকা হিসেবে কবুল হবে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা: কুরবানি প্রত্যেক ব্যক্তির উপর আলাদাভাবে ওয়াজিব। পরিবারের কর্তা শুধু নিজের পক্ষ থেকে একটি কুরবানি দিলেই তার ওয়াজিব আদায় হয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা যদি নিসাবের মালিক হন তাহলে তাদেরও আলাদাভাবে দিতে হবে। ( ফাতাওয়া শামী : ৬/৩১৬ )

কুরবানির সময়
কুরবানির সময় শুরু হয় ১০ যিলহজ্ব ঈদের নামাজের পর থেকে এবং শেষ হয় ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত। মোট তিনটি দিন কুরবানি দেওয়া যায়। শহরে ঈদের নামাজের আগে কুরবানি করলে তা আদায় হবে না। রাতেও কুরবানি দেওয়া জায়েজ তবে দিনে দেওয়াই উত্তম। ( হিদায়া : ৪/৩৫৯ - ফাতাওয়া শামী : ৬/৩২০ )

কুরবানির পশু - কোনটি জায়েজ, কোনটি নয়
কুরবানিতে ছয় প্রকার পশু জায়েজ - উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। ( বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২০৫ )
বয়সের ক্ষেত্রে - ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার ন্যূনতম বয়স এক বছর। তবে দুম্বা ছয় মাস বয়সে যদি এক বছরের মতো হৃষ্টপুষ্ট দেখায় তাহলে জায়েজ। গরু ও মহিষের ন্যূনতম বয়স দুই বছর। উটের ন্যূনতম বয়স পাঁচ বছর। ( মুসলিম : ১৯৬৩ , আবু দাউদ : ২৭৯৭ )
গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারবেন। ( মুসলিম : ১৩১৮ )
এবার জানুন কোন পশু দিয়ে কুরবানি হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে বলেছেন -
أَرْبَعٌ لَا تَجُوزُ فِي الْأَضَاحِيِّ: الْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَوَرُهَا، وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا، وَالْعَرْجَاءُ الْبَيِّنُ ظَلْعُهَا، وَالْكَسِيرَةُ الَّتِي لَا تُنْقِي
চার ধরনের পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ নয় - স্পষ্ট কানা, স্পষ্ট অসুস্থ, স্পষ্ট খোঁড়া এবং এতটাই দুর্বল যার হাড়ে মজ্জা নেই। ( তিরমিযী : ১৪৯৭ - আবু দাউদ : ২৮০২ - নাসাঈ : ৪৩৭০ )
এছাড়া কান বা লেজের এক তৃতীয়াংশের বেশি কাটা পশু এবং জন্মগতভাবে কানবিহীন বা দাঁতবিহীন পশু দিয়েও কুরবানি হবে না। তবে শিং ভাঙা কিন্তু গোড়া আছে এমন পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ। ( ফাতাওয়া আলমগীরী : ৫/২৯৭ )

শরিকানা কুরবানির মাসআলা
গরু, মহিষ বা উটে এক থেকে সাতজন শরিক হতে পারবেন। আটজন হলে কারো কুরবানিই আদায় হবে না। প্রত্যেক শরিকের নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়া জরুরি। কেউ যদি শুধু গোশত পাওয়ার উদ্দেশ্যে শরিক হয় তাহলে সকলের কুরবানি নষ্ট হয়ে যাবে। প্রত্যেকের অংশ সমান হতে হবে। শরিকদের মধ্যে একজনও অমুসলিম হলে বা তার নিয়তে সমস্যা থাকলে সকলের কুরবানি বাতিল। ( হিদায়া : ৪/৩৫৫ )

