23/06/2026
চলচ্চিত্রের ফ্রেমে যখন বাস্তব আর পরাবাস্তবতার সীমানা মুছে যায়, যখন কোনো কৃত্রিম ড্রামা ছাড়াই সাধারণ মানুষের সহজ-সরল জীবনই হয়ে ওঠে মহাকাব্যিক, তখনই আমরা বুঝতে পারি আব্বাস কিয়ারোস্তামির সিনেমার জাদু। ইরানের কোকার অঞ্চলের এক জলপাই বনের সবুজ পাতার আড়ালে যে গল্প তিনি বুনেছেন, তা শুধু এক তরুণের প্রেমের আকুতি নয়, বরং তা জীবন এবং সিনেমার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।
"Through the Olive Trees" (১৯৯৪) মূলত কিয়ারোস্তামির বিখ্যাত 'কোকার ট্রিলজি'-র শেষ পর্ব। ১৯৯০ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর বিপর্যস্ত এক গ্রামে যখন একটি সিনেমার শুটিং চলছে, ঠিক তখনই ক্যামেরার পেছনের গল্পটি হয়ে ওঠে সিনেমার চেয়েও তীব্র। রাজমিস্ত্রি হোসেন ভালোবাসে তাহেরেকে, কিন্তু এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবকিছু হারিয়ে ফেলা হোসেনের কোনো বাড়ি নেই বলে তাহেরের পরিবার এই সম্পর্ক মানতে নারাজ।
সিনেমার ভেতরে আরেকটি সিনেমার শুটিংয়ের এই অভিনব আবহে কিয়ারোস্তামি দেখিয়েছেন জীবন কীভাবে সিনেমার স্ক্রিপ্টকে ওলটপালট করে দেয়। হোসেন যখন জলপাই বনের বুক চিরে তাহেরের পিছু পিছু হাঁটে আর অনর্গল বলে যায় তার ভালোবাসার কথা, সেই নীরব, দীর্ঘ এবং জাদুকরী শেষ দৃশ্যটি সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও কালজয়ী মাস্টারপিস হিসেবে স্বীকৃত।
কেন কিয়ারোস্তামির এই সিনেমা এত অনন্য? কারণ তিনি আমাদের শেখান যে, জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির ভেতরেও মানুষ কীভাবে বেঁচে থাকার এবং ভালোবাসার নতুন অর্থ খুঁজে নেয়। অপেশাদার অভিনেতাদের সহজাত অভিনয় আর কবিতার মতো সুন্দর একেকটি ফ্রেম আমাদের বাধ্য করে রূপালী পর্দার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতে।
বিশ্ব চলচ্চিত্রের এই মহান পথপ্রদর্শকের জন্মদিন উপলক্ষে টিএফপি ফিল্ম ক্লাব তাঁকে জানাচ্ছে বিনম্র শ্রদ্ধা। এই বিশেষ দিনটি উদ্যাপনে আগামী ২৫ জুন আমরা আয়োজন করছি এই মাস্টারপিস সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী ও আড্ডার।
📽️ চলচ্চিত্র: Through the Olive Trees (1994)
🎬 পরিচালক: আব্বাস কিয়ারোস্তামি (Abbas Kiarostami)
⏱️ রানটাইম: ১ ঘন্টা ৪৩ মিনিট
📅 তারিখ: ২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার
⏰ সময়: দুপুর ১টা ৩০ মিনিট
📍 স্থান: কক্ষ ৭০৯, ৭ম তলা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
হোসেন ও তাহেরের সেই জলপাই বনের রূপকথা বড় পর্দায় নতুন করে অনুভব করতে এবং কিয়ারোস্তামির সিনেমাটিক ফিলোসফিতে বুঁদ হতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ।
31/05/2026
একটি সুস্থ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি চর্চার ভূমিকা অপরিসীম। তাই সংস্কৃতিচর্চার স্বাধীনতার ওপর যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ শুধু একটি অনুষ্ঠান বা সংগঠনের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমগ্র সমাজের মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ওপর আঘাত।
সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি আয়োজিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আপত্তির প্রেক্ষিতে অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রদর্শনীর অনুমতি বাতিলের ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। একটি বৈধ সাংস্কৃতিক আয়োজনকে এভাবে বাধাগ্রস্ত করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক অধিকার এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চার পরিপন্থী।
