24/04/2025
ম্যাজিস্ট্রেট: তুমি চুরি করেছ?
চোর: না হুজুর। আমি শুধু কবিগুরুর নির্দেশ পালন করেছি!
ম্যাজিস্ট্রেট: তার মানে?
চোর: গতকাল মাঝরাতে একটা গান ভেসে এল..."আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে"।
ভাবলাম আমিই-বা বসে থাকি কেন? আমিও যাই, তাই বেড়িয়ে পড়লাম!
ম্যাজিস্ট্রেট: তারপর?
চোর: উদাস মনে হাঁটছি, হঠাৎ একটা বাড়ি থেকে আওয়াজ এল..."এসো এসো আমার ঘরে এসো আমার ঘরে"।
মনে হল আমাকেই ডাকছে। টুক করে ওই বাড়িতে ঢুকে পড়লাম।
ম্যাজিস্ট্রেট: বলো কি!
চোর: ঘরে ঢুকেই শুনলাম..."ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে"।
বেশ আনন্দ পেলাম। বুঝলাম, আমাকে স্বাগত জানাচ্ছে। এদিক ওদিক তাকিয়ে কি করব ভাবছি, তখন শুনতে পেলাম..."এবার উজাড় করে লও হে আমার যা কিছু সম্বল"।
রবীন্দ্রনাথের আদেশ তো আর অমান্য করা যায় না! সব মালপত্র একজায়গায় জড়ো করে বেঁধে ফেললাম। সঙ্গে সঙ্গে কানে ভেসে এল..."আজি দখিন দুয়ার খোলা"।
পেছনের দরজা দিয়ে যখন বেড়িয়ে পড়লাম তখন বেরসিক পুলিশ এসে আমাকে ধরল। আমি কত বোঝাবার চেষ্টা করলাম, আমি চুরি করিনি, কেবলমাত্র রবীন্দ্রনাথের নির্দেশ পালন করেছি! ওরা বোধহয় রবীন্দ্রনাথের নামই শোনেনি, কোমরে দড়ি বেঁধে সোজা আপনার কাছে নিয়ে এসেছে।
ম্যাজিস্ট্রেট: ঠিক আছে, ঠিক আছে, তোমাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিলাম। এই বিষয়ে তোমার রবীন্দ্রনাথ কিছু বলেছেন?
চোর: "এ পথে আমি যে গেছি বারেবার, ভুলিনিতো একদিনও।"
ম্যাজিস্ট্রেট: যখন জেলে থাকবে, তখন তুমি রবীন্দ্রনাথকে কি বলবে?
চোর: "ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে?"
24/11/2024
তবলা শুধু এক জোড়া তালবাদ্য নয় এটি সুর, ছন্দ, আর হৃদয়ের ভাষা। প্রতিটি আঙুলের স্পর্শে এর বুকে জন্ম নেয় অগণিত অনুভূতির ঢেউ।তবলা এক ধরনের দুই অংশ বিশিষ্ট আনদ্ধ জাতীয় ঘাতবাদ্য যন্ত্র। দুই অংশের মধ্যে ডান হাতে বাজাবার অংশটির নাম ডাহিনা (ডাইনা, ডাঁয়া) বা তবলা এবং বাঁ হাতে বাজাবার অংশটির নাম বাঁয়া বা ডুগি।
তবলার জন্ম সম্বন্ধে নানা মতবাদ আছে। একটি হল আমীর খস্রু সম্বন্ধে। মৃদঙ্গ জাতীয় কোন দুইদিক চামড়ায় ছাওয়া যন্ত্র ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়, কিন্ত তার পরেও তা থেকে সুন্দর অওয়াজ বের হয়। শুনে মুগ্ধ খস্রু বলেন "তব ভি বোলা"। তবলা শব্দটি "তব ভি বোলা" থেকে এসে থাকতে পারে।তবলার ইতিহাস অস্পষ্ট, এবং এর উৎপত্তি সম্পর্কে একাধিক তত্ত্ব রয়েছে।তত্ত্বের দুটি দল রয়েছে; প্রথম তাত্ত্বিক যন্ত্রটির আদিবাসী উৎস ছিল এবং অন্যটি ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম ও মুঘল আক্রমণকারীদের থেকে এর উৎপত্তির সন্ধান করে।যদিও ভাজা গুহাগুলিতে খোদাইগুলি এই তত্ত্বটিকে সমর্থন করে যে যন্ত্রটির আদিবাসী উৎস ছিল, ড্রামের স্পষ্ট চিত্রগত প্রমাণ পাওয়া যায় প্রায় ১৭৪৫ সাল থেকে, এবং ১৮০০ এর দশকের গোড়ার দিকে ড্রামটি আকারে বিকশিত হতে থাকে।