কুরবানির নিয়তঃ
কুরবানি শুধুমাত্র আল্লাহর নামে এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই হতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন -
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ
আল্লাহর কাছে এসব পশুর গোশত ও রক্ত পৌঁছায় না, বরং তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছায়। ( সূরা হজ্ব : ৩৭ )
প্রেক্ষাপট: এই আয়াতটি কুরবানির প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে। জাহেলিয়া যুগে আরবরা কুরবানির পশুর রক্ত কাবার দেওয়ালে মেখে দিত এবং গোশত সেখানে রেখে আসত — মনে করত এটা আল্লাহর কাছে পৌঁছায়। আল্লাহ এই ধারণা চিরতরে বাতিল করে দিলেন।
মূল শিক্ষা তিনটি:
প্রথমত, আল্লাহ তায়ালা সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। তাঁর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। না গোশত, না রক্ত, না কোনো বাহ্যিক উপকরণ। তিনি গনী ও হামীদ।
দ্বিতীয়ত, ইবাদতের আসল মূল্য বাহ্যিক আচরণে নয়, অন্তরের নিয়ত ও তাকওয়ায়। যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা নিয়ে কুরবানি করে, সেটাই আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয়।
তৃতীয়ত, "তাকওয়া" শব্দটি এখানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাকওয়া মানে শুধু ভয় নয়। এটা আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ সচেতনতা, সতর্কতা এবং ভালোবাসামিশ্রিত আনুগত্য।
ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন: "আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্য হলো, কুরবানির মাধ্যমে বান্দার হৃদয়ে তাঁর প্রতি আনুগত্য ও বিনয় প্রকাশ পাওয়া । এটাই তাঁর কাছে পৌঁছায়।"
ইমাম রাযী (রহ.) বলেন: এই আয়াত প্রমাণ করে যে, আমল কবুল হওয়ার শর্ত হলো ইখলাস । আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা।
হাদীসে আছে,
مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ
"কুরবানির দিন রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় কোনো আমল নেই।" রাসূল (সা.) আরও বলেন: কুরবানির পশু কিয়ামতের দিন তার শিং, পশম ও খুর নিয়ে উপস্থিত হবে। রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে যায়।
তিরমিযী: ১৪৯৩, ইবনে মাজাহ: ৩১২৬

সারসংক্ষেপ:
এই আয়াত ও হাদীসগুলো একটিমাত্র সত্যে এসে মিলিত হয় । ইসলামে বাহ্যিক আচরণ শুধু তখনই মূল্যবান যখন তার পেছনে থাকে সচেতন হৃদয়, খাঁটি নিয়ত এবং আল্লাহর প্রতি তাকওয়া। কুরবানির ছুরি চালানো যে কেউ পারে, কিন্তু সেই মুহূর্তে হৃদয়টা আল্লাহর দিকে মুখ করা আছে কিনা? সেটাই আসল প্রশ্ন।
জবেহর দোয়া:
বিসমিল্লাহ বলে জবেহ করা ফরজ, না বললে পশু হারাম হয়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘য়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,
وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِوَإِنَّهُ لَفِسْقٌ
বাংলা অনুবাদ:
"আর তোমরা তা থেকে খেয়ো না, যার উপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি — এবং নিশ্চয়ই তা পাপ। ( সূরা আনআম : ১২১ )
জবেহের সময় এই দোয়া পড়বেন -
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ
বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালাক। অর্থ : হে আল্লাহ! এটি তোমার কাছ থেকে এবং তোমার জন্যই।
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি দেওয়া জায়েজ এবং এতে উভয়ের জন্য সওয়াব রয়েছে। ( রদ্দুল মুহতার : ৬/৩২৬ )

জবেহর সঠিক পদ্ধতি:
পশুকে কিবলামুখী করে বাম কাতে শোয়ানো সুন্নত। ধারালো ছুরি দিয়ে দ্রুত জবেহ করা ওয়াজিব, ভোঁতা ছুরিতে পশু অনেক কষ্ট পায়। ( মুসলিম : ১৯৫৫ ) কমপক্ষে তিনটি রগ কাটতে হবে - শ্বাসনালী ও দুটি রক্তনালী। পশু সম্পূর্ণ মৃত না হওয়া পর্যন্ত চামড়া ছাড়ানো যাবে না। মহিলারাও জবেহ করতে পারবেন। ( বুখারি : ৫৫০৪ )