চলচ্চিত্রকে অবরুদ্ধ করার এই প্রবণতা দেশের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির স্বাধীন চর্চা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক শর্ত; সেই পরিসর সংকুচিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।
TFP Film Club এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির প্রতি পূর্ণ সংহতি ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছে। আমরা বিশ্বাস করি, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষা এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে এগিয়ে নিতে দেশের সকল চলচ্চিত্র সংসদ, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আজ সময়ের দাবি।
চলচ্চিত্র হোক মুক্তচিন্তার ভাষা। চলচ্চিত্র হোক সংকীর্ণতার বিপরীতে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের ভাষা।
26/05/2026
যেকোনো অর্জনই মূলত কাজের প্রতি একাগ্রতা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতিফলন। এই মাইলফলকগুলো টিমের প্রতিটি সদস্যের অসামান্য প্রচেষ্টা এবং নিরলস প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ। আমাদের ফিল্ম ক্লাবকে ঘিরে স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ দিতে এবং ক্লাবকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসতে ফ্রেমের প্রতিটি মানুষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
এই সাফল্য উদযাপনের পাশাপাশি, আমরা নতুন উদ্দীপনা নিয়ে আমাদের আগামী দিনের প্রজেক্টগুলোর কাজও সমান গতিতে চালিয়ে যাচ্ছি। অর্থপূর্ণ সিনেমা নির্মাণ, শিক্ষা এবং তা উদযাপনের এই যাত্রা আমাদের অব্যাহত থাকবে।
এই যাত্রায় যারা আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আগামী দিনগুলোতেও আপনাদের এমন অবিরাম সমর্থন ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করি।
22/05/2026
টিএফপি ফিল্ম ক্লাবের সাপ্তাহিক স্ক্রিনিংয়ে প্রদর্শিত হয়েছিল ডকুমেন্টারি সিনেমা Honeyland (2019) প্রকৃতি, মানুষ এবং জীবনসংগ্রামের গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি উপস্থিত সবাইকে বেশ আলোড়িত করেছে। সিনেমার সরল ও শক্তিশালী উপস্থাপন শেষ হওয়ার পরও দর্শকদের মাঝে এর একটি গভীর প্রভাব রেখে গেছে।
স্ক্রিনিংয়ের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিল দর্শকদের চমৎকার অংশগ্রহণ। সিনেমাটি শেষ হওয়ার পর আলোচনায় সবাই যেভাবে নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত শেয়ার করেছেন, তা পুরো আয়োজনটিকে অর্থবহ করে তুলেছে।
আজকের স্ক্রিনিংয়ে এই সপ্তাহের সিনে কুইজে অংশ নিয়ে 'সেরা দর্শক’ হিসেবে বই উপহার পেয়েছেন টিএফপি ১২তম ব্যাচের মিনহাজুল ইসলাম ফারহান, যা তার হাতে তুলে দেন টিএফপি এর শিক্ষিকা শাওলিন শাওন।
একসাথে সিনেমা দেখা এবং পরবর্তীতে তা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করা, এই বিষয়গুলোর জন্যই আমাদের স্ক্রিনিংয়ের আয়োজনগুলো সফল হয়।
আমাদের সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আশা করি, সিনেমা ও গল্পের এই যাত্রা আগামীতেও একসাথে বজায় থাকবে।
21/05/2026
The TFP Film Club of the Department of Television, Film and Photography at the University of Dhaka has been awarded the “BFFS Medal 2025 (Organisation of the Year)” in recognition of its significant contribution to the film society movement.
The honour was presented at the closing ceremony of the “National Film Society Conference 2026”, organised by the Bangladesh Federation of Film Societies (BFFS), held at the Bangladesh Film Archive in Agargaon, Dhaka on 16 May 2026. Representatives from across the country, including more than a hundred film societies, organisers, and independent filmmakers, attended the day-long event.