তবলার বিভিন্ন অংশ রয়েছে। যেমন: ডাঁয়ার,খিরন,কানি,
ময়দান,পাগড়ি,ডোরি,গুলি,ডুগি।তবলা তালা বাজানোর জন্য প্রধান ধরনের টেম্পো বা লায়া ব্যবহার করা হয়:
১) ধীর (বিলাম্বিত) বা অর্ধ গতি, ২) মাঝারি (মধ্য) বা রেফারেন্স এবং ৩) দ্রুত (ড্রুট) বাদুগুণ দ্রুত। এই টেম্পোকে রেফারেন্সের হিসাবে এই টেম্পো-র অন্যান্য বৈচিত্রগুলিকেও সংজ্ঞায়িত করা হয় যেমন আদি লায়া যেখানে মাঝারি বোলতে যেতে পারে। অন্যান্য যেমন আটিটি ড্রুট লায়া খুব দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
তবলা ঘরানাগুলি বিভিন্ন নতুন বোল, বৈশিষ্ট্যযুক্ত বাজানো কৌশল, রচনাশৈলী এবং ছন্দ গঠনের বিকাশ বিকাশের জন্য। ঘরানারা তবলা বাদকদের প্রজন্মের মধ্যে এই শৈলী সংরক্ষণের একটি উপায় হিসাবে কাজ করা। ঘরানার প্রথম নথিভুক্ত ইতিহাস ১৮ শতকের গোড়ার দিকে। দিল্লি ঘরানাকে প্রথম ঐতিহ্যবাহী তবলা ঐতিহ্য মনে করা হয়। এর ছাত্ররা অন্যান্য ঘরানার জন্মের জন্যও ছিল। এই ঘরানারে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও উস্তাদ রয়েছে। তারা সম্প্রদায় এবং মুসলিম তবলা বাদকদের জন্য যথাক্রমে ' পন্ডিত ' এবং ' ওস্তা ' সম্মানসূচক উপাধি সমর্থন করে।
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে, বিশেষত খেয়াল, ঠুমরি, দৃষ্টিপট সংগীত এবং নৃত্যে তবলার ভূমিকা অপরিহার্য। তবলার ছন্দ সুরের সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।এটি সংগীত ঐতিহ্যের এমন একটি মণি, যা সুর ও ছন্দের এক অনন্য সংমিশ্রণ। তবলা বিশ্ব সংগীতের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া
(অনুমতি ছাড়া রিপোস্ট করবেন না)
#তবলা #ঐতিহ্য #সংস্কৃতি
#বাংলার_তথ্যপট(বাংলার তথ্যপট সম্পর্কে জানুন কমেন্টে)
22/09/2024
শুদ্ধ সাতের স্বর কখনো কড়ি ও কোমল ক’রে,
১০ টি ঠাটের সুর বাঁধা হয় রেখে সাতের ঘরে।
বিলাবলে শুদ্ধ সব নেই তাতে সংশয়,
সেই ঠাটেই 'মা' কড়ি হলে কল্যাণ ঠাট হয়।
খাম্বাজ কে চেনা সহজ নি যে কোমল হলে,
আর সবই স্বর শুদ্ধ থাকে যেমন বিলাবলে।
ভৈরব ঠাট অন্য রকম কোমল শুধু রে ধা,
অন্য যা স্বর থাকে সঠিক শুদ্ধ স্বরে বাঁধা।
পূরবী শুনি গোধূলি তে বাজে করুন সুরে,
রে ধা কোমল আর কড়ি মা এই ঠাটেতেই পড়ে।
মারবাতে রে কোমল আর মা কড়ি হবে,
এই নিয়মেই থাকবে এ ঠাট এটাই মানে সবে।
গা আর নি কে করলে কোমল পাই যে কাফির সুর,
আশাবরী কোমল নি ধা গা তে সুমধুর।
ওস্তাদেরা সবাই রেওয়াজ করেন মধুর টোড়ি
রে গা ধা তিন টোড়ির কোমল আর মা হবে কড়ি।।
ভৈরবীতে সহজ ব্যাপার কোমল রে গা ধা নি,
সাতটি স্বরের চার কোমলই আছে এতে জানি।
খুব খুব সুন্দর একটি composition,,,আমি মনে করি যা আমাদের সঙ্গীতের শিক্ষার্থী দের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি গান...যেখানে আমাদের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের 10টি ঠাটের খুবই ভালো ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে...