গোশত বণ্টনের মাসআলা
গোশত তিন ভাগ করা মুস্তাহাব। এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-পড়শির জন্য এবং এক ভাগ গরিব-মিসকিনের জন্য। ( ফাতাওয়া আলমগীরী : ৫/৩০০ ) পুরো গোশত নিজে খাওয়াও জায়েজ। গোশত অমুসলিমকেও দেওয়া জায়েজ। কসাইকে মজুরি হিসেবে গোশত বা চামড়া দেওয়া যাবে না, নগদ মজুরি দিতে হবে। শরিকানায় গোশত ওজন করে ভাগ করতে হবে, আন্দাজে নয়। ( রদ্দুল মুহতার : ৬/৩২৮ )

চামড়ার মাসআলা
চামড়া নিজে ব্যবহার করা বা গরিবদের দেওয়া জায়েজ। চামড়া বিক্রি করলে সেই অর্থ অবশ্যই সদকা করে দিতে হবে, নিজে ব্যবহার করা যাবে না। মসজিদ বা দীনি মাদরাসায় দেওয়া সবচেয়ে উত্তম। ( রদ্দুল মুহতার : ৬/৩২৮ )

কুরবানিদাতার বিশেষ আমল
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন -
إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلَا يَأْخُذَنَّ شَعَرًا وَلَا ظُفُرًا
যিলহজ্বের দশক শুরু হলে তোমাদের মধ্যে যে কুরবানি দেওয়ার ইচ্ছা রাখে, সে যেন চুল ও নখ না কাটে। ( মুসলিম : ১৯৭৭ )
যিলহজ্বের ১ তারিখ থেকে কুরবানি দেওয়া পর্যন্ত চুল, নখ ও চামড়া না কাটা মুস্তাহাব।
ঈদের দিন গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং ঈদের নামাজের আগে না খেয়ে থাকার পর কুরবানির গোশত দিয়ে প্রথম মুখ দেওয়া সুন্নত। ( তিরমিযী : ৫৪২ )

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, কুরবানি শুধু একটি পশু জবেহর নাম নয়। এটি আল্লাহর প্রতি আমাদের আনুগত্যের ঘোষণা। হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম সেদিন শুধু পশু নয়, নিজের সবচেয়ে প্রিয় সন্তানকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। আমাদের কুরবানিও হোক সেই একই তাকওয়া ও ইখলাসের সাথে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের কুরবানি কবুল করুন। আমাদের ইবাদত শুদ্ধ ও মকবুল করুন। আমীন।

18/05/2026

জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিন — শ্রেষ্ঠ আমলের মৌসুম
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

আল্লাহ তাআলা সারা বছরের মধ্যে কিছু দিন ও রাতকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। তার মধ্যে জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিন সর্বশ্রেষ্ঠ। এই দিনগুলোতে নেক আমলের ফজিলত রমজানের শেষ দশকের চেয়েও বেশি বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে শপথ করে বলেছেন:

وَالْفَجْرِ ۝ وَلَيَالٍ عَشْرٍ

"শপথ ফজরের এবং দশ রাতের।" (সূরা আল-ফজর: ১-২)
অধিকাংশ মুফাসসির বলেছেন, এখানে "দশ রাত" বলতে জিলহজ্জের প্রথম দশ রাতকে বোঝানো হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ

"এই দিনগুলোতে (জিলহজ্জের প্রথম দশদিনে) নেক আমল করা আল্লাহর কাছে অন্য যেকোনো দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।" সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহর পথে জিহাদও নয়? তিনি বললেন: "জিহাদও নয়, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে নিজের জান ও মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হয়ে আর কিছুই ফিরিয়ে আনেনি।" (সহিহ বুখারি: ৯৬৯)

১. নখ, চুল ও শরীরের লোম না কাটা
জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী করা পর্যন্ত নখ, চুল ও শরীরের লোম না কাটা সুন্নত।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

إِذَا رَأَيْتُمْ هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ "
যখন তোমরা জিলহজ্জের চাঁদ দেখতে পাবে এবং তোমাদের কেউ কুরবানী দেওয়ার ইচ্ছা রাখে, সে যেন তার চুল ও নখ থেকে বিরত থাকে।" (সহিহ মুসলিম: ১৯৭৭)