Read more: Link in comments
19/05/2026
উত্তর মেসিডোনিয়ার এক প্রত্যন্ত, নির্জন পাহাড়ি গ্রামে দাঁড়িয়ে হাটিজে মুরাতোভা যখন বলেন, "অর্ধেক নিজের জন্য নাও, আর অর্ধেক রেখে দাও মৌমাছিদের জন্য" তখন তা কেবল একটি সাধারণ বক্তব্য থাকে না বরং তা হয়ে ওঠে প্রকৃতির সাথে মানুষের সহাবস্থানের এক আদিম ও শাশ্বত দর্শন। তামারা কোতেভস্কা পরিচালিত "Honeyland" (2019) কেবল একটি তথ্যচিত্র নয়, এটি মানুষের লোভ বনাম প্রকৃতির ভারসাম্যের এক মহাকাব্যিক ভিজ্যুয়াল জার্নি।
সিনেমার গল্পটি আবর্তিত হয়েছে ইউরোপের শেষ নারী বন্য-মৌয়াল হাটিজেকে কেন্দ্র করে। বিদ্যুৎহীন, জনমানবহীন এক পাথুরে উপত্যকায় বুড়ো মায়ের দেখাশোনা আর প্রাচীন পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করেই তাঁর জীবন কাটে। কিন্তু এই শান্ত, মায়াবী জীবনে ঝড় নেমে আসে যখন এক যাযাবর পরিবার আধুনিক সভ্যতার অতি-উপভোগবাদী মানসিকতা নিয়ে সেখানে হাজির হয়।
হাটিজের সেই সহজ জীবনদর্শন বনাম নবাগতদের সীমাহীন লোভের দ্বন্দ্ব আমাদের বাধ্য করে আধুনিক সভ্যতার এই অন্ধ দৌড় নিয়ে নতুন করে ভাবতে।
অস্কারের ইতিহাসে একই সাথে 'সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র' এবং 'সেরা তথ্যচিত্র' এই দুই বিভাগে নমিনেশন পাওয়া প্রথম সৃষ্টি এটি।
কেন এই সিনেমা এত স্পেশাল? কারণ কোনো স্ক্রিপ্ট বা কৃত্রিম আলো ছাড়াই, দীর্ঘ তিন বছর ধরে নির্মাতারা যেভাবে হাটিজের জীবনের প্রতিটি ফ্রেম ক্যামেরায় বন্দি করেছেন, তা কল্পকাহিনীর চেয়েও সুন্দর এবং বাস্তবতার চেয়েও তীব্র। রূপালী পর্দার আলো-ছায়ার আড়ালে এটি আসলে জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রকৃতির প্রতি আমাদের অন্যায়ের এক নীরব প্রতিবাদ।
প্রকৃতির এই অমোঘ বাণী আর হাটিজের সেই লড়াকু জীবনকে বড় পর্দায় অনুভব করতে আগামী ২১ মে টিএফপি ফিল্ম ক্লাব আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে আমাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক প্রদর্শনীতে।
চলচ্চিত্র: Honeyland (2019)
পরিচালক ও লেখক: তামারা কোতেভস্কা
রানটাইমঃ ১ ঘন্টা ২৬ মিনিট
তারিখ: ২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার
সময়: দুপুর ১টা ৩০ মিনিট
স্থান: কক্ষ ৭০৯, ৬ষ্ঠ তলা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
18/05/2026
চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে অনন্য স্বীকৃতি: টিএফপি ফিল্ম ক্লাব পেলো বর্ষসেরা সংগঠনের সম্মাননা!
অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের সাথে জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস) কর্তৃক আয়োজিত দিনব্যাপী ‘জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন ২০২৬’-এ "বর্ষসেরা সংগঠন" হিসেবে "বিএফএফএস পদক" অর্জন করেছে টেলিভিশন, ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি (টিএফপি) ফিল্ম ক্লাব।
গত ১৬ মে ২০২৬, শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে জাঁকজমকপূর্ণ এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আমাদের হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি, তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক) ডা. জাহেদ উর রহমান।
বিগত দিনগুলোতে সুস্থ চলচ্চিত্র চর্চা, চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে টিএফপি ফিল্ম ক্লাবের প্রতিটি সদস্যের অক্লান্ত পরিশ্রম, সাধনা এবং চলচ্চিত্রের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসারই এক অনন্য স্বীকৃতি এই পুরস্কার।
এই গৌরবময় অর্জনে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস)-কে। সেই সাথে কৃতজ্ঞতা ক্লাবের সকল বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্যদের, শুভানুধ্যায়ী এবং দর্শকদের প্রতি, যাদের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন আমাদের এই পথচলাকে করেছে মসৃণ।
চলচ্চিত্রকে মানুষের জ্ঞানচর্চা ও মানসিকতা প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এই স্বপ্নযাত্রায় আমরা অবিচল থাকব। আমাদের এই পথচলা আগামীতেও অব্যাহত থাকুক।
14/05/2026
The houseful screening of Grave of the Fireflies this week ended in total silence, with the whole room left in tears. The movie captures the raw agony of war and the way it destroys innocent lives. Seeing Seita and Setsuko deal with starvation and the loneliness of being abandoned is a gut-wrenching reminder of how much children
suffer in conflicts they didn't create.