18/07/2024
The A-sharp major scale is a seven-note scale consisting of the notes A♯, B♯, C, D♯, E♯, F, and G. The distance between the notes is 2-2-1-2-2-2-1, where 1 is a half step, and 2 is a whole step..
07/07/2024
সঙ্গীত নিয়ে কিছ ভুল ধারণা
১)বাচ্চাকে স্টেজে উঠিয়ে গান না গাইয়ে, সঠিক চর্চায় আবদ্ধ করুন(অন্তত একটানা ১৫-২০ বছর)।শখে আর যা হোক অন্তত গানবাজনা হয়না।সেটা বয়সের সাথে আপনি এবং আপনার বাচ্চা বুঝে যাবেন।
২)শুধুমাত্র রিয়ালিটি শো তে গাওয়ার বা সুযোগ পাওয়ার জন্য গান শেখা বন্ধ করুন।
৩)সঠিক গুরু নির্বাচন করুন যে গান তোলানোর বদলে ভিত শক্ত করার পেছনে সময় দেয়।
৪)নিজের বাচ্চাকে কিশোর,লতা,রফি,আশা ভাবা বা বলা বন্ধ করুন।
৫)টাকা রোজগার করার জন্য গান শেখা বন্ধ করুন।আপনি সঠিক তৈরী হলে আপনাকে টাকা রোজগারের কথা ভাবতে হবেনা বরং তা নিজে নিজেই আপনার রোজগারের মাধ্যম হয়ে যাবে।
৬)গান গাইতে পারলেই সে শিক্ষিত শিল্পী এটা ভাবা বন্ধ করুন।
৭)১-২ বছরে সঙ্গীত শেখা যায় এটা ভাবা বন্ধ করুন। সারা জীবনও কম একবিন্দু সঙ্গীত শিক্ষার জন্য।
৮)শাস্ত্রীয়সঙ্গীত একঘেয়ে ভাবা বন্ধ করে পারলে ওটাই শিখুন। আপনার পর্যাপ্ত ধৈর্য্য ক্ষমতা না থাকায় হয়তো আপনার ওইটা মনে হয়। নইলে ভীত ছাড়া বাড়ি যখন তখন ঝড়ে উড়ে যায়।
৯)মাথা থেকে পারলে এই অহংকারবোধটা সরিয়ে দিন যে আপনিই একমাত্র দারুন গান গাইতে পারেন। হয়তো অনেক গুনি ব্যক্তির কাছে সেটা জলভাত। আপনাকে জায়গায় দাড়ঁ করিয়ে ঘাম বার করে দিতে পারে।আপনার থেকে বয়সে ছোটোও হতে পারে।সবসময় সঙ্গীতের ছাত্র হিসাবে নিজেকে গ্রহণ করুন।
১০)সঙ্গীতকে কখনো ছোট করে দেখবেন না , আপনি সারা মাসে যেই টাকা রোজগার করেন সেটা হয়তো একজন সঙ্গীত শিল্পীর একদিনের রোজগার, মাস তো ছেড়েই দিলাম।তাই অযথা জিজ্ঞেস করবেন না যে গান ছাড়া আর কি করেন।
সংগৃহীত🌻