ফজিলত: এর মাধ্যমে কুরবানীদাতা হাজীদের সাথে আংশিক সাদৃশ্য অর্জন করেন এবং আল্লাহর নিকট পুরস্কারের অংশীদার হন।

২. বেশি বেশি তাকবির, তাহলিল ও তাহমিদ পাঠ করা
এই দিনগুলোতে বেশি বেশি আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আলহামদুলিল্লাহ পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِي أَيَّامٍ مَّعْلُومَاتٍ

"এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করো।" (সূরা আল-হাজ্জ: ২৮)

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

مَا مِنْ أَيَّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ وَلَا أَحَبُّ إِلَيْهِ الْعَمَلُ فِيهِنَّ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنَ التَّهْلِيلِ وَالتَّكْبِيرِ وَالتَّحْمِيدِ

"এই দশ দিনের চেয়ে আল্লাহর কাছে মহান ও তাঁর কাছে বেশি প্রিয় কোনো দিন নেই। সুতরাং এ দিনগুলোতে বেশি বেশি তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ পড়ো।" (মুসনাদে আহমাদ: ৫৪৪৬, সহিহ)
ইমাম বুখারি (রহ.) বলেছেন, ইবনে উমর (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) এই দিনগুলোতে বাজারে বের হয়ে উচ্চস্বরে তাকবির পড়তেন এবং মানুষও তাঁদের সাথে তাকবির পড়তেন। (সহিহ বুখারি, অধ্যায়: ঈদুল আযহা)

৩. বেশি বেশি তওবা, ইস্তেগফার ও দোয়া করা
এই মহান দিনগুলোতে তওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উত্তম।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

وَتُوبُوا إِلَى اللهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

"হে মুমিনগণ! তোমরা সকলেই আল্লাহর দিকে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" (সূরা আন-নূর: ৩১)

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللهِ فَإِنِّي أَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ

"হে মানুষেরা! আল্লাহর কাছে তওবা করো। নিশ্চয়ই আমি প্রতিদিন একশতবার তওবা করি।" (সহিহ মুসলিম: ২৭০২)

সর্বোত্তম ইস্তেগফার:
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
(সহিহ বুখারি: ৬৩০৬)

৪. জিলহজ্জ মাসের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা
এই দশ দিনের মধ্যে রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللهِ إِلَّا بَاعَدَ اللهُ بِذَلِكَ الْيَوْمِ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا

"যে বান্দা আল্লাহর পথে একদিন রোজা রাখে, আল্লাহ তার চেহারাকে সেই রোজার বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে ৭০ বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন।" (সহিহ বুখারি: ২৮৪০, সহিহ মুসলিম: ১১৫৩)

হাফসা (রা.) বলেন:

كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجَّةِ وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ

"রাসূলুল্লাহ ﷺ জিলহজ্জের নয় দিন, আশুরার দিন এবং প্রতি মাসের তিন দিন রোজা রাখতেন।" (সুনানে আবু দাউদ: ২৪৩৭, নাসাই: ২৪১৬)

৫. ৯ জিলহজ (আরাফার দিন) রোজা রাখা
আরাফার দিনের রোজার ফজিলত অতুলনীয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ

"আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।" (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যারা হজ্জ পালন করছেন, তাদের জন্য আরাফার দিনে রোজা নেই। এই রোজা শুধু যারা হজ্জে যাননি তাদের জন্য।

৬. দান ও সদকা করা
এই মুবারক দিনগুলোতে দান-সদকার ফজিলত অনেক বেশি।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

الصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ

"সদকা পাপকে এমনভাবে মুছে দেয় যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।" (সুনানে তিরমিযি: ২৬১৬, হাসান সহিহ)

আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً

"কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে? তাহলে তিনি তার জন্য তা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবেন।" (সূরা আল-বাকারাহ: ২৪৫)

