13/06/2026
ফারহান আলি এবছর উচ্চমাধ্যমিকে অষ্টম প্রাপ্ত নম্বর - 489
_________ উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষাতে ও ১১ নম্বর কম পেয়েছে কিন্তু জীবনের পরীক্ষা নেওয়া হলে ও ফুল মার্কস পাবেই সে বিষয়ে আমি খুব কনফিডেন্ট।
কেনো বলছি এমন কথা ?
তাহলে তো সম্পূর্নটা পড়তে হচ্ছে এবং সাথে পডকাস্ট টিও ।
আশাকরি তারপর আমার কনফিডেন্ট টা আপনার / তোমার ঘাড়েও চেপে বসবে ।
ফারহানের বেড়ে ওঠা দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে (ক্যানিং পরবর্তীতে বারুইপুর) ।
ওর জন্মের পর ব্রেনে আঘাতজনিত কিছু সমস্যা হয়েছিলো ডাক্তার বলেছিলো এ ছেলে কখনও ব্রেনি হতে পারবেনা । ওর বাবা ডাক্তার কে শুধুমাত্র বাঁচানোর আর্তি জানিয়েছিলো ।
ফারহান বেঁচে বাড়ি ফেরে আর তারপরে পরেই শুরু হয়ে যায় বিজ্ঞান কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জীবনযুদ্ধে বড়ো হওয়ার যুদ্ধ ।
শুধু পাঠ্যপুস্তক নয় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে ওর তালিম শুরু হয়ে যায় একেবারে ছোটো থেকে ।
ক্লাস-২ তে পড়াকালীন ছোট্ট ফারহান পৌঁছে যায় দাদাগিরির মঞ্চে । সেখানে বাজিমাত করে আবার ছুটে চলার পালা ।
ক্লাস ফাইভে এডমিশন টেস্ট দিয়ে ফারহান ভর্তি হয় নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন।
তারপর আর ও থামেনি । পাঠ্যপুস্তকের পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজ, দেশ , পৃথিবী , রাজনীতি, ধর্ম এই সবকিছুতেই জ্ঞান অর্জন করতে থাকে ।
ক্লাস ৬-৭ এ পড়ার সময় ও পড়ে ফেলে কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো,
নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে প্রার্থনাতে ও নিয়মিত বাংলাতে গীতাপাঠ করতো ।
ফারহান কখনো নম্বর বা রাঙ্ক নিয়ে উচ্চাকাঙ্খী ছিলোনা সবসময় গুরুত্ব দিয়েছে শেখাকে ।
ওর কথাবার্তা,ভাবনা, আলোচনায় তা স্পষ্ট।
আমরা শিক্ষকেরা তো স্বপ্ন দেখি এমন ছাত্র তৈরিরই ,যে শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তক নয় সর্বাঙ্গীন ভাবে বিকাশিত হয়ে উঠবে ।
ফারহান আমাদের সেই স্বপ্নের আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
আশাকরি ফারহানের এই আলো একদিন ছড়িয়ে পড়বে আসমুদ্র হীমাচল।
আমি জীবনে অনেক ছাত্রছাত্রীর সাথে কথা বলেছি তবে এত সাবলীল ভঙ্গিতে এত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা কখনো রাখতে পারিনি । এটাতে বোধকরি পেরেছি তবে তার সিংহভাগ ক্রেডিট ফারহানের।
তোমরা / আপনারা যারা ফারহানের সাথে এই কথোপকথন সম্পূর্ণ দেখবে তাঁরা অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে নিজেদের ছোট্ট মতামত বা ভালোবাসা ছেড়ে যাবেন ।
বিঃ দ্রঃ - ফারহান SOE Bangla তে আমার বেশ কিছু ইউটিউব ম্যাথ ক্লাস দেখেছে সেটাও ও এই আলোচনাতে সাবলীল ভাবেই বললো যেটা আমার কাছে একটা উপরি পাওনা ।