What touched us most was the pure and unconditional love between the siblings. Even in the darkest moments, they held onto each other with warmth, care, and hope. Their bond became a symbol of humanity surviving amidst devastation.
The movie delivered a heavy truth: war not only destroys cities; it destroys families, childhoods, and futures. It forced everyone to really think about the weight of peace and human connection, leaving an emotional impact that will stay with us for a long time.
After the screening, we had our quiz and discussion session, where Fatin Ilham won today’s book “And The Mountains Echoed” handed by Khandakar Rubyat Mursalin sir. We talked about how war makes the sufferers suffer more, hurting innocent souls. That being said, we hope the world becomes a softer place for all of us.
Lastly, thank you to everyone who joined us in today’s experience.
13/05/2026
যুদ্ধের কোনো রঙ থাকে না, থাকে শুধু ধ্বংসের ছাই আর একরাশ হাহাকার। ইসাও তাকাহাতা এর মাস্টারপিস "Grave of the Fireflies" কেবল একটি সিনেমা নয়, এটি একটি যুদ্ধের লেলিহান শিখায় পুড়ে যাওয়া দুটি প্রাণের অব্যক্ত আর্তনাদ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেইতা আর সেতসুকো নামের দুই ভাই-বোনের বেঁচে থাকার আকুল সংগ্রাম আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাজনীতির খেলায় সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় নিষ্পাপ শিশুদের।
অ্যানিমেশন মানেই যে শুধু রূপকথা নয়, বরং এটিও যে বাস্তবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর আর সংবেদনশীল রূপ ফুটিয়ে তুলতে পারে, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ এই চলচ্চিত্রটি। জাপানের কোবে শহরের সেই জ্বলন্ত আকাশ আর তার নিচে জোনাকির আলোর মতো ক্ষণস্থায়ী কিছু সুখ স্মৃতির প্রতিটি ফ্রেম অসম্ভব মমতায় বুনেছেন তাকাহাতা। জোনাকিরা যেমন অল্প সময়ের জন্য আলো দিয়ে আঁধারে মিলিয়ে যায়, তেমনি সেইতা আর সেতসুকোর স্বপ্নগুলোও যেন সেই জোনাকির কবরেই ঠাঁই পায়।
কেন আমরা আজও এই সিনেমা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারি না? কারণ এটি আমাদের শেখায় ভালোবাসার অপরিসীম শক্তি এবং যুদ্ধের অসারতা। মানবিক সম্পর্কের এমন নিপুণ আর হৃদয়বিদারক চিত্রায়ন সিনেমা ইতিহাসে বিরল। স্টুডিও গিবলির এই অমর সৃষ্টিটি আমাদের বাধ্য করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করতে।
আসন্ন প্রদর্শনীতে এই কালজয়ী সিনেমার মাধ্যমে আমরা স্মরণ করতে চাই সেইসব নাম না জানা শিশুদের, যাদের গল্প ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গিয়েছে। তাইতো এই বৃহস্পতিবার টিএফপি ফিল্ম ক্লাব আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এমন এক বিষণ্ণ অথচ সুন্দর অভিজ্ঞতার অংশ হতে।
চলচ্চিত্র: Grave of the Fireflies (1988)
তারিখ: ১৪ ই মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার
সময়: দুপুর ২টা
স্থান: কক্ষ ৭০৯, ৬ষ্ঠ তলা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়