৭. সামর্থ্যবান হলে কুরবানী করা
কুরবানী ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ হুকুম।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبَّ إِلَى اللهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ وَإِنَّهُ لَيَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَظْلَافِهَا وَإِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًا

"কুরবানীর দিন রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় কোনো আমল নেই। কিয়ামতের দিন সে পশু তার শিং, পশম ও খুর নিয়ে আসবে। কুরবানীর রক্ত জমিনে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে মকবুল হয়ে যায়। তাই মনে আনন্দ নিয়ে কুরবানী দাও।" (সুনানে তিরমিযি: ১৪৯৩, ইবনে মাজাহ: ৩১২৬)

৮. সামর্থ্য থাকলে হজ্জ বা উমরা করা
হজ্জ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

الْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّةُ

"মাবরুর হজ্জের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।" (সহিহ বুখারি: ১৭৭৩, সহিহ মুসলিম: ১৩৪৯)

আরও ইরশাদ করেছেন:

مَنْ حَجَّ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ

"যে ব্যক্তি হজ্জ করল এবং অশ্লীল কথাবার্তা ও পাপকাজ থেকে বিরত রইল, সে সদ্যোজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসবে।" (সহিহ বুখারি: ১৫২১)

৯. তাকবীরে তাশরিক পড়া (ওয়াজিব)
জিলহজ্জের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ নামাজের পর তাকবীরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।

তাকবীরে তাশরিকের আরবি:
اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

উচ্চারণ:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

অর্থ:
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

বিধান:
প্রত্যেক পুরুষ — উচ্চস্বরে একবার পড়া ওয়াজিব
প্রত্যেক নারী — নিচু আওয়াজে একবার পড়া ওয়াজিব
(ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেঈ ও অধিকাংশ ফুকাহার মত — ফাতহুল কাদির, আল-মাজমু)

সমাপ্তি কথা
হে আল্লাহর বান্দারা! এই মুবারক দিনগুলো অত্যন্ত দ্রুত চলে যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগান। বেশি বেশি আমল করুন, পরিবারকে উৎসাহিত করুন এবং অন্যদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এই দিনগুলোতে বেশি বেশি আমল করার তওফিক দান করুন।
আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন। 🤲

19/03/2026

প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,

পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভক্ষণে তোমাদের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও হৃদয়ভরা ঈদ মোবারক। এই আনন্দঘন দিনে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করি—তিনি যেন তোমাদের সকলের সিয়াম, কিয়াম, তিলাওয়াত ও নেক আমল কবুল করে নেন এবং তোমাদের জীবনকে ইলম, তাকওয়া ও নেক আমলে পরিপূর্ণ করে দেন।

আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে উত্তম চরিত্র, সুন্দর আখলাক ও দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করুন। তোমরা যেন দ্বীনের পথে অটল থেকে নিজেদের জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে গড়ে তুলতে পারো—এই দোয়া রইলো।

দোয়া:
اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنَّا وَمِنْكُمْ صَالِحَ الأَعْمَالِ، وَجَعَلَ هٰذَا العِيدَ عِيدَ خَيْرٍ وَبَرَكَةٍ وَرَحْمَةٍ لَنَا وَلَكُمْ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের ও তোমাদের সকলের নেক আমল কবুল করুন এবং এই ঈদকে আমাদের জন্য কল্যাণ, বরকত ও রহমতের ঈদ হিসেবে কবুল করুন।

তোমরা সবাই ঈদের আনন্দ পরিবার-পরিজনের সাথে সুন্দরভাবে উদযাপন করো, বড়দের সম্মান করো এবং ছোটদের স্নেহ করো।

সবার জন্য রইলো অন্তরের গভীর থেকে দোয়া ও শুভকামনা।
ঈদ মোবারক।

Want your school to be the top-listed School/college in Faridpur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


After School Maktab Faridpur
Faridpur
7800

Opening Hours

Monday 06:00 - 21:00
Tuesday 06:00 - 21:00
Wednesday 06:00 - 21:00
Thursday 06:00 - 21:00
Saturday 06:00 - 21:00
Sunday 09:00 - 